হাদীসের পরিভাষাগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয়

হাদীসের পরিভাষাগুলোরসংক্ষিপ্ত পরিচয়

হাদীসঃ মুহাদ্দিসগণেরপরিভাষায় হাদীস বলতে বুঝায়, রাসূলছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাবতীয় কথা, কাজ, অনুমোদন, সমর্থন ও তাঁর অবস্থার বিবরণ।

মারফুঃ কোন ছাহাবী রাসুলছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম নিয়ে হাদীস বর্ণনা করলে তাকে হাদীসে ‘মারফু’ বলে।

মাওকুফঃ কোন ছাহাবীরাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম না নিয়ে হাদীস বর্ণনা করলেকিংবা ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করলে তাকে হাদীসে ‘মাওকুফ’ বলে।

আহাদঃ যে হাদীসেরবর্ণনাকারীদের সংখ্যা ‘মুতাওয়াতির’হাদীসের বর্ণনাকারী অপেক্ষা কম হয়, তাকে ‘আহাদ’ বলে। আহাদ তিন প্রকার। যথাঃ মাশহুর, আযীয ও গরীব।

1)মাশহুরঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারী সর্বস্তরে দু’য়ের অধিক হয়।

2)আযীযঃ যে হাদীসেরবর্ণনাকারী কোন স্তরে দু’য়ে দাঁড়ায়।

3)গরীবঃ যে হাদীসেরবর্ণনাকারী কোন স্তরে একে দাঁড়ায়।

মুতাওয়াতিরঃ যে হাদীসেরবর্ণনাকারী সকল স্তরে এত বেশী যে, তাঁদের সকলেরপক্ষে মিথ্যা হাদীস রচনা অসম্ভব মনে হয়, এরূপ হাদীসকে হাদীসে ‘মুতাওয়াতির’বলে।

মাক¦বুলঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীদের সততা, তাকওয়া এবং আদালত সর্বজন স্বীকৃতি হয়, তাকে ‘মাক¦বুল’ বলে। হাদীসে মাক¦বুল দুই প্রকার। যথাঃ সহীহ ও হাসান।

১) সহীহঃ যে হাদীস ধারাবাহিকভাবে সঠিক সংরক্ষণ দ্বারানির্ভরযোগ্য সনদে (সুত্র) বর্ণিত আছে এবং যাতে বিরল ও ত্রত্র“টিযুক্ত বর্ণনাকারী নেই, তাকে ‘সহীহ’ বলে।

২) হাসানঃ হাদীসে সহীহের উল্লেখিত গুণাবলী বর্তমান থাকার পরযদি বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি কিছুটা দুর্বল প্রমানিত হয়, তাহলে সেই হাদীসকে ‘হাসান’ বলে।

হাদীসে সহীহের স্তরসমূহঃসহীহ হাদীসের সাতটি স্তর আছে।

প্রথমঃ যে হাদীসকে বুখারীএবং মুসলিম উভয় বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ঃ যে হাদীস শুধুইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়ঃ যে হাদীস শুধুইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থঃ যে হাদীস বুখারীমুসলিমের শর্ত সাপেক্ষে অন্য কোন মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন।

পঞ্চমঃ যে হাদীস শুধুবুখারীর শর্ত সাপেক্ষে অন্য কোন মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন।

ষষ্ঠঃ  যে হাদীস শুধু ইমাম মুসলিমের শর্ত মতে অন্য কোনমুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন।

সপ্তমঃ যে হাদীসকেবুখারী-মুসলিম ব্যতীত অন্য কোন মুহাদ্দিস সহীহ মনে করেন।

গায়রে মাক¦বুলা যয়ীফঃ যে হাদীসে সহীহ ও হাসান হাদীসের শর্তসমূহ পাওয়া যায়না, তাকে হাদীসে ‘যয়ীফ’ বলে।

মুআ’ল্লাকঃ যে হাদীসের এক বা ততোধিক রাবী সনদের শুরু থেকে বাদপড়ে যায়, তাকে ‘মুআল্লাক’ বলে।

মুনকাতিঃ যে হাদীসেরএক বা একাধিক রাবী বিভিন্ন স্তর থেকে বাদ পড়েছে, তাকে ‘মুনকাতি’ বলে।

মুরসালঃ যে হাদীসের রাবীসনদের শেষ ভাগ থেকে বাদ পড়েছে অর্থাৎ তাবেয়ীর পরে ছাহাবীর নাম নেই, তাকে ‘মুরসাল’ বলে।

মু’দ্বালঃ যে হাদীসের দুই অথবা দু’য়ের অধিক রাবী সনদের মাঝখান থেকে বাদ পড়ে যায় তাকে মু’দ্বাল বলে।

মাওযুঃ যে হাদীসের রাবীজীবনে কখনো রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যা কথা রচনাকরেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে তাকে ‘মাওযু’(জাল) বলে।

মাতরুকঃ যে হাদীসের রাবীহাদীসের ক্ষেত্রে নয় বরং সাধারণ কাজকর্মে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে বলে খ্যাত,তাকে ‘মাতরুক’ বলে।

মুনকারঃ যে হাদীসের রাবীফাসেক, বেদাতপন্থী ইত্যাদি সেইহাদীসকে ‘মুনকার’ বলে।

সংগ্রহ;-  Ehsanul Karim

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply