‘পবিত্র কোরআন’ -নিশ্চয়ই আলো, আঁধার পৃথকীকরণে যথেষ্ট!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আজকে এমন একটি জ্ঞানের উৎসের কথা বলব, যা মানুষের আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং তা স্পষ্ট দিবালোকের মত সত্য। আর তা হল সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র কোরআন। যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:) এর মাধ্যমে। আর এই পবিত্র গ্রন্থের প্রথম নাযিলকৃত আয়াতে রাসূল (সা:) এর প্রতি মহান আল্লাহ বলেন,

“পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন” -(সূরা আলাক্ব: ১)

“এই আয়াত নাযিলের পর রাসূল (সা:) যখন পুরো ঘটনা (জীবরাঈল (আ:) এর সাথে রাসূল (সা:) সাক্ষাত) খাদীজা (রা:) কে বলেন, তখন ঘটনাক্রমে একদিন খ্রীস্টান পণ্ডিত আরাকের নিকট এ সম্পর্কে জানতে গেলে ঐ পণ্ডিত বলেন, তিনি হলেন রহস্যময় ফেরেশতা যিনি আল্লাহর নিকট হতে মূসা (আ:) এর নিকটও আসতেন। তিনি আরো বলেন, আপনার স্বজাতিরা যখন আপনাকে বের করে দিবে তখন যদি আমি যুবক থাকতাম! তখন যদি আমি বেঁচে থাকতাম! (কতই না ভাল হত)! তখন রাসূল (সা:) বলেন, তারা কি আমাকে বের করে দিবে? আরকা (পণ্ডিত) বলেন, শুধু আপনাকে নয়, আপনার মত পূর্বেও যারা নবুওয়্যাত পেয়েছিল তাদেরকেও বের করে দিয়েছিল।” -[ইবনে কাসির]

অর্থাৎ আল্লাহর নাযিলকৃত বানীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে সবসময় কাফির সম্প্রদায় অপচেষ্টা করেছিল, করছে এবং করবে। তবে এদের এই বিরোধিতাকে প্রতিহিত করতে পবিত্র কোরআন ই একজন বিশ্বাসীর (ঈমানদার) জন্য যথেষ্ট। কারণ এই গ্রন্থেই রয়েছে, জীবনে কাকে গ্রহণ করতে হবে? কাকে বর্জন করতে হবে? কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে? কার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে? কাকে অনুসরণ করতে হবে? আর এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য” -(সূরা বাক্বারাহ: ২)

অর্থাৎ পবিত্র কোরআন ই একজন বিশ্বাসীর জন্য যথেষ্ট। আর এই গ্রন্থ আরো স্পষ্ট করে দিচ্ছে কে বিশ্বাসী আর কে অবশ্বাসী? কে হেদায়েত প্রাপ্ত আর কে গোমরাহী? অর্থাৎ কোরআনকে অনুসরণ ব্যতীত কেউ নিজের অন্তরে হেদায়েতের আলোর ছোঁয়াও আশা করতে পারে না! তাই যারা এই গ্রন্থকে উপেক্ষা করবে! বুঝতে হবে তাদের অন্তর মরে গেছে! তারা কিছুই শুনতে পায় না! তারা কিছুই দেখতে পায় না! তারা এখনো জাহেলিয়াতের অন্ধকার কেটে উঠতে পারে নি!

মহান আল্লাহ বলেন,
“বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব।”- [সূরা হা-মীম সেজদাহ: ৪৪]

অর্থাৎ এই গ্রনথ আমাদের নিকট আলো, অন্ধকার আলাদাকরণে এক প্রকার লিটমাস টেস্ট হিসেবে কাজ করছে। কে সত্য? আর কে মিথ্যা? – তা সুস্পষ্ট করতে এই গ্রনথই যথেষ্ট। আর এই স্পষ্টতার কথা মহান আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেছেন প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বেই।

“নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালা।” -[সূরা আত-ত্বারিক: ১৩]

আর এই সত্য মিথাকে পৃথক করতে অবশ্যই কোরআনকে বুঝতে হবে। আর এই বুঝার জন্য আমাদে প্রতি মহান আল্লাহ বিশেষ সুযোগও দিয়েছেন। আমরা মনে কি ‘আরবি’ ভাষাটা অনেক কঠিন! কারণ আমরা বাংলা ভাষায় অভ্যস্থ। কিন্তু আসলে কি তাই? দেখি মহান আল্লাহ কি বলেন?

মহান আল্লাহ বলেন,
“আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?” -(সূরা ক্বামার: ২২)

” আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?” -(সূরা ক্বামার: ৩২)

” আমি কোরআনকে বোঝবার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?” -(সূরা ক্বামার: ৪০)

“আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।” -[সূরা মারইয়াম: ৯৭]

“আমি আপনার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।”- [সূরা আদ দোখান: ৫৮]

যিন সকল ভাষার প্রবক্তা। যার দয়ায় কিছু কম্পন আওয়াজে পরিণত হয়। যিনি সবাইকে একটি নির্দিষ্ট সুর দিয়েছে। সেই মহান আল্লাহ নিজেই ঘোষণ দিয়েছেন ‘পবিত্র কোরআন’ নাযিল হয়েছে সহজ-সরল ভাষায়। যা চিন্তাশীলদেরই বোধগম্য। অর্থাৎ আমরা যদি একটু চিন্তা করি তখনই বুঝতে পারব, কোরআনের ভাষা কতটা সহজ। সারা জীবন IELTS, GRE এর পেছনে ছুটেও যখন ইহুদী- খ্রীস্টানদের দেশে যাওয়ার মত দুর্ভাগ্য হয় না! তখন কিন্তু অনেক আবছোচ হয়!! অথচ কিছু চেষ্টা আর আল্লাহর উপর ভরসা করে আরবী শেখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যখন শয়তানের ধোঁকায় হয়ে উঠে না! তখন কিন্তু এই নিয়ে কোন চিন্তাই হয় না!

মহান আল্লাহ বলেন,
“তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?” -[সূরা মুহাম্মদ: ২৪]

অথচ যারা নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায় তারা কতইনা সৌভাগ্যবান আর কতইনা উত্তম ব্যক্তি। তাদের সম্পর্কে রাসূল (সা:) বলেন, “সবচেয়ে উত্তম সেই ব্যক্তি যে নিজে কোরআন শিক্ষা অর্জন করে এবং অন্যকেও এই শিক্ষা দেয়।”- [বুখারী]

আর এই গ্রন্থে রয়েছে বহু নিদর্শন। যা প্রতিটা মানুষকে ভাবিয়ে তুলবে – পরকাল সম্পর্কে। যার ভাবনা সঠিক হবে অর্থাৎ পবিত্র কোরআন এর উপর পূর্ণ আস্থা রাখবে তাদের পথ চলা হবে দিবালোকের মত স্বচ্ছ। এবং তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পরকালের চিরস্হায়ী সুখ-শান্তি। অপরদিকে যাদের ভাবনা ভুল, যারা মহান আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে অস্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে পরকালের লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর তারা পতিত হবে অন্ধকার গর্তে এবং তারাই দোযখী।

মহান আল্লাহ বলেন,
“যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী।”- [সূরা মায়েদাহ: ১০]

পরিশেষে সকলের প্রতি কিছু বার্তা:-
*যতক্ষণ না আমরা পবিত্র কোরআনকে আমাদের জন্য যথেষ্ট মনে করব, ততক্ষণ না আমরা ঈমানদার হতে পারব,
*তার মানে এই নয় আমি শুধু মুখে স্বীকার করলাম অথচ এর কিছুই বুঝতে এবং মানতে চেষ্টা করলাম না! আর তা বড় ধরনের প্রতারণার শামিল!
*আবার নিজে বুঝার পর তা অন্যকেও বুঝাতে হবে এবং তা মেনে চলার জন্য তাদের সাহায্য করতে হবে,
*পবিত্র কোরআনে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে এবং এর উপর দৃঢ়তা অবলম্বন করতে হবে,

“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর,যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ।তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।”- [সূরা আত-তাহরীম: ৬]

ফেসবুক নোটটি লিখেছেন:- Areful Islam Dipu

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply