হযরত মাওলানা জমিরুদ্দীন সাহেব (রহঃ)

জন্ম ও বাল্যকাল :

হযরত মাওলানা জমিরুদ্দীন (রহঃ) ১৮৭৮ ইং সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নুরুদ্দীন সাহেব একজন পরহেযগার এবং ধর্মভীরু লোক ছিলেন। এজন্য লোকে তাকে নুরুদ্দীন অলী বলে ডাকত। হযরত মাওলানা জমীরুদ্দীন তার পিতার তৃতীয় সন্তান, তাঁর ভাইদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি সংসারের কাজ সমাধা করতে পারেন। এই অবস্থায় তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। আর্থিক অবস্থা পূর্ব থেকেই শোচনীয় ছিল, যার কারণে তার পিতার মৃত্যুতে তিনি পৃথিবীকে অন্ধকার দেখতে লাগলেন। তাঁর বড় ভাই পিতার জীবদ্দশায় মোহছেনীয়া মাদ্রাসায় (এখন সরকারী মোহসীন কলেজ) লেখাপড়া করছিলেন। হযরত মাওলানা কেবল মাত্র কেবল মাত্র কোরআন শরীফ পড়ছিলেন এবংকিছু লেখাপড়া জানতেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ভাবতে লাগলেন বড় ভাইদের পড়ার খরচ এবং সাংসারিক খরচ কিভাবে চলবে। নিজেও তেমন লেখাপড়া শিক্ষা করেন নাই। ভাবনার পর তিনি স্থির করলেন যে, রেঙ্গুনে যাবেন। কেননা সে সময় বাঙালী মাত্রেরই ধারণা ছিল যে, রেঙ্গুনে গেলে কোন একটা চাকরী মিলবেই। আল্লাহ পাকের নাম নিয়ে তিনি রেঙ্গুনে পৌঁছুলেন এবং একটা কারখানায় চাকরী পেলেন। জীবন ধারণের সামান্য একটা উপায় হয়ে গেল। চাকরীর আয় হতে বড় ভাই সামীউদ্দীনের পড়ার খরচ চালাতে লাগলেন। তাঁর বিদেশ গমনের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, বড় ভাইকে শিক্ষিত করতে পারলে তাঁর দ্বারা বাড়ি ঘরের দেখাশুনা চলবে। তখন হয়ত তিনি নিজের লেখাপড়া শিখবার সুযোগ পাবেন। রেঙ্গুন গিয়ে কারখানায় চাকরী করার সময় তিনি যে অবসর পেতেন, তা অনর্থক অতিবাহিত করতেন না। কারখানা হতে এসে এক মসজিদের ইমাম সাহেবের নিকট “রাহে-নাজাত” কিতাবটি পড়তেন।
ইত্যবসরে তাঁর বড় ভাই মাদ্রাসা পড়া ছেড়ে হঠাৎ রেঙ্গুনে এসে পৌঁছলেন। একদিকে আব্বার মৃত্যুজনিত শোক, অন্যদিকে সাংসারিক দুরাবস্থা, তারপর বড় ভাইয়ের লেখাপড়া ছেড়ে রেঙ্গুনে উপস্থিত হওয়া, এই সমস্ত চিন্তা-ভাবনায় তার মন ভেঙ্গে গেল। তবুও তিনি হাল ছাড়লেন না। আল্লাহর উপর নির্ভর করে সব সহ্য করে নিলেন। ইতিমধ্যে আল্লাহপাক তাঁকে নানা প্রকার সুস্বপ্ন দেখাতে আরম্ভ করলেন। এই সমস্ত স্বপ্নের তাবীর এমন ছিল যে, আল্লাহপাক তাকে ইলমে যাহেরী ও ইলমে বাতেনী দান করবেন। এই সমস্ত স্বপ্ন তার ভবিষ্যৎ জীবনের অগ্রদূত বলা যেতে পারে। এখানে মাত্র কয়েকটি স্বপ্নের বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে যাতে পাঠক বুঝতে পারেন যে, এক যুবক যিনি জীবনের প্রারম্ভে সামান্য একটা চাকরী শুরু করেন, ভবিষ্যতে তিনি কিভাবে শায়খুল মাশায়েখে পরিণত হন এবং হাজার হাজার লোক তাঁর নিকট হতে ফয়েজ হাসিল করার সুযোগ পান।

প্রথম স্বপ্ন :

একদা তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি কোথাও যাচ্ছেন। কিছুদুর যাওয়ার পর সামনে একটা নদী পড়ল। নদী পার হওয়ার কোন উপায় ছিল না। হঠাৎ অন্য পারে দৃষ্টিপাত করে দেখেন যে, জনৈক ব্যক্তি একটি ছোট নৌকা নিয়ে আসে। বহু সম্মানের সাথে তাঁকে নৌকায় আরোহন করন। এই সংকটময় মুহুর্তে নৌকার মালিকের সদয় ব্যবহারে তাঁর মনে এক ভাবনার উপস্থিত হয়। নৌকা চালকের আকৃতি প্রকৃতিতে তাঁকে একজন বুজুর্গ মনে হচ্ছিল। পরপারে পৌঁছে তিনি তাঁকে পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি আমি আবু হানিফা (রহঃ)।
দ্বিতীয় স্বপ্ন: একদা স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি কয়েকজন বুযুর্গের সহিত বসে আছেন। তাদের নিকটেই তারগাছের মত একটি সোজা গাছ রয়েছে। একে একে সকলেই সেই গাছে উঠছেন। বহু চেষ্ট করেও সেই গাছে পৌঁছুতে পারছেনা। তারপর তিনি উঠতে চেষ্টা করলেন এবং চোখের পলকে গাছের মাথায় পৌঁছে গেলেন। তাঁর সফলতা দেখে সবাই অবাক হলেন। বুযুর্গদের মধ্যে একজন বললেন, তুমি কি জান এটা কিসের গাছ? এটা বেলায়তের গাছ। সাধানুযায়ী সকলেই নিজ নিজ স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিন্তু তুমি গাছের অগ্রভাগে উঠেছ। তাৎপর্য এই যে, তুমি মারেফতের সমস্ত মনজিল অতিক্রম করে বেলায়তের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করবে।
উপরে বর্ণিত স্বপ্নদ্বয় ব্যতিত এরূপ আরো স্বপ্ন দেখেন, যা দ্বারা তাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়। এই সমস্ত স্বপ্নের বিবরণ তিনি তাঁর উস্তাজ, মসজিদের ইমাম সাহেবের নিকট পেশ করেন। ইমাম সাহেব তার স্বীয় ছাত্রের সচ্চরিত্র ও সদগুণের বিষয় পুরোপুরি জানতেন। উপরিউক্ত স্বপ্নদ্বয়ের বিবরণ শুনে বুঝতে পারলেন যে, তাঁর ছাত্রের আত্মার পরিশুদ্ধির সময় হয়েছে। তাই তাকে এইরূপ স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। একদিন তিনি তাঁকে ডেকে বললেন, ইমাম আযম আবু হানিফা (রহঃ) কে স্বপ্নে সদয় ব্যবহার করতে দেখার তাবীর এই যে, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে উলুমে যাহেরী ও উলুমে বাতেনীতে পরিপূর্ণ করবেন। তোমাকে কোন বড় কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। উহা সম্পাদনের জন্য স্বপ্নের মাধ্যমে তোমাকে সুসংবাদ দিয়ে জাগ্রত করা হচ্ছে। এখন আর দেরী করা উচিত নয়। হিন্দুস্থানের গঙ্গুহ নগরে বর্তমান জামানার কুতুবে আলম হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী (রহঃ) রয়েছেন। তুমি তাঁর নিকট যাও। সেখানে তোমার জাহেরী এবং বতেনী এলম হাসিল হবে। মেহেরবান উস্তাজের নিকট এ কথা শুনে তাঁর মনের অশান্তি দূর হল। গঙ্গুহ যাবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। কিন্তু আত্মীয় স্বজন ও বড় ভাই তাকে বাধা দিলেন। তিনি কারো নিষেধ শুনলেন না। রেঙ্গুন হতে সোজা হিন্দুস্থানে রওয়ানা হলেন।

গঙ্গুহ যাত্রা :

