পবিত্র মুহররম মাস

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

আমি প্রথমেই সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।যদি আমার লেখায় কোন ভূলত্রুটি হয়ে থাকে ।তাহলে আমাকে মন্তব্য করে জানাবেন অনুরোধ রইলো ।কারণ আমি ভূল করে তারপর শিখতে চাই ।

এখন আসুন তাহলে মূল বিষয়ে কথা বলি ।আমি এখন আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করবো তা হলো পবিত্র মুহররম মাস।

 মুহররম –

(আরবী: محرم ) ইসলামিক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। চারটি পবিত্রতম মাসের মধ্যে এটি একটি। মুহররম শব্দটি আরবী যার অর্থ পবিত্র, সম্মানিত। প্রাচীনকাল থেকে মুহররম মাস পবিত্র হিসাবে গন্য। মহররমের ১০ তারিখ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন দিন, যাকে আশুরা বলা হয়ে থাকে। মহররম মাসের পরবর্তি মাসের নাম সফর।

তাৎপর্য –

আরবি চান্দ্রবর্ষ বা হিজরি সন শুরু হয় মহররম মাস থেকে। মহররম মাস অত্যন্ত ফজিলতময় একটি মাস। পবিত্র কোরআনে যে চারটি মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছে মহররম তারই একটি। রাসূল (সা.) এর বিদায় হজেও এ মাসের নাম উল্লেখ করে বিশেষভাবে সম্মান দেওয়া হয়েছে।মহররম শব্দের অর্থ অলক্সঘনীয় পবিত্রতা। এই মাসের রয়েছে অসংখ্য পবিত্র স্মৃতি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অভ্যুদয়ের আগে থেকেই আরব জাহানে চারটি মাসকে সম্মানের চোখে দেখা হতো। এ চারটি মাস হলো_ জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এ চারটি মাস শুধু মুসলমানদের কাছেই নয়, আগের সব নবী ও রাসূলের আমলেও বরকতময় মাস হিসেবে ভাবা হতো। এ মাসগুলোকে বলা হতো আশ শাহরুল হারাম বা অলক্সঘনীয় পবিত্র মাস। পবিত্রতার প্রতীক এই চার মাসের ইবাদত বন্দেগিতে বান্দা যেমন বিশেষ সওয়াব লাভ করে তেমনি এ চারটি মাসের মর্যাদা লক্সঘন করে কেউ যদি পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।মহররম মাস শুধু আরবি, হিজরি বা চান্দ্র মাসের প্রথম মাস নয়, এটি এমন এক পবিত্র মাস যার সঙ্গে রয়েছে বহু নবী ও রাসূলের পবিত্র স্মৃতি। মহররম মাসে দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে আল্লাহ তার খলিফা নিযুক্ত করেন। জান্নাত থেকে পৃথিবীতে হজরত আদম ও বিবি হাওয়া বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাসিত হওয়ার পর ১০ মহররম তারা মক্কার আরাফাত ময়দানে পুনর্মিলিত হন। হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবন শেষে জুদী পাহাড়ে অবতরণ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন এই মাসে। হজরত ইব্রাহীম (আ.), আইয়ুব (আ.), দাউদ (আ.), সোলাইমান (আ.), ইউসুফ (আ.), ইয়াকুব (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.)সহ আরও অনেক নবীর পবিত্র স্মৃতি ধারণ করছে মহররম মাস। মহররম মাসের ১০ তারিখে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন রাসূল (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। অসত্য, অন্যায়, অসাম্য ও ভোগবাদের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায়, সাম্য ও ত্যাগের পতাকা উড্ডীন করে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। বর্বর ইয়াজিদ প্রস্তাব দিয়েছিল তাকে খলিফা হিসেবে মেনে নিলে হোসাইন (রা.) এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আঘাত হানা হবে না। তাদের সসম্মানে যেখানে ইচ্ছা যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু রাসূলে করিম (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র অন্যায়কারীদের সঙ্গে আপস করার চেয়ে জীবন উৎসর্গ করাকেই শ্রেয় বলে বেছে নেন। তার শাহাদাতবরণ মহররম মাসকে নতুন তাৎপর্য দান করেছে। মহররম মাসে আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি করে ইবাদত করা, বিশেষত ১০ মহররম আশুরা দিবসে নফল সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি।

তাৎপর্যপূর্ন ১০ই মহররম

মহররম মাস ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ন ও তাৎপর্যপূর্ন একটি মাস। আর ১০ই মহররমের দিনটি হচ্ছে এই মাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ন দিন। তাই এই পবিত্র দিনটি (রাতসহ) সার্বক্ষনিক মহান আল্লাহ তায়ালার এবাদত বন্দেগীর মাঝে কাটাতে হবে।

