পবিত্র জিলহজ্জ মাস

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের। কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

 

আমি প্রথমেই সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।যদি আমার লেখায় কোন ভূলত্রুটি হয়ে থাকে ।তাহলে আমাকে মন্তব্য করে জানাবেন অনুরোধ রইলো ।কারণ আমি ভূল করে তারপড় শিক্ষতে চাই ।

 

এখন আসুন তাহলে মূল বিষয়ে কথা বলি ।আমি এখন আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করবো তা হলো  জিলহজ্জ মাস সম্পর্কে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুসলিম জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে হজ্জে বাইতুল্লাহকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাতে বান্দার সর্বাধিক প্রিয় বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবান করার একটি অনুপম আমল সংযোজন করেছেন, যা কোরবানী নামে আমাদের কাছে পরিচিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
قل إنَّ صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين. لا شريك له وبذلك أمرت وأنا أول المسلمين.
“ বলুন! আমার সালাত, আমার কোরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য। তাঁর কোন অংশীদার নেই, আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি এবং সর্বপ্রথম মুসলিম। (আনআম-১৬২-১৬৩)
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এর প্রতি, যিনি মানবজাতিকে জিলহজ্জের প্রথম দশকে বিশেষ কিছু নেক আমল যথা – সিয়াম, হজ্জে বাইতুল্লাহ, তাকবীরের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ এবং কোরবানীসহ সকল ইবাদতকে বিশুদ্ধভাবে আদায় করে আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় বান্দা হওয়ার উপকরণ বাতলিয়ে দিয়েছেন। শান্তি রহমত বর্ষিত হোক সকল সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল অনুসারীদের প্রতি।

জিলহজ্জ মাসের তাৎপর্য
হিজরী সনের ১২তম এ মাসটি মুসলমানদের জীবনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ মাসের প্রথম ১০দিন খুবই তাৎপর্যময়। এর ৯তারিখ হচ্ছে আরাফার দিন এবং এ মাসের ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২তারিখে পবিত্র হজ্জ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ “الحج أشهر معلومات” অর্থঃ হজ্জের কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। আর হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী সে মাসগুলো হলঃ শাওয়াল, জিলক্বদ, ও জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন। এ মাসেই আদায় করতে হয় আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের অন্যতম ইবাদত কোরবানী। এ মাসের ১০তারিখে পালিত হয় মুসলিম উম্মাহর ২য় খুশীর দিন “ঈদুল আযহা”।

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০দিন
এ মাসের প্রথম ১০দিন এতই ফযিলতপূর্ণ যে, আল্লাহ তা‘আলা সূরায়ে ফজরের দ্বিতীয় আয়াতে এর শপথ করছেন। কুরআনে রয়েছে ঃ “والفجر وليال عشر” অর্থঃ “ফজর ও দশ রাতের শপথ”। এখানে আল্লাহ তা‘আলা সম্মানিত ১০রাতের শপথ করেছেন। আর প্রখ্যাত তাফসীরকারক সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা), ইবনে যুবাইর, মুজাহিদ ও ইবনে কাসীরসহ আরো অনেক মুফাসসির বলেছেন, এখানে আল্লাহ তা‘আলা ১০রাত দ্বারা জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০দিন বুঝিয়েছেন।

এ দশ দিনে নেক আমলের ফযিলত

এ দিনগুলোতে কৃত নেক আমল আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিহাদ ফী সাবিলল্লাহ এর চেয়েও প্রিয় ও পছন্দনীয়। এ দিনগুলো হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিন। নিম্নের হাদীসের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা এ দিনের ফযিলত অনুধাবন করতে পারব। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল বলেনঃ
ما من أيام العمل الصالح فيهن أحب إلى الله من هذه الأيام العشر فقالوا: يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله؟ فقال: ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء. ( بخاري وترمذي)

