প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তার আপাদমস্তক পবিত্র নূর এর ইতিহাস ও অকাট্য দলীল।পর্ব-১

আসসালামু আলাইকুম,

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) যে, পবিত্র নূর মুবারক এর সৃষ্টি এতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই। কিন্ত গুটি কয়েক আলেম যারা আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মাটির তৈরী বলেন।(নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)। তাদের কাছে কোন ধরনের দলীল নাই। তারা তাদের মনগড়া লেখক এর বই পড়ে এসব ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করে। আমি এখন থেকে রাসূলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর পবিত্র নূ মুবারক নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করব।আর তার আগে ওই সকলা ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ কারীদের কে বলবো, যদি আপনারা আপনাদের পক্ষে কোন প্রমান দেখাতে পারেন তাহল আমি আপনাদের কে ৫লক্ষ টাকা পুরস্কার দিব। আর যদি না পারেন তাহলে আমাকে আপনাদের দিতে হবে।

যাই হোক এখন আমি আমার আলোচনা শুরু করি।

>> নূরে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি।ইতিহাস। পর্ব-১

আমি প্রথমেই পবিত্র সূরা মায়েদার একটি আয়াত বলতে চাই

“ক্বদ জা-আকুম মিনাল্লাহি নূরুউওয়া কিতাবুম মুবিন”

অর্থঃ- আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের নিকট আগমন করেছে নূর এবং সু-স্পষ্ট কিতাব।

**এই নূরে ব্যাখ্যায় তাফসীরে জালালাইন ও তাফসীরে রুহুল বয়ানে বলা হয়েছে, নূর দ্বারা রাসূল পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কিতাব দ্বারা পবিত্র আল-কুরআন কে বুঝানো হয়েছে।

অনাদি অনন্ত স্বত্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন িএকা ও অপ্রকাশিতছিলেন তখন তার অত্ন প্রকাশেন সাধ ও ইচ্ছা জাগরিত হলো। তখন তিনি একক হিসেবে নবী কনিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর পবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি করলেন এবং নাস রাখলেন মুহাম্মাদ ।

{কানজুদ্দাকায়েক-ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)}

সেই নূরে মুহাম্মাদীর সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্বয়ং নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  মারফু মুত্তাসিল হাদীসের মাধ্যমে পরিস্কার ব্যাখ্যা করে গেছেন। উক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে জাবের ইনে আবদুল্লাহ (রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) কতৃক। উক্ত হাদীসটি প্রথম সংকলিত হয়েছে “মোসন্নেফ আব্দুর রাজ্জাক” নামক হাদীস গ্রন্থে। মুহাদ্দিস আবদুর রাজ্জাক ছিলেন হযরত ইমাম বুখারী (রহঃ) এর দাদা ওস্তাদ এব ইমাম মালেক (রহঃ) এর শাগরিদ। পরবর্তীতে উক্ত গ্রন্থ হতে অনেক হাদীস বিশারদগণ নিজ নিজ গ্রন্থে হাদীসখানা সংকলিত করেছেন। যেমন- ইমাম কাসতুলানী (রহঃ) তার রচিত নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)   এর জীবনি গ্রন্থ “মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়্যায়” উক্ত হাদীসখঅনা সংকলন করেছেন। মিশরের আল্লামা ইউসুফ নাবহানী াতর রচিত আনওয়ারে মুহাম্মাদীয়া নামক আরবী গ্রন্থেও উক্ত হাদীসখানা উল্লেখ করেন। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর সৃষ্টি সম্পর্কে এই হাদীসখানা স্বব্যাখ্যাত এবং বিস্তারিত। তাই বিজ্ঞ পাঠকের সামনে আমি উক্ত হাদীসখানা অনুবাদ সহকারে তুলে ধরছি।

অর্থঃ- ইমাম আবদুর রাজ্জাক মুয়াম্মার হতে, তিনি ইবনে মুনকাদার হতে, তিনি হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে বর্ণনা করেছেনঃ হযরত জাবের (রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমার উপর আমার পিতা মাতা উৎসর্গ হউক, আল্লাহ তায়ালা সর্ব প্রথম কোন বস্ত সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন-”হে জাবের, আল্লাহ তায়ালা সর্ব প্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তার নিজ নূর হতে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন। তারপর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছানুযায়ী ঐ নূর (লা-মাকানে) পরিভ্রমণ করতে থাকে। কেননা ঐ সময়ে না ছিল লাওহে মাহফুজ, না ছিল কলম,না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোযখ, না ছিল ফিরিস্তা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জ্বীন জাতি, না ছিল মানবজাতি। অতঃপর যখন আল্লাহতায়ালা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি  করার মনস্থ করলেন তখন আমার ঐ নূরকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে কলম, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে লাওহে-মাহফুয এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার জচার ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফিরিস্তা , দ্বিতীয় অংশ দিয়ে কুরসি এবং তৃতীং অংশ দিয়ে অন্যান্য ফিরিস্তা সৃষ্টি করলেন। দ্বিতীয় চার ভাগের এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে আকাশ , দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে জমিন এবং তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেস্ত ও দোযখ সৃষ্টি করলেন। তৃতীয়বার অবশিষ্ট এক ভাগকে পুনরায় চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে মুমিনের নয়নের নূর, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে মুমিনদের কলবের নূ- তথা আ্ল্লাহর মা’রেফাত এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে মুমিনের মহব্বতের নূর তথা তাওহীদি কালিমা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” সৃষ্টি করলেন। (২৫৬ ভাগের এক ভাগ দিয়ে অন্যান্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন।

–   মাওয়াহেবে লাদুনিয়্যাহ ও মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-(আল জুয্‌উল মাফকুদ অংশ)

ব্যাখ্যাঃ- উক্ত হাদীসে বর্ণিত “মিন-নূরিহী” বা তার “নিজ নূর” হতে শব্দটির ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত আল্লামা হযরত মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মিরকাত শরীফে লিখেছেন- “আয়-মিন লামআতে নূরিহী”- অর্থাৎ- আল্লাহ তায়ালা তার আপন যাতি নূরের জ্যোতি দিয়ে নবীজীর নূর সৃষ্টি করেছেন।

 

#মুজাদ্দেদে জামান আলফেসানী (রহঃ) মাকতুবাত শরীফের ৩য় খন্ড ১০০ নম্বরের মাকতুবে বলেছেন “আল্লাহ তায়ালা তাহাকে স্বীয় খাস নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন”।

#হযরত যারকানী (রহঃ) “মিন-নূরিহী” এর ব্যাখ্যায় বলেছেন – “মিন নূরিন হুয়া যাতুহু”

অর্থাৎ আল্লাহর যাত বা স্বত্বা হলো নূর-সেই যাতি নূরের জ্যোতি হতেই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নূরের সৃষ্টি” এবং হযরত আশরাফ আলী থানবীও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার “নশরুত ত্বীব” গ্রন্থের ৫ম পৃষ্ঠায়।

#অন্য এক হদীসে হযরত আলী ইবনে হোসাইন ইবনে আলী (রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তার পিতা ও দাদার সূত্রে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন

অর্থঃ- আমি আদম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বৎসর পূর্বে আমার প্রতিপালকের নিকট নূর হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম।

(উল্লেখ্য যে ঐ জগতের একদিন পৃথিবীর এক হাজার বৎসরের সমান। অংকের হিসাবে ৫১১০০০০০০০ বৎসর হয়।

-বিদায়া ও নিহায়া এবং আনওয়ারে মুহাম্মাদীয়া গ্রন্থসূত্রে এই হাদীসখানা উদ্ধৃত করা হয়েছে।)

আজ এই পর্যন্ত। সকলেই কমেন্ট করবেন। দেখা হবে আগামী পর্বে। আসসালামু আলাইকুম।

পূর্বে প্রকাশিত

2 thoughts on “প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তার আপাদমস্তক পবিত্র নূর এর ইতিহাস ও অকাট্য দলীল।পর্ব-১

  • February 13, 2014 at 7:40 am
    Permalink

    ভাই,পড়ে বুঝলাম আপনি অনেক কষ্ট করে লেখেছেন।আচ্ছা আপনি যে হাদিস গুলো উল্লেখ করেছেন এর সনদ কোথায়?না শুধু মুখে হাদিস বললেই হাদিস হয়ে যায়।আপনি বিভিন্ন আল্লাহর ওলিদের উক্তি নিয়ে এসেছেন।মনে রাখা উচিত,আল্লাহর অলীদের কথা আমাদের জন্য দলীল নয়।আপনি কোরান+হাদিস থেকে প্রমাণ করুন যে,রাসুল (সাঃ) নূরের তৈরি ছিলেন।
    তাছাড়া আপনি যে আয়াত শরিফ উল্লেখ করেছেন তা তো আমরাও মানি এর দ্বারা রাসুল উদ্দেশ্য।তাই বলে এই নুর দ্বারা এখানে কি রাসুল (সাঃ)নুরের তৈরি বলা হয়েছে?নূর অর্থ আলো।রাসুল (সাঃ) বিশ্ববাসীর জন্য আল।তার এই হেদায়েতি আলোতে উদ্ভাসিত হয়েই সমগ্র জাহান হেদায়েতের রঙ্গে রঙ্গিন হয়েছে।মোট কথা এই আয়াতে পাক দ্বারা রাসুল যে নূরের তৈরি তা প্রমাণিত হয়না।পক্ষান্তরে কোরানের অসংখ্য জায়গায় রাসুলকে মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তায়ালা।তাহলে আল্লাহ কি রাসূলের সম্মান নষ্ট করলেন?(নাউযুবিল্লাহ)অথচ তিনি নিজেই তার সম্মানের রক্ষক বলে ঘোষনা করেছেন।

    আর আপনি যে হাদিসগুলো এখানে উল্লেখ করেছেন তার প্রত্যেকটা হাদিস জাল।আরো জানতে চাইলে মুফতি আব্দুল মালেক সাহেবের “প্রচলিত জাল হাদিস” পড়তে পারেন।

  • February 13, 2014 at 8:03 am
    Permalink

    একেতো আপনি প্রমাণ করতে পারলেননা রাসুল নূরের তৈরি।তার উপর আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন।আসলে এটা আপনার দোষ নয় আপনার পূর্ববর্তি কিছু আলেম এরূপ বলে গেছেন।এখন আমি আপনার উদ্দেশ্যে কিছু আয়াত পাক উল্লেখ করছি।আল্লাহ চাইলে আপনাকে সঠিক বুঝ দিতে পারেন।তিনি হেদায়েতের মালিক আপনার,আমার,আমাদের সকলের।

    أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِّن زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَىٰ فِي السَّمَاءِ وَلَن نُّؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّىٰ تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَّقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُولًا ﴿الإسراء: ٩٣﴾
    অথবা আপনার কোন সোনার তৈরী গৃহ হবে অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন এবং আমরা আপনার আকাশে আরোহণকে কখনও বিশ্বাস করবনা, যে পর্যন্ত না আপনি অবতীর্ণ করেন আমাদের প্রতি এক গ্রন্থ, যা আমরা পাঠ করব। বলুনঃ পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, একজন মানব, একজন রসূল বৈ আমি কে? (১৭: ৯৩)

    فَقَالُوا أَبَشَرًا مِّنَّا وَاحِدًا نَّتَّبِعُهُ إِنَّا إِذًا لَّفِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ ﴿القمر: ٢٤﴾
    তারা বলেছিলঃ আমরা কি আমাদেরই একজনের অনুসরণ করব? তবে তো আমরা বিপথগামী ও বিকার গ্রস্থরূপে গণ্য হব। (৫৪: ২৪)

    وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ ﴿الأنبياء: ٣٤﴾
    আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (২১: ৩৪)

    لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُوا هَلْ هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿الأنبياء: ٣﴾
    তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। জালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে শুনে তোমরা তার যাদুর কবলে কেন পড়? (২১: ৩)
    قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ ﴿فصلت: ٦﴾
    বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ, (৪১: ৬)

    ذَٰلِكَ بِأَنَّهُ كَانَت تَّأْتِيهِمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالُوا أَبَشَرٌ يَهْدُونَنَا فَكَفَرُوا وَتَوَلَّوا وَّاسْتَغْنَى اللَّهُ وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿التغابن: ٦﴾
    এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত। (৬৪: ৬)

    قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴿الكهف: ١١٠﴾
    বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। (১৮: ১১০)

    فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً مَّا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ ﴿المؤمنون: ٢٤﴾
    তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের-প্রধানরা বলেছিলঃ এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের উপর নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি। (২৩: ২৪)

    وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ ﴿المؤمنون: ٣٣﴾
    তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম, তারা বললঃ এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে। (২৩: ৩৩)

    قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِن نَّحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَن نَّأْتِيَكُم بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿ابراهيم: ١١﴾
    তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই। (১৪: ১১)

    قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُوا إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ ﴿ابراهيم: ١٠﴾
    তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর। (১৪: ১০)

    وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٍ مِّن شَيْءٍ قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا وَعُلِّمْتُم مَّا لَمْ تَعْلَمُوا أَنتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ قُلِ اللَّهُ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ ﴿الأنعام: ٩١﴾
    তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল ? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন। (৬: ৯১)

    এইবার চিন্তা করে দেখুন রাসুল কি ছিলেন?

Leave a Reply