জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা

malibag-banner221

আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির সেরা রূপে মানুষকে যে গুণটি দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তা হল ইলম। ইলমের উৎস হল ওহী। আল্লাহ পাক মানুষকে এই ইলম দান করার জন্য ওহীর ধারক ও বাহক হিসেবে পাঠিয়েছেন শত-সহস্র নবী-রাসূল। নবী- রাসূলদের এই ধারার সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সা.।

পৃথিবীর মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে গিয়ে পাপ-পঙ্কিলতার ভারে বিপর্যস্ত, তখন ‘ইলমে ওহীর আলো নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে আবির্ভূত হন শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি মানুষকে পুণ্যের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য ইলমে ওহীর প্রচারকেন্দ্র হিসাবে যে স্থানটি নির্বাচন করেন সেটি হল সাফা পাহাড়ে অবস্থিত মক্কার বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আরকাম রা.-এর বাড়ি। ইসলামের ইতিহাসে এ বাড়িটি “দারুল আরকাম” বা “দারুল ইসলাম” নামে খ্যাত। এটিই হল ইসলাম প্রচারের প্রথম কেন্দ্র তথা প্রথম মাদ্রাসা। এখানেই হযরত উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করেন।

মক্কার কাফেরদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে রাসূল সা. যখন হিজরত করে মদীনায় গমন করেন তখন তিনি সেখানে প্রথমে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। যার নাম মসজিদে নববী। ইলমে ওহী তথা দীন প্রচারের দ্বিতীয় কেন্দ্র এটি। এই মসজিদে নববীতে দীন শিক্ষা করার জন্য নিজের ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু তালিবে ইলম। তাঁদের থাকার জন্য নির্মিত হয় মসজিদসংলগ্ন একটি কুটির, যাকে বলা হয় সুফ্ফা। এখানে যে সব সাহাবী অবস্থান করতেন, ইসলামের ইতিহাসে তাঁরা ‘আসহাবে সুফ্ফা নামে খ্যাত। তাঁদের শিক্ষা-দীক্ষার জন্য নির্ধারিত মুআল্লিম ছিলেন। দীন প্রচারের জন্য কোথাও কোন মুআল্লিম পাঠানোর প্রয়োজন হলে এখান থেকেই পাঠানো হত। রাসূলুল্লাহ সা. এর ওয়াফাতের পর ‘ সুফ্ফা নামক এই মাদ্রাসার ছাত্রগণ ইলমে ওহীর নূর নিয়ে ছড়িয়ে পড়েন দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং মসজিদকে কেন্দ্র করে চালু করেন দীনী ইলমের দরসগাহ। এভাবে প্রায় চারশত বছর পর্যন্ত দীনী শিক্ষার মারকাজ ছিল মসজিদভিত্তিক।

মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, গজনীর সুলতান মাহমুদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দুনিয়ার প্রথম ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- মাদ্রাসা মাহমুদিয়া এবং নিশাপুরের মাদ্রাসা হাম্মাদিয়া, বাগদাদের নেজামিয়া, মিশরের জামে আজহার, তিউনিসিয়ার জামে কায়রুয়ান, স্পেনের জামে কর্ডোভা ও ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ ইত্যাদি খ্যাতনামা দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মসজিদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে।

নতুন ঢাকার মালিবাগ এলাকার ধর্মপ্রাণ কতিপয় মহৎ ব্যক্তি মসজিদের এই গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে মরহুম আলহাজ মৌলভী গোলাম গাউছ কর্তৃক ওয়াক্ফকৃত ১ বিঘা ৪ কাটা ১১ ছটাক জমির একাংশে ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রথমত একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর তৎসংলগ্ন পশ্চিম দিকে ছোট্ট একটি ছাপরা ঘর তৈরি করে ফোরকানিয়া মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এই মক্তব হিফজ বিভাগ ও কিতাব বিভাগের স্তর অতিক্রম করে ১৯৮২ খৃষ্টাব্দে মাদ্রাসাশিক্ষার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদীসের সূচনার মধ্য দিয়ে জামিয়া তার দীর্ঘ দিনের অভিযাত্রার পরিপূর্ণতা অর্জন করে। সর্বসাধারণের আর্থিক সহযোগিতায়, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ব্যবস্থাপনায় এবং বিদগ্ধ সুপণ্ডিত শিক্ষকমণ্ডলীর নিরলস ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামিয়ার সুনাম-সুখ্যাতি দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। যদ্দরুণ প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে শত শত ইলম পিপাসু শিক্ষার্থী জামিয়ার অঙ্গনে ভীড় জমায়। জামিয়ার ছাত্রগণ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিস্ময়কর কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের অভিমত যে, বোর্ডের অধীনে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ বরাবরই শীর্ষস্থান দখল করে আসছে।

জামিয়ার ফারেগ ছাত্রগণ কর্মজীবনেও গৌরবজনক কৃতিত্বের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। এখান থেকে পাশ করা ছাত্রগণ বিভিন্ন দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুহ্তামিম, শাইখুল হাদীস ও মুহাদ্দিসের মত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অলংকৃত করে আছে। বিভিন্ন মসজিদের খতীব ও ইমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে অত্যন্ত সুনামের সাথে। বাংলা ও আরবী ভাষায় ইসলামী বই পুস্তক লিখে সাহিত্যের অঙ্গনেও রেখে চলেছে বলিষ্ঠ ভূমিকা। ওয়াজ, বক্তৃতা, দাওয়াত ও তাবলীগের ময়দানে রয়েছে এদের প্রাণান্ত প্রয়াস ও উজ্জ্বল কৃতিত্ব। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।

মাদ্রাসার নাম : আল্-জামিয়াতুলশ্-শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা।
সংক্ষেপে : মালিবাগ জামিয়া
অবস্থান : ১০৩৭, মালিবাগ ঢাকা-১২১৭।
স্থাপিত : ১৯৫৬ খৃষ্টাব্দ/১৩৬৩ বঙ্গাব্দ/১৩৭৬ হিজরী।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply