প্রতিদিনের পড়ালেখা (পর্ব ২)

প্রতিদিনের পড়ালেখা,

আজকের বিষয়ঃ  ফিকরের মুহাসাবা (পর্ব ২)

গত পর্বের পোস্টঃ প্রতিদিনের পড়ালেখা (পর্ব ১)

প্রিয় ভাই,
আল্লাহর অসংখ্য শোকর, আমরা নিয়মিত মুহাসাবা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অটল থাকার তাওফীক দান করুন –

গত পর্বে আমরা মুহাসাবার ব্যাপারে অনেক কিছু জানলাম। আজকে আমরা মুহাসাবার সম্পর্কে কিছু হাদিস জেনে নিব।

হাদিসে নববী ও আছারে ছাহাবার আলোকে মুহাসাবা

  • হযরত শাদ্দাদ বিন আওস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে সর্বদা নিজের হিসাব নেয় (অর্থাৎ নিয়মিত মুহাসাবা করে) এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে সেই বুদ্ধিমান। আর বোকা সেই যে নিজেকে নফসের গোলাম বানায়, আর আল্লাহর কাছে বড় বড় আশা করতে থাকে।’ (সুনানে তিরমিযী : ২৪৫৯)
  • হযরত ওমর রাযি. বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমার হিসাব নেওয়ার পূর্বেই নিজের হিসাব নাও (অর্থাৎ নিয়মিত মুহাসাবা করে)। সেদিন সকলের সামনে আমলসমূহের সবচেয়ে বড় উপস্থাপনের জন্য নিজেকে সজ্জিত করো। দুনিয়ায় যে সর্বদা নিজের হিসাব  নেয় (এবং আমলসমূহকে সুন্দর করতে থাকে)। সেদিন তার হিসাব হবে সহজ হিসাব।’ (সুনানে তিরমিযী : ২৪৫৯)
  • ওয়ালিদ বিন সালেহ এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখলো। তখন রাসূল তাকে বললেন, ‘যার দুই দিন এক রকম কাটলো সে তো ধোকায় পড়ে আছে। যার গতদিনের চেয়ে পরদিন মন্দ হলো সে তো লা’নতযোগ্য। নিজের ক্ষতিকে যে অনুধাবনও করতে পারে না সে তো ক্ষতির দিকে সদা ধাবমান। আর এমন ব্যক্তির জন্য বেঁচে থেকে নিজের ক্ষতি করার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।’ (ইকতেযাউল ইলমিল আমাল, খতীব বাগদাদী, ১১২)

সালাফের বাণী ও আমলের আলোকে মুহাসাবা

  •  হযরত হাসান বসরী রাযি. বলেন, ‘মুমিন তো সর্বদা নিজের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য নিজের হিসাব নিতে থাকে । দুনিয়ায় যারা সর্বদা নিজেদের হিসাব নেয় (এবং আমলসমূহকে সুন্দর করতে থাকে) সেদিন তাদের হিসাব হবে সহজ হিসাব। আর কেয়ামতের দিন হিসাব কঠিন হবে তাদের যারা দুনিয়ায় নিজেদের হিসাব নিতো না।’ (হিলয়াতুল আওলিয়া ২ : ১৫৭, আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৯ : ২৭২)
  • শায়খ ইবনুল আরাবী বলেন, ‘আমাদের শায়খগণ প্রতিদিন নিজেদের প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণের হিসাব নিতেন এবং এগুলোকে খাতায় লিখে রাখতেন। ইশার পর নিজেদের হিসাব নেওয়ার জন্য বসতেন । নিজেদের আচরণ ও উচ্চারণ লিখে রাখা খাতা এনে হিসাব নিতেন। ইসতেগফারযোগ্য ত্রুটিগুলোর জন্য ইসতেগফার করতেন। আর  তাওবাযোগ্য ত্রুটিগুলোর জন্য তাওবা করতেন। ভালো কাজগুলোর জন্য আল্লাহর শোকর করতেন। তারপর ঘুমুতে যেতেন।’ শায়খ ইবনুল আরাবী বলেন, ‘আর আমরা এগুলোর সাথে সাথে মনে উদয় হওয়া বিষয়গুলোও লিখে রাখি। দিন শেষে আমরা এগুলোরও হিসাব নিই।’ (ফয়জুল কাদির ৫ : ৬৭)

আমি যদি নিয়মিত মুহাসাবা করি …

  • আমার জীবনের উন্নতি সদা অব্যাহত থাকবে।
  • আমার জীবনকে অবনতি থেকে রক্ষা করতে পারবো।
  • যে কোন সময় অবনতির অনুপ্রবেশের ব্যাপারে দ্রুত সজাগ হয়ে যেতে পারবো।
  • সব সময় নিজের মাঝে অনুশোচনাবোধ জাগ্রত রাখতে পারবো।
  •  ইলম, আমল, আখলাক ও ফিকরের ক্ষেত্রে একজন আদর্শ তালিবুল ইলম হতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।

আমি যদি সত্যিই নিয়মিত গভীর মনোযোগ ও ধ্যানের সাথে মুহাসাবা করি তাহলে ধীরে ধীরে আমার জীবনে মুহাসাবায় উল্লিখিত গুণসমূহের প্রতিফলন ঘটতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি অগ্রসর হতে থাকবো আমার লক্ষ্যের পথে। হে আল্লাহ, আমার এ পথচলা সহজ করুন। আমীন।

নিরব টিউনার

জিবনটাকে আজো সুন্দর করে সাজাতে পারিনি।

Leave a Reply