মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ২য় খন্ড

মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ১ম খন্ড

 

মুজাহিদ বেশে মাওলানা নানুতুবী (রহঃ) :-

মাওলানা নানুতুবী (রহঃ) এর জীবনটাই ছিল অসাধারণ জীবন। তাঁকে খাঁটি একজন মুজাহিদ বলা যায়। তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাই জীবনের এক পর্যায়ে তিনি বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তরবারী নিয়ে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। যুদ্ধের ব্যাপারে পুঁতিগত বিদ্যা না থাকলেও রণাঙ্গনে তাঁর হাতিয়ার চালনা এবং বন্দুক ব্যবহারের দক্ষতা প্রমানকরে যে, তিনি যেন সেনাবাহিনীর যোগ্য কমান্ডার । এ প্রসঙ্গে

মাওলানা ইয়াকুব সাহেব (রহঃ) লিখেছেন :-

তখন (১৮৫৭ সালে) অস্ত্র ছাড়া পথ চলা কঠিন ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা রাইফেল চালনা শিক্ষা করতাম। একদিনের ঘটনা, আমরা রাইফেল চালনা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম। মাওলানা নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, দেখি তোমরা কিভাবে রাইফেল চালাও। একজন একটা ফায়ার করে লক্ষ্যস্থলে নিশানা করার নিয়ম শিখিয়ে দেয়। তিনি রাইফেল হাতে নিয়ে ফায়ার করলে গুলি ঠিক লক্ষ্যস্থলে গিয়ে আঘাত হানে। তাঁকে দ্বিতীয় বারের জন্য আর এর চর্চা করতে হয়নি। যুদ্ধ বিদ্যার এদক্ষতার কারণেও বৃটিশ বিরোধী লড়াইয়ে তাঁকে থানাভবন ও শামেলীর রণাঙ্গনের সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল।
১৮৫৭ সালের বিপ্লবের সময় যখন বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়, তখন তিনি মাত্র তিন দিন লুকিয়ে থেকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসেন। কারণ, তিন দিনের বেশী আত্মগোপন করা সুন্নত পরিপন্থি। একবার তিনি অনুসন্ধানকারী সিপাহীদের সামনে পড়ে যান, তারা হযরত নানুতবী (রহঃ) কে চিনত না। তারা তাঁকেই জিজ্ঞেস করলঃ মাওলানা কাসেম সাহেব কোথায় বলতে পারেন? মাওলানা একটু সরে গিয়ে বললেন, এইতো একটু আগেইতো তিনি এখানে ছিলেন। রাজ-সিপাহীদের বোকা বানিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সেবারের মত আত্মরক্ষা করেন।

পাদ্রীদের সঙ্গে বিতর্কে মাওলানা নানুতবী (রহঃ) :-

ইংরেজরা দীর্ঘ দু’শ বছর পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশ শাসন করেছে। সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে তারা এদেশে ব্যবসার নামে এসেছিল। সাথে করে এনেছিল নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা আর বিচ্ছিন্নতার তুফান। তাদের পলিসি এই ছিল যে এদেশের লোকদের মধ্যে পরস্পর দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাধিয়ে রাখ, আর নিজেরা শাসন কর। ভারত উপমহাদেশের লোকদেরকে বিশেষকরে মুসলমানদেরকে নাস্তিক বানাও আর নিজেদের আখের গোছাও। তারা একথা জানত যে, যতদিন পর্যন্ত ভারতের মুসলমানরা মুসলমান হয়ে টিকে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত দুনিয়ার কোন শক্তিই তাঁদের উপর শাসন করতে পারবে না। ফলে তারা দুটি পন্থা আবিস্কার করে নেয়। প্রথমতঃ ইংরেজী শিক্ষার প্রসার। দ্বিতীয়তঃ খৃষ্টধর্ম প্রচারের জন্য পাদ্রীদের মোটা অঙ্কের বেতন দিয়ে ভারত বর্ষে প্রেরণ। ইংরেজি শিক্ষা এদেশের সভ্যতা সংস্কৃতিতে কিরূপ বিষাক্ত প্রভাব বিস্তার করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নাস্তিকতা, চরিত্রহীনতা ও বেহায়াপনা এ শিক্ষার অনিবার্য পরিনতি। আর এসত্য দিবালোকের মত যে জাতি নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষা বর্জন করে বিজাতীয় শিক্ষা-সভ্যতা অবলম্বন করে, তাদের ধংস অনিবার্য।পাদ্রীরা ভারত উপমহাদেশে এসে খৃষ্টবাদের প্রচার শুরু দেয়। এ ধর্মান্তরের সয়লাবে অমুসলিমরাই গা ভাসিয়ে দেয় এবং স্বধর্ম ত্যাগ করে।প্রায় খিৃষ্টান পাদ্রীদের সাথে বিতর্ক হত। ভারতের শাহজাহান পুর জেলার চাঁদপুরে একটি বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ

সংক্ষিপ্ত বিবরণ :-

ঘটনাটি ১২৯৩ হিজরীর। শাহজাহান পুর জেলার একটি গ্রাম চাঁদপুর। মুন্সী পেয়ারে লাল পান্থী ছিলেন গ্রামের তৎকালীন মোড়ল। এক খ্রিষ্টান শিক্ষক সেখানে বাস করত এবং নিজের ধর্ম প্রচার করে বেড়াত। এক পর্যায়ে মুন্সী পেয়ারে লাল বিতর্কের জন্য সকল ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একত্রিত করলেন। খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকেও বড় বড় বেশ কিছু পাদ্রী উপস্থিত ছিল। মুসলমানদের পক্ষ থেকে ছিলেনঃ মাওলানা কসেম নানুতুবী (রহঃ), মাওলানা ফখরুল হাকীম গাঙ্গুহী (রহঃ), শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (রহঃ),মাওলানা হাকীম রহীমুল্লাহ বিজনুরী (রহঃ), মাওলানা আবুল মানসুর দেহলবী (রহঃ), মাওলানা আহমাদ আলী (রহঃ), মাওলানা মীর হায়দার আলী দেহলবী (রহঃ)।
মূলত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় মুসলমান ও িখৃষ্টানদের মধ্যে। আল্লাহর মেহেরবানীতে মুসলমানরা জয়লাভ করেন। এ বিজয়ে মুসলমানদের মধ্যে মাওলানা কাসেম নানুতুবী (রহঃ) এর কৃতিত্বই ছিল সবচেয়ে বেশী। অবশেষে খৃষ্টান পাদ্রীরা ও তার প্রশংসা করতে বাধ্য হয়। পরে একদির সায়্যিদ জহুর উদ্দীন সাহেব জনৈক পাদ্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আচ্ছা তুমি সেদিন কিছু বললেনা কেন? জবাবে সে বলেছিল মৌলবী সাহেব এমন কোন কথাকে বাদ দিয়েছেন যে আমি তা বলব? আমাদের পাদ্রী ন্যালস-ই তো কোন জবাব খুঁজে পাননি। পাদ্রী বলেন কী আর বলব এ ধরনের বহু অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছিল। অনেক মুসলমান আলেমের সঙ্গেও আমি আলাপ করেছি। কিন্তু না এরূপ আলেম কখনো দেখেছি, না এরূপ বক্তৃতা কোনদির শুনেছি। পাদ্রী আরো বলেন বক্তব্য শুনেই যদি ঈমান আনা যেত তাহলে ওই লোকটার বক্তব্য শুনে ঈমান আনতাম। অনেক হিন্দু এমন ও বলত যে, দেবতা যদি একজন থেকে থাকে, তাহলে ঐ মৌলভী কসেম সাহেবই আছেন।

মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ৩য় খন্ড পড়ার অনুরোধ করে ২য় খন্ড এখানে ই সমাপ্ত করছি …….

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

2 thoughts on “মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ২য় খন্ড

Leave a Reply