অর্থঃ জিলহজ্জের প্রথম ১০দিনের আমলের চেয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ আর কোন আমল নেই। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার চেয়েও কি প্রিয়? উত্তরে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ তার চেয়েও প্রিয়। তবে ঐ ব্যক্তির আমল এর চেয়েও বেশী প্রিয় যে নিজের জান-মাল নিয়ে জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছে, অতঃপর তার জান ও মালের কিছুই ফিরে আসেনি। (বুখারী ও মুসলিম)

তিনি আরো বলেনঃ
ما من أيام أعظم عند الله ولا أحب إليه من العمل فيهن من هذه العشر فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد. (أحمد)
অর্থঃ জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ আল্লাহ তা‘আলার নিকট আর কোন আমলনেই। অতএব তোমরা এ দিনগুলোতে বেশী বেশী তাকবীর, তাহলীল ও আল্লাহর প্রশংসা কর। (আহমদ)

এ দিনগুলোতে যা করণীয়
১. বিগত দিনের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট খাঁটি তাওবা করা। ছোট ছোট গুনাহ্গুলো বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দেন, কিন্তু কবীরা বা বড় গুনাহগুলো তাওবা ব্যতীত ক্ষমা করা হয় না। এ জন্য তাওবা করতে হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ياأيها الذين آمنوا توبوا إلى الله توبة نصوحا. عسى ربكم أن يكفر عنكم سيآتكم ويدخلكم جنت تجري من تحتها الأنهار يوم لا يخزي الله النبي والذين آمنوا معه نورهم يسعى بين أيديهم وبأيمانهم يقولون ربنا أتمم لنا نورنا واغفرلنا إنك على كل شيئ قدير. (التحريم : ৮)
অর্থঃ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট খালেসভাবে তাওবা কর, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহমান। সেদিন আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় নবী ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসীদের অপদস্থ করবেন না, তাদের নূর তাদের সামনে ও ডান দিকে ছুটা ছুটি করবে। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জন্য নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (তাহরীম: ৮)
তিনটি বিষয়ের সমষ্টির নাম হচ্ছে তাওবাঃ
ক. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জেহ হয়ে কৃত অপরাধের স্বীকৃতি দেয়া।
খ. কৃত অপরাধের জন্য মহান আল্লাহর নিকট লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া।
গ. সম্পূর্ণভাবে পাপ পরিত্যাগ করে তা পূনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

২. সামর্থবান ব্যক্তি হজ্জ ও ওমরা পালন করাঃ হজ্জ ফরয হওয়ার পরও যারা হজ্জ করবে না তাদের ব্যপারে রাসূল এর অভিশাপ হচ্ছে হয় তারা ইহুদী না হয় খৃষ্টান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করুক তাতে আমার কিছুই আসে যায় না। এর দ্বারা বুঝা গেল হজ্জ ফরয হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা আদায় করে নেয়া একান্ত কর্তব্য। কেননা মানুষের শেষ নিঃশ্ব^াস ত্যাগের দিন, সময় ও স্থান অজ্ঞাত।
৩. অধিকহারে নেক আমল করা।
৪. আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা।
৫. অধিকহারে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা।
তাকবীর হচ্ছেঃ ‘ الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد ’
৬. ঈদের দিন ব্যতীত জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৯ দিন রোযা রাখা। উম্মুল মু‘মিনীন হাফসা (রা) বলেনঃ
أربع لم يكن يدعهن النبي صلى الله عليه وسلم: صيام عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر والركعتين قبل الغداء. (أحمد وأبو داود)
অর্থঃ চারটি আমল রাসূল কখনো ত্যাগ করেননি। এক. আশুরার রোজা, দুই. জিলহজ্জের প্রথম ৯ দিনের রোজা, তিন. প্রতি মাসে তিন দিনের রোজা ও চার. ইশরাকের দু‘রাকাত সালাত। (আহমাদ ও আবু দাউদ)
এ দিনগুলোর মধ্যে আরাফাতের দিবসে রোজা রাখা অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ।
রাসূল বলেনঃ
صيام يوم عرفة احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبلها والسنة التي بعدها . (مسلم)
অর্থঃ যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখল, আমি আশা রাখি আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তার পিছনের এক বছরের ও আগামী এক বছরের গুনাহ (এর দ্বারা) ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিম)

হজ্জে বায়তুল্লাহ
ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম হলঃ বাইতুল্লাহর হজ্জ করা। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির উপর জীবনে একবার হজ্জ ফরজ। শারীরিক সামর্থ হচ্ছেঃ হজ্জের ফরয ও ওয়াজিব আদায়ে দৈহিক শক্তি সামর্থ থাকা। আর আর্থিক সামর্থ হচ্ছে, কারো কাছে তার সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ ও ঋণ আদায়ের পর বায়তুল্লায় যাওয়া-আসার পরিমাণ অর্থ মজুদ থাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا. (آل عمران : ৯৭)
অর্থঃ যারা বাইতুল্লাহ যেতে সক্ষম তাদের উপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্জ করা ফরজ। (আলে ইমরান: ৯৭)
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا أيها الناس قد فرض الله عليكم الحج فحجوا، فقال رجل أكل عام يارسول الله ؟ فسكت، حتى قالها ثلاثا ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لو قلت نعم لوجبت، لمااستطعتم، ثم قال: ذروني ما تركتكم، فإنما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهم، واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فأتوا منه ماستطعتم، وإذانهيتكم عن شيئ فدعوه. (مسلم و نسائي )
অর্থঃ একদা রাসূল খুতবায় বলেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন, তাই তোমরা হজ্জ কর। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল , হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরয? সে এ কথা তিন বার বলল। কিন্তু তিনি চুপ রইলেন। অতঃপর বললেনঃ আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তোমাদের উপর তা (প্রতি বছর আদায় করা) ফরয হয়ে যেত অথচ তোমরা তা আদায় করতে পারতে না। অতঃপর তিনি বললেন, যখন কোন বিষয়ে আমি উল্যেখ না করি সে বিষয়ে তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো না। কেননা অধিক জিজ্ঞাসাবাদ ও নবীগণের সাথে মতানৈক্য করার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং আমি যা কিছু তোমাদের আদেশ করি তা তোমরা যথাসাধ্য মেনে নেবে এবং আমি তোমাদের যা কিছু থেকে নিষেধ করি তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে । (মুসলিম ও নাসায়ী)

হজ্জ ফরয হওয়ার হিকমত
হজ্জ ও ওমরার মাধ্যমে বান্দাকে সকল গুনাহ থেকে মুক্ত করে দেয়া হয় এবং সে পরকালে আল্লাহ তা‘আলার পুরুস্কার পাওয়ার যোগ্যতা লাভ করে। রাসূলুল্লাহ বলেনঃ
من حج لله فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته أمه. (متفق عليه)
অর্থঃ যে ব্যক্তি হজ্জ পালনকালে কোন অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকল, সে সদ্য ভুমিষ্ট শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। (বুখারী ও মুসলিম)

হজ্জের ফযিলত
হজ্জ হচ্ছে আল্লাহ্ প্রেমের বাস্তব স্বরূপ। কিছু মানুষ রয়েছে দুনিয়াতেও আল্লাহর মেহমান আখেরাতেও তাঁর মেহমান। তারা হাজী সাহেবগণ ও নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাতায়াতকারীগণ। রাসূল হজ্জের যে ফযিলত হাদীসে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে রয়েছেঃ
سئل النبي صلى اله عليه وسلم : أي العمل أفضل؟ قال: إيمان بالله ورسوله قيل ثم ماذا ؟ قال: الجهاد في سبيل الله ، قيل ثم ماذا؟ قال : حج مبرور. (متفق عليه)
অর্থঃ রাসূল কে প্রশ্ন করা হল, কোন আমল সবচেয়ে উত্তম ? উত্তরে তিনি বলেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। আবার প্রশ্ন করা হল, এরপর কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আবার প্রশ্ন করা হল এরপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হজ্জে মাবরূর (কবুল হজ্জ) করা। (বুখারী ও মুসলিম)
হজ্জে মাবরূর বা যার হজ্জ আল্লাহর নিকট কবুল হবে তার জন্য একমাত্র বিনিময় হচ্ছে আল্লাহর নে‘আমতভরা জান্নাত। শুধু তাই নয় সে এমন অবস্থায় তার বাসা বাড়িতে ফিরে যাবে যেমন সদ্য ভুমিষ্ট শিশু নিষ্পাপ হয়ে দুনিয়াতে আসে। শর্ত হচ্ছে হালাল টাকা দিয়ে হজ্জে যাওয়া এবং সকল পাপাচারিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
তিনি আরো বলেনঃ
العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة. (بخاري)
অর্থঃ এক ওমরা থেকে অন্য ওমরা অন্তর্বর্তীকালীন গুনাহের কাফ্ফারা। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত।

কোরবানী
কোরবান শব্দটি কুরবুন শব্দ থেকে উৎকলিত। অর্থাৎ নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ করা। ১০ই যিলহজ্জ বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবান করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্যতা লাভ করতে পারে।
শরীয়তের পরিভাষায় ১০ই যিলহজ্জ ফজর হতে ১৩ই যিলহজ্জ সন্ধা পর্যন্ত নির্ধারিত পশু নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যব্হে করাকে কোরবানী বলে। এর আরেকটি নাম হচ্ছে ‘ঈদুল আদ্হা’।

কোরবানীর ইতিহাস
পবিত্র কুরআন, হাদীস ও ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, পৃথিবীতে এমন কোন জাতি ছিল না যারা স্বীয় মাযহাব অনুসারে কুরবানী করত না। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ولكل أمة جعلنا منسكا ليذكروا اسم على ما رزقهم من بهيمة الأنعام. (الحج-৩৪)
“ আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবিকা স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দান করেছেন, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে”। (হজ্জ-৩৪)
কোরবানীর এ ধারা আদি পিতা আদম (আ) থেকেই শুরু হয়। আদম (আ) এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিবাহ নিয়ে দ্ব›দ্ধ দেখা দিলে আদম (আ) তাদেরকে এখলাসের সাথে কোরবানী করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা হাবিলের কোরবানী কবুল করলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
واتل عليهم نبأ ابني أدم بالحق إذ قربا قربانا فتقبل من أحدهما و لم يتفبل من الأخر قال لأقتلنك قال إنما يتقبل الله من المتقين. (المائدة: ৯)
অর্থঃ হে রাসূল! আপনি আদমের পুত্রদ্বয়ের ঘটনা যথাযথরূপে তাদের শুনিয়ে দিন। যখন তারা উভয়ে নৈকট্য লাভের জন্য কোরবানী করেছিল। অতঃপর তাদের একজনের কোরবানী কবুল করা হল এবং অপর জনের কোরবানী কবুল করা হল না। সে বলল, আমি তোমাকে হত্যা করব। তখন প্রথম জন বলল, আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকীদের আমলই কবুল করে থাকেন। (মায়েদাঃ ৯)
আমরা যে কোরবানী করি তা হচ্ছে ইব্রাহীম (আ) এর সুন্নাত। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ঘটনা আল্লাহ তা‘আরা পবিত্র কুরআনে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ
فلما بلغ معه السعي قال يا بني إني أرى في المنام أني أذبحك فانظر ماذا ترى قال يا أبت افعل ما تؤمر ستجدني إن شاء الله من الصابرين فلما أسلما و تله للجبين و ناديناه أن يا إبراهيم قد صدقت الرؤيا إنا كذلك نجزي المحسنين إن هذا لهو البلاء المبين و فديناه بذبح عظيم. ( الصف: ১০২-১০৭)
অর্থঃ অতঃপর পুত্র (ইসমাঈল) যখন এমন বয়সে উপনীত হল যে, পিতার সাথে চলাফেরা করতে পারে। তখন ইব্রাহীম (আ) পুত্রকে বললেন বৎস! স্বপ্নে দেখলাম আমি তোমাকে আল্লাহর নামে যবেহ করছি। এখন তোমার কী অভিমত? পুত্র বলল, পিতা! যে বিষয়ে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করুন। আল্লাহ চাহে তো আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। অতঃপর যখন তারা উভয়ে সম্মত হয়ে আত্মসমর্পন করলেন এবং পুত্রকে উপুড় করে শোয়ালেন। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছ। নিঃসন্দেহে আমি নেককারদিগকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা এক প্রকাশ্য পরীক্ষা। আর আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানীর বিনিময়ে।

