আল্‌-জামি’আহ আল্‌-ইসলামিয়্যাহ পটিয়া, “ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ-ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ”

এক নজরে “ আল্‌-জামি’আহ্‌ আল্‌-ইসলামিয়্যাহ” পটিয়া, চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ

 

1 

 

আল-জামি’আহ আল-ইসলামিয়্যাহ (জমিরিয়া ক্বাসেমুল্‌ ‘উলূম) পটিয়া, চট্টগ্রাম বাংলাদেশ

 

ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ-ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেক্ষাপটের আলোকে যা ছিল একটি ধর্মীয় দুরন্ত আন্দোলন ও বিপ্লব, সংস্কার ও সংগ্রাম।

 

ঐতিহাসিক কর্ণফুলি নদীর পশ্চিম তটে সংযুক্ত, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহর। শহরের পূর্ব-দক্ষিণ তটে, প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পটিয়া থানা (সাবেক মহকুমা)। এ শহর ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যবাহী ও বহু বিপ্লব-অনুবিপ্লবের স্মৃতিধারক। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এক সময় এ ’এলাকা পটিয়া কেন্দ্রিক শাসিত ছিল। রাজনৈতিক গুরুত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ শহরের বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে এ শহরের দু’দিকজুড়ে বিস্তৃত ঐতিহাসিক শঙ্ঘ ও কর্ণফুলী নদী। অপর দিকে রয়েছে উঁচু উঁচু পাহাড়সারি যা আবহমান বাংলার বনেদী প্রকৃতির জীবন্ত স্মারক। অন্যত্র রয়েছে সমুদ্রস্নাত সবুজাভ ক্ষেতের সমতল ভূমি। এমনি এক মনোহারী প্রাকৃতিক লীলাভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠ জামি’আহ ইসলামিয়্যাহ পটিয়া।

 

জামি’আ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস-

আজ থেকে বহুযুগ পূর্বের কথা। তখন বৃটিশ শাসনের যৌবনকাল। পুরো পটিয়া এলাকাজুড়ে সে যৌবনের উত্তাপ ছিল প্রচন্ড-প্রখর। গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ সরলমনা মানুষগুলো মনে করে বসেছিল, এটিই তাদের জীবনের চূড়ান্ত ভাগ্য, যা থেকে তাদের কোন নিস্তার নেই। ঘরে-ঘরে জ্বলছিল অপসংস্কৃতির লেলিহান শিখা। তবুও যেন পটিয়ার জনসাধারণ ক্রমাগত অত্যাচারী শাসনের নির্মমতার সামনে ভুলে গিয়েছিল আত্মপরিচয়, ভুলতে বসছিল মানবতা ও স্বাধীনতার কথা। ইংরেজ কর্তৃক চেপে দেওয়া আধুনিক বনাম শেকড়ঘাতী শিক্ষার প্রভাবে তাদের প্রশস্ত অন্তর অন্ধ কুটিরে পরিণত হয়েছিল। তবে কিছু  ভালো মনের লোক ধর্মীয় আলেমদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন উভয় জাগতিক শান্তির আশায়, মুক্তির অন্বেষায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ‘রাহবার’ হয়ে গেল ‘রাহযন’।ওইসব আলেম বনী ইসরাঈলের ছা-মিরীর মতো তাদেরকে আলোর পথ দেখানোর পরিবর্তে ঘনঘোর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। বিশুদ্ধ তাও’হীদ ও রিসালাতের সুধা পান করানোর বদলে তাদের সামনে পরিবশেন করা হলো শিরক্‌ ও বিদ্‌’আহ-এর বিষ-বোতল। তাদেরকে বোঝানো হলো, মাজারে সিজ্‌দাহ্‌, মাজার ধুয়া পানি পান, পীর সাহেবের স্নানোত্তর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার, অকাতরে পীরবেশী ডাকাতের পায়ে লুটে পড়া, সাড়ম্বর ওরশ-উদযাপন প্রভৃতি কর্মই হলো সফলতা, শান্তির ও মুক্তির গ্যারান্টি। শত বছর থেকে নিষ্পেষিত মুক্তিকামী মানুষেরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কবুল করতে লাগল মোল্লাদের এসব ভ্রান্ত কথা ও প্রথা। এভাবেই পটিয়ার রন্ধ্রে-রন্ধ্রে প্রবেশ করল ধর্মের নামে অধর্মের বিষক্রিয়া। এসব কুপ্রথাকে পুঁজি করে পুরো পটিয়াকে গ্রাস করে বসেছিল এক শ্রেণীর ধর্ম-ব্যবসায়ী মোল্লা। এভাবেই পটিয়ার শুভ্র আকাশে ছেঁয়ে গেল বিস্তীর্ণ কালো মেঘের ঘনঘটা।

 

এহেন কালসন্ধিক্ষণে পটিয়ার আকাশে উদিত হতে শুরু করে সৌভাগ্যের তারা। তখন ১৩৫৭ হিজরী সন। এ সনটি ছিল পটিয়ার জন্যে একটি স্বর্ণালি সন। এ সনের এক শুভলগ্নে ফক্বীহুন্নাফ্‌স হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গুংগুহী রহঃ-এর বিশিষ্ট খলীফ, অবিভক্ত বাংলার বিশুদ্ধ তাসাওউফ-চর্চার অগ্রপথিক, শাইখুল মাশায়েখ, কুত্‌বে আলম, হযরত মাওলানা শাহ জমীরুদ্দীন রহঃ-এর দ্বীন-দরদদীপ্ত হৃদয়ে পটিয়ায় মাদার্‌সা স্থাপন করার ‘ঐশী ইচ্ছা’ (ইল্‌ক্বা) জাগ্রত করা হলো। এ’ মনস্তাত্মিক ইচ্ছার আলোকে শাহ্‌ জমিরুদ্দীন রহঃ তারঁ খলীফা, পটিয়ায়রই ক্ষণজন্মা আলেমে দ্বীন ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা মুফ্‌তী আজীজুল্‌ ‘হক্ব রহঃ-কে তাঁর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন যে, পটিয়ার মেঘাচ্ছন্ন আকাশে দ্বীনের সূর্য‌ উদিত হওয়ার সময় সমাসন্ন। পটিয়া হলো কেন্দ্রীয় স্থান। এর মাধ্যমে আরো বহু এলাকা আলোকিত হতে পারে। মুফ্‌তী সাহেব রহঃ তখন জিরি মাদ্‌রাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনে ব্রত ছিলেন। শাইখের ইচ্ছা, আশা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মাওলানা আ’হ্‌মাদ রহঃ (প্রকাশ ইমাম সাহেব হুযুর)-কে সাথে নিয়ে ১৩৫৭ সালের শাওয়াল মাসে এক জুমাবারে কতক মুরব্বি ও সাথিদের নিয়ে পটিয়া সদরের অদূরে তুফান আলী মুনশী মজিদে “জমিরিয়া কাসেমুল উলূম” নামে একটি মাদার্‌সার ভিত্তি স্থাপন করেন। সেদিন থেকেই শুরু হলো পটিয়ার ইতিহাসের পালাবদল ও সৌভাগ্যের পট-পরিবর্তন। শুরু হলো পটিয়ার মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে মেঘখন্ডের বিদূরণ।

 

কিছুদিন পরিস্থিতি ও পরিবেশের বিবেচনাপূর্বক মাদরাসাটি স্থানান্তরিত হয় পটিয়া সদরের পূর্বে মনু মিঞা দফাদারের মসজিদে। তারও কিছুদিন পর বর্তমান জামি’আর উত্তর পার্শ্বে একটি খালি দোকান ঘরে নিয়ে আসা হয় মাদার্‌সাটি। উক্ত মাদার্‌সার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শাহ্‌ মুফতি আজিজুল হক রহঃ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদরাসার প্রধান পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা, দীক্ষা এবং মাদরাসার সার্বিক কার্যা‌দি সম্পাদনে যে কতিপয় যোগ্য ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদার্‌সাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন হযরত মাওলানা ইসকান্দর সাহেব রহঃ হযরত মাওলানা আমজাদ সাহেব রহঃ ও হযরত মাওলানা আব্দুল জলিল সাহেব রহঃ প্রমুখ। এমন এক বিরল কায়দায় অনেকটা অলৌকিকভাবে, জামি’আ ইসলামিয়া পটিয়ার যাত্রা শুরু হয় এবং ক্রমান্নয়ে উন্নতির দিকে চলতে থাকে অবিরাম। এমনকি, একসময় এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানটি কালের গতি ভেদে সময়ের উজান স্রোত পাড়ি দিয়ে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে, পৌছে যায় উচ্চ থেকে উচ্চশিখরে, প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও সুনাম দেখে হিংসায় বিষিয়ে ওঠল ধর্মপ্রতারক মোল্লাদের মন। এটা ছিল তাদের জন্য জঘন্য চপেটাঘাত, ছিল ভীরু মানুষের মাথায় বজ্রের গর্জন। এ আঘাত সহ্য করতে না পেরে তারা মাদরাসার প্রতি ক্ষুব্ধ করে প্রতিবেশীদের। এক পর্যা‌য়ে তারা বিতর্ক অনুষ্ঠানের নামে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার লোক সমবেত করে। প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫-২০ হাজার লোকের জমায়েত হয় এবং চতুর্দিকে মাদার্‌সাকে ঘেরাও করে রাখে। তখন মাদার্‌সায় ছিল বহু দ্বীনি কিতাব ও পবিত্র কালামে পাকের বৃহৎ সম্ভার। তখন ছাত্র-সংখ্যা ছিল কম। এমন এক অবস্থায় নমরুদের বজ্রকন্ঠের ন্যায় চিৎকার দিয়ে কেউ কেউ বলে উঠে ‘আগুন ধরিয়ে দাও, তাদের জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দাও’। এ রকম নমরুদী হিংস্র আদেশ পালনে পাগল হয়ে প্রজ্জ্বলিত আগুন দিয়ে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালিয়ে দিতে কারো প্রাণ সামান্যটুকুও কেঁপে উঠল না। শত শত হাদীছের কিতাব ও পবিত্র কুরআনের শব্দহীন ফরিয়াদ পাষাণদের অন্তরে বিদ্ধ হয়নি। বরং আল্লাহ্‌র পবিত্র কালাম, মহা-নবীর হাজার হাজার ‘হাদীছ ভষ্মিভূত হয়ে উড়ে গেল তাদের চোখের সামনেই। মহান আল্লাহ্‌র রহমত, দ্বীনের দুশমনেরা জামি’আর গতি ও শক্তি, বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি নিজেদের চোখে দেখে যাচ্ছে।

 

আরো বিস্ময়ের ব্যাপার, আগুনের লেলিহান অগ্নি শিখা দেখে নাকি হযরত মুফতী সাহেব রহঃ দুহাত তুলে আল্লাহ্‌র দরবারে দু’আ করেছিলেন, হে আল্লাহ্‌! ধোঁয়া যেটুকু উঠেছে, তুমি আমার সন্তানবৎ প্রতিষ্ঠানকে সেটুকু উঠিয়ে দাও। বর্ণে বর্ণে কবুল হয় সে ব্যাথাভরা ফরিয়াদ। তাই আজ আমরা দেখতে পাই, অগ্নির ধোঁয়ার উচ্চতার সমপরিমাণ জামি’আর সৌধ ও অট্টালিকা। ইতিমধ্যে বাংলার ক্ষনজন্মা অলিয়ে কামেল মাওলানা শাহ্‌ ইউনুছ সাহেব রহঃ, হযরত মুফতী সাহেব হুজুরের আহবানে সাড়া দিয়ে জামি’আ পটিয়ায় আগমন করেন। এদিকে মুফতি সাহেব রহঃ নিজের একজন যোগ্য উত্তরসূরী ও স্থলাভিষিক্ত খুঁজছিলেন। আধ্যাত্নিক জ্যোতি ও শক্তি দ্বারা মুফতী সাহেব হুজুর তাঁর মাঝে দেখতে পেলেন মাদার্‌সা পরিচালনার যুগজয়ী যোগ্যতা। তাই তিনি ১৩৭৭ হিঃ সনে অস্থায়ীভাবে এবং ১৩৭৯ হিঃ সনে জামি’আর মজলিশে শুরার (উপদেষ্টা পরিষদ) সুপারিশক্রমে স্থায়ীভাবে পরিচালকের গুরু দায়িত্ব হযরত হাজী ইউনুছ সাহেব রহঃ-এর কাঁধে অর্পণ করেন।

 

 ১৩৮০ হিঃ ১৫ রমজান জামি’আর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক মুফতি আজিজুল হক রহঃ দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমান। হুযুরের ইন্তেকালের পর হিংসুকদের হিংসা, বিদ্বেষ, জুলুম-অত্যাচার অপপ্রচারের মাত্রা ‍দিন দিন বেড়ে চলল। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কি কারিশমা (কারিশমাই বলতে হয়) তুলনামূলক ভাবে অনভিজ্ঞ নবনিযুক্ত পরিচালক এতটুকুও ইতস্ততবোধ করলেন না। বরং তিনি নিজ ঈমানীশক্তি সততা দিয়ে মাদার্‌সাকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নতির উচ্চশিখরে। ছোট্ট মাদরাসাটিকে পরিণত করলেন জামি’আয়। চিন্তা, চেষ্টা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা, মনোবল ও তাকওয়া দ্বারা তিনি জামি’আকে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ দিলেন। শুধু তাই নয়, সুউচ্চ মিনারা, আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও নতুন আঙ্গিকে ভবন-নির্মাণের মাধ্যমে তিনি রচনা করলেন মুসলিম স্থাপত্যের এক গৌরবময় নিদর্শন। এক কথায়, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, যাবতীয় সুন্দর ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো, স্থায়ী আর্থিক খাত সঞ্চয়, দেশব্যাপী সুনাম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি। এসব কিছু তাঁরই প্রচেষ্টায় হয়েছে। ১৪১২ হিঃ ১৯৯২ ইং সনে এক্ষনজন্মা পুরুষ দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরকালে পাড়ি জমান। তাঁর ইন্তেকালের পর এ গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় পটিয়ার আরেক ক্ষণজন্মা প্রতিভা, এ’প্রতিষ্ঠনরই কৃতি সন্তান, যুগশ্রেষ্ঠ ‘আলেমে দ্বীন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, বহুভাষী সাহিত্যিক, ‘আল্লামা শাইখ হারুন ইসমা’ঈল ইসলামাবাদির উপর। তাঁর জ্ঞান, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর বরেণ্য পরিচিতির কারণে জামি’আর দেহ-মনে সৃষ্টি হয় নতুন গতি ও চাঞ্চল্যের। তাঁর অধীনেই সূচনা হয় জামি’আ বিকাশের নতুন ধারা। তিনি জামি’আর সমূহ কার্যাবলিকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজাতে সমর্থ হন। এভাবে তিনি জামি’আর তৃতীয় সফল প্রধান-পরিচালক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। অবশেষে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে, তিনিও (মাত্র ৬৪ বছর বয়সে) পরম করুনাময়ের দরবারে পাড়ি জমান। তাঁর ইন্তেকালের পর এ ’প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনেকটা পরিচালক শূন্যতা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ্‌র অশেষ কৃপায় জামি’আ খুব সহজেই সে শূন্যস্থান পূরণে সক্ষম হয়েছে। মজলিসে শুরার (উপদেষ্টা পরিষদ) পরামর্শক্রমে সবাই একথার উপর একমত হলেন যে, বর্তমানে এ মহান গুরুদায়িত্বের একমাত্র যোগ্য ব্যাক্তি, সে আর কেউ নয় জামি’আ প্রতিষ্ঠাতার যোগ্য খলিফা, উস্তাযুল্‌ আসাতিযাহ্‌ আল্লামা নুরুল ইসলাম (প্রকাশ ক্বদীম সাহেব রহঃ)। অবশেষে তাঁকেই জামি’আ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হল। অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে থাকেন তিনি এ ’দায়িত্বের দায়ভার। কিন্তু শতবর্ষ ছুঁইছুঁই এ ’আল্লাহ্‌র ওয়ালি দিন দিন শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল  হয়ে ভেঙ্গে পড়ছিলেন। দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। তা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে প্রধান-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক দুর্বলতার দিক লক্ষ করে মজলিশে শুরার (উপদেষ্টা পরিষদ) সদস্যগণ চিন্তা করলেন এ ’দায়িত্ব অর্পণের ব্যাপারে। তাঁরা খুজে পেলেন তুখোড় মেধাবী ব্যক্তিত্ব, জামি’আরই কৃতি সন্তান, আল্লামা মুফতি ‘আব্দুল হালিম বুখারী দাঃ বাঃ-কে। তারা তাঁর হাতেই অর্পণ করলেন এ গুরুদায়িত্ব। আর ক্বদীম সাহেব হুযুরকে রাখা হলো উপদেষ্টার আসনে। এ ’দায়িত্ব পরিবর্তনের কিছুদিন পরই ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে তিঁনিও (ক্বদীম সাহেব হুযুর) মহান সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে পাড়ি জমালেন। বর্তমানে আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বুখারির দক্ষ হাতের সুষ্ঠু-পরিচালনায় জামি’আ তার লক্ষ্য পানে এগিয়ে চলছে। আল্লাহ্ তা’আলা এ’মহান জ্ঞান সাধককে দীর্ঘজীবি করুন। আমীন

 

 

 

বর্তমানে জামিআ-

 

 বর্তমানে জামি’আ ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী (বেসরকারি) বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। শিক্ষা-দীক্ষার বহুমুখী কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক, সেবামূলক, জনকল্যাণমূলক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমে বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। জামি’আর কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হল।

 

শিক্ষাসংক্রান্ত বিভাগসমূহ-

 

ইসলামী কিন্ডার গার্ডেন বিভাগ

 

পাঠ্যক্রমঃ

 

শিশুদের কে আরবী বর্ণমালার বিশুদ্ধ উচ্চারণ, অনুশীলন, দেখে দেখে কুরআন পাঠ, তা্ওহীদ-রিসালাত ও ধর্মীয় শিক্ষা, নামায ও অন্যান্য ইবাদাতের বাস্তব প্রশিক্ষণ, বাংলা, ইংরেজী, গণিত ও পরিবেশ পরিচিতি ইত্যাদি বিষয়ের উপর পাঠদান।

 

তা’হফীজুল্‌ কুরআন বিভাগ

 

এ বিভাগে তাজবীদ সহকারে ছাত্রদেরকে কুরআন হিফজ্‌ করানো হয়।

 

 

আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগ (কিতাব বিভাগ)

 

 এ ’বিভাগে ১২ বছর মেয়াদে প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত আরবী ব্যাকরণ, ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা, উর্দু ও ফার্সী ভাষা, ইসলামী আইন, যুক্তিশাস্ত্র, দর্শন, ইসলামী অর্থনীতি, তাফসীর ও হাদীছ প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দান করা হয়। এটি জামি’আর পাঠ্যক্রমের মৌলিক বিভাগ।

 

 

 

দারুল ইফ্‌তা বা ফতওয়া বিভাগ

 

মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক, মোট কথা সকল সমস্যার কুরআন-হাদীস ভিত্তিক সমাধান প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এ বিভাগটি। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন এবং বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশ ও সম্পাদনার কাজও করা হয় আর এ’জন্য ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইনবিশেষজ্ঞ রচনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনে মুসলিম বিশ্বের বরেণ্য ‘উলামাগণের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্য‌ন্ত এ’ বিভাগের পক্ষ থেকে হাজার হাজার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

 

 

 

উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ (ফুনূনাতে ‘আলীয়াহ্‌)

 

ইসলামী ‘আইন, আরবী ভাষা সাহিত্য, তাফসীর, হাদীছ, কিরাআত ও তাজবীদ, দাওয়াত ও ইরশাদ প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো জামি’আর শিক্ষাস্তরের ঐচ্ছিক বিভাগ। এ ছাড়াও উচ্চতর শিক্ষার জন্য মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

শর্টকোর্স

 

এস এস সি/সমমান পাশ ছাত্রদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে মাত্র ছয় বছরে দাওরায়ে ‘হাদীছ পাশ করার জন্য বিভাগটি খোলা হয়েছে।

 

 

 

জামি’আ গ্রন্থাগার

 

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে রচিত হাজার হাজার ধর্মীয় গ্রন্থ, বিভিন্ন সংকলনে ও পান্ডুলিপির সুবিশাল ভান্ডার আল জামি’আ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এখান থেকে কোন বিনিময় ছাড়াই ছাত্র ও শিক্ষকদেরকে পাঠ্যবই, সহায়ক গ্রন্থ ও রেফারেন্স গ্রন্থ ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, তৃতীয় পরিচালক আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহঃ-এর সময়ে নির্মিত হয় এ ’আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক ‘লাইব্রেরী কম্প্লেক্স’, যার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন পবিত্র মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম। এটি জামি’আর স্থাপত্যকর্মের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

 

পত্র-পত্রিকা

 

 আল-জামি’আ আল-ইসলামিয়া পটিয়া পত্র-পত্রিকা প্রকাশের ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। একটি দৈনিক ও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে চলছে। বর্তমানে আল-জামি’আ থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছেঃ

 

১. বালাগুশ্‌ শর্‌ক (আরবী ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ইসলামি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা)।

 

২. মাসিক আত্‌-তাওহীদ (ইসলামি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় গবেষণামূলক বাংলা মাসিক পত্রিকা)।

 

৩. দ্রোহ (লিট্‌ল্‌ ম্যাগাজিন)

 

৪. আন্‌-নাদী আস্‌-সাক্বফী থেকে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত দেয়ালিকা ( আরবি ও বাংলা ভাষায়)।

 

 

 

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগসমূহ

 

 ১. আন্‌-নাদী আচ্ছাক্বাফী,

 

২. আল-মুনতাদা আল্-আদাবী (ভাষা ও সাহিত্য চর্চামূলক জামি’আর অঙ্গসংগঠন)

 

৩. ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

 

৪. বিতর্ক প্রতিযোগিতা

 

৫. তাজবীদ ও কিরাআত প্রতিযোগিতা

 

৬. বক্তৃতা চর্চা

 

৭. উর্দু,আরবি কবিতা চর্চা প্রভৃতি।

 

 

 

ইসলামী কারিগরী প্রশিক্ষণ বিভাগ

 

 কোর্সসমূহ

 

১.ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড

 

২.ম্যাকানিক্যাল ট্রেড

 

৩.রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং।

 

 

 

বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ

 

 ১.দর্জি বিজ্ঞান

 

২.পুস্তক বাঁধাই

 

৩. হস্তলিপি

 

৪. টাইপিং শিক্ষা

 

৫. কম্পিউটার শিক্ষা

 

৬.মৎস চাষ প্রশিক্ষণ

 

 

 

সাময়িক কার্য‌ক্রমসমূহ

 

১. হিসাব রক্ষণ প্রশিক্ষণ

 

২. হিফজ প্রশিক্ষণ

 

৩. তাজবিদ ও কিরাআত প্রশিক্ষণ

 

৪. শিক্ষক প্রশিক্ষণ

 

 

 

নূরানী প্রশিক্ষণ

 

 ইসলামী প্রকাশনা বিভাগঃ এ ’বিভাগের তত্ত্বাবধানে আল-বালাগ প্রকাশনা সহ ইসলামী বই-পুস্তক প্রকাশ করা হয়।

 

 

 

আল-জামিআর পরিচালনাধীন সংস্থাসমূহ

 

আল-জামি’আ আল-ইসলামিয়া পটিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ছোট-বড় শিক্ষা, সেবা, উন্নয়নও সাহায্যমূলক সংস্থা রয়েছে। এ’গুলো আল-জামি’আর সংবিধান, মতাদর্শ ও পরিকল্পনানুযায়ী নিজ লক্ষ-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কর্মতৎপর রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংস্থাসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ

 

 

 

১-আন্ঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল্‌ মাদারিস্‌ বাংলাদেশ (ক্বওমী মাদার্‌সা শিক্ষা বোর্ড) স্থাপিত- ১৯৫৯ ইং ১৩৭৯ হিজরি।

 

আন্ঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল্‌ মাদারিস বাংলাদেশ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

 

ক. ক্বওমী মাদরাসা সমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং এগুলোকে ঐক্যসূত্রে গ্রথিত করা।

 

খ. ক্বওমী মাদরাসা সমূহের শিক্ষা দীক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

গ. ক্বওমী মাদরাসাগুলোকে সুষ্ঠু পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেওয়া।

 

ঘ. জরুরী অবস্থায় এ সকল মাদরাসাকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করা।

 

ঙ. সঠিক দ্বীনি চিন্তাধারার ব্যাপক প্রচার এবং সমাজে ইসলামী তাহজীব-তামাদ্দুন বাস্তবায়নে ’আলেম-‘উলামার সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রয়াস।

 

 

 

২- অধিনস্থ বিভাগসমূহ

 

 ক.শিক্ষা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ

 

খ.শিক্ষক প্রশিক্ষণ

 

গ.কার্যক্রম পরিদর্শন

 

ঘ. ইসলামী গবেষণা

 

ঙ.পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ

 

চ. দা’ওয়াত ও প্রকাশনা

 

ছ.রেজিষ্ট্রেশন

 

জ. হিসাব নিরীক্ষণ

 

ঝ. আর্থিক সাহায্য ও অনুদান

 

ঞ. সংস্কার ও প্রতিরক্ষা

 

 

 

৩- বাংলাদেশ তা’হফীজুল্‌ কুরআন সংস্থাঃ

 

 বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ’হিফ্‌জ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও তা’হফীজ্‌ সমূহের সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত হয় এ সংস্থাটি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্থাটি প্রতি বছর ‘হিফ্‌জ প্রশিক্ষণ ও জাতীয় ‘হিফ্‌জ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

 

 

 

– ইসলামী রিলিফি কমিটি বাংলাদেশঃ

 

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যো‌গ ও সব ধরনের বিপদের সময় দুর্গত মানবতার সেবা-সাহায্য, ত্রাণ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গঠিত হয় এ সংস্থা। বর্তমানে এনজিও ব্যুরোর তালিকাভুক্ত একটি সংস্থা হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত সকল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর আর্তমানবতার সেবায় এ সংস্থা সাহায্য ও পুনর্বাসন তৎপরতায় অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে। বর্তমানে এর অধীনে প্রায় শতাধিক মসজিদ, মাদরাসা নির্মানাধীন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

 

 

–    নও মুসলিম পুনর্বাসন কেন্দ্রঃ

 

 নও মুসলিমেদের ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা, প্রতিপালন, বাসস্থান এবং জীবনের অন্যান্য প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে এ সংসস্থাটি গঠিত হয়েছে। যাতে নও মুসীলমরা ধর্মীয় শিক্ষার্জনের পর দা’ওয়াত ও তাবলীগের কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে। বর্তমানে আল-জামি’আর তত্ত্বাবধানে নও মুসলিমদের একটি জামা’আত দ্বীনের দা’ওয়াত ও শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।

 

 

 

–    উল্লেখযোগ্য শিক্ষা ও মিশনারী প্রতিষ্ঠান সমূহঃ

 

ক. ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র, বান্দরবানঃ এটি আল-জামি’আ আল ইসলামিয়া পটিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আল-জামি’আর সাবেক পরিচালক শেখ ইউনুছ রহঃ ১৯৮৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এতে রয়েছে একটি ত্রিতলবিশিষ্ট সুবিশাল জামে মসজিদ, ৫০ শয্যাবিশষ্ট দাতব্য চিকিৎসালয় ও ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র।

 

খ. ইসলামী মিশনারী সেনআর, সুখবিলাস রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রামঃ এটি দ্বীন প্রচারের একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। এতে রয়েছে মাধ্যমিক স্থর পর্য‌ন্ত মাদরাসা বিভাগ, ‘হিফ্‌জ বিভাগ, কৃষি খামার ও ৩০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক দাতব্য চিকিৎসালয় ও নও মুসলিম পুনর্বাসন প্রকল্প।

 

গ. ফয়জিয়া তাজবীদুল কুরান মাদার্‌সা, ইছাপুর, হাটহাজারীঃ এটি চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার অন্তর্গত ইছপুর এলাকায় অবস্থিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্থরের মাদরাসা ও এতিমখানা। এ ’প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৬ শতাধিকেরও বেশি। এছাড়া এতে রয়েছে ’হিফ্‌জ বিভাগ ও ক্বিরাআত বিভাগ।

 

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

Leave a Reply