ইসলাম কাকে হত্যা করতে বলে?

______বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম______

___বর্তমান সময়ে মুসলিমরা অনেকটাই দ্বিধান্বিত। তারা কোন অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবে নাকি হুজুরের বিভ্রান্তমূলক ফতোয়ার দিকে তাকাবে তা নিয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পরে। আর এর পেছনে বাংলাদেশে গজিয়ে উঠা অনেক মুনফেকি চরিত্রের হুজুরেরাই দ্বায়ী। তাই আমাদের উচিত এতসব মতামতকে উপেক্ষা করে পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদীছ থেকে এর সত্যতা যাচাই করা এবং এগুলো বাস্তবায়নের প্রাণপণ চেষ্টা করা।

___প্রথমেই দেখি মহান আল্লাহ আমাদেরকে অন্যায়ের বাঁধা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন কি না?

মহান আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।”-সূরা আল ইমরান, আয়াত-১০৪)

অর্থাত, আমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে যারা ভাল কাজের দিকে ডাকবে এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকতে বলবে। আর এই দলটিই দেখবে সফলতা। এখন আমাদের সত্যিকার মুসলিম হতে হলে অবশ্যই এই দলে যোগ দেওয়া অত্যাবশ্যকীয়।

____ এবার দেখি কে ইসলামে হত্যাযোগ্য?

প্রথমেই আসি মুসলিমদের ক্ষেত্রে____
একজন মুসলমান বিভিন্ন কারণে হত্যাযোগ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি দ্বীন ত্যাগ করলে সে মুরতাদ হবে। আর মুরতাদ প্রমাণিত হলে, তাকে হত্যা করতে হবে, এটাই ইসলামি বিধান। আর এর প্রমাণে মহান আল্লাহ বলেন, “যারা আল্লাহর অবতীর্ণ আইন অনুযায়ী বিচার ফায়ছালা করে না তারাই কাফির”-(মায়েদা,৪৪)।

মহান আল্লাহ আরো বলেন,
“আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম”-(মায়েদা,৪৫)।

উপরোক্ত দুটি আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন ইসলামে কি ফয়সালা হওয়া উচিত? এবং তা কোন আইনে চলবে? আর এই অপরাধের শাস্তি অপরাধ এর উপর নির্ভর করে কম বেশি হতে পারে। তবে যারা এই আইন অমান্য করে নতুন আইন সৃষ্টি করে তারাই কাফির বা হত্যাযোগ্য। এছাড়াও বলা হয়েছে অন্যায় ভাবে হত্যার বদল কেবল মৃত্যুদন্ডই!!

এছাড়াও সহী হাদীছ থেকে পাওয়া যায়,
ইবনে আব্বাস (রাদি আল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে পরিবর্তন করে তাকে তোমরা হত্যা কর”। (সহীহ বুখারী)

কোন সাবালক, বিবেকবান ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ইসলাম পরিত্যাগ করলে তাকে ইসলামের দা’ওয়াত দিতে হবে এবং ইসলামের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে এবং তাওবা করার জন্য বলতে হবে, হয়তো বা সে তাওবা করবে। যদি তওবা করে তাহলে সে মুসলিম হয়ে ফিরে আসলো। যদি তাওবা না করে মুরতাদ অবস্থায় অনড় থাকে তাহলে তাঁর কুফূরির জন্যে তরবারি দ্বারা তাকে হত্যা করতে হবে।

আবু মূসা (রাদি আল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, একজন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার ইহুদি হয়ে যায়। এমন সময় মু’আয ইবনে জাবাল (রাদি আল্লাহু আনহু) মূসা আশ’আরী (রাদি আল্লাহু আনহু) এর নিকট আসেন যখন তাঁর নিকট ঐ মুরতাদ ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। মু’আয (রাদি আল্লাহু আনহু) বললেন: এর কি হয়েছে? আবু মূসা (রাদি আল্লাহু আনহু) বললেন ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার সে ইহুদি হয়ে গেছে। মু’আয (রাদি আল্লাহু আনহু) বললেন: যতক্ষণ না একে হত্যা করা হবে ততক্ষন আমি বসব না। আর ইহাই হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ফায়সালা। (বুখারী ও মুসলিম)

তবে এই হত্যার জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে যাচাই করা। আর এ সম্পর্কে- আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেছেন, “ঈমান কোন লোককে হঠাৎ হত্যা করা হতে বিরত রাখে। সুতরাং কোন মুমিন যেন লোককে হঠাৎ হত্যা না করে”। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৫৪৮)।

অমুসলিমদের প্রতি করণীয়____
সুলাইমান ইবনু বুবায়দা (রা:) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা:)- এর নিয়ম ছিল তিনি যখন কোন ছোট কিংবা বড় সেনাদলের উপর কাউকে আমীর নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে একান্তভাবে আল্লাহকে ভয় করে চলার এবং সঙ্গীদের সাথে ভাল আচরণ করার উপদেশ দিতেন। অতঃপর বলতেন, আল্লাহর নাম নিয়ে অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বের হয়ে যাও। আর যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে অর্থাৎ কাফেরদের সাথে যুদ্ধ কর। সাবধান জিহাদে যাও, কিন্তু গণীমতের মালে খিয়ানত কর না, চুক্তি ভঙ্গ কর না। শত্রুদের বিকালঙ্গ কর না অর্থাৎ তাদের হাত, পা, নাক, কান কর্তন কর না এবং কোন শিশুকে হত্যা কর না। যখন তুমি তোমার প্রতিপক্ষ মুশরিক কাফির শত্রুর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হবে, তখন তুমি তাদেরকে তিনটি প্রস্তাব দিবে। তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কোন একটি মেনে নিলে তুমি তা গ্রহণ করবে এবং তাদের প্রতি আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে। প্রথমত: যুদ্ধের ময়দানে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে দিবে। যদি তারা ইসলাম কবুল করে, তাদেরকে মুসলিম বলে মেনে নিবে এবং তাদের সাথে করা হতে বিরত থাকবে। তাদেরকে কাফেরদের দেশ হতে মুসলমানদের দেশে হিজরত করে চলে আসার আহ্বান জানাবে। তাদেরকে এটাও অবগত করবে যে, তারা যদি হিজরত করে তবে তারাও সে সমস্ত অধিকার ও সুযোগ লাভ করবে যা মুহাজিরগণ লাভ করেছেন। আর সে সমস্ত দায়িত্বও তাদের উপর অর্পিত হবে যা মুহাজিরীনদের উপর অর্পিত হয়েছে। কিন্তু যদি তারা নিজ দেশ ত্যাগ করতে রাযী না হয়, তখন তাদেরকে অবহিত করবে যে, তাদের সাথে সেরুপ আচরণই করা হবে যেরুপ আচরণ গ্রাম্য মুসলমানদের সাথে করা হয়। অর্থাৎ তারা সালাত আদায় করবে, যাকাত প্রদান করবে, ক্বিছাছ ও দীয়ত ইত্যাদি মেনে চলবে এবং যুদ্ধলব্দ মাল ও বিনা যুদ্ধে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত মাল হতে তারা কোন অংশ পাবে না। অবশ্য তারা এ সম্পদের অংশ তখনই পাবে যখন তারা মুসলমানদের সাথে সম্মিলিত ভাবে জিহাদে শামিল হবে। দ্বিতীয়ত: যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তখন তাদের নিকট হতে জিযিয়া বা কর আদায়ের প্রস্তাব পেশ করা হবে। যদি তারা কর দিতে রাযী হয়, তুমি তাদের কর গ্রহণ করবে এবং তাদের উপর আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে। তৃতীয়ত: যদি তারা জিযিয়া বা কর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করবে এবং তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করবে।” (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৯২৯)।

____বর্তমান অত্যাচারী শাসকদের প্রতি করণীয়?
উম্মু সালমা (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “অচিরেই তোমাদের উপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে, যারা ভাল-মন্দ উভয় প্রকার কাজ করবে। তোমরা তা বুঝতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। সুতরাং যে লোক তার মন্দ কাজের প্রতিবাদ করবে মুখের উপর বলে দিবে যে তোমার একাজ শরী’আত বিরোধী, সেব্যক্তি তার দায়িত্ব হতে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি শাসকের এ মন্দ কাজকে মনে মনে খারাপ জানবে সে ব্যক্তিও নিরাপদে থাকবে। অর্থাৎ গুনাহ হতে বেঁচে যাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি উক্ত কাজের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে এবং উক্ত কাজে শাসকের আনুগত্য করবে সে ব্যক্তি গুনাহের মধ্যে তার সাথে শরীক হবে। তখন ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! এমতাবস্হায় আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? রাসূল (সা:) বললেন, না। যতদিন পর্যন্ত তারা ছালাত আদায় করবে, ততদিন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না। আবার বললেন, যতদিন পর্যন্ত তারা ছালাত কায়েম করবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না।” (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭১)।

বি:দ্র: ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল তখনই হবে যখন মহান আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন হবে।

==========================

ফেসবুক নোট

লিখেছেন:-Areful Islam Dipu

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply