পবিত্র কোরআনের সুরা গুলোর সংক্ষিপ্ত ধারনা (পর্ব-১)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রথমে কয়েকটা কথা বলা দরকার।এই পোস্ট করার কোন চিন্তা আমার মাথায় ছিলোনা।আমাদের এক ভাই আমাকে পবিত্র কোরআনের সুরাগুলোর উপর পোস্ট করার জন্য বললেন।আমি ওনাকে বললামঃ পোস্ট কিভাবে করতে বলেন?উনি বললেনঃ আপনি যেভাবে ভাল মনে করেন।তো আমি চিন্তা করলাম আপনারা সবাই ইচ্ছা করলে অনুবাদ,তাফসির,মাসয়ালা পড়তে পারেন।তাহলে আমাকে এর উপর পোস্ট না করা ভাল।তাই চিন্তা করলাম কি করা যায়?তখন ইচ্ছা হল কোরআনের সুরাগুলোর উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে পোস্ট করব।তাই আজ বসে গেলাম।তবে পোস্ট এর মধ্যে যদি কোন বিষয় যোগ করতে হয়,আমাকে বললে আমি সামনের পোস্টগুলোতে তা যোগ করতে চেষ্টা করবো।

আপনাদের কাছে আমার আবেদন হলঃআমার জন্য এবং যে ভাই আমাকে এমন পোস্ট করতে বলেছেন তার জন্য দোয়া করবেন।এখনি করুন।যেন আল্লাহ আমাকে ও তাকে হেদায়েতের উপর রাখে,ইমান নিয়ে যেন কবরে যেতে পারি,পাপ থেকে যেন দূরে থাকতে পারি,সর্বোপরি এর সওয়াব যেন আমাকে এবং ওনাকে আখেরাতে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

(আমিন)

আমার এই পোস্ট ধারাবাহিক হবে।প্রতিবার একটি সুরা সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

আজ পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরার সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।এর মধ্যে আমি যা যা উল্লেখ করবো তা হলঃ

সুরার নাম

নাম করন করার কারন

আয়াত,রুকু,শব্দ,অক্ষর

সুরার বিষয়বস্তু

ফযিলত

সুরা আল-ফাতেহা

সুরার নাম হল সুরা ফাতেহা।এর আরও অনেক নাম আছেঃ

উম্মুল কিতাব

উম্মুল কোরআন

সাব-উল-মাছানি

সুরাতুল হামদ

সুরাতুস সালাত

সুরাতুস শিফা

সুরাতুর রকিয়্যাহ

আসাসুল কোরআন

সুরাতুল ওফিয়্যাহ

সুরাতুল কাফিয়াহ

        নামকরনের কারন

সুরা ফাতিহাঃ

পবিত্র কোরআন শুরু হয়েছে এই সুরার মাধ্যমে তাই এর নাম সুরা ফাতিহা রাখা হয়েছে।

উম্মুল কিতাবঃ

যেহেতু এটি কোরআনের মৌলিক সুরা তাই এর নাম উম্মুল কিতাব বা কোরআনের মুল নামে নামকরন করা হয়েছে।

সুরাতুল হামদঃ

এই সুরা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু হওয়ার কারনে এর নাম সুরাতুল হামদ বা প্রশংসার সুরা নামে নামকরন করা হয়েছে।

সুরাতুস সালাতঃ

এই সুরা নামাজে পড়া আবশ্যক।তাই একে সুরাতুস সালাত বলা হয়।

সুরাতুল কাফিয়াহঃ

এই সুরা নিজে যথেষ্ট।কিন্তু অন্যান্য সুরা একে ছাড়া যথেষ্ট নয়।

 

সুরাতুস শিফাঃ

এই সুরা পড়ে কোন রোগীর গায়ে ফুঁ দিলে তা ভাল হয়ে যায়।তাই এর নাম সুরাতুস শিফা।

 

অবতীর্ন হওয়ার সময়

এই সুরাটি মক্কাতুল মুকাররামায় অবতীর্ন হয়।

আয়াত,রুকু ও শব্দ

এই সুরার মধ্যে সাতটি আয়াত,পঁচিশটি শব্দ ও একশত তেরটি অক্ষর রয়েছে।রুকু একটি।

সুরার বিষয়বস্তুঃ

এই সুরায় মৌলিকভাবে বান্দাকে আল্লাহর প্রশংসা করার পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার পদ্ধতি ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এই সুরাটিকে তার ও তার বান্দার মাঝে সমান ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন।প্রশ্ন হতে পারে আয়াত হল সাতটি তাহলে সমান ভাগ হল কি করে?উত্তর হলঃপ্রথম তিন আয়াত আল্লাহর,শেষের তিন আয়াত বান্দার আর মাঝের আয়াত আল্লাহ ও তার বান্দা উভয়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

ফজিলত

এই সুরার ফজিলত অনেক বেশি।এই সুরা পড়ে যে কোন রোগীর গায়ে ফুঁ দিলে আল্লাহর রহমতে সে সুস্থ হয়ে যাবে।তবে প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগন এই ব্যাপারে বলেছেন,ফুঁ যিনি নিবেন এবং যিনি দিবেন তাদের মধ্যে কয়েকটি গুন থাকতে হবে।

১।যিনি দিবেন তাকে অবশ্যই আল্লাহওয়ালা হতে হবে।

২।যিনি নিবেন এর উপর তার পুর্ন আস্থা থাকতে হবে।

৩।কোন বিনিময় গ্রহন করা যাবেনা।

৪।যিনি দিবেন তাকে আল্লাহর উপর ভরসা করে ফুঁ দিতে হবে।

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

3 thoughts on “পবিত্র কোরআনের সুরা গুলোর সংক্ষিপ্ত ধারনা (পর্ব-১)

Leave a Reply