জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে দুটি কথাঃ-

1238822_201212333386013_484994966_n

জন্মদিন পালন/সেলিব্রেশন সত্যিকথা বলতে মুসলিমদের কালচার নয়। এটি এসেছে অমুসলিমদের কাছ থেকে যা মুসলিমদের উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। যার জন্য আমরা বুঝে কিংবা না বুঝে এই কালচারের দ্বারা প্রভাবিত।

 

এই সুযোগে আমি আরও দুটি বিষয়ে সবাইকে অবহিত করতে চাই যা হয়তো অনেকেরই জানা নেই।

 

১) ঈদে মিলাদুন্নবী (১২ই রবিউল আউয়াল) – অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই না জেনে বা না বুঝে ঐদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়াসাল্লাম জন্মদিন পালন করে যা ইসলামের দৃষ্টিতে বিদ’আত। কারন সহীহ হাদিসে এরকম ভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়াসাল্লামের জন্মদিন পালনের কোন দলিল/প্রমান পাওয়া যায় না। আর ইসলামে যে কোন নব্য আবিস্কার হচ্ছে বিদ’আত আর বিদ’আতের পরিনাম জাহান্নাম। তাই বিদ’আতের ব্যাপারে সবাই সাবধান হওয়া অবশ্য কর্তব্য।

 

আবার কিছু বিপথগ্রস্থ লোকেরা ও ভণ্ড পীরেরা এই ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ খুব জাকজমক ভাবে ”আশেকে রাসুল” সম্মেলন নামে পালন করে। এরা নিজেরা নিজেদেরকে ও সাথে সাধারণ কিছু নামধারী মুসলিমদের (যাদের ইসলামের জ্ঞান নেই) জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ্‌ এদের হেদায়েত দান করুন। আমীন।

 

২) বড় দিন (২৫ ডিসেম্বর) – ঈসা (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহ্‌ সুবহানা ওয়া তা’আলার একজন রাসুল। খ্রিস্টানরা ঈসা (আঃ) বলে যীশু/জিসাস আর ২৫ ডিসেম্বর (বড় দিন/খ্রিসমাস) তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন করে যদিও ইতিহাসে বা ধর্মীয় গ্রন্থে (বাইবেল) ২৫ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনের কোন প্রমান পাওয়া যায় না। বরং এই ২৫ ডিসেম্বর বড় দিন পালনের বিষয়টি যোগ হয়েছে গির্জা/চার্চের মিশনারিদের দ্বারা অনেক পরে যা কিনা কপি করা হয়েছে অন্য একটি প্যাঁগান মিথলজি ‘মিথরাইজম’ থেকে। ভিডিও লিঙ্কে বিস্তারিত আছে।

 

* কাউকে কষ্ট দেয়া বা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোন উদ্দেশ্য আমার নেই। তারপরও কারও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা থাকলে আমি প্রমান সহ সত্যটাকে জানতে সাহায্য করতে পারি।

 

পবিত্র কুরআনের দুটি আয়াত দিয়ে শেষ করছি –

 

মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। [আল-হাশরঃ ১৮]

 

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করে, তারা আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে? তোমরা যা ইচ্ছা কর, নিশ্চয় তিনি দেখেন যা তোমরা কর। [হা-মীম সেজদাঃ ৪০]

সংগ্রহঃ- ফেসবুক নোট- Optimistic Mustafiz

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

2 thoughts on “জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে দুটি কথাঃ-

  • January 20, 2014 at 11:27 am
    Permalink

    জাযাকাল্লাহু খইরল জাযা, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরণের লেখা অনেক জরুরী।আল্লাহ পাক সকল মুসলমানদেরকে ইংরেজদের কুসংস্কার থেকে মুক্তি দিন ও বাঁচিয়ে রাখুন। আমীন

Leave a Reply