ঈদের দিনের বর্জনীয় দিকসমূহ!

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের। কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

 

আমি প্রথমেই সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।যদি আমার লেখায় কোন ভূলত্রুটি হয়ে থাকে ।তাহলে আমাকে মন্তব্য করে জানাবেন অনুরোধ রইলো ।কারণ আমি ভূল করে তারপর শিখতে চাই ।

 

এখন আসুন তাহলে মূল বিষয়ে কথা বলি ।আমি এখন আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করবো তা হলো ঈদের দিনের বর্জনীয় দিকসমূহ

 

১. ঈদের দিন সিয়াম পালন না করা। ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে ঈদের দিনের কাজসমূহ যথাযথ পালন করা যাবে না। সেজন্য  হাদীসে ঈদের দিন সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন’ [সহীহ মুসলিম : ২৭৩০]
২.  বিজাতীয় আচরণঃ মুসলিম সমাজে এ ব্যাধি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। এর মাধ্যমে একদিকে তারা সাংস্কৃতিক দৈন্যতার পরিচয় দিচ্ছে অপর দিকে নিজেদের তাহজিব-তামাদ্দুনের প্রতি প্রকাশ করছে অবজ্ঞা-অনীহা। এ ধরনের আচরণ ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
من تشبه بقوم فهو منهم
‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ : ৪০৩৩)
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন, এ হাদিসের বাহ্যিক অর্থ হল, যে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে কাফের হয়ে যাবে। যদি এ বাহ্যিক অর্থ আমরা নাও ধরি তবুও কমপক্ষে এ কাজটি যে হারাম তাতে সন্দেহ নেই।
৩. পুরুষ কর্তৃক নারীর বেশ ধারণ ও নারী কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণঃ
পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও সাজ-সজ্জার ক্ষেত্রে পুরুষের নারীর বেশ ধারণ ও নারীর পুরুষের বেশ ধারণ হারাম। ঈদের দিনে এ কাজটি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। হাদিসে এসেছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ
لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبهات من النساء بالرجال والمتشبهين من الرجال بالنساء
রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন। ( আবু দাউদ : ৪০৯৯)
৪. নারীদের খোলা-মেলা অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে বের হওয়াঃ
মনে রাখা প্রয়োজন যে খোলামেলা ও অশালীন পোশাকে রাস্তা-ঘাটে বের হওয়া ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
‘আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মূর্খতার যুগের মত নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (সূরা আহযাবঃ ৩৩) রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
صنفان من أهل النار لم أرهما : قوم معهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس، ونساء كاسيات عاريات، مميلات مائلات، رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة لا يدخلن الجنة ولا يجدن ريحها، وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا
রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম বাসী দু’ধরনের লোক যাদের আমি এখনও দেখতে পাইনি। একদল লোক যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা লোকজনকে প্রহার করবে। আর এক দল এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ মানুষের মত মনে হবে, অন্যদের আকর্ষণ করবে ও অন্যেরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না, যদিও তার সুগন্ধি বহু দূর থেকে পাওয়া যায়। ( মুসলিম : ৫৭০৪)
৫. নারীদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা এবং তাদের সাথে অশালীন আচরণ বিনিময় করাঃ
দেখা যায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই গুনাহের কাজটা ঈদের দিনে বেশি করা হয়। নিকট আত্মীয়দের মাঝে যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ শরিয়ত অনুমোদিত নয়, তাদের সাথে অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
إياكم والدخول على النساء، فقال رجل من الأنصار يا رسول الله أفرأيت الحمو؟ قال الحمو الموت
রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখবে। মদিনার আনসারদের মধ্য থেকে এক লোক প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল! দেবর-ভাসুর প্রমুখ আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ এ ধরনের আত্মীয়-স্বজন তো মৃত্যু। ( মুসলিম)
এ হাদিসে আরবি ‘الحمو’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ এমন সকল আত্মীয় যারা স্বামীর সম্পর্কের দিক দিয়ে নিকটতম। যেমন স্বামীর ভাই, তার মামা, খালু প্রমুখ। তাদেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করার কারণ হল এ সকল আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমেই বেপর্দা জনিত বিপদ আপদ বেশি ঘটে থাকে। যেমনটি অপরিচিত পুরুষদের বেলায় কম ঘটে।
৬. ঈদের রাতে বা দিনে অশ্লীল গান, বাজনা, নাচ, ছবি, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উপভোগ করাঃ
ঈদের দিনে এ গুনাহের কাজগুলো বেশি হতে দেখা যায়। গান ও বাদ্যযন্ত্র যে শরিয়তে নিষিদ্ধ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর তা যদি হয় অশ্লীল গান তাহলে তো তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন ভিন্নমত নেই। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
ليكون أقواما من أمتي يستحلون الحر والحرير والخمر والمعازف
আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বোখারি শরীফ : ৫৫৯০)
এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায় গান-বাদ্য নিষিদ্ধ। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে ‘তারা হালাল মনে করবে’, এর দ্বারা প্রমাণিত হয় মূলত এটা হারাম। ইসলামি শরিয়ত কিছু কিছু পর্বে বিনোদনের অনুমতি দিয়েছে।
এই দু’দিন ছিয়াম পালন নিষিদ্ধ।(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৪৮।)
এক্ষণে ‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ নামে তৃতীয় আরেকটি ঈদ-এর প্রচলন ঘটানো নিঃসন্দেহে বিদ‘আত- যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
পটকাবাজি, মাইকে ক্যাসেটবাজি, চরিত্র বিধ্বংসী ভিডিও প্রদর্শন, বাজে সিনেমা দেখা, খেলাধুলার নামে নারী-পুরুষের অবাধ সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
৭. . বেহুদা কাজে সময় ব্যয় করা
অনেকে বেহুদা কাজে ঈদে রাত জাগরণ ও দিনে বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করে থাকে। সেজন্য বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা দরকার। আলকুরআনে মুমিনের গুণাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর যারা অনর্থক কথা-কর্ম থেকে বিমুখ থাকে’’ [সূরা মুমিনুন : ০৩]।
৮. জামায়াতের সাথে ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা
ঈদের আনন্দে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী’ [সূরা আলমাউন : ৪-৫]।

