আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কীরানবী (৫ম পর্ব)

আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কীরানবী (৪র্থ পর্ব)

গ্রন্থকার তার আলোচ্য বিষয়কে একটি ভূমিকা ও ৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন।

(ক) ভূমিকা: প্রায় অর্ধশতপৃষ্ঠাব্যাপী দীর্ঘ ভূমিকায় তিনি সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় কিছু মূলনীতি আলোচনা করেছেন, যেগুলি বইয়ের আলোচনা অনুধাবন করতে সাহায্য করবে। এ সকল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে (১) ধর্মীয় বিতর্ক ও বাদ-প্রতিবাদের কতিপয় মূলনীতি ও শিষ্টাচার, (২) এ গ্রন্থে খৃস্টধর্ম বিষয়ক তথ্যাদি সংগ্রহে বাইবেল এবং খৃস্টান পণ্ডিতদের লেখা যে সকল পুস্তকের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করেছেন সেগুলির তথ্যাদি বর্ণনা, (৩) মীযানুল হক্ক ও অন্যান্য গ্রন্থে মি. ফান্ডারের মিথ্যাচার ও তথ্য-বিকৃতির নমুনা, (৪) ইসলামী গ্রন্থাদি থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের সময় ড. ফান্ডার ও অন্যান্য খৃস্টান লেখকের তথ্য বিকৃতির রীতি, (৫) পরধর্ম আলোচনায় খৃস্টান পাদরিদের অসহিষ্ণুতা, নোংরা গালাগালি ও অপমানজনক শব্দাদি ব্যবহারের রীতি এবং এ সকল বিষয় বজর্ন করার বিষয়ে গ্রন্থকারের ইচ্ছা, (৬) বাইবেলীয় নবীগণের বিষয়ে বাইবেলে উল্লিখিত ঘৃণ্য পাপের বর্ণনা ও উদ্ধৃতি উল্লেখের বিষয়ে মূলনীতি, (৭) ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পাণ্ডিত্যের বিষয়ে পাদরি মহাশয়গণের গালভরা দাবি ও প্রকৃত মূর্খতার নমুনা।

(খ) প্রথম অধ্যায়: বাইবেল পরিচিতি। এ অধ্যায়ে গ্রন্থকার বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মের পুস্তকাবলির বর্ণনা দিয়েছেন। অধ্যায়টিকে তিনি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে বাইবেলের স্বীকৃত, বিতর্কিত ও সন্দেহযুক্ত পুস্তকাদির নাম উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এ সকল পুস্তকের ইতিহাস উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন খৃস্টান গবেষকর দেওয়া তথ্য ও মতামতের আলোকে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, অধিকাংশ পুস্তকের লেখক বা সংকলকের কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। যাদের নামে এগুলি প্রচালিত তারা এগুলি লিখেছেন বলেও প্রমাণিত নয় এবং লেখক থেকে পরবর্তী কয়েক শত বা কয়েক হাজার বৎসর পর্যন্ত এর কোনো বর্ণনা সূত্র পাওয়া যায় না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে তিনি বাইবেলের নতুন ও পুরাতন নিয়মের পুস্তকাদির মধ্যে বিদ্যমান অগণিত ভুল-ভ্রান্তি ও বৈপরীত্যের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রথমে তিনি স্ববিরোধিতা ও বৈপরীত্যের আলোচনা করেছেন এবং বাইবেলের পুস্তকাদির মধ্যে বিদ্যমান ১২৫টি বৈপরীত্য ও স্ববিরোধিতা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে পুরাতন নিয়ম থেকে ৪৫টি স্ববিরোধিতা বা বৈপরীত্যের নমুনা উল্লেখ করেছেন এবং অবশিষ্টগুলি নতুন নিয়ম থেকে উল্লেখ করেছেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদে তিনি বাইবেল ঈশ্বরের বাণী কি না তা আলোচনা করেছেন। খৃস্টান পণ্ডিত ও ধর্মগুরুদের তথ্য ও বক্তব্যের আলোকে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, খৃস্টানদের পক্ষে বাইবেলের সকল পুস্তক ওহী বা ঐশ্বরিক প্রেরণার মাধ্যমে লিখিত বলে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তিনি ১৭টি বিষয়ের মাধ্যমে এ সম্পর্কে খৃস্টান পাদরিদের দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন। তিনি বাইবেলের পুস্তকাদির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে প্রটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মতপার্থক্য উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মুহাম্মাদ ()-এর আগমনের পূর্বেই প্রকৃত তাওরাত ও ইঞ্জিল হারিয়ে গিয়েছে।

(গ) দ্বিতীয় অধ্যায়: বাইবেল বিকৃতি। এ অধ্যায়ে তিনি বাইবেলের বিকৃতি প্রমাণ করেছেন। অধ্যায়টিকে তিনি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি মূল শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বিকৃতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান এরূপ বিকৃতির ৩৫টি প্রমাণ তিনি উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে ৩১টি প্রমাণ পুরাতন নিয়ম থেকে ও অবশিষ্ট ৪টি প্রমাণ নতুন নিয়ম থেকে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে মূল বক্তব্যের মধ্যে অতিরিক্ত কথা সংযোজনের মাধ্যমে বিকৃতি সাধনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান এ জাতীয় বিকৃতির ৪৫টি প্রমাণ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে ২৬টি পুরাতন নিয়ম থেকে ও বাকিগুলি নতুন নিয়ম থেকে। তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি মূল বক্তব্য থেকে কিছু কথা বাদ দিয়ে বক্তব্যকে বিকৃত করার বিষয়টি আলোচনা করেছেন। তিনি বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান এ জাতীয় বিকৃতির ২০টি প্রমাণ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে ১৫টি পুরাতন নিয়ম থেকে ও ৫টি নতুন নিয়ম থেকে।

এরপর তিনি বাইবেলেই বিশুদ্ধতার দাবিতে যে সকল বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন কথা বলে খৃস্টান পাদরিগণ মুসলিমদেরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন সেগুলি আলোচনা করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী দলিল-প্রমাণাদি দিয়ে তাদের এ সকল দাবি দাওয়ার অসারতা প্রমাণ করেছেন।

(ঘ) তৃতীয় অধ্যায়: রহিতকরণ। এ অধ্যায়ে তিনি রহিতকরণের বাস্তবতা প্রমাণ করেছেন। তিনি রহিতকরণের অর্থ ও ক্ষেত্র ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া যুক্তি ও বিবেকের আলোকে আল্লাহর বিধান রহিত হওয়ার বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। এরপর তিনি বাইবেলের বহু সংখ্যক উদ্ধৃতি দিয়ে তার বাস্তবতা প্রমাণ করেছেন। বাইবেল থেকে প্রায় অর্ধ শত উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একই ভাববাদীর (নবীর) ব্যবস্থায় (শরীয়তে) আগের বিধান পরের নির্দেশ দ্বারা রহিত করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী ভাববাদী (নবী)-র শরীয়তের বিধান পরবর্তী ভাববাদীর শরীয়তে রহিত করা হয়েছে। ইহূদী ও খৃস্টানগণ দাবি করেন যে, মুহাম্মাদ ()-এর ব্যবস্থার মাধ্যমে ইহূদী ও খৃস্টান ধর্মের বিধিবিধান রহিত হওয়া অসম্ভব। তিনি তাদের এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন।

(ঙ) চতুর্থ অধ্যায়: ত্রিত্ববাদ খণ্ডন। এ অধ্যায়ে গ্রন্থকার ত্রিত্ববাদের অসারতা ও ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করেছেন। অধ্যায়টিকে তিনি ১টি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। ভূমিকায় তিনি ত্রিত্ববাদ ও যীশুর ঈশ্বরত্ব বিষয়ে খৃস্টানদের বিশ্বাস আলোচনার ক্ষেত্রে ১২টি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে গ্রন্থকার জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি ও যুক্তির আলোকে ত্রিত্ববাদের অসারতা প্রমাণ করেছেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি যীশুর বক্তব্যের দ্বারা ত্রিত্ববাদের অসারতা প্রমাণ করেছেন। তিনি যীশুর ১২টি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলি সুস্পষ্টভাবে ত্রিত্ববাদকে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণ করে। তৃতীয় পরিচ্ছেদে তিনি যীশুর ঈশ্বরত্ব ও ত্রিত্ববাদের স্বপক্ষে ত্রিত্ববাদীরা বাইবেলের যে সকল উক্তি উদ্ধৃত করেন সেগুলির আলোচনা করে প্রমাণ করেছেন যে এ সকল উক্তির কোনোটিই দ্ব্যর্থহীন ও সুস্পষ্ট নয়। বরং অন্যান্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্যের আলোকে এগুলির সঠিক অর্থ ত্রিত্ববাদের অসারতা প্রমাণ করে।