কোরবানীর উদ্দেশ্য
কোরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। তাই আল্লাহ তা‘আলার বিধান তাঁর নির্দেশিত পথে ও পদ্ধতি পালন করতে হবে। তিনি বলেনঃ
وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون. (الذاريات-৫৬)
“ আমি জ্বিন ও মানুষকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা শুধু আমারই ইবাদত করবে। (যারিয়াত-৫৬)

যাদের উপর কোরবানী ওয়াজিব
এ উম্মতের প্রত্যেক স্বাধীন, মুকীম (যারা মুসাফির নয়) এবং কোরবানীর দিন যে মুসলিমের নিকট সাদকায়ে ফিতরের নিসাব পরিমাণ সম্পদ (কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার বর্তমান বাজার মূল্য) সঞ্চিত থাকে। তার উপর কোরবানী করা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃفصل لربك و انحر
অর্থঃ আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করুন ও কোরবানী করুন। রাসূল বলেনঃ
من وجد سعة و لم يضح فلا يقربن مصلانا. (ابن ماجة)
অর্থঃ সামর্থ থাকতে যারা কোরবানী করে না তারা যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (ইবনে মাজা)
আবু আইয়ুব আনসারী (রা) বলেনঃ
كان الرجل في عهد رسول الله صلى الله عليه و سلم يضحى بالشاة عنه و عن أهل بيته.(ترمذي)
অর্থঃ রাসূল এর যুগে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে ও পরিবারের পক্ষ থেকে খাসি কোরবানী করতেন।
এ সর্ম্পকে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
و البدن جعلناها لكم من شعائر الله لكم فيها خير. (الحج: ৩৬)
অর্থঃ কোরবানীর যন্তুকে আমি তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে।

কোরবানীর ফযিলত
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানী করার কতিপয় ফযিলত নি¤েœ পেশ করা হল।
১.কোরবানী দ্বারা রাসূল নির্দেশের প্রতিফলন ঘটেঃ তিনি তাঁর উম্মতদেরকে এ মর্মে নিদেশ দিচ্ছেন যে,
يأيها الناس على كل أهل بيت في كل عام أضحية. (ابن ماجة- وهذا حديث حسن)
“ লোক সকল! প্রত্যেক (মুসলিম) পরিবারের উপর কোরবানী দেয়া অররিহার্য। (ইবন্ মাজাহ, হাদীসটি হাসান)
২. ইবরাহীম (আ) এর একটি সুন্নাতের বাস্তবায়ন ঘটে।
৩. কোরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
لن ينال الله لحومها ولا دماءها ولـكن يناله التقوى منكم كذلك سخرها لكم لتكبروا الله على ما هداكم وبشر المحسين. (الحج- ৩৭)
“আল্লাহর নিকট পোঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত। বরং পোঁছায় তোমাদের তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি”। এমনিভাবে আমি এ পশুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে করে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা প্রকাশ করতে পার। এ জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং আপনি সৎকর্ম সম্পাদণকারীগণকে সুসংবাদ দিন।
৩. কোরবানী আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম নিদর্শনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
والبدن جعلناها لكم من شعائر الله لكم فيها خير فاذكروا الله عليها صوافَّ فإذا وجبت جنوبها فكلوا منها وأطعمواالقانع والمعترَّ كذلك سخَّرناها لكم لعلكم تشكرون. (الحج-৩৬)
“ কোরবানীর উটসমূহকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। তোমাদের জন্য এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় এগুলোর উপর আল্লাহর নাম স্ম^রণ কর। যখন তা কাত হয়ে পড়ে যাবে তখন তোমরা সেগুলো হতে খাও। আর আহার করাও ধৈর্য্যশীল, অভাবী, ভিক্ষাকারী ও অভাবগ্রস্তদেরকে। এভাবে আমি এ পশুগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পার”। (হজ্জ-৩৬)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানীর দিন পশুর রক্ত প্রবাহিত করা হচ্ছে সব চেয়ে ফযিলতপূর্ণ আমল। এ দিনে অপরিসীম তাৎপর্য ও মর্যাদা রাসূল অনেক হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ
ما عمل ابن أدم يوم النحر أحب إلى الله من إهراق الدم و إنه ليأتي يوم القيامة بقرونها و أشعارها و أظلافها و إن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع بالأرض فطيبوا بها نفسا. (ترمذي و ابن ماجة)
অর্থঃ কোরবানীর দিনে আদম সন্তানের কোন নেককাজই আল্লাহ তা‘আলার নিকটে এত প্রিয় নয়, যত প্রিয় (কোরবানীর পশুর) রক্ত প্রবাহিত করা। কোরবানীর পশুর শিং, পশম ও খুরসহ কোরবানী দাতার নেকীর পাল্লায় তা উঠানো হবে। কোরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দ চিত্তে কোরবানী কর। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
আরো বর্ণিত আছে, সাহাবায়ে কেরাম রাসূল এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, কোরবানী করার হেতু কি? তিনি বললেনঃ এটা তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আ) এর সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম আবার প্রশ্ন করলেন, হে, আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের কী সাওয়াব হবে? তিনি বললেনঃ পশুর প্রত্যেক চুল বা পশমের বিনিময়ে সাওয়াব দেয়া হবে। তারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে কি সাওয়াব পাওয়া যাবে? তিনি উত্তরে বললেন, বকরীর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে সাওয়াব পাওয়া যাবে। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)

কোরবানীর হেকমত
আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরবানী করার মধ্যে অনেক হিকমত নিহিত আছে। যা সম্পূর্ণ রূপে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই জানেন। আমাদের ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ জ্ঞান তার সামান্য কিছু উপলব্ধি করতে পারে। তন্মধ্য হতে কিছু নিম্নে তুলে ধরা হলঃ-
১. কোরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। কেননা প্রিয় সম্পদ আল্লাহর জন্য কোরবান করা এটা কেবনমাত্র যারা আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়পাত্র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তাদের পক্ষেই সম্ভব।
২. কোরবানীর মাধ্যমে ইব্রাহিম (আ) এর সুন্নাতকে জিন্দা করা হয়। কেননা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীপ্রাপ্ত হয়ে স্বীয় পুত্র ইসমাইল (আ) কে কোরবানী করতে চেয়েছিলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা দুম্বা পাঠালে সন্তানের বদলে তা যবেহ করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
وفدينه بذبح عظيم. (الصفات : ১০৭)
অর্থঃ আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানীর বিনিময়ে। (আ-সাফ্ফাত: ১০৭)
৩. কোরবানীর দিনে আত্মীয়-স্বজন ও নিজেদের মাঝে অধিক খরচ করা হয় এবং ফকির ও মিসকীনদের প্রতি আল্লাহর রহমত ব্যপকভাবে বর্ষিত হয়।
৪. চতুষ্পদ জন্তুকে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। কোরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হয়। এ প্রসংগে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
فكلوا منها وأطعموا القانع والمعتر كذلك سخرناها لكم لعلكم تشكرون. لن ينال الله لحومها ولا دماءها ولكن يناله التقوى منكم كذلك سخرها لكم لتكبروا الله على ما هداكم وبشر المحسنين. (الحج: ৩৬-৩৭)
অর্থঃ তোমরা তা হতে নিজেরা আহার কর এবং ভিক্ষুক অভিক্ষুক সকল অভাবগ্রস্তদেরকে আহার করাও।
এমনিভাবে আমি ওগুলোকে (কোরবানীর পশুকে) তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। আল্লাহর নিকট কোরবানীকৃত জন্তুর গোস্ত ও রক্ত কিছূই পৌঁছে না, বরং তাঁর নিকট পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া ও অন্তরের আল্লাহ ভীতি। এমনিভাবে এগুলোকে তিনি তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ব ঘোষণা কর। এ কারণে যে তিনি তোমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। (হজ্জ : ৩৬-৩৭)