ঈমানদার বান্দাহগণ সালাত আদায়ে কোন গাফলতি করে না।  কুরআনের ঘোষণা, ‘আর যারা নিজদের সালাতের হিফাযত করে’ [সূরা মায়ারিজ : ৩৪] ।
৯. অপচয় ও অপব্যয় করা
ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সব কিছুতেই অপচয় ও অপব্যয় করা  হয়। অথচ কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা কোনভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই’ [সূরা বনিইসরাঈল : ২৬-২৭]।

আরো বলা হয়েছে, ‘এবং তোমরা খাও, পান করো এবং অপচয় করো না’ [সূরা আরাফ : ৩১]।
১০.  জুয়া খেলা ও আতশবাজি করা
এগুলো শরিয়ত বিরোধী কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও’ [সূরা মায়িদাহ : ৯০]।
১১.  মানুষকে কষ্ট দেয়া
ঈদের দিনে অনেকে এমন কাজ করেন যা মানুষকে কষ্ট দেয়। যেমন, রাস্তা আটকিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়া, এমন আনন্দ করা যাতে অন্যরা কষ্ট পায়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার  হাত ও জিহবা থেকে অন্যরা নিরাপদ’ [সহীহ বুখারী : ৬৪৮৪]।
১২.  ঈদের সালাত আদায় না করে কেবল আনন্দ ফুর্তি করা
অনেকে ঈদের আনন্দে মাতওয়ারা হয়ে নতুন জামা-কাপড় পরিধান, সেমাই, ফিরনী ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঈদের সালাত আদায় করার কথা ভুলে যান। অথচ এই দিনে ঈদের সালাত আদায় করা হচ্ছে মূল করণীয়।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply