আল-হাদীস [পর্ব-৪২] :: বিপদে মুসীবতে সবর বা ধৈর্যধারণ করা

ধৈর্য্য দোয়া পিক্সার

পরম করুনাময় আল্লাহ্ এর নামে শুরু করলাম

 

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন, আমি ও আমরা আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ্র অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি।বেশি হাদীস দেই না, কারন আমার মত অনেক লোক আছে, যারা বেশি লেখা দেখলে সেটা পড়তে চায় না, তাই অল্প কয়েকটা হাদীস দিলাম, যারা যত ব্যস্তই থাকুক এই অল্প কয়টি হাদীস পড়ে নিতে পারবে, এবং অল্প হবার কারনে মনে রাখতে পারবে আবার তা আমল করারও চেষ্টা করবে।

 

 

পর্ব এক     পর্ব ০২     পর্ব ০৩     পর্ব ০৪     পর্ব ০৫     পর্ব ০৬     পর্ব ০৭

পর্ব ০৮     পর্ব ০৯     পর্ব ১০     পর্ব-১১     পর্ব-১২     পর্ব-১৩     পর্ব-১৪

পর্ব ১৫     পর্ব ১৬     পর্ব-১৭     পর্ব-১৮     পর্ব-১৯     পর্ব-২০     পর্ব-২১

পর্ব-২২     পর্ব-২৩     পর্ব-২৪     পর্ব-২৫     পর্ব-২৬     পর্ব-২৭     পর্ব-২৮

পর্ব-২৯     পর্ব-৩০     পর্ব-৩১     পর্ব-৩২     পর্ব-৩৩     পর্ব-৩৪     পর্ব-৩৫

পর্ব-৩৬     পর্ব-৩৭    পর্ব-৩৮     পর্ব-৩৯     পর্ব-৪০     পর্ব-৪১

মহান আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কর”(সূরা আল ইমরানঃ২০০আয়াত)।

“আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভয় ক্ষুধা এবং তোমাদের জান, মাল ও শস্যের ক্ষতি সাধন করে পরীক্ষা করব।(এ পরীক্ষায়)ধৈর্যশীলদেরকে সুখবর দাও”(সূরা বাকারাঃ১৫৫আয়াত)।

“ধৈর্যশীলদেরকে অগণিত পুরস্কার পূর্ণভাবে দেয়া হবে”(সূরা যুমারঃ১০আয়াত)।

“যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, সেটা দৃঢ় মনোভাবেরই অন্তর্ভুক্ত”(সূরা শূরাঃ৪৩)।

“ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর। আল্লাহ নিশ্চয় ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”(সূরা বাকারাঃ১৫৩আয়াত)।

“আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যাতে তোমাদের মধ্যকার মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে চিনে নিতে পারি”(সূরা মুহাম্মাদঃ৩১আয়াত)।

২৫।আবু মালেক আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন পবিত্রতা ঈমানে অর্ধেক। আলহামদু লিল্লাহ যমীনকে পূর্ণ করে দেয় এবং সুবহানাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের সব কিছুকে ভরে দেয়। নামায হচ্ছে আলোকবর্তিকা এরং সদকা(ঈমানের)হচ্ছে দলিল স্বরুপ, সবর বা ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতি এবং কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে একটি দলীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি সকালে উঠে নিজেকে বিক্রয় করে এবং তাতে সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে।(মুসলিম)

২৬।আবু সাঈদ খুদরী(রা) থেকে বর্ণিত। আনসারদের কতিপয় লোক রাসূল(সাঃ)-র নিকট সাহায্য চাইল। তিনি তাদের দান করলেন। আবার তারা চাইল। তিনি আবার তাদের দান করলেন, এমনকি তাঁর নিকট যা কিছু ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। তাঁর হাতের সব কিছু দান করার পর তিনি তাদের বললেনঃ যা মাল আসে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না। যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন । যে ব্যক্তি কারও মুখাপেক্ষী হতে চায় না, আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করে দেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দারন করেন।ধের্যর চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোন কিছু কাউকে দেয়া হয়নি।(বুখারী ও মুসলিম)

২৭। সুহাইব ইবনে সিনান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেনঃ মুমিনের সকল বিষয় আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্যের ব্যাপার এরুপ নয়। তার জন্য আনন্দের কোন কিছু হলে সে আল্লাহর শোকর করে। তাতে তার মঙ্গল হয়। আর ক্ষতিকর কিছু হলে সে ধৈর্য ধারণ করে ।এও তার জন্য কল্যাণকর হয়।(মুসলিম)

৩২।আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল(সা.) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি দুনিয়া থেকে প্রিয়জনকে নিয়ে যাই আর সে সওয়াবের আশায় সবর করে।(বুখারী)

৪৫।আবু হুরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল(সা.) বললেনঃ ওয ব্যক্তি (মল্লযুদ্ধে) অন্যকে ধরাশয়ী করে সে শক্তিশালী নয়, বরং শক্তিশালী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংযত রাখে।(বুখারী ও মুসলিম)

৪৭।মুআয ইবনে আনাস(রা) থেকে বর্ণিত।রাসূল(সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ কার্যকর করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা দমিয়ে রাখে, তাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন সব মানুষের উপর মর্যাদা দিয়ে ডাকবেন, এমনকি তাকে তার ইচ্ছামত বড় বড় চোখবিশিষ্ট হূরদের মধ্য থেকে বেছে নেয়ার স্বধীনতা দিবেন।

ইমাম আবু দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান হাদীস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

৪৮।অঅবু হুরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল(সা.)-কে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, রাগ করো না। সে ব্যক্তি বারবার উক্ত কথা বলতে থাকল, আর (সা.)ও বললেনঃ রাগ করো না।(বুখারী)

৪৯।আবু হুরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বালেন, রাসূল(সা.) বলেছেনঃ মুমিন নর-নারীর জান, মাল ও সন্তানের উপর বিপদ-আপদ আসতেই থাকে। অবশেষ আল্লাহর সাথে সে সাক্ষাত করে এমন আবস্থায়, যে তার আর কোন গুনাহ থাকে না।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস রুপে আখ্যায়িত করেছেন।

 

 

ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে ভুলবে না…

ভুলে ভরা জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,যদি আমার লেখার মাঝে কোন ভুলত্রুটি থাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং ভিতরে লেখার মধ্যে কোন ভুল পেলে আমাকে একটু কষ্ট করে কমেন্টে জানিয়ে দিবেন, তাহলে আমি পরবর্তিতে ঠিক করে দিব। ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন।

 

মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Leave a Reply