প্রতিদিনের পড়ালেখা (পর্ব ৩)

প্রতিদিনের পড়ালেখা,

আজকের বিষয়ঃ   ইবাদতের মুহাসাবা

গত পর্বের পোস্টঃ

প্রতিদিনের পড়ালেখা (পর্ব ১)

প্রতিদিনের পড়ালেখা (পর্ব ২)

প্রিয় ভাই,
আল্লাহর অসংখ্য শোকর, আমরা নিয়মিত মুহাসাবা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অটল থাকার তাওফীক দান করুন –

গত পর্বগুলেঅতে আমরা মুহাসাবার সম্পর্কে কিছু তথ্য, কিছু হাদীস জানলাম। আজকে আমরা ইবাদতের মুহাসাবা কিভাবে করব তা জানবো।

ইবাদত – ১

কাজের শুরুতে ও মাঝে নিয়ত বিশুদ্ধ করা: প্রতিদিন সব কাজের শুরুতে ও মাঝে কয়েক সেকে- সময় নিয়ে ভাববো, আমার এ কাজটি কেবল আল্লাহরই জন্য। সব কাজের শুরুতেই এমনটা করার চেষ্টা করবো। সারা দিন এমন কতটি কাজের শুরুতে এভাবে নিয়ত বিশুদ্ধ করা হলো সেই পরিমাণটা লিখবো। যেমন: ১/২/৩/১০ ইত্যাদি। সারা দিন না হলে (.) লিখবো।

ধ্যানের সাথে ইসতেগফার করা     :

ধ্যানের সাথে কত বার ইসতেগফার করা হলো তা লিখবো। ৫০/৬০/১০০ ইত্যাদি।
অন্তত অজুর শুরুতে মেসওয়াক করা: মেসওয়াক তো অনেক সময়ই সুন্নত। তবে স্বাভাবিক অভ্যাস করার জন্য অন্তত অজুর শুরুতে মেসওয়াক করবো। সারা দিন প্রত্যেক বার অজুর শুরুতে মেসওয়াক করা হলে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা কত বার হলো না তা লিখবো।
নামাযের …/… মিনিট পূর্বে মসজিদে যাওয়া: নামাযের ১০/১৫ মিনিট পূর্বেই মসজিদে যাওয়া উচিত। সুন্নতওয়ালা নামাযের অন্তত ১০ মিনিট আগে, আর অন্যান্য নামাযের অন্তত ১৫ মিনিট আগে। আমি যদি ১০/১৫ আগে যেতে না পারি তাহলে আমার সাধ্য অনুযায়ী সংখাটা লিখে নেবো। যেমন: ৫/১০, ৮/১২ ইত্যাদি। পাঁচ ওয়াক্তই সময়মত যাওয়ার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কত ওয়াক্ত নামায নিয়ত করা সময়মতো যেতে পারলাম তা লিখবো।
১ম কাতারে নামায আদায়     :

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই ১ম কাতারে আদায় করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো বা ৫ লিখবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কত ওয়াক্ত ১ম কাতারে হলো তা লিখবো। যেমন: ২/৪ ইত্যাদি।
তাকবীরে উলার সাথে নামায     : পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই তাকবীরে উলার সাথে আদায় করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো বা ৫ লিখবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কত ওয়াক্ত তাকবীরে উলার সাথে হলো তা লিখবো। যেমন: ২/৪ ইত্যাদি।
আযানের জবাব দেয়া     :

আযানের সময় আযানের জবাব দেয়া এবং পরে দোয়া পড়া। পাঁচ বার আযানের সময়ই জবাব দেওয়ার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো বা ৫ লিখবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কত ওয়াক্ত আজানের জবাব দেয়া হলো তা লিখবো। যেমন: ২/৪ ইত্যাদি।

ইকামতের জবাব দেয়া    :

ইকামতের সময় ইকামতের জবাব দেবো। আজানের জবাবের মতো এটি মুসতাহাব। এছাড়া ধ্যানের সাথে শব্দগুলো উচ্চারণ করা হলে নামাযে মনোযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে থাকে। তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইকামতের জবাব দেওয়ার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো বা ৫ লিখবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কত ওয়াক্ত ইকামতের জবাব দেয়া হলো তা লিখবো। যেমন: ২/৪ ইত্যাদি।
তাহাজ্জুদ আদায় করা    :

শেষ রাতে ওঠা সম্ভব না হলে প্রথম পর্যায়ে অন্তত ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদ পড়ে নেবো। আমল পূর্ণ করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করে ¬¬¬¬(.) চিহ্ন দেবো।
ইশরাক আদায় করা    : আমল পূর্ণ করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করে ¬¬¬¬(.) চিহ্ন দেবো।
আওয়াবীন আদায় করা    :

আমল পূর্ণ করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করে ¬¬¬¬(.) চিহ্ন দেবো।
সূরা ইয়াসিন, ওয়াকিয়া ও মুলক পাঠ : আমল পূর্ণ করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করবো এবং কয়টি সূরা পড়া হলো তা লিখবো। যেমন: ১/২/৩।
কোরআন তেলাওয়াতের পরিমাণ     :

সারা দিনের তেলাওয়াতের পরিমাণ লিখবো। যেমন: আধা (১/২) পারা, ১ পারা, ২ পারা ইত্যাদি।
মাগরিবের আগে দোয়া করা     : এ সময় দোয়া করার তাওফীক হলে শোকর আদায় করে টিক চিহ্ন দেবো। নতুবা ইসতেগফার করে ¬¬¬¬(.) চিহ্ন দেবো।
নেয়ামতের কথা স্মরণ করে শোকর করা:

গভীরভাবে আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করে শোকর করবো। আল্লাহ আমাকে সুস্থ মস্তিষ্ক দান করেছেন। আল্লাহ আমাকে ইলম অর্জনের পথে রেখেছেন।’ এভাবে আমার ওপর আল্লাহর যে অগণিত নেয়ামত আছে সেসবের কথা স্মরণ করে মনের গভীর থেকে বলবো, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ সারা দিনে কত বার হলো তা লিখবো।

নিরব টিউনার

জিবনটাকে আজো সুন্দর করে সাজাতে পারিনি।

Leave a Reply