ঈদের দিনের করণীয় দিকসমূহ!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের। কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

 

আমি প্রথমেই সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।যদি আমার লেখায় কোন ভূলত্রুটি হয়ে থাকে ।তাহলে আমাকে মন্তব্য করে জানাবেন অনুরোধ রইলো ।কারণ আমি ভূল করে তারপর শিখতে চাই ।

 

এখন আসুন তাহলে মূল বিষয়ে কথা বলি ।আমি এখন আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করবো তা হলো ঈদের দিনের করণীয় দিকসমূহ।

 

ঈদের দিন আমাদের জীবনে আসে অসীম আনন্দ নিয়ে। আর এই আনন্দের দিনে আমাদের কিছু কাজ করা যায় আবার কিছু কাজ বর্জন করতে হয় যা প্রাকৃতিক নিয়মের মতোই সত্য। কেননা যা আমরা সাধারণ চোখে বা জ্ঞানে অবলোকন করতে পারি না তার অর্থ বুঝতে কষ্ট হয় ফলে সে বিষয়টি বিবেচনার দাবী রাখে। প্রথমে করণীয় এবং পরে বর্জনীয় দিক নিয়ে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।

1.    খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা মিসওয়াক করা ও প্রাকৃতিক কাজ কর্ম সমাধান করা
ঈদের দিনে খুব সকালে ঘুম থেকে জাগা উত্তম। কেননা তাতে আনন্দের ভাগটা আরও বেশি এবং ঝরঝরে হয়। ঘুম থেকে উঠেই হাত ধুয়ে নেয়া। কারণ রাত্রে মানুষের হাত কোথায় থাকে তা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বলতে পারে না। তাছাড়া যদি নাপাকি থেকেই থাকে তা পানির গোটা পাত্রে যেতে পারে, মানুষের চোখে মুখে যেতে পারে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সাহাবী বুসর ইবনে আরতাতের বংশধর আবুল ওয়ালিদ আহমাদ ইবনে বক্কার আদ-দিমাশকী (রাঃ) হতে আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যদি ঘুম থেকে জেগে উঠে তবে সে হাতে দুই বা তিনবার পানি ঢেলে তা পাত্রে ঢুকাবে, কারণ সে জানেনা তার হাত রাত্রে কোন কোন স্থানে রাত কাটিয়েছে। (ইফাবা, আবু দাউদ, নাসাঈ)।

অতঃপর প্রাকৃতিক কাজ কর্ম সম্পাদন করা প্রয়োজন তাহলে বলা যায় সারাদিন না হলেও সারা দিনের একটা অংশ বাড়তি একটা ঝামেলা  থেকে রক্ষা পাবে। এরপর মিসওয়াক করা। হযরত হুযাইফা (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (নিশ্চয়ই) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে দাঁত (ও পবিত্র মুখ) পরিষ্কার করতেন।(বোখারী শরীফ, রিয়াদুস সালেহীন, মিশকাত শরীফ, মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, আবু দাউদ শরীফ) (এছাড়াও মিসওয়াক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে আলোর নিশান ফোরামের সাথে থাকার পরামর্শ দেয়া হলো- লেখক)।

2.    ফজরের সালাত আদায়
ঈদ আমাদের এতোই মশগুল করে রাখে যে অনেকেই ফজরের সালাত আদায় করতে যায় না। ঈদের জন্য ফজরের নামায জামায়াতে পড়ার গুরুত্বও দেয় না। অথচ ফজরের নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া একটা আনন্দের দিনের শুরুতে ভাল একটা কাজের মাধ্যেমে শুরু করা কতই না আনন্দদায়ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তারা ইশা ও ফজর নামাযের মধ্যে কী আছে তা জানতে পারতো তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি নামাযের জামায়াতে শামিল হত’ [সহীহ বুখারী : ৬১৫]।

3.    রান্না-বান্নার কাজে মেয়েদের বা মা’দের সহযোগিতা করা
সকাল বেলা জেগে উঠার পর পূর্বের কাজ কর্ম সমাধা করার পর বাড়ীর মেয়ে বা মা’দের রান্না বান্নার কাজে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এতে কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং নিজের মা বোনকে সহযোগিতা করা ও নিজের খাবার নিজে তৈরি করে খাওয়া বা অপরকে খাওয়ানোর মধ্যে একটা আলাদা মজা আছে! এতো অল্প সময়ে মা বা বোনদের সকল দিকে সামাল দেয়া নিঃসন্দেহে একটু কষ্টদায়ক হয়। অপরের কষ্ট লাঘব নিঃসন্দেহে ভাল কাজ।

4.    গোসল করা
ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছছন্নতা অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। কেননা এ দিনে সকল মানুষ সালাত আদায়ের জন্য মিলিত হয়। ইবনে উমার রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত যে, ‘তিনি ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন’ [সুনান বায়হাকী : ৫৯২০]।

5.    সকাল বেলা কিছু খাওয়া

ঈদুল ফিতরের দিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) খেজুরর না খেয়ে ঈদগাহে রওনা হতেন না । আর খেজুর খেতেন বেজোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ তিনটি, পাঁটি বা সাতটি এভাবে) (বুখারী)
ঈদের দিনে উন্নত খাবার খাওয়া এবং পোষাক-পরিচ্ছদে মাত্রাতিরিক্ত করা মুস্তাহাব।
ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে খাবার গ্রহণ করা এবং  ঈদুল আজহার দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কিছু না খেয়ে সালাত আদায়ের পর কুরবানির গোশত খাওয়া সুন্নাত। বুরাইদা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের সালাতের পূর্বে খেতেন না’ [সুনান আততিরমীযি : ৫৪৫]।

6.    ফিতরা না দিয়ে থাকলে দ্রুত তার সমাধা করা
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আগে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষকে ফিতরা দান করা আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রতিটি রোজাদারের ওপর ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী ফিতরা সমাজের আট শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নির্দিষ্ট হারে ফিতরা দানের ফলে সমাজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের আর্থিক কল্যাণ সাধিত হয়। ফিতরা হচ্ছে দুনিয়া-আখিরাত এবং ব্যক্তি-সমাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উত্কৃষ্ট উদাহরণ। ফিতরার প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। ১. সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে অপরাপর মুসলমানের সঙ্গে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে। ২. রোজা পালনে সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যেন তার প্রতিবিধান হয়। মাসব্যাপী পরিচালিত কঠোর সাধনায় রিপু ও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে অবদমন করে যারা জয়ী হতে পেরেছেন, ঈদ তাদের জয়ের উত্সব।
ঈদের নামাযে বের হওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়। ঈদের দুই-এক দিন আগে ফিতরা পরিশোধ করলেও চলবে। নবী (সাঃ) ঈদের নামাযের জন্য বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করতে বলেছেন। তিনি বলেনঃ
من أداها قبل الصلاة فهي زكاة مقبولة ومن أداها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات
যে ব্যক্তি নামাযের পূর্বে ফিতরা আদায় করল, তার ফিতরা হিসেবে কবুল হবে। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর আদায় করল, তার ফিতরা সাধারণ সাদকা হিসেবে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)
রমযান মাসে সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণার্থে এবং অভাবগ্রস্থদের খাবার প্রদানের উদ্দেশ্যে ঈদের সালাতের পূর্বে নির্ধারিত পরিমাণের যে খাদ্য সামগ্রী দান করা হয়ে থাকে, শরীয়াতের পরিভাষায় তাকেই যাকাতুল ফিতরা বা ফিতরা বলা হয়ে থাকে।  হাদীসে এসেছে, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতে যাওয়ার পূর্বে ফিত্রাহ আদায় করার আদেশ দিলেন’ [সহীহ বুখারী : ১৫০৩]।

7.    নামাজে যাবার জন্য ভাল বা নতুন পোশাক পরিধান করা
ঈদে উত্তম জামা-কাপড় পরিধান করে ঈদ উদযাপন করা। এ দিনে সকল মানুষ একত্রে জমায়েত হয়, তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত হল তার প্রতি আল্লাহর যে নিয়ামাত তা প্রকাশ করার জন্য  ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার জন্য নিজেকে সবচেয়ে উত্তম সাজে সজ্জিত হওয়া। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘আল্লাহ রাববুল আলামিন তাঁর বান্দার উপর তাঁর প্রদত্ত নিয়ামাতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন’ [সহীহ আলজামে : ১৮৮৭]। ইবনুল কায়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন : ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু ঈদেই ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন’ [যাদুল মায়াদ]।
8.    চোখে সুরমা বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।
গোসল ও সাজ সজ্জার পর পুরুষদের খোশবু ব্যবহার করা উত্তম। আর মেয়েদের জন্য খোশবু ব্যবহার না করে অত্যন্ত পর্দার সাথে ঈদগাহে এসে সালাতে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, খুশবু স্নায়ুতে প্রফুল্লতা ও সজিবতা আনয়ন করে। মন ও মেজাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। মেয়েরা ইচ্ছা করলে তার স্বামীর কাছে যাবার সময় সুরমা সুগন্ধি বা আনন্দদায়ক পোশাক পড়তে পারবে। শুধু তাই নয় এটা করা উচিৎ।চোখে সুরমাও ব্যবহার করা যেতে পারে। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) একটি আতরদানী ছিল। তিনি তা থেকে আতর ব্যবহার করতেন।(শামায়েলে তিরমিযি)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট একটি সুরমাদানী ছিল। তা হতে তিনি প্রতি রাতে তিন সলা সুরমা উভয় চোখে ব্যবহার করতেন। (তিরমিযি)।

সুরমা ব্যবহার করলে চোখের দূর্বলতা, প্রতিবন্ধকতা ও ব্যাধী দূর হয়ে যায়। তাছাড়া যেসব উপকার করে তা হলো- ক) সুরমা শক্তিশালী জীবাণু নাশক, খ) আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, সুরমা ব্যবহার করলে সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি চোখের রেটিনার কোন ক্ষতি করতে পারে না। গ) চক্ষুর অনেক রোগ ব্যাধি ইহা দূর করে ইত্যাদি।
9.    পরিবারের ছোটদের জন্য কিছু উপঢৌকন বা ঈদ বোনাস প্রদান
ছোটকালের বা কিশোর কালের মতো আনন্দ কোন সময়েই মানুষের আসে না। কারণ তখনকার সময় সংসার চিন্তা থেকে থাকে মুক্ত। তাছাড়া তখন কাউকে কিছু দেবার সময় নয় শুধু পাবার সময়। এ সময় তাদের কোন আয় রোজগারের কোন পথ থাকে না। তারা তা করেও না। ফলে তাদের কিছু টাকা পয়সা বা জিনিসপত্র কিনে দিল তাদের আনন্দ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাছাড়া একটু ভেবে দেখলে দেখা যাবে এমনিতে কোন জিনিস কেনার টাকা দেয়ার চেয়ে যদি তার অর্ধেক টাকা দিয়ে বলা যায় তোমাকে ঈদ বোনাস দেয়া হলো তাহলে তারা আরও বেশি আনন্দ পাবে।
10.    পাড়াপরশির গরিব ছেলেমেয়েদের দিকে খেয়াল করা তাদের যথাসাধ্য কিছু উপহার দেয়া
সব সময় সুযোগ থাকলেও ঈদের সময় বেশি বেশি প্রতিবেশীর হক আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। কারণ সে সময় সবাই একটা আলাদা প্রস্তুতি নিয়েও থাকেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আলকুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন,  প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী’ [সূরা নিসা : ৩৬]
এ দিনে ইয়াতিমের খোঁজ-খবর নেয়া, তাদেরকে খাবার খাওয়ানো এবং সম্ভব হলে তাদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়া। এটা ঈমানদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আলকুরআনে এসেছে, তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে  [সুরা আদদাহর : ৮]

 

11.    নামাযের জন্য রওনা হওয়া ও দোয়া পড়া, ইসতেগফার পড়া
ঈদের দিনে আল্লাহ তায়ালা অনেক বান্দাহকে মাপ করে দেন। মুয়ারিরক আলঈজলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহ তায়ালা একদল লোককে এভাবে  মাপ করে দিবেন, যেমনি তাদের মা তাদের নিষ্পাপ জন্ম দিয়েছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন এই দিনে মুসলিমদের জামায়াতে দোয়ায় অংশ গ্রহণ করে’  [লাতাইফুলমায়ারিফ]।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন’ [মুসত্মাদরাক : ১১০৬]।

যখন সালাত শেষ হয়ে যেত তখন আর তাকবীর পাঠ করতেন না। বিশেষভাবে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে যখন বের হবেন ও ঈদগাহে সালাতের অপেক্ষায় যখন থাকবেন তখন গুরুত্বসহকারে তাকবীর পাঠ করতে হবে। তাকবীর হচ্ছে  (اللهُ أكْبَرُ اللهُ أكْبَرُ، لاَ إلَهَ إلاَّ اللهُ ، اللهُ أكْبَرُ اللهُ أكْبَرُ وَللهِ الْحَمْدُ ) আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

ঈদগাহে তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিত যাতে ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা যায়, প্রথম কাতারে সালাত আদায় করা যায়। তাছাড়া সালাতের জন্য অপেক্ষা করা সওয়াবে কাজ।শীঘ্র শীঘ্র ঈদের মাঠে যাওয়া। এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। (বুখারী) ।

ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া মুস্তাহাব। আর এক পথে যাবে এবং ভিন্ন পথ দিয়ে আবার পায়ে হেটেই আসা সুন্নত।
আর ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া হল সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আলী রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘সুন্নাত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া’ [সুনান আততিরমিযী : ৫৩৩]। উভয় পথের লোকদেরকে সালাম দেয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য যে পথে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসা। হাদীসে এসেছে, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন’ [সহীহ বুখারী : ৯৮৬]।

 

12.    ঈদুল ফিতরের নামাজের স্থানে যথাস্থানে বসা কারও কাধ ডিঙ্গিয়ে বা কাউকে কষ্ট দিয়ে সামনে না বসা।
ঈদগাহে তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিত যাতে ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা যায়, প্রথম কাতারে সালাত আদায় করা যায়। তাছাড়া সালাতের জন্য অপেক্ষা করা সওয়াবে কাজ।শীঘ্র শীঘ্র ঈদের মাঠে যাওয়া।কেউ যদি দ্রুত বা আগে ভাগেই ঈদগাহে পৌঁছাতে না পারেন তাহলে যেখানে বসার স্থান পাবেন সেখানেই বসে যাবেন। কাউকে কষ্ট দিয়ে বা কাধ ডিঙ্গিয়ে সামনে বসা যায়েজ নাই। অবশ্য বেশিরভাগ সময় কেউ অহংকারবশত নিজেকে অধিক সম্মানিত মনে করায় কাধ ডিঙ্গিয়ে সামনে যায়। তবে সামনে ফাঁকা স্থান থাকলে সেখানে আগে বসা প্রয়োজন।

13.     ঈদের সালাত আদায় করা
ঈদের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঈদের সালাত আদায় করা। অনেকে আলেম ওলামা এই নামাযকে ওয়াজিব বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে একজন ঈমানদার বান্দাহ সালাত আদায়ের মাধ্যমে বেশি আনন্দিত হয়ে থাকে এবং তার চাওয়া পাওয়াও নামাযের মাধ্যমে হয়ে থাকে। হাদীসে এসেছে, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে বের হয়ে দু রাকাত ঈদের সালাত আদায় করেছেন। এর পূর্বে ও পরে অন্য কোন নামায আদায় করেননি’ [সহীহ বুখারী : ৯৮৯]।

ঈদের সালাতে মহিলাদেরকে শামিল করানোর বিষয়ে হাদীসে এসেছে, উম্মে আতিয়া রাদি আল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে সালাতের জন্য বের করে দেই; পরিণত বয়স্কা, ঋতুবর্তী ও গৃহবাসিনীসহ সকলকেই। কিন্তু ঋতুবর্তী (ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে) সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে তবে কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়া প্রত্যক্ষ করতে অংশ নিবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। (যা পরিধান করে আমরা ঈদের সালাতে যেতে পারি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ‘সে তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরিধান করবে’ [সহীহ মুসলিম : ২০৯৩]।
(বিস্তারিত আমাদের আরেক ভাই দেয়ার কথা তাই দিলাম না- লেখক)

14.    ঈদের জামায়াত শেষে পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় কোলকুলি ও দোয়া করা
ঈদ উপলক্ষে একে অপরকে অভিনন্দন ও ঈদের শুভেচ্ছা জানানো সুন্নত। তবে এর নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই। অবশ্য সালাফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত আছে যে, তাঁরা এই দিনে এক অপরকে বলতেনঃ (تقبل الله منا ومنكم)আল্লাহ্ আমাদের ও আপনাদের সৎ আমলগুলো কবুল করুন। আরব দেশে পরস্পর ঈদ সাঈদ عيد سعيد , ঈদ মোবারক এবং كل عام وأنتم بخير এ সমস্ত কথাগুলো বলতে শুনা যায়। অন্যত্র বর্ণিত আছে, ঈদের দিন ছাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে সাক্ষাৎ হ’লে বলতেন ‘আল্লাহুম্মা তাক্বাববাল মিন্না ওয়া মিনকা’ (অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ হ’তে কবুল করুন!)।(ফিক্ব্হুস সুন্নাহ ১/৩১৫।)সাহাবে কিরাম ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়ে একে অপরকে বলতেনঃ ঈদ মোবারক (আপনাকে বরকতময় ঈদের শুভেচ্ছা)।

কুল্লু আম ওয়া আনতুম বিখাইর (প্রতি বছরই আপনারা ভাল থাকুন)
মুসাফাহা ও মুআনাকা করা :
মুসাফাহা ও মুআনাকা করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়। আবূ হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘একদা হাসান ইবনে আলী রাদি আল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন, তিনি তখন তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং মুআনাকা (কোলাকুলি) করলেন’  [শারহুস সুন্নাহ]।

15.    কবর জিয়ারত করা
কবর জিয়ারত করা শরিয়ত সমর্থিত একটি নেক আমল। হাদিস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ألا فزوروها فإنها ترق القلب وتدمع العين وتذكر الآخرة، ولا
আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, হ্যাঁ এখন তোমরা কবর জিয়ারত করবে। কারণ কবর জিয়ারত হৃদয়কে কোমল করে, নয়নকে অশ্রুসিক্ত করে ও পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে তোমরা শোক ও বেদনা প্রকাশ করতে সেখানে কিছু বলবে না। (সহিহুল জামে, হাদিস নং ৪৫৮৪) কিন্তু ঈদের দিনে কবর জিয়ারতকে অভ্যাসে পরিণত করা বা একটা প্রথা বানিয়ে নেয়া শরিয়ত সম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ (মাঃ) বলেনঃ
لا تجعلوا قبري عيداً (তোমরা আমার কবরে ঈদ উদযাপন করবে না বা ঈদের স্থান বানাবে না।)  (আবু দাউদ)
যদি ঈদের দিন কবর জিয়ারত করা হয় তবে কবরে ঈদ উদযাপন হয়েছে বলে গণ্য হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে ঈদ মানে যা বার বার আসে। যদি বছরের কোন একটি দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা হয় আর তা প্রতি বছর করা হয় তা হলে এর অর্থই হবে কবরকে ঈদের উৎসব-সামগ্রী হিসেবে সাব্যস্ত করা। আর সেটা যদি সত্যিকার ঈদের দিনে হয় তবে তা আরো মারাত্মক বলে ধরে নেয়া যায়। যখন আল্লাহর রাসূলের কবরে ঈদ পালন নিষিদ্ধ তখন অন্যের কবরে ঈদ উদযাপন করার হুকুম কতখানি নিষিদ্ধের পর্যায়ে পড়তে পারে তা ভেবে দেখা উচতি।
মোটকথা ঈদের দিনকে ফজীলত মনে করে কবর যিয়ারত করা। তবে কেউ ছুটিতে ঈদের দিন নিজ বাড়িতে গেলে মৃত আত্মীয় স্বজনের কবর যিয়ারত করতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু যারা সারা বছর নিজ দেশেই থাকেন তারা যদি ঈদের দিন বিশেষ গুরুত্বের সাথে কবর যিয়ারত করেন, তাহলে বিদআত হবে। এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে এমন ইবাদাত করল যাতে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে’ [সহীহ মুসলিম : ৪৫৯০]।

16.    যাবার ও আসার পথ ভিন্ন করা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একপথে যেতেন ও অন্যপথে ফিরতেন। ( ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩১৭-১৮।

উভয় পথের লোকদেরকে সালাম দেয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য যে পথে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসা। হাদীসে এসেছে, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন’ [সহীহ বুখারী : ৯৮৬]।

17.    ঈদ থেকে আসার সময় অপব্যয় ও অপচয় না হয় মর্মে কিছু বাড়ীর মানুষের জন্য কিনে নিয়ে আসা বিশেষত খাদ্য জাতীয়
যারা বাড়িতে থাকে তাদের অনেকেই ঈদের কোন জিনিস কিনতে পছন্দ করে। আবার অনেক খাবার খেতে পছন্দ করে যেমন চানাচুড়, জিলাপী ইত্যাদি। তবে কেনার সময় ভাল মন্দ বাছাই করা প্রয়োজন। অনেক ছোট মানুষ যেতে পারে না তাদের জন্য খেলনা কেনা যেতে পারে।

18.    ঈদের সালাত শেষে বাড়ী ফিরেই নফল নামাজ পড়া
আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) ঈদেও দিন ফজরের সালাতের পর ঈদের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে কোন প্রকার সুন্নত, নফল সালাত পড়েন নি। (ঈদগাহ থেকে) বাড়ী ফিরেই তিনি প্রথমে দু’ রাকাত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

আমাদেরও উচিৎ বাড়ীতে ফিরেই দু-রাকায়াত সালাত আদায় করা।

19.    নিকট ও দূরবর্তী আত্মীয় স্বজনের/প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেয় ও বন্ধু বান্ধবের খোজ নেয়া ও শুভেচ্ছা জানানো
পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি এবং সকল আত্মীয় স্বজনের অন্তরে বৈধ পন্থায় আনন্দ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা এবং তাদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং মুসলিম বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কুশল বিনিময় করা এবং তাদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো ঈদের বিনোদনের অন্তর্ভূক্ত।
আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া প্রয়োজন। ঈদের সময় বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে আখেরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে’ [ সহীহ বুখারী : ৬১৩৮]।
দূরের আত্মীয়দের এসময় ভুলে না যাওয়া প্রয়োজন।দূরের আত্মীয়দের বাড়িতে যাবো এবং তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে সাধ্যানুযায়ী উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা ঈদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।
ঈদের সময় প্রতিবেশীর হক আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন,  প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী’ [সূরা নিসা : ৩৬]

20.    ইয়াতিম ও গরীর মানুষদের খাওয়ান
ইয়াতিম এবং গরিব মানুষদের এ দিনে বাড়ীতে ডেকে এনে খাওয়ানো প্রয়োজন। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন তাদের অন্তরের কষ্ট যে কি তার শিক্ষা দেয়াই মূলত এ রমজানের আগমনের অন্যতম কারণ। আর আজকেও যদি তা না করি তাহলে রোজা আমাদের কি দিল তা সহযেই অনুমেয়।

21.    বৈধ খেলা ধুলার আয়োজন করা
অনেকেই মনে করেন, ইসলামে খেলা-ধুলা ও আনন্দ-ফুর্তি করার মত কিছু নেই। তাদের ধারণা ঠিক নয়। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ একদিন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার ঘরের সামনে দন্ডায়মান দেখতে পেলাম। তখন হাবশীগণ মসজিদে খেলা করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে আপন চাদর দিয়ে পর্দা করে রাখছিলেন আর আমি তাদের খেলা অবলোকন করছিলাম। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা অস্ত্র নিয়ে খেলা করছিলেন। এ হাদীছ থেকে বৈধ খেলা-ধুলার আয়োজন করার দলীল রয়েছে। অন্য হাদীছে এসেছে, নবী (সাঃ) এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে পূর্ণিমার রাতে একাধিকবার দৌড় প্রতিযোগীতায় নেমেছিলেন। প্রথমবার আয়েশা (রাঃ) জয়লাভ করেন। দ্বিতীয়বা দৌড় প্রতিযোগীতায় রাসূল (সাঃ) আয়েশাকে পরাজিত করে দেন। এদিন নির্দোষ খেলাধুলা করা যাবে।(ফিক্ব্হুস সুন্নাহ ১/৩২২।)

22.    ইসলামী কবিতা আবৃত্তি ও তাওহীদি জাগরণ মূলক কিছু গাওয়া
বিবাহের অনুষ্ঠানে ও ঈদের দিনে ইসলাম আনন্দ ও বিনোদন করার অনুমুত দিয়েছে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ
دخل أبو بكر وعندي جاريتان من جواري الأنصار تغنيان بما تقاولت الأنصار يوم بعاث قالت وليستا بمغنيتين، فقال أبو بكر أمزامير الشيطان في بيت رسول الله ؟ وذلك يوم عيد، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا أبا بكر إن لكل قوم عيداً وهذا عيدنا
একদিন আবু বকর (রাঃ) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন দু’জন আনসারী বালিকা বুয়াছ যুদ্ধে তাদের বীরত্ব সম্পর্কিত গান গাচ্ছিল, কিন্তু তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আশ্চর্য! আল্লাহর রাসূলের ঘরে শয়তানের বাদ্য! এদিনটি ছিল ঈদের দিন। আবু বকর (রাঃ)এর এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এদিন হল আমাদের ঈদ। ( বোখারি)
রাবী বিনতে মুআওযয়য (রাঃ) বলেনঃ
جاء النبي صلى الله عليه وسلم حين بني علي فجلس على فراشي كمجلسك مني، فجعلت جويريات لنا يضربن بالدف، ويندبن من قتل من آبائي يوم بدر، إذ قالت إحداهن وفينا نبي يعلم ما في غد. فقال دعي هذه وقولي بالذي كنت تقولين
যখন আমার বিবাহের অনুষ্ঠান হচ্ছিল তখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে আমার বিছানায় এমনভাবে বসলেন যেমন তুমি বসেছ। তখন কয়েকজন বালিকা দফ বাজাচ্ছিল ও আমাদের পূর্ব-পুরুষদের মাঝে যারা বদর যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তাদের প্রশংসামূলক সংগীত গাচ্ছিল। এ সংগীতের মাঝে এক বালিকা বলে উঠল। আমাদের মাঝে এমন এক নবী আছেন যিনি জানেন আগামী কাল কি হবে। তখন আল্লাহর রাসূল(সাঃ) বললেনঃ এ কথা বাদ দাও এবং যা বলছিলে তা বল। (বুখারী) তাই অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম নিমোক্ত কয়েকটি সময়ে দফ অর্থাৎ এক দিকে খোলা ঢোল জাতীয় বাদ্য বাজানোকে জায়েজ বলেছেন।

23.    মানুষের মন-মালিন্য দূর করা
জীবন চলার পথে বিভিন্ন পর্যায়ে কারো কারো সম্পর্কের অবনতি হতে পারে । ঈদের সময় পারস্পরিক মন-মলিন্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে দেখা সাক্ষাৎ হলে একজন অন্য জনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ঐ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে প্রথম সালাম দেয়’ [সহীহ মুসলিম : ৬৬৯৭]।

24.    আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদি আল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন : ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন, তখন আমার নিকট দুটি ছোট মেয়ে গান গাইতেছিল, বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। ইতোমধ্যে আবূ বকর রাদি আল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজির ঘরে শয়তানের বাশি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শুনে বললেন : মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন’ [সহীহ বুখারী : ৯৫২]।

 

পরবর্তি পোষ্ট  বর্জনীয় দিকসমূহ নিয়ে

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

One thought on “ঈদের দিনের করণীয় দিকসমূহ!

  • October 22, 2012 at 8:18 am
    Permalink

    আপনার প্রতিটি পোস্টে কয়েকটি ভুল লক্ষনিয় দয়া করে বানানের প্রতি খেয়াল রাখবেন। মৌলিক ভুলঃ তাড়পর,শিক্ষতে

Leave a Reply