(চ) পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনের অলৌকিকত্ব। এ অধ্যায়ে গ্রন্থকার প্রমাণ করেছেন যে কুরআন সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহর বাণী এবং কুরআনের বিষয়ে পাদরিগণের বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব দিয়েছেন। অধ্যায়টিকে তিনি চারটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে বারটি সুস্পষ্ট বিষয়ের আলোকে প্রমাণ করেছেন যে, কুরআন আল্লাহর বাণী। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি কুরআনের বিষয়ে পাদরিগণের বিভ্রান্তি ও অপ-প্রচারের উত্তর প্রদান করেছেন। তৃতীয় পরিচ্ছেদে তিনি আহলূস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিকট সংরক্ষিত সহীহ হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদে তিনি হাদীসের বিষয়ে পাদরিগণের বিভ্রান্তি ও অপ-প্রচারের উত্তর প্রদান করেছেন।

(ছ) ষষ্ঠ অধ্যায়: মুহাম্মাদ ()-এর নবুয়ত। এ অধ্যায়ে তিনি মুহাম্মাদ () নবুয়ত প্রমাণ করেছেন এবং এ বিষয়ক সন্দেহ ও বিভ্রান্তি অপনোদন করেছেন। তিনি অধ্যায়টিকে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেন। প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি মুহাম্মাদ ()-এর নবুয়তের প্রমাণ আলোচনা করেছেন। ৬ দিক থেকে তিনি তা প্রমাণ করেছেন: (১) তাঁর অলৌকিক কর্মসমূহ, (২) তাঁর অসাধারণ চরিত্র ও আচরণ, (৩) তাঁর শরীয়তের অসাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ, (৪) গ্রন্থ ও ব্যবস্থা বিহীন জাতির মধ্যে তাঁর আগমন, (৫) বিশ্বমানবতার প্রয়োজনের সময়ে তাঁর আগমন, (৬) বাইবেলে পূর্ববর্তী ভাববাদিগণ কর্তৃক তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী। প্রত্যেকটি বিষয় তিনি সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন এবং ষষ্ঠ বিষয়ে তিনি বাইবেল থেকে রাসূলুল্লাহ -এর বিষয়ে ১৮টি ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যীশুর বিষয়ে বাইবেলের যে সকল ভবিষ্যদ্বাণী খৃস্টানগণ উল্লেখ করেন, সেগুলির চেয়ে মুহাম্মাদ ()-এর আগমন ও পরিচয় বিষয়ক ভবিষ্যদ্বাণীগুলি অনেক বেশি সুস্পষ্ট ও সুনিশ্চিত। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি মুহাম্মাদ ()-এর বিষয়ে পাদরিগণের উত্থাপিত অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারগুলির জবাব প্রদান করেছেন।

কুরআন ও মুহাম্মাদ ()-এর বিরুদ্ধে পাদরিগণের উত্থাপিত আপত্তি ও অভিযোগগুলি খণ্ডণের ক্ষেত্রে আল্লামা রাহমাতুল্লাহর অসাধারণ বৈশিষ্ট বাইবেলের আলোকে অভিযোগ খণ্ডন ও তুলনামূলক আলোচনা। প্রতিটি আপত্তি তিনি বাইবেলের সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে খণ্ডন করেছেন। এছাড়া তিনি পাদরিগণের প্রত্যেক অভিযোগের বিষয়ে অসংখ্য উদাহরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তারা কুরআন এবং মুহাম্মাদ ()-এর বিরুদ্ধে যে সকল আপত্তি ও অভিযোগ উত্থাপন করেন সেগুলির প্রত্যেকটি আপত্তি ও অভিযোগ বাইবেল, যীশুখৃস্ট ও অন্যান্য বাইবেলীয় ভাববাদীর ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রযোজ্য। যেমন পাদরিগণ জিহাদের কারণে ইসলাম ও মুহাম্মাদ ()-কে অভিযুক্ত করেন, অথচ বাইবেলের মধ্যে গণহত্যা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, অবিশ্বাসীদের হত্যা ও নির্যাতন ও জাতিগত বিদ্বেষের অগণিত নির্দেশ রয়েছে। অনুরূপভাবে পাদরিগণ বহুবিবাহের কারণে মুহাম্মাদ ()-এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করেন, অথচ বাইবেলের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত বহুবিবাহ ছাড়াও যীশু ও অন্যান্য বাইবেলীয়  ভাববাদীর জীবনে নারীঘটিত অনেক কলঙ্ক ও অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তুর্কি খলীফার উদ্যোগে মূল ‘ইযহারুল হক্ক’ গ্রন্থ এবং বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ প্রকাশ খৃস্টানদেরকে অত্যন্ত বিচলিত করে। তারা সুসংগঠিতভাবে চেষ্টা করতে থাকেন, বইটিকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে। এর মুদ্রিত কপিগুলি তারা বাজার থেকে ক্রয় করে নষ্ট করে ফেলতে থাকেন; যেন কোনো মুসলিম বা খৃস্টান সাধারণ পাঠকের হাতে তা না পৌঁছায়। তবে, পুস্তকটির প্রকাশ ও প্রচারের বিষয়ে তুর্কি খলীফা ও প্রশাসনের বিশেষ মনোযোগ থাকার কারণে তাদের এই অপচেষ্টা পুরোপুরি সফলতা লাভ করতে পারে না।

গ্রন্থটির প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে ‘লন্ডন টাইমস’( London Times) পত্রিকায় বইটির বিষয়ে মন্তব্য করে বলা হয়, মুসলিমগণ যদি এই পুস্তকটি পাঠ অব্যাহত রাখে তবে মুসলিম সমাজে খৃস্টধর্মের প্রচার ও প্রসার চিরতরে থেমে যাবে। একজন মানুষও খৃস্টধর্ম গ্রহণ করবে না বরং সকলেই ইসলামকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে।

প্রকৃত অবস্থাও তাই হয়েছে। গ্রন্থটি অগণিত মুসলিম পাঠককে অভূতপূর্ব ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত করেছে, অনেক অমুসলিম পাঠককে ঈমানের পথে অনুপ্রাণিত করেছে, অনেক মুসলিম গবেষককে গবেষণার প্রেরণা ও তথ্য প্রদান করেছে এবং সর্বোপরি এ গ্রন্থ অনেক পাঠককে উদ্বুদ্ধ করেছে খৃস্টান মিশনারি ও পাদরিদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সমকালীন প্রসিদ্ধতম ইসলাম প্রচারক ও তার্কিক আহমদ দীদাত (রাহ) তিনি কাকতালীয় ভাবে এই পুস্তকটি পাঠ করার সুযোগ পান। এই পুস্তকই খৃস্টান প্রচারকদের বিরুদ্ধে ময়দানে অবতীর্ণ হতে তাকে অভুতপূর্ব প্রেরণা এবং অজেয় জ্ঞানের অস্ত্র প্রদান করে। এ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এক স্থানে বলেন, “My discovery of the book ‘IZHARUL HAQ’ was the turning point in my life. After a short while I was able to invite the trainee missionaries of Adams Mission College and cause them to perspire under the collar until they developed a respect for Islam and its Holy Apostle.”

মসি, অসি ও জিহ্বার মুজাহিদ আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কিরানবীকে মহান আল্লাহ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পুরস্কার প্রদান করুন এবং তাঁর গ্রন্থাবলি, বিশেষত মহামূল্যবান ‘ইযহারুল হক্ক’ গ্রন্থটি পৃথিবীর সকল সত্য-সন্ধানীর হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। আমীন।

ড: খোন্দকার আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

লিখিত এ প্রবন্ধটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা,

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত

 

সমাপ্ত

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply