মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ১ম খন্ড

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আজ থেকে মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) এর জীবনী ধারাবাহিক ভাবে পোস্ট করবো। লেখা গুলো আমি সংগ্রহ করেছি “হেদায়াতুল্লাহ” থেকে।

জন্ম ও বংশ পরিচয় :-

মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) ভারতের সাহারানপুর জেলার নানুতা নামক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্ম তারিখ ১২৪৮ হিজরীর শাবান মাসে কিংবা রমজান মাস। পিতার নাম আসাদ আলী। তাঁর বংশ পরম্পরা মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর (রাঃ) পর্যন্ত গিয়ে মিলিত হয়। পিতা আসাদ আলী তেমন শিক্ষিত ছিলেন না। তবে তিনি ভাল ফারসি জানতেন। তিনি নামাজী ও মুত্তাকী ব্যক্তি ছিলেন। চাল-চলনে একেবারে সাদা-সিধা, সহজ-সরল ছিলেন। মাওলানা নানুতুবী ছিলেন পিতার একমাত্র পুত্র।

শৈশব ও শিক্ষা-দিক্ষা :-

সাধারণত বেশী আদরের সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে মাওলানা ছিলেন সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। শৈশব থেকেই তিনি তীক্ষন মেধাবী, চরিত্রবান, সাহসী, উন্নত মনোবল সম্পন্ন ও বুদ্ধিমান ছিলেন। পাকা পাকা বুদ্ধির কথা বলে তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন। যেহেতু এক সময় তিনি উম্মতের কর্ণধার হবেন, তাই শৈশব হতেই আল্লাহ তায়ালা তার উপর বিষেশ অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করেন। মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব (রহঃ) বলেন মৌলবী কাসেম ছোটবেলায় একবার স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তিনি যেন আল্লাহর কোলে বসে আছেন। তার দাদা এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে বিশেষ এলম দান করবেন। ফলে তুমি বড় ও বিখ্যাত আলেম হবে। দাদার এ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে।
মাওলানা নানুতুবী রহঃ আল্লাহ প্রদত্ত অসীম মেধার অধিকারী ছিলেন। তাই লেখাপড়া ছাড়া খেলাধুলায় ও তিনি বড় পারদর্শী ছিলেন। বড় বড় খেলোয়াড় ও তার কাছে হেরে যেত। নানুতার মক্তবেই তিনি কোরআন পাঠ শিক্ষা করেন। পরে দেওবন্দ গিয়ে মাওলানা মাহতান আলী সহেবের কাছে দীনি শিক্ষা শুরু করেন। এখানে আরবি ও ফারসীর বিভিন্ন কিতাব পড়ে তিনি সাহারান পুর নানার কাছে চলে যান। নানার মৃত্যুর পর সে বছরই নানুতা চলে আসেন। তারপর ১২৫৯ হিজরীর জিলহজ্জ মাসে মাওলানা মামলূক আলী সাহেবের সঙ্গে দিল্লী চলে যান এবং তার কছেই কাফিয়া পড়তে শুরু করেন। মাওলানা ইয়াকুব রহঃ বলেন মৌলবী কসেম সাহেব সবসময় ভাল ছাত্র ছিলেন। দিল্লীতে পড়ার সময় একবার আমার বাড়ীর নিকটে মৌলবী নওয়াজেশ আলীর মাদ্রাসা মসজিদে ছাত্রদের একটা সভা ছিল, তাতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা তর্ক-বাহাছ হয়। মৌলবী কসেম সাহেবের পালা আসলে তিনি সবার ওপরে জয়লাভ করেন।
১২৬১ হিজরীর শেষের দিকে মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহঃ) দিল্লীতে বিভিন্ন থেকে শিক্ষা অর্জনের পর মাওলানার সহপাঠি হয়ে যান এবং অল্পদিনেই তারা দুজন অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হন। তারা যেন একই আকাশের নিচে দুই নক্ষত্র। আরবী বিষয়ক প্রায় সব কটি কিতাব তারা দুজন মাওলানা মামলূক আলী সাহেবের নিকট অধ্যয়ন করেন। আর হাদীস শিক্ষা করেন মাওলানা শাহ আব্দুল গণী সাহেবের নিকট। মাওলানা নানুতুবীর কবিতার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। ছোট বেলায় খেলাধুলা ইত্যাদির কাহিনী তিনি অনর্গল ছন্দ আকারে বলতে পারতেন।

শিক্ষকতা জীবন :-

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি শিক্ষকতার কাজ শুরু করেছিলেন। মাওলানা মামলূক আলী সহেব মাওলানা ইয়কুব আলী সাহেব (রহঃ) কে ছরফ এবং নাহব এর কিতাব সমূহ পড়ানোর দায়িত্ব মাওলানা নানুতুবী (রহঃ) এর ওপরই ন্যস্ত করেন। অবশেষে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষক নিযুক্ত হন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অধ্যপনার দায়িত্ব পালন করেন। তার স্বনামধন্য ছাত্রদের মধ্যে শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহঃ) অন্যতম। মাওলানা নানুতুবী (রহঃ) এর কৃতিত্বের স্বাক্ষর হিসেবে একজনের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট।

আধ্যাত্মিক সাধনা :-

মাওলানা কাসেম নানুতুবী (রহঃ) হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই হাজী সাহেবের সাথে তাঁর আন্তরকিতা ছিল। মাওলানা নানুতুবী (রহঃ) মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহঃ) এর পরে মুরীদ হন এ অসাধারণ চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে আত্মসুদ্ধির উন্নত স্তর অতিক্রম করে খেলাফত লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত ন¤্র ও বিনয়ী ছিলেন। জীবনের শুরু থেকেই তাঁর একটা গুণ ছিল যে,তিনি বেশীর ভাগ সময়ই নিরব থাকতেন; কথা বলতেন একেবারে কম। তাঁর সামনে কথা বলতে গেলে খুব চিন্তা করে বলতে হত। তাঁকে নাম ধরে ডাকলেই তিনি খুশী হতেন। চলাফেরা ছিল নিতান্তই সাধারণ। তিনি নিজেকে সব সময় গোপন করে চলতেন। আলেমদের কোন বেশভূষা যেমন-পাগড়ী, জুব্বা ইত্যাদি তিনি ব্যবহার করতেন না। তিনি বলতেন এলমই আমাকে অসুবিধা করে দিল; অন্যথায় নিজেকে মাটির সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দিতাম যে, কেউ আমাকে চিনতেই পারত না।

মাওলানা আশরাফ আলী (রহঃ) এর ভাষায় :-

তিনি মোটা কাপড় পরতেন। একদিনের ঘটনা, তিনি দেওবন্দ থেকে নানুতা যাচ্ছিলেন। বেশভূষায় তাঁকে একেবারেই সাধারণ লোক মনে হচ্ছিল। পথে এক তাঁতী (তাঁতী মনে করে) জিজ্ঞেস করল সূতার দাম আজ কী রকম জনেন? জবাবে তিনি বললেন না ভাই আজ বাজারে যাওয়া হয়নি। তিনি অত্যন্ত উঁচু দরের সাধক ও আল্লাহর ওলী ছিলেন। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) বলেন প্রথম যুগে এক সময় এমন লোকের জন্ম হত। আজকাল আর এমন লোক জন্মায় না।

মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ২য় খন্ড পড়ার অনুরোধ করে ১ম খন্ড এখানে ই সমাপ্ত করছি …….

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

One thought on “মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) – ১ম খন্ড

Leave a Reply