হাদীস (পর্ব-৩৬) (পবিত্র রমজানের হাদীস এবং একটি ছোট্ট হিসাব ২ রাকাত নামাজ= ৯৬০৪০০০০০০ রাকাতের সওয়াব)

পরম করুনাময় আল্লাহ্ এর নামে শুরু করলাম

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন, আমি ও আমরা আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ্র অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি।বেশি হাদীস দেই না, কারন আমার মত অনেক লোক আছে, যারা বেশি লেখা দেখলে সেটা পড়তে চায় না, তাই অল্প কয়েকটা হাদীস দিলাম, যারা যত ব্যস্তই থাকুক এই অল্প কয়টি হাদীস পড়ে নিতে পারবে, এবং অল্প হবার কারনে মনে রাখতে পারবে আবার তা আমল করারও চেষ্টা করবে।

পর্ব এক     পর্ব ০২     পর্ব ০৩     পর্ব ০৪     পর্ব ০৫     পর্ব ০৬     পর্ব ০৭

পর্ব ০৮     পর্ব ০৯     পর্ব ১০     পর্ব-১১     পর্ব-১২     পর্ব-১৩     পর্ব-১৪

পর্ব ১৫     পর্ব ১৬     পর্ব-১৭     পর্ব-১৮     পর্ব-১৯     পর্ব-২০     পর্ব-২১

পর্ব-২২     পর্ব-২৩     পর্ব-২৪     পর্ব-২৫     পর্ব-২৬     পর্ব-২৭     পর্ব-২৮

পর্ব-২৯     পর্ব-৩০     পর্ব-৩১     পর্ব-৩২     পর্ব-৩৩     পর্ব-৩৪     পর্ব-৩৫

# হাদীস শরীফে আসছে, একদিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) জুমার দিন খুদবা পড়ার জন্য মেম্বারে উঠবে, যখন মেম্বারে উঠতে গেল প্রথম সিড়িতে পাঁ রাখতেই বলেন আমীন, আবার দ্বিতীয় সিড়িতে পাঁ রেখে বলেন আমীন, আমার তিত্বীয় সিড়িতে পাঁ রেখে বলেন আমীন, এরপর খুদবা শুরু করল, খুদবা শেষে সাহাবারা জিজ্ঞাস করল ইয়া রাসুল্লালাহ আমরা আপনাকে কোন দিন মেম্বারে উঠার সময় আমীন বলতে শুনিনি, ‍কিন্তু আজ তিন বার বললেন কেন? তখন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, আমি যখন প্রথম সিড়িতে পাঁ রাখি তখন জিবরাঈল (আঃ) আমার কাছে আগমন করে, এবং বলে ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হক যে, রমজান মাস পাইল কিন্তু তার গুনা মাফ করাইয়া লইতে পারলনা, তখন আমি বললাম আমীন, আবার যখন দ্বিতীয় সিড়িতে পাঁ রাখি তখণ বলে ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হক যে, মা/বাবা অথবা উভয়কেই পাইল কিন্তু সে, তার জান্নাত কামাই/হাসিল করে রাখতে পারল না, আমি তখন বললাম আমীন, আবার যখন তিত্বীয় সিড়িতে পাঁ রাখি তখন বলল ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হক যে, আপনার নাম শুনে কিন্তু আপনার দুরুধ পড়ে না, তখন আমি বললাম আমীন।

তাহলে এখন ভাবুন একেতো জিবরাঈল (আঃ) এর কথাই যথেষ্ট ছিল, তার সাথে বিশ্ব নবী (সঃ) আমীন বলে কতটা যোরদার করে দিছে? কাজেই আমরা সব সময় এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখার চেষ্টা করব।

এবার আসুন রমজান মাসের কিছু ফজিলতের ছোট একটু হিসাব করা যাক।

#উদাহরণের জন্য শুদু দুই রাকাত ফজরের নামাজের হিসাব করিঃ- আপনি যদি ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করেন, তাহলে আপনি দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার সওয়াব পাবেন, এইতো? আপনি এটাই জানেন? তাই না? যাক এবার লাভের হিসাব করি। হাদীস শরীফে আসছে যদি ওজুর আগে মেসওয়াক করে ওজু করে নামাজ আদায় করে তাহলে ৭০ গুন বেশি সওয়াব লেখা হয়, তাহলে ২ রাকাত নামাজ আদয় করলে ফেরেস্তারা লিখতেছে ২×৭০=১৪০ রাকাত, আবার আমি এতদিন জানতাম মাথায় পাগড়ি পরে নামাজ আদায় করলে ৪০ গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু আজ ফজরের নামাজের সময় এক আলেমের কাছে জিজ্ঞাস করলাম সে বলল ২৫ গুন বেশি পাওয়া যায়, যা’ই হক হিসাবে ধরে নিলাম ২৫ গুন, তারপর বেশি হলেতো ক্ষতি নাই। তাহলে যদি দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা হয় ২×২৫=৫০ রাকাত। আবার হাদীস শরীফে আসছে আপনি যদি জামাতে নামাজ আদায় করার সময় তাগবিরুল্লাহ সাথে নামাজ আদায় করেন তাহলে নামাজ ব্যতিত অতিরিক্ত ১০০০ উট আল্লাহর রাস্তায় ছদগা করার সওয়া দান করা হয়।চিন্তা করে দেখেন আপনার যত টাকাই থাক, আপনার কি এমন মন বা ক্ষমতা আছে বা কোন দিন একটি উট ও আল্লাহর রাস্তায় দান করেছেন? সেখানে ১০০০ হাজার…………. যারা তাগবিরুল্লাহ চিনেন না তাদের জন্য বলছি, তাগবিরুল্লাহ হল, একামত শেষে যখন ঈমাম সাহেব আল্লাহু আকবার বলে হাত বাধে ঐ সময় থেকে সূরা ফাতিহা শুরুর আগে যদি আপনি হাত বাধেন তাহলে এই সওয়াব লাভ করবেন। আবার হাদীস শরীফে আসছে যদি আপনি আল্লাহর রাস্তায় যান যেমন: তাবলিগে গিয়ে যদি এই দুই রাকাত নামাজ পড়েন তাহলে ৪৯ কোটি গুন বেশি সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হয়। রমজান মাসে যত নামাজ বা এবাদত করবেন অধিকাংশ’ই আল্লাহ্ তায়ালার হুকুমে ফেরেস্তারা ৭০ গুন বেশি লেখবে, একটি ফরজ আদায় করলে ৭০ টি ফরজ আদায়ের সওয়াব পাওয় যাবে। একটি নফল আদায় করলে একটি ফরজের সওয়াব পাওয়া যাবে। তার মানে আপনি দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করলে ফেরেস্তারা লিখতেছে ২×৭০=১৪০ রাকাত। যাক এখন যোগ করি।

১. মেসওয়াক ৭০ গুন। ২. পাগড়ি ২৫ গুন। ৩. তাগবিরুল্লাহ ১০০০ উট। ৪. আল্লাহর রাস্তায় ৪৯ কোটি গুন। ৫. রমজান মাসে ৭০ গুন।

এখানে শুদু দুই রাকাতের হিসাব করা হলঃ-

মেসওয়া করে নামাজ আদায় করলে ৭০ গুন ২×৭০=১৪০ রাকাত, তার সাথে পাগরি পরে নামাজ আদায় করলে ২৫ গুন তাহলে ১৪০×২=২৮০, এরপর যদি আপনি আল্লাহর রাস্তায় (দিনের দাওয়াতে) বের হন তাহলে ২৮০×৪৯০০০০০০=১৩৭২০০০০০০০ রাকাত, এরপর যদি হয় আবার রমজানে তাহলে আবার ১৩৭২০০০০০০০×৭০=৯৬০৪০০০০০০ রাকাত, তাহলে ২ রাকাত= ৯৬০৪০০০০০০ রাকাত………………… ভেবে দেখুন কাল কেয়ামতের মাঠে একটি নেকি দিয়েও নিজের মা ও সাহায্য করবে না, যখন আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপকারী/সাহায্যকারী থাকবে না, ঐ দিন এই নেক আমলের দরকার আছে কিনা? আমরা হেলায়-ডেলায় কত সময় বা কত ইবাদাত নষ্ট করি, এটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না বা করি না। কিন্তু এর কতই না দরকার (হুসিয়ারীঃ অনেকে বলতে পারে এটা দেখি একদিন নামাজ পড়লেই অনেক নেকি হয়ে যাবে তাহলে এত নেকি দিয়ে কি হবে? আমার বেশি নেকি লাগবে না, এই রকম নাস্তিক মার্কা কথা না বলার জন্য অনুরোধ করছি। হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) এর আমল এক পাল্লায় দিয়ে দুনিয়ার সকল মানুষের আমল অন্য পাল্লায় রাখলেও হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) এর আমলের পাল্লাহ ভারি হয়ে যাবে (সুবাহান আল্লাহ), এতো আমল ছিল তার, যারা দুনিয়াতে থাকা অবস্থায়ই জান্নাতের সু-সংবাদ তারা পেয়েছে কিন্তু তারপরও সে গাছ কে বলত, আমি যদি গাছ হতাম তাহলে আমার কোন হিসাব দেয়া লাগত না, আমি যদি মাটি হতাম আমার হিসাব দেয়া লাগত না :’ তাহলে আমাদের কি চিন্তা করতে হবে?) এই রকম কথা যারা বলবে তাদের বুঝানের জন্য আরো অনেক উদাহরণ আছে যা লিখতে আমার পোষ্টটি অনেক বড় হয়ে যাবে, অন্যদের পড়তে অসুবিধা হবে।

[বি: দ্র: রমজান মাসের ফজিলতের শেষ নেই, এটা মাত্র একটি বললাম, অগনিত ফজিলত এই রকম আছে যা আমরা গুরুত্বের সাথে দেখি না, মোট কথা ফজিলতের কোন শেষ নেই, কিন্তু এত নেক আমল পাওয়ার পরও আল্লাহ তায়ালা বলেছে আমার বান্দা রোজা রাখে শুদু আমার রাজি খুঁশির জন্য, আর তাই সকল ইবাদাতের নেক কতটুকু কি দেয়া হবে তা সকলকে নিদিষ্ট করে বলেছি/ধারনা দিয়েছি, কিন্তু এই রোজাদারকে যে কি পুরুস্কার দেয়া হবে এটা একমাত্র আমার মধ্যেই সিমাবদ্ধ, এটা আমি কাহাকেও জানাইনি, এই রোজা একমাত্র আমার জন্য, আর তাই পুরুস্কারও আমি নিজে দিব]

ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে ভুলবে না…

ভুলে ভরা জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,যদি আমার লেখার মাঝে কোন ভুলত্রুটি থাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন।

 

মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

2 thoughts on “হাদীস (পর্ব-৩৬) (পবিত্র রমজানের হাদীস এবং একটি ছোট্ট হিসাব ২ রাকাত নামাজ= ৯৬০৪০০০০০০ রাকাতের সওয়াব)

Leave a Reply