১০ই মহররমের ফজিলত – বৈশিষ্ট্য ও করনীয় —
*১০ই মহররমের দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করিয়াছেন।
*১০ই মহররমের দিনই প্রথম দিন যেদিন আসমান থেকে মহান আল্লাহ পাক প্রথম রহমতের বৃষ্টি বর্ষন করেছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে পবিত্র কাবা ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়।
*১০ই মহররমের দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা -হযরত আদম (আঃ), বিবি হাওয়া (আঃ), হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত জিবরাইল (আঃ)সহ মোকাররাবীন ফেরেশতাগনকে সৃষ্টি করেছেন।
*১০ই মহররমের দিনে হযরত আদম (আঃ) এর তওবা কবুল হয়েছিল, তাছাড়া হযরত আদম (আঃ) -এর বেহেশতে প্রবেশ দিনও ১০ই মহররম।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ পাক, হযরত ইদ্রিস (আঃ) -কে অতি উচ্চ সম্মান প্রদান করেছেন।
*১০ই মহররমের দিনে হযরত নূহ (আঃ) মহাপ্লাবন হতে নাজাত লাভ করেছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ পাক, হযরত ইব্রাহীম (অঃ) -কে নমরূদের অগ্নিকান্ড থেখে নাজাত দিয়েছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ তায়ালা, হযরত ইউসুফ (আঃ) -কে পিতার সাথে মিলিত করেছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ পাক, হযরত আইযূব (আঃ) -কে পরীক্ষামূলক কঠিন রোগ হতে নাজাত দিয়েছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ তায়ালা, হযরত ইউনুস (আঃ) -কে মাছের পেট থেকে নাজাত দিয়েছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে আল্লাহ পাক, হযরত মুছা (আঃ) -কে নীল দরিয়া থেকে নাজাত দিয়েছিলেন। সেই সাথে ফেরাউন নির্বংশ হয়েছিল এই দিনে।
*১০ই মহররমের দিনে মহান আল্লাহ পাক, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর উছিলায় -তাঁর উম্মতদের গোনাহ মাফ করেছিলেন।
*১০ই মহররমের দিনে কারবালার ময়দানে ইমাম হুসেইন (রাঃ) স্বপরিবারে শাহাদাত বরন করেন। (আমাদের হৃদয়ের অন্ত:স্হলে যে ঘটনাটি অতি বেদনাদায়ক)
*১০ই মহররমের দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে বলে উল্লেখিত রয়েছে।

*মহররমের ১০ তারিখে পূববর্তী সকল নবী-রাসূল রোজা রেখেছেন। ১০ই মহররমের দিন রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন তবে ফরজ না।

*যে ব্যক্তি ১০ই মহররমের দিনে কোন এতিমের মাথায় হাত বুলাবেন তিনি যেন পৃথিবীর সকল এতিমের মাথায় হাত বুলালেন—যে ব্যক্তি কোন অসুস্হ ব্যক্তিকে সেবা দান করবেন তিনি যেন পৃথিবীর সমস্ত রোগীর সেবা করলেন—যে ব্যক্তি কোন ক্ষুধার্তকে খাওয়ালেন তিনি যেন পৃথিবীর সকল ক্ষুধার্তকে খাওয়ালেন – এবং সেই পরিমান সওয়াব পেলেন(পাবেন)।

*১০ই মহররমের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে যিনি এবাদত করবেন তাঁকে আল্লাহ পাক ৭ আসমান সমান সওয়াব দান করবেন।

*এই রাতে নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ন। যে ব্যক্তি ১০ই মহররমের রাতে ৪ রাকাত নফল নামাজ পরিবেন( একবার সূরা ফাতিহা-৫০ বার সূরা এখলাসসহ) মহান আল্লাহ পাক তার ৫০ বছরের (সগিরা)গুনাহও মাফ করে দিতে পারেন।

*১০ই মহররমের রাতে যে ব্যক্তি ১০০ রাকআত সালাতুল খায়ের আদায় করবেন (প্রতি রাকআতে একবার সূরা ফাতিহা-১০ বার সূরা এখলাসসহ) -তার প্রতি আল্লাহ পাক ৭০ -বার রহমতের নজর করিবেন এবং প্রতি নজরে ৭০টি মাকসুদ পূর্ন হবে-যাহা সর্বনিম্ন হলো মাগফিরাত।(গাউসে পাকের কিতাব গুনিয়াতুত তালেবীন)

*যে ব্যক্তি ১০ই মহররমের দিনে চোখে সুরমা ব্যবহার করবেন মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে তার চোখের জ্যোতি কখনও নষ্ট হবে না।

*১০ই মহররমের দিনে সঠিক নিয়তে এবং নিয়মে গোসল করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। (ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী গোসল করা)

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply