ইসলামিক প্রশ্ন-উত্তর – (ইসলামিক জ্ঞান-০১)

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

১. প্রশ্নঃ- আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ।

২. প্রশ্নঃ- আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত।তবে কোরআন ও হাদিসে তার প্রসিদ্ধ ৯৯টি নাম পাওয়া যায়।

৩. প্রশ্নঃ- আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কোথায় আছেন?

 

উত্তরঃ- সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫)

৪. প্রশ্নঃ -আল্লাহর আরশ কোথায় আছে?

 

উত্তরঃ- সাত আসমানের উপর।

৫. প্রশ্নঃ -আল্লাহ কি সর্বস্থানে বিরাজমান?

 

উত্তরঃ- না। আল্লাহ সবজায়গায় বিরাজমান নন। তিনি সপ্তকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত। (সূরা ত্বাহাঃ ৫)

৬. প্রশ্নঃ- আল্লাহর কাজ কি?

 

উত্তরঃ- সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান, বৃষ্টি বর্ষণ, লালন-পালন করা, সাহায্য করা, জীবন-মৃত্যু প্রদান, পরিচালনা করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।

৭. প্রশ্নঃ- তাওহীদ কাকে বলে?

 

উত্তরঃ- তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ।

৮. প্রশ্নঃ- তাওহীদ কত প্রকার?

 

উত্তরঃ- তাওহীদ ৩ প্রকার।

৯. প্রশ্নঃ- তিন প্রকার তাওহীদ কি কি?

 

উত্তরঃ- (১) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ বা কর্ম ও পরিচালনার একত্ববাদ (২) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ বা দাসত্বের একত্ববাদ (৩) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত বা নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ।

১০. প্রশ্নঃ- তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ্‌ তাঁর কর্ম সমূহে একক- তাঁর কোন শরীক নেই, একথা মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌

১১. প্রশ্নঃ- তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?

 

উত্তরঃ- বান্দার ইবাদত-বন্দেগী ও দাসত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌।

১২. প্রশ্নঃ- তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত কাকে বলে?

 

উত্তরঃ- কুরআন ও হাদীছে আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী উল্লেখ রয়েছে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণতার প্রমাণ বহন করে, সেগুলোকে কোন প্রকার ধরণ-গঠন নির্ধারণ না করে বা অস্বীকার না করে সেভাবেই মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।

১৩. প্রশ্নঃ- তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?

 

উত্তরঃ- সৃষ্টি করা, রিযিক দেয়া, বৃষ্টি দেয়া, লালন-পালন করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।

১৪. প্রশ্নঃ- তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?

 

উত্তরঃ- ঈমান, ভয়-ভীতি, আশা-আকাঙ্খা, ভালবাসা, দু’আ-প্রার্থনা, সাহায্য কামনা, উদ্ধার কামনা, রুকূ-সিজদা ইত্যাদি।

১৫. প্রশ্নঃ- তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাতের উদাহরণ কি?

 

উত্তরঃ- الرحمن আর্‌ রাহমান, السميع আস্‌ সামী’ (শ্রবণকারী) البصير আল বাছীর (মহাদ্রষ্টা), العلو আল ঊলু (সুউচ্চ) ইত্যাদি।

১৬. প্রশ্নঃ- আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস্থ- করার ফযীলত কি?

 

উত্তরঃ- মুখস্থ- করে আমল করলে বিনিময় জান্নাত।

১৭. প্রশ্নঃ- ‘মুমিনের কলব আল্লাহর আরশ’ এটা কার কথা?

 

উত্তরঃ- এটা মানুষের বানানো কথা। আল্লাহ বা রাসূলের কথা নয়। (জাল হাদীছ)

১৮. প্রশ্নঃ- আল্লাহ কি নিরাকার?

 

উত্তরঃ- না। কেননা তাঁর অস্তিত্ব ও সত্তা আছে। যার সত্তা ও অস্তিত্ব থাকে তাকে নিরাকার বলা যায় না।

১৯. প্রশ্নঃ- “আল্লাহ সর্বস্থানে বিরাজমান নন, তিনি সপ্তকাশের উপর আরশে থাকেন।” একটি যুক্তি দিয়ে কথাটি বুঝিয়ে দাও।

 

উত্তরঃ- “আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?” এ প্রশ্নটি ছোট্ট একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করলে, তার নিষ্পাপ মুখ থেকে জবাব আসবে ‘তিনি উপরে বা আকাশে আছেন’- সে কখনোই বলবে না ‘আল্লাহ্‌ সবজায়গায় আছেন’।

২০. প্রশ্নঃ- আল্লাহ যদি নিরাকার না হন, তবে তাঁকে কি দেখা সম্ভব?

 

উত্তরঃ- হ্যাঁ, তাঁকে দেখা সম্ভব। তবে এ দুনিয়ায় চর্ম চোখে সম্ভব নয়। আখেরাতে জান্নাতীগণ আল্লাহকে দেখবেন। (সূরা ক্বিয়ামাহ্‌ঃ ২২-২৩, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

বাকী গুলো কাল……..

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

7 thoughts on “ইসলামিক প্রশ্ন-উত্তর – (ইসলামিক জ্ঞান-০১)

Leave a Reply