দাওয়াত ও তাবলীগের কারগুজারী [পর্ব-০১] :: বাংলাদেশের এক জামাত কাজ করছিল ইংল্যান্ডে

বাংলাদেশের এক জামাত কাজ করছিল ইংল্যান্ডে। জামাতে এক প্রফেসর ছিলেন। তিনি ইস্তিঞ্জার জন্যে গেলেন। যখন কুলুখ নিয়ে আড়ালে পায়চারী করছিলেন, কিভাবে যেন তা এক ইংরেজ ডাক্তারের নজরে পড়ল। তিনি ভাবলেন, নিশ্চয় তার পুরুষাঙ্গে কোন সমস্যা হয়েছে। তাই হয়ত হাত দিয়ে ধরে রেখেছেন।
ডাক্তার সাহেব প্রফেসর সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
What happens? Please tell me. I am a doctor. I’ll try my best to help you.
প্রফেসর সাহেব বিষয়টি বুঝতে পারলেন। বাকী কাজ সমাপ্ত করে ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে বসলেন। বললেন,
আমার কোন সমস্যা হয় নি, কোন ব্যথাও পাই নি। এটি ইসলামে প্রশ্রাব শেষে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি। আমাদের রাসুল আমাদের খুঁটিনাটি সব বিষয় শিখিয়েছেন। প্রশ্রাব শেষে একটু হাঁটাহাটি এই উদ্দেশ্যে করছিলাম যেন প্রশ্রাবের অবশিষ্ট ফোঁটাও বের হয়ে যায়।
ডাক্তার সাহেব ইউরেথ্রার এনাটমী জানেন। তিনি জানেন, পুরুষের মুত্রনালী ১৮ থেকে ২০ সেমি লম্বা। আবার দুটি বাঁকও রয়েছে। প্রশ্রাবের ফোঁটা অবশিষ্ট থেকে যাওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু এ তথ্য তো ১৪০০ বছর আগে জানার কথা নয়।
ডাক্তার সাহেব ইসলামের এই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলেন। তিনি ভাবলেন, যদি প্রশ্রাব শেষে পবিত্র হওয়া এই সামান্য বিষয়টির মাঝে এমন সৌন্দর্য থাকে, তাহলে অন্যান্য বিষয়গুলো কি পরিমান সৌন্দর্যময় হতে পারে। ব্যস, এতটুকুই তার ইসলামে দাখিল হওয়ার কারণ হয়ে গেল।
আসলে রাসুলের সুন্নাহ হচ্ছে নূর। সুন্নাহর মাঝে হেদায়াত। যখন সুন্নাহর এই নূরে কেউ আলোকিত হয়, সে নূর অন্য হৃদয়কেও আলোময় করে দেয়। আমরা যদি রাসুলের সুন্নাহকে পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরতাম, না জানি কত দ্রুত মানুষ ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হতো, আর না জানি কত সহজে ইসলাম পৃথিবীর সবখানে ছড়িয়ে পড়ত! আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই অবহেলাকে ক্ষমা করুন। আমাদের সুন্নাহর রঙে রঙিন হওয়ার তৌফীক দিন।
সুন্নাহ, সে তো আল্লাহ তায়ালারই রঙ। এর চেয়ে উত্তম রঙ মানুষ আর কোথায় পাবে!
صبغة الله، ومن احسن من الله صبغة.
জরুরি তাম্বীহঃ-
এই পোস্টের মাধ্যমে ইস্তিঞ্জার সময় এভাবে প্রকাশ্যে হাঁটাহাটি করতে উৎসাহিত করা উদ্দেশ্য নয়। ভাল করে খেয়াল রাখুন, আল্লাহ তায়ালা নিজে সুন্দর এবং সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। এভাবে হাঁটাহাটি করা কেবল প্রয়োজন পরিমান এবং অবশ্যই মানুষের দৃষ্টির আড়ালে করা চাই। এ সময় কথাবার্তাও না বলা এবং অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করা চাই। কেবল মন ইতমিনান হয় পরিমান একটু নড়াচড়া বা কাশি দেয়াই যথেষ্ট। মানুষ অনেক সময় এ সব ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে।
আর এখানে হাঁটাহাটি করাকে আমি সুন্নত বলছি না। সুন্নত হচ্ছে, ইস্তিঞ্জার জন্য ঢিলা কুলুখের ব্যবহার। হাঁটাহাটি তো কেবল প্রশ্রাবের ফোঁটা থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে। প্রশ্রাব শেষ করা মাত্রই পানি ঢেলে উঠে গেলে অবশিষ্ট দু’এক ফোঁটা বের হওয়ার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। অথচ প্রশ্রাবের ফোঁটা থেকে আত্মরক্ষা করা ওয়াজিব এবং আত্মরক্ষা না করা কবীরা গুনাহ এবং আযাবের কারন, যা দুই ব্যক্তির কবরে আযাব হওয়া সংক্রান্ত রাসুলের হাদীস দ্বারা বুঝা যায়। এই হাদীসটি বোখারী ও মুসলিম দুই গ্রন্থেই আছে। ইমাম বোখারী এবং ইমাম মুসলিম যথাক্রমে এই হাদীসের শিরোনামই দিয়েছেন প্রশাবের ফোঁটা থেকে আত্মরক্ষা ওয়াজিব এবং প্রশাবের ফোঁটা থেকে আত্মরক্ষা না করা কবীরা গুনাহ। আর অধিকাংশ পুরুষেরই প্রশাব করামাত্রই সম্পূর্ণ ক্লিয়ার হয়ে যায় না, একটু অপেক্ষা করতে হয় কিংবা কাশি বা নড়াচড়া করতে হয়, যা কেবলই প্রয়োজন পরিমান। বয়স্কদের তো কথাই নেই।
হাদীসটি নীচে সনদসহ দেয়া হল,
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ اﻷﺷﺞ، ﻭﺃﺑﻮ ﻛﺮﻳﺐ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ اﻟﻌﻼء، ﻭﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ، – ﻗﺎﻝ ﺇﺳﺤﺎﻕ: ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﻭﻗﺎﻝ اﻵﺧﺮاﻥ – ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻭﻛﻴﻊ، ﺣﺪﺛﻨﺎ اﻷﻋﻤﺶ، ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﻣﺠﺎﻫﺪا، ﻳﺤﺪﺙ ﻋﻦ ﻃﺎﻭﺱ، ﻋﻦ اﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ: ﻣﺮ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﻗﺒﺮﻳﻦ ﻓﻘﺎﻝ: «§ﺃﻣﺎ ﺇﻧﻬﻤﺎ ﻟﻴﻌﺬﺑﺎﻥ ﻭﻣﺎ ﻳﻌﺬﺑﺎﻥ ﻓﻲ ﻛﺒﻴﺮ، ﺃﻣﺎ ﺃﺣﺪﻫﻤﺎ ﻓﻜﺎﻥ ﻳﻤﺸﻲ ﺑﺎﻟﻨﻤﻴﻤﺔ، ﻭﺃﻣﺎ اﻵﺧﺮ ﻓﻜﺎﻥ ﻻ ﻳﺴﺘﺘﺮ ﻣﻦ ﺑﻮﻟﻪ»، ﻗﺎﻝ ﻓﺪﻋﺎ ﺑﻌﺴﻴﺐ ﺭﻃﺐ ﻓﺸﻘﻪ ﺑﺎﺛﻨﻴﻦ ﺛﻢ ﻏﺮﺱ ﻋﻠﻰ ﻫﺬا ﻭاﺣﺪا ﻭﻋﻠﻰ ﻫﺬا ﻭاﺣﺪا ﺛﻢ ﻗﺎﻝ: «ﻟﻌﻠﻪ ﺃﻥ ﻳﺨﻔﻒ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻴﺒﺴﺎ»
__________
S
[ ﺷ (ﻭﻣﺎ ﻳﻌﺬﺑﺎﻥ ﻓﻲ ﻛﺒﻴﺮ) ﻗﺪ ﺫﻛﺮ اﻟﻌﻠﻤﺎء ﻓﻴﻪ ﺗﺄﻭﻳﻠﻴﻦ ﺃﺣﺪﻫﻤﺎ ﺃﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﻜﺒﻴﺮ ﻓﻲ ﺯﻋﻤﻬﻤﺎ ﻭاﻟﺜﺎﻧﻲ ﺃﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﻜﺒﻴﺮ ﺗﺮﻛﻪ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﻭﺣﻜﻰ اﻟﻘﺎﺿﻲ ﻋﻴﺎﺽ ﺭﺣﻤﻪ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺗﺄﻭﻳﻼ ﺛﺎﻟﺜﺎ ﺃﻱ ﻟﻴﺲ ﺑﺄﻛﺒﺮ اﻟﻜﺒﺎﺋﺮ (ﺑﺎﻟﻨﻤﻴﻤﺔ) ﺣﻘﻴﻘﺘﻬﺎ ﻧﻘﻞ ﻛﻼﻡ اﻟﻨﺎﺱ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺇﻟﻰ ﺑﻌﺾ ﻋﻠﻰ ﺟﻬﺔ اﻹﻓﺴﺎﺩ (ﻻ ﻳﺴﺘﺘﺮ) ﺭﻭﻯ ﺛﻼﺙ ﺭﻭاﻳﺎﺕ ﻳﺴﺘﺘﺮ ﻭﻳﺴﺘﻨﺰﻩ ﻭﻳﺴﺘﺒﺮﺉ ﻭﻛﻠﻬﺎ ﺻﺤﻴﺤﺔ ﻭﻣﻌﻨﺎﻫﺎ ﻻ ﻳﺘﺠﻨﺒﻪ ﻭﻳﺘﺤﺮﺯ ﻣﻨﻪ (ﺑﻌﺴﻴﺐ) ﻫﻮ اﻟﺠﺮﻳﺪ ﻭاﻟﻐﺼﻦ ﻣﻦ اﻟﻨﺨﻞ ﻭﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ اﻟﻌﺜﻜﺎﻝ (ﺑﺎﺛﻨﻴﻦ) ﻫﺬﻩ اﻟﺒﺎء ﺯاﺋﺪﺓ ﻟﻠﺘﻮﻛﻴﺪ ﻭاﺛﻨﻴﻦ ﻣﻨﺼﻮﺏ ﻋﻠﻰ اﻟﺤﺎﻝ ﻭﺯﻳﺎﺩﺓ اﻟﺒﺎء ﻓﻲ اﻟﺤﺎﻝ ﺻﺤﻴﺤﺔ ﻣﻌﺮﻭﻓﺔ]

[Collected from: Muhammad Masih Ullah]

মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Leave a Reply