বার্মা প্রবসী যুবক স্বীয় অন্তরে দ্বীনি এলম শেখার এবং রূহানী ফয়েজ হাছিলের প্রবল আকাংখা নিয়ে বহু কষ্টে গঙ্গুহ গিয়ে উপস্থিত হন। তখন গঙ্গুহ (রহঃ) হাদীস তাফসীর শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং যারা বায়’আত হবার ইচ্ছা করতেন তাদেরকে তালীম তালকীন দিতেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে মাওলানা গাঙ্গুহ (রহঃ) এর কাছে বায়আত হবার দরখাস্ত করেন। হযরত উত্তরে বলেন, বৎস! প্রথমে দ্বীনি এলম শিক্ষা করে যাহেরী অবস্থা ঠিক করে নাও। তারপর আমার নিকট এসো। শরীয়তের জ্ঞান ব্যতীত তরীকতের মঞ্জিল অতিক্রম করা সহজ নয়। এই সংকটময় মুহুর্তে এরকম উত্তর শুনে তিনি ধৈর্য হারা হলেন না।

গঙ্গহ হতে দেওবন্দ :

দ্বীনি এলম শিক্ষার জন্য তিনি দেওবন্দ গিয়ে পৌঁছেন। চট্টগ্রামবাসী মৌলানা হফেজ এফাজ উদ্দীন নামক এক ছাত্রের সহিত তাঁর প্রথম দেখা হয়। কথা প্রসঙ্গে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি সম্বল নিয়ে দেওবন্দ এসেছেন? এখানে প্রাথমিক ছাত্রদেরকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে খানা দেওয়া হয় না। নিজ খরচে খেতে হয়। আপনার অবস্থা দেখে মনে হয় আপনি খালি হাতে এখানে এসেছেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি কিছু নিয়ে আসিনি তবে নিতে এসেছি। আর আমার জীবন ধারণের জন্য মুলছরী কুয়ার পানিই যথেষ্ট।
পাঠক ভেবে দেখুন আল্লাহ পাকের উপর হযরত মাওলানার কি ভরসা। আর দ্বীনি এলম শিক্ষা করার কি প্রবল আকাংক্ষা। আল্লাহ তায়ালা এই নবাগত যুবকের দৃঢ়চিত্ততা এবং মনোবল দেখে গায়বী মদদ দ্বারা তাঁর থাকবার ব্যবস্থা করে দিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা হযরত আহমদ (রহঃ) নবাগত ছাত্রের খাওয়ার ভার গ্রহণ করলেন। মাদ্রাসার নিয়ম এই ছিল যে, প্রাথমিক ছাত্রদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এ জন্য হযরত মাওলানা এর স্বদেশবাসী মাওলানা হাফেজ এফাজ উদ্দীন সাহেবের নিকট প্রাথমিক কিতাবাদি পড়তে আরম্ভ করেন। ভবিষ্যৎ জীবনে যিনি একজন বিজ্ঞ আলেম এবং অলিয়ে কামেল হবেন, এইভাবে তাঁর পাঠ্য জীবন শুরু হল। কাফিয়া ও কানজ শেষ করার পর তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়তে শুরু করেন। ছয় বৎসরে মাদ্রাসার পড়তে শেষ করেন। পড়াবস্থায় মাদ্রাসার বাইরে হযরত মাওলানা মুফতী আজিজুর রহমান (রহঃ) সাহেবের নিকট ফেকাহ অধ্যায়ন করতেন। হযরত মুফতী সাহেব অতি যতেœর সাথে তাঁকে ফিকহ শিক্ষা দিতেন। দারুল উলুম দেওবন্দ হতে ফারেগ হয়ে তিনি পুুনরায় মাওলানা গঙ্গুহী এর দরবারে উপস্থিত হন। সেখানে পৌছে তিনি গঙ্গুহীর নিকটও ফেকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এজন্য তিনি ফিকাহ শাস্ত্রে বিশেষ অভিজ্ঞ ছিলেন।

বাইয়াত ও খেলাফত :

এবার গঙ্গুহ পৌঁছে তিনি হযরত গঙ্গুহ (রহঃ) এর নিকট বাইয়াত হওয়ার জন্য আরজ করেন। হযরত তাকে বায়আত করালেন এবং জিকির আজকার বলে দিলেন। প্রায় তিন বছর যাবত পীরের খেদমতে থেকে আধ্যাতিক তত্ব হাছেল করতঃ মারেফাতের উচ্চস্তরে উঠতে থাকেন। কামেল মুর্শিদ মুরীদের কার্যকালাপ দেখে বুঝতে পারলেন যে,প্রকৃত মুরীদের এবং প্রকৃত সৎ পথ অন্বেষণকারীর যে সমস্ত গুনাবলী থাকা প্রয়োজন তার সমস্ত গুনাবলী এই মুরীদের মাঝে বিদ্যমান আছে। ধীরে ধীরে ঐ মুহুর্ত ঘনিয়ে আসল যার সুসংবাদ সুদূর রেঙ্গুনে দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর খাচ রহমত তার উপর বর্ষিত হল। গাঙ্গুহী (রহঃ) তাকে চার তরিকার খেলাফত দান করলেন। বিবাহ : বাড়ির আর্থিক অবস্থা চিন্তা করেই তিনি গঙ্গুহ থেকে বিদায় নেবার সময় হযরত গাঙ্গুহী (রহঃ) এর কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন যে, তিনি চিরকাল অবিবাহিত থাকবেন। কিন্তু হযরত গাঙ্গুহী (রহঃ) বললেন যে বিবাহ করা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি বড় সুন্নাত। ইহা ত্যাগ করা উচিত নয়। তারপর তিনি এ বিষয়ে আল্লাহ পাকের কাছে সোপর্দ করেন। বাড়িতে উপস্থিত হবার পর ফটিকছড়ি থানার প্রসিদ্ধ আলেম সুফি মাওলানা আজিজুর রহমান সাহেব স্বীয় ভাতিজীকে হযরতের নিকট বিবাহ দেন। বোধ হয় এ ছিল হযরত গাঙ্গুহী (রহঃ) এর দু’আর ফল।

মৃত্যু শয্যায় :

হযরত মাওলানা মুফতি আজিজুল হক (রহঃ) বলেন মৃত্যুর দুই এক মাস পূর্বে হযরত বলতেন, আমার বয়স তো রাসুল (সাঃ) এর সমান হয়েছে। এখন আর দুনিয়াতে থেকে কি করব। পৃথিবীর পিট অপেক্ষা পৃথিবীর পেট উত্তম। যদি তা না হত তবে আল্লাহ পাক কেন তার হাবীবকে মাটির ভেতর স্থান দিয়েছেন। এইরূপ কথাবার্তায় মনে হত যে তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। অধিকাংশ বুযুর্গানে দ্বীন তাঁদের ইহধাম ত্যাগ করে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
ইন্তেকালের কয়েকদিন পূর্বে তিনি বাড়ীর জন্য জরুরী জিনিসপত্র বেশী করে ক্রয় করেছিলেন। জমাদিউল আওয়ালের এক তারিখ সোমবার ছিল। একখানা অসিয়তনামা লিপিবদ্ধ করেন। এই সমস্ত দেখে হযরতের স্ত্রী হযরতের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন এত বেশী পরিমাণ চাউল কেন কিনেছেন এবং অছিয়তনামাই বা কেন লিখছেন? হযরত উত্তরে বললেন আমি এক জায়গায় বেড়াতে যাব। আমার অবর্তমানে তোমার এবং ছেলেমেয়েদের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য চউল এবং অন্যান্য আবশ্যকীয় জিনিস অতিরিক্ত কিনে রেখেছি। অছিয়তনামা সতর্কতার জন্য লিখেছি সময়মত হয়ত কজে লাগতে পারে।
তারপর বুধবার রাতে হযরত জ্বরে আক্রান্ত হন। তা সত্বেও ফজরের নামাজ জামাতের সহিত মাদ্রাসার মসজিদে আদায় করেন। কিন্তু জ্বর বেশী হওয়ায় জোহরের নামাজে হাজির হতে পরেন নি। তারপর হতে জ্বর বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুক্রবার সকালে হযরত মাওলান হাবিব উল্লাহ সাহেবের আদেশে কাযি ওবায়দুর রহমান সাহেব এবং অন্যান্য সকলে ডাক্তার আনার জন্য তাগাদা করতে লাগলেন। হযরত বলতে লাগলেন, আল্লাহপকের হুকুম হয় নি। আমি ডাক্তার আনতে বলি নি। যদি তোমরা আনতে ইচ্ছা কর তবে আনতে পার। কিন্তু ইহা আমার ইচ্ছা নয়। চট্টগ্রাম থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার আনা হল। সেদিন জুমার নামাজের পর এক খাদেম আমিন উল্লাহ মিয়াজী মসজিদে ঘোষণা দিলেন, হযরত মাওলানার অবস্থা খুব খারাপ আপনারা দু’আ করুন।
এই সংবাদ শুনা মাত্র ছোট বড় সকলেই অস্থির হয়ে গেলেন। নামাজের পর দলে দলে লোক হযরতকে দেখতে গেলেন। বিকাল বেলা ডাক্তার আসলেন। হযরতের শরীর পরিক্ষা করে বললেন, মনের দুর্বলতার দরুন এরকম হয়েছে। ডাক্তার ব্যবস্থা অনুযায়ী ঔষধ দিয়ে গেলেন। রাতে হযরত একটু সুস্থতা অনুভব করলেন। তখন বাড়ির সকলকে ডেকে আনলেন এবং বললেন, তোমাদেরকে আল্লাহপাকের সোপর্দ করে যাচ্ছি। তোমরা আল্লাহ পাকের হুকুমের তাবেদারী করিও। আল্লাহর নাফরমানী করিও না।কোন অবস্থাতে এস্তেকামত ছাড়িও না। হযরত যখন শেষ বাক্য উচ্চারণ করছিলেন তখন বাড়ির সকলে অস্থির হয়ে কাঁদছিলেন। তারপর সারা রাত তিনি শান্তিতে ছিলেন এবং জোরে জোরে জিকির করছিলেন। শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর হযরত কোরআন তেলাওয়াত করলেন। তারপর বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে ডেকে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দু’আ করলেন এবং তাদেরকে আদর দিয়ে বিদায় দেন। চট্টগ্রাম থেকে অনেক বন্ধু এবং হযরতের প্রসিদ্ধ খলিফা আজিজুল হক সাহেব হযরতকে দেখতে এসেছিলেন। সকালে হযরত তাদেরকে দেখা করতে অনুমতি দেন। তাদের সাথে তিনি কথাবার্তা বলেন। এই সমস্ত কথাবার্তা শুনে হযরতের শরীর একটু ভাল মনে হচ্ছিল। এজন্য বন্ধু বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজন সকলেই খুশী হয়ে চলে গেলেন। মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছাত্ররা বার বার হুজুরের কাছে হাজির হয়ে খবর নিচ্ছিলেন। বিকাল তিনটার সময় তিনি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন এত লোকের ভীড় হয়েছিল যে, সেখানে পা রাখার স্থান ছিল না। হযরত শায়খুল মাশায়েখ, মুহাদ্দিস সাহেবের দিকে দৃষ্টিপাত করে কি যেন বললেন। তা শুনে মুহাদ্দিস সাহেব আল্লাহ আল্লাহ শব্দ করে উঠলেন। হযরত শেখও আল্লাহ আল্লাহ উচ্চরণ করে চিরতরে বিদায় নিলেন। ইংরেজী ১৯৪০ সালের ৬ই জুলাই রোজ শনিবার বিকাল ৪টার সময় তিনি বিদায় নিয়ে আল্লাহপাকের সান্নিধ্যে চলে গেলেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর।

হযরতের খলিফাদের কয়েকজন :
১ হযরত মাওলানা মুফতী আজিজুল হক (রহঃ) (পটিয়া)
২ হযরত মাওলানা আলহাজ্ব মুহাম্মাদ ইউনুছ সাহেব (রহঃ) (পটিয়া)
৩ হযরত মাওলানা আব্দুল কাইউম সাহেব (হাটহাজারী)
৪ হযরত মাওলানা ক্বারী ইব্রহিম সাহেব (চাঁদপুর, কুমিল্লা)
৫ হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সাহেব (হাটহাজারী)

প্রিয় পাঠক! আপনারা যদি হযরত মাওলানা জমির উদ্দীন (রহঃ) এর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে “ইব্তিকার ফউন্ডেশন বাংলাদেশ” কর্তৃক প্রকাশিত কুত্বে যমান আল্লামা শাহ্ জমীরুদ্দীন রহ. বইটি পড়তে পারেন। বইটি লিখেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ। বইটি প্রকাশিত হয়েছে রমজান,১৪৩১ হিজরী, মোতাবেক আগস্ট ২০১০ ঈসায়ী । বইটির দু’আ ও অভিমত দিয়েছেন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান পরিচালক, জনাব মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারী দা.বা.,পরিচিতি ও পর্যালোচনা লিখেছেন, জামিয়া হাটহাজারীর স্বনামধন্য মুহাদ্দিস, জনাব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী দা.বা. এবং ভূমিকা লিখেছেন ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন দা.বা.।

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

One thought on “হযরত মাওলানা জমিরুদ্দীন সাহেব (রহঃ)

Leave a Reply