কোরবানীর পশু ও যবাহ
কোরবানীর পশু কেমন হবে তা যবাহ এর পদ্ধতি কেমন হবে এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আনাস (রা) রাসূলুল্লাহ কোরবানী করার পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين أقرنين ذبحهما بيده وسمى وكبر قال رأيته واضعا قدمه على سفاحهما فيقول : بسم الله والله أكبر . (بخاري ومسلم)
অর্থঃ রাসূলুল্লাহ ধুসর বর্ণের শিং ওয়ালা দু‘টি দুম্বা কোরবানী করেছেন। তিনি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে তা যবাহ করেন। তিনি (আনাস রা.) বলেন, আমি রাসূল কে এর পাজরের উপর পা রেখে তা যবেহ করতে দেখেছি। (বুখারী ও মুসলিম)

কোরবানীর মাসায়েল
প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবান করা এটাই হচ্ছে তাঁর মহব্বত ও ভালোবাসা। কোরবানী করার জন্য পশু যেমন নির্ধারিত তেমনি পশু হতে হবে সকল প্রকারের ত্রুটিমুক্ত ও মোটাতাজা। হাদীসে এসেছে-
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل ماذا يتقى من الضحايا فأشار بيده قال : أربعا العرجاء البين ضلعها، العوراء البين عورها والمريضة البين مرضها والعجفاء التي لا تنقي . ( أحمد وترمذي)
অর্থঃ রাসূলুল্লাহ এর খেদমতে আরজ করা হল কোরবানীতে কি ধরণের পশু পরিহার করা উচিত? উত্তরে রাসূল হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন: তোমরা চার ধরণের পশু (কোরবানী করা) পরিহার করবে।
ক. এমন পশু যার খোড়ামী স্পষ্ট, খ. যার অন্ধত্ব প্রকাশ্য, গ. যার রোগাক্রান্ত হওয়া সুস্পষ্ট ও ঘ. যা শক্তিহীন হয়ে গেছে। যাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
أن النبي صلى الله عليه و سلم قال البقر عن سبعة و الجزور عن سبعة . (مسلم)
অর্থঃ রাসূল বলেনঃ গরু এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে কোরবানী করা যাবে। (মুসলিম)
কোরবানীর ব্যাপারে গরু, উট ও মহিষে এক হতে সাত জন পর্যন্ত অংশিদার হওয়া যাবে। আর দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া অবশ্যই এক জনের পক্ষ থেকে কোরবানী করতে হবে। কোরবানীর জন্য উট পাঁচ বছর বয়সের, গরু দুই বছর বয়সের এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর বয়সের হতে হবে। এর কম বয়সের হলে কোরবানী হবে না। কোরবানীর পশু মোটা-তাজা ও স্বাস্থ্যবান হতে হবে। অঙ্গহীন ও দুর্বল পশু যার পক্ষে চলাফেরা করা মুশকিল, তা দিয়ে কোরবানী করা যাবে না। ঈদের সালাতের পর কোরবানী করতে হবে। সালাতের আগে কোরবানী করলে তা শুদ্ধ হবে না। রাসূল বলেনঃ
من ذبح قبل الصلاة فإنما يذبح لنفسه و من ذبح بعد الصلاة فقد تم نسكه و أصاب سنة المسلمين.(بخاري)
অর্থঃ যে ব্যক্তি (ঈদের) সালাতের পূর্বে (কোরবানীর পশু) যবাহ করল, সে তা নিজের জন্যই যবাহ করল। আর যে সালাতের পর যবাহ করল ও তার কোরবানী শুদ্ধ হল ও মুসলিমদের নিয়মানুযায়ী হল। (বুখারী)
কোরবানীর গোস্ত তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ নিজের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ ফকীর-মিসকিনদের জন্য ও তৃতীয় ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য। এ মর্মে রাসূল বলেন,
كلوا و ادخروا و تصدقوا. (بخاري و مسلم)
অর্থঃ তোমরা কোরবানীর গোস্ত খাও, জমা করে রাখ ও দান করে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)

ঈদুল আয্হা
ঈদুল আয্হাকেই আমাদের দেশীয় পরিভাষায় কোরবানীর ঈদ বলে। এর মেয়াদকাল হচ্ছে-১০শে জিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত। এ দিনে আমাদের অনেক কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে যা নি¤œরূপঃ
ঈদুল আয্হার দিনে করনীয় আমলসমূহ
১. গোসল করা, সাধ্যমত উত্তম পোষাক পরিধান করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা।
২. সাধ্যানুযায়ী ভাল খাবারের আয়োজন করা। কিন্তু ঈদুল ফিতরের দিনে নামাযে যাওয়ার পূর্বে খেজুর খাওয়া সুন্নাত, আর ঈদুল আযহার দিনে নামাযের পর কোরবানীর গোস্ত দ্বারা সর্ব প্রথম আহার করা সুন্নাত।
৩. ঈদগাহে যাতায়েতের রাস্তায় উচ্চ স্বরে তাকবীর বলা।
৪. ঈদের সালাত আদায় করা।
৫. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা। রাসূল ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় কালে বলতেন تقبل الله منا ومنك (তাকাব্বালাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকা) অর্থঃ আল্লাহ তা‘আলা আপনার ও আমার সকল আমল কবুল করুন।
৬. আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা ও তাদের খোজ-খবর নেয়া।

এ দিনে বর্জনীয় আমলসমূহ
১. ঈদ পালনে বিজাতীয় রীতিনীতি অবলম্বন করা ও বিজাতীদের পোষাক পরিধান করা।
২. পুরুষেরা নারীদের ও নারীরা পুরুষদের পোষাক পরিধান করা ও সাজ সজ্জা করা।
৩. আত্মীয়-স্বজনদেরকে ত্যাগ করা ও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
৪. সাজ-সজ্জা পুরুষদের আকর্ষণ করার মত পোষাক পরে নারীদের বাইরে বিচরণ করা।
৫. পুরুষেরা নারীদের মাঝে অবাধ বিচরণ করা।
৬. গান, বাদ্য, নৃত্য, ব্যান্ড শো ও কনসার্ট ইত্যাদির আয়োজন করা।
৭. ঈদের দিনে অন্যের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা।
৮. নারী পুরুষ কর মর্দন বা হ্যান্ড শেক করা।
৯. শরীয়তের হারামকৃত বিষয়াবলীকে হালকা ভাবে দেখা।

তাকবীরে তাশরীকের আহকাম
জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয সালাতের পর একবার উচ্চ স্বরে তাকবীর বলা ওয়াজিব। নারীদের আস্তে বলা ওয়াজিব।
তাকবীর হচ্ছেঃ الله أكبر الله أكبر لاإله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.
)আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লহিল হাম্দ)
চলা-ফেরা, উঠা-বসা, খাবার-দাবার সহ সর্ববস্থায় উচ্চ আওয়াজে তাকবীর বলা চাই। ইবনে উমর (রা) এ সময়ে বাজারে অলি গলিতে উচ্চ স্বরে তাকবীর বলতেন। তার তাকবীর শুনে বাজারের লোকেরাও তাকবীর বলত।
পরিশেষে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিনীতভাবে তাওফিক কামনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে উপরোক্ত আলোচনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সারা জীবন এ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। আমীন!

اللجنة العلمية لمؤسسة الفرقان الخيرية، بنغلاديش
গবেষণা পরিষদ, আল-ফোরকান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

 

{copy- noor BD}

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply