ইসলামে হেজাব বা পর্দা প্রথা এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহঃ তৃতীয় ও শেষ পর্ব(স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহ)

“স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহ”

                                                                    “بسم الله الرحمن الرحيم

অনেকে হয়তো এই লেখাটি পড়িয়া ভাবিতে পারেন নারীর মর্যাদাতো আরো অনেক,যাহারা এই চিন্তা মাথায় আনিবেন তাহাদেরকে অনুরোধ করিবো তাহারা যেন আবারো ভাল করিয়া লেখাটি পড়িয়া নেয়।কারন এই লেখাটি শুধু মাত্র নারীর পর্দা এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার নিয়ে লেখা।বেপক ভাবে নারী জাতীকে নিয়ে নয়।নারী জাতীর মাঝে একজন ‘মা’ও আছেন যাহার মর্যাদা পৃথিবীর কোন কিছুর বিনিময়েও দেওয়া সম্ভব নয়।তবে এই কথাটিও মনে রাখা আবশ্যক যে কোন মা-ই  মা হইতে পারেন্না যদি সে স্ত্রী না হয়।আর মায়ের মর্যাদা ব্যপক শুধু মাত্র সন্তানের নিকট অবশ্যই স্বামীর নিকট নয় বরং সেই মায়ের নিকটই সবচেয়ে মর্যাদা শালী ব্যক্তি হইলেন তাঁর স্বামী। যাহোক আসা যাক মুল আলোচনায়।

নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্টত্বঃমহান সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন,হযরত আদম(আঃ)’কে সৃষ্টি করিয়া জান্নাতে প্রবেশ করাইলেন।তারপর আদম(আঃ)এর একাকিত্ব দুর করিবার জন্য একজন সঙ্গিনী হযরত হাওয়া(আঃ)কে সৃষ্টি করিলেন এবং দুজনের মধ্যে ভালবাসার সৃষ্টি করিয়া দিলেন।তারই ধারাবাহিকতায় আজ অবধি বিবাহ প্রথা চলিয়া আসিতেছে,যার দ্বারা মানুষের বংশ বৃদ্ধি হইতেছে।আর এই প্রথা কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকিবে।আল্লাহ নারীকে করিয়াছেন ঘরের রানী আর পুরুষকে করিয়াছেন ঘর এবং বাহির উভয়ের রাজা।আল্লাহ স্বামীকে যেমন স্ত্রীর উপড় অধিকার দিয়াছেন,তেমনি স্ত্রীকেও দিয়াছেন স্বামীর উপড় অধিকার।তবে এই অধিকারকেও আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল(সঃ) ভাগ করিয়া দিয়াছেন,স্বামীর অধিকার কি হইবে আর স্ত্রীর অধিকার কি হইবে,অর্থাৎ কোন স্থানে কার অধিকার কতটুকু হইবে।মহান রব্বুল আলামীন এবং তাঁর রাসুল(সঃ) কোন স্থানে কাকে কতটুকু অধিকার প্রদান করিয়াছেন,আমরা তাহা অনেকেই জানিনা অজ্ঞতার কারনে।আবার হয়তো অনেকে জানিয়াও পালন করিতেছিনা অবহেলার কারনে।আবার এক ধরনের মহিলা আছে যাহারা সর্বাবস্থায়,সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার দাবী করিয়া থাকে এবং দাবী আদায়ের জন্যে রাজ পথে,সভা সেমিনারে নিজেকে বেপরদা অবস্থায় জাহির করে নিজেকে।এমনও দেখা যায় তাহারা সমান অধিকার আদায়ের নাম করিয়া একটু বেশীই আদায়ের চেষ্টায় লিপ্ত থাকে।কিন্তু তাহাদের ভিতরে যদি আল্লাহ ও জাহান্নামের ভয় থাকিত তাহা হইলে এই সমস্ত কান্ড কখনো করিতে পারিতনা।ইসলাম নারীকে যতটুকু অধিকার দিয়াছে পৃথিবীর কেহই ততটুকু অধিকার কখনো দিতে পারেনাই এবং পারিবেওনা।আর ইসলাম নারীকে যতটুকু অধিকার দিয়াছেন তাহার ভিতরই নারীদের প্রকৃত কল্যান নিহিত রহিয়াছে,এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই।

এখন নারীকে স্বাধীন করিয়া দিবার জন্য যাহারা ব্যতিব্যস্ত তাহারা ইসলামের বিধিব্যবস্থা গুলি মনোযোগ সহকারে অধ্যায়ন করিলে ‘নারী স্বাধীনতার’স্বরূপ হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিতেন।নারীর ব্যক্তিগত জীবনে যে স্বাধীনতা আছে তাহা অবশ্যই স্বামী ডিঙ্গাইয়া নয় এবং পর্দা পরিহার করিয়াও নয়।দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রীর উপড় কতৃত্যশীল আর সমাজ জীবনেও পুরুষ কতৃত্যের অধিকারী এতে দ্বিমত পোষন করার কোন কারন নাই।তবে নিয়মের বিপরিত দুই একটি নজির যদিও দেখা যায় কিন্তু তাহা দিয়ে কোন উদাহরন ও ফয়সালা দেয়া যাইতে পারেনা।আর ইসলামও উহা অনুমোদন করেনা।নারী জ্ঞানে,সামর্থে ও প্রকৃতিগত কারনে পুরুষের উপড় নির্ভরশীলা।পুরুষ নারীকে আপন দায়িত্বে,আপন আশ্রয়ে গ্রহন করিয়াছে সুতরাং নারী পুরুষের অধিনা।কিন্তু তাই বলে নারী অবজ্ঞার পাত্রী নয়,কিংবা শুধু অনুগ্রহ বিখারিনী তাও নয়।নারীকেও ক্ষেত্র বিশেষ স্নেহ,মমতা,শ্রদ্ধা প্রীতি এবং তার ন্যায্য অধিকার দিতে হইবে এবং ইসলাম ইহাই অনুমোদন করিয়াছে।

পুরুষের উপর নারীর অধিকার সমুহ :-ইরশাদ হচ্ছে,“পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার আছে তেমনি স্ত্রীদেরও অধিকার আছে পুরুষদের উপর তবে তা নিয়ম অনুযায়ী।আর নারীদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্টূত্ব দেওয়া হইয়াছে।আল্লাহ হইতেছে পরাত্রুমশালী,বিজ্ঞ”।(সুরা বাকারা-২২৮)।এখানে স্ত্রীর অধিকারের কথা বলা হইয়াছে তবে তা হইতে হইবে নিয়ম অনুযায়ী।এখানে স্ত্রীদের অধিকারের বেপারে একটা সীমাবদ্ধতা ঘোষনা করা হইয়াছে বলা হয় নাই অধিকার সমান সমান বরং বলা হয়েছে নারীর উপর পুরূষের শ্রেষ্টত্ব দেওয়া হইয়াছে।অর্থাৎ এই আয়াত দ্বারা স্বামীর অধিকার বেশী ইহাই প্রমানিত হইল।

অনেকে বলিয়া থাকেন আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ করিয়াছে,“স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাক স্বরূপ।(বাকারা-১৮৭)। অতএব অধিকার সমান কিন্তু আমরা  এই আয়াতের শানে নুজুল দেখিলে কি দেখিতে পাই,সেই সময়ে রমজান মাসে ইফতারের পর খাওয়া-দাওয়া শেষ করিয়া ঘুমাইয়া গেলে তখন তাদের জন্য স্ত্রী সহবাস জায়েজ ছিলনা।কিন্তু কোন কোন সাহাবীর রাতে ঘুম ভাঙ্গিয়া গেলে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হইতো,ইহাতে তাহারা পরে আপসোস করিতো এবং মনে কষ্ট পাইত।এই সব ঘটনার পরিপেক্ষিতে ক্বোরআনে এই আয়াত নাজিল হইয়াছে।বলা হইয়াছে,তোমরা একে অপরের পোষাক স্বরুপ,অতএব রমজানের রাত্রে সহবাস করিলে কোন দোষ নাই।এখানে স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসার স্বরুপ বর্ননা করা হইয়াছে অধিকার নয়।তারপরও যদি ধরে নেই এই আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার প্রমান করে কিন্তু অন্য আয়াতে কিন্তু এই পার্থক্যও বর্ননা করা হয়েছে।তাই আসুন আমরা হাদীস থেকে এর বিস্তারিত জেনে নেই।

স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা আমরা পাই হাদীস শরীফ হইতে।হযরত হাকীম ইবনে মুয়াবিয়া(রাঃ) বর্ননা করেন,আমি আরয করিলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ(সঃ) আমার উপর স্ত্রীর হক কি?রাসুল(সঃ) বলিলেন,তুমি যেমনটি খাও তেমনটি তাকেও খাওয়াইবে।তুমি যেমন কাপড় পরিধান কর তাকেও তেমনটি পরিধান করাইবে।তার মুখে আঘাত করিবেনা।তাকে গালমন্দ করিবেনা।তার সাথে মেলামেশা ত্যাগ করিবেনা,করিলে ঘরের ভিতরেই করিবে (অর্থাৎ রাগ করে বাড়ি ছাড়িয়া চলিয়া যাইবেনা)।(আবু দাউদ শরিফ)

নবী করিম (সঃ) বিদায় হজ্বের ভাষনে বলিয়াছিলেন, “তোমাদের নারীদের প্রতি তোমাদের কিছু কর্তব্য এবং অধিকার রহিয়াছে।নারীরা তোমাদের বিছানায় অন্য কাউকে শোয়াইবেনা।এমন লোককে ঘরে প্রবেশ করিতে দিবেনা যাহাকে তোমরা(স্বামীরা) অপছন্দ কর।নিয়িদ্ধ ঘোষিত অশ্লীল কর্মকান্ডে লিপ্ত হইবেনা এইটা তাদের কর্তব্য কেননাা এইটা তোমাদের মাঝে ঘৃনার উদ্রেক করিয়া থাকে।আর যদি তা করিয়াই বসে তবে তাদের থেকে আলাদা বিছানা শোয়া এবং মৃদু প্রহার করার অধিকার আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়াছেন।তবে যদি পরিশুদ্ধ হয় তাহা হইলে তাদের স্বাভাবিক ভাবে খাদ্য ও পোষাক পরিচ্ছদ দেয়া তোমাদের কর্তব্য।নারীদের প্রতি সদয় হও,কেননা তারা তোমাদের কাছে অক্ষম বন্দী স্বরূপ।অল্লাহর আমানত হিসেবে তাদেরকে গ্রহন করিয়াছ।আল্লাহর বিধান অনুসারেই তোমরা তাদেরকে বৈধ করিয়া  নিয়াছ।(তিরমিঝ শরিফ  ও সীরাতে ইবনে হিসাম।)

আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ করিয়াছেন,“পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ আর নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ-(সুরা-নিসা-৩২)।পুরুষদেরকে অধিকার দেওয়া হয়নাই স্ত্রীর সম্পদ জোর করিয়া ভক্ষন করিতে।বরং বলা হইয়াছে যার যার সম্পদের মালিক সেই।যেমন স্ত্রীর মহরানার টাকার উপর স্বামীর কোন অধিকার নাই।কিংবা সে যদি কোন বৈধ উপায়ে ধন সম্পদের মালিক হয় তা হইলেও সেই সম্পদের উপর স্বামীর কোন অধিকার নাই যদি স্ত্রী স্বেচ্চায় দান করে সেটা হইল ভিন্ন বেপার কিন্তু জোর প্রয়োগ করা যাইবেনা।

নবী করীম (সঃ) আরো বর্ননা করিয়াছেন,তোমাদের মাঝে তাহারাই উত্তম যাহারা তাহার স্ত্রীর নিকট উত্তম,আমি আমার স্ত্রীদের কাছে উত্তম।(আল হাদীস)।এখন স্ত্রীর কাছে উত্তম হওয়া যায় কিভাবে?অবশ্যই ভালো ব্যবহার করিয়া,ভালবাসা,আদর-সোহাগ দিয়া,কোন অন্যায় আচরন করিয়া নয়।হাদীস শরিফে নবী করিম (সঃ) আরো বলিয়াছেন,তোমাদের কেউ যেন নিজেদের স্ত্রীকে ত্রুীত দাসীর মতন প্রহার না করে,অথচ দিবসের শেষ ভাগে(অর্থাৎ রাত্রে কিংবা যে কোন সময়) তার সাথে মিলিত হইবে(সহবাস করিবে)।(বোখারী শরিফ ও মুসলীম শরিফ) ।

অন্য হাদীসে নবী (সঃ) বলিয়াছেন,নিশ্চয় ইমানদারদের মধ্যে সেই বেশী ভালো স্বভাব বিশিষ্ট যে নিজেদের পরিবারের সাথে অধিক সদয় ব্যবহার করে এমন ব্যাক্তিরাই পুর্ন ইমানদার।(তিরমিজি শরিফ) ।

হযরত লাকীত ইবনে সাবেরা (রাঃ) হইতে বর্নিত,তিনি বলিলেন,আমি রাসুল(স)কে বলিলাম হে আল্লাহর রাসুল!আমার স্ত্রী কটুভাষিণী।রাসুল(সঃ) বলিলেন,তাকে তালাক দিয়া দাও।আমি বলিলাম,আমি তার সঙ্গে বহু দিন যাবত বসবাস করিয়া আসিতেছি।তার গর্ভে আমার সন্তান রহিয়াছে।তিনি বলিলেন,তাকে উপদেশ দিতে থাকো।তার মধ্যে যদি ভালো হইবার যোগ্যতা থাকে তাহা হইলে সে তোমার কথা মানিবে।আর দাসীদের যেভাবে মারধোর করো সেইভাবে স্ত্রীকে মারধোর করিওনা।(আবু দাউদ শরিফ) ।

আবু মাসউদ(রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,আখিরাতে সওয়াব পাওয়ার আশায় মানুষ পরিবার পরিজনের জন্যে যা খরচ করে(হালাল রুজির দ্বারা) তাহা তার পক্ষে সাদকা হইয়া যায়।(বোখারী শরিফ ও মুসলিম শরিফ)।

রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,সাবধান!তোমরা প্রত্যেকেই তোমাদের প্রত্যেকের অধীনস্ত লোকজন সম্পর্কে কেয়ামতে জিজ্ঞাসিত হইবে।একজন পুরুষ সে তার পরিবার-পরিজনের কর্তা।একজন স্ত্রী সেও তার স্বামীর বাড়ী ঘর,পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির কর্ত্রী।অতএব তোমরা প্রত্যেকেই কর্তা এবং তোমাদের প্রত্যেককেই সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইবে।এই হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে,স্বামী শুধু স্ত্রীর খোরপোষেরই জিম্মাদার নয় বরং সে স্ত্রীর দ্বীন এবং আখলাকেরও জিম্মাদার।স্ত্রীকে সব সময় সদুপদেশ দিতে হইবে এবং তাকে সঠিক ভাবে ইসলামের উপর রাখিতে হইবে।অপর পক্ষে স্ত্রীর উপর রহিয়াছে দ্বিগুন দায়িত্ব।একদিকে তাকে স্বামীর বাড়ীঘর ও ধন-সম্পদের রক্ষনাবেক্ষন করিতে হইবে।সন্তানদের লালন-পালনের গুরু দ্বায়িত্ব তাকেই বহন করিতে হইবে।কেননা রোজগারের অন্বেষায় স্বামী যখন বাহিরে থাকে,সন্তান তখন বাড়িতে মায়ের সঙ্গেই থাকে।এই কারনে সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষার অতিরিক্ত দায়িত্ব মাকেই বহন করিতে হয় এবং মা-ই কেয়ামতে এই বেপারে বেশী জিজ্ঞাসিত হইবে-(রাহে আমল)।

বিভিন্ন কিতাবে স্ত্রীর হক সম্মদ্ধে বলা হইয়াছে যে,স্বামীর উপর স্ত্রীর খোরপোষ করা ওয়াজিব স্ত্রী যখন নিজেকে স্বামীর কতৃত্বে সর্মপন করে,তখন থেকেই স্বামীর উপর স্ত্রীর খোরাক-পোশাক এবং বাসগৃহ প্রদান করা ওয়াজিব হইয়া যায়-(আল হেদায়া)।স্ত্রীদেরকে সর্বদা পর্দায় রাখিতে হইবে,এই বেপারে কোন আপোষ করা চলিবেনা।কোন বন্ধু বান্ধবের সামনে স্ত্রীকে জাহির করা যাইবেনা।শরীয়ত সম্বন্ধীয় সব দরকারী মাসয়ালা যথা:-ফরজ,ওয়াজিব,হারাম,হালাল ইত্যাদি সম্পর্কে স্ত্রীকে শিক্ষা দিতে হইবে।স্ত্রীদেরকে সর্বদা নেক কাজ ভাল কাজের জন্য ওয়াজ নসীহত করিতে হইবে।কেননা ক্বোরান শরীফে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করিয়াছেন,“হে ঈমানদারগন তোমরা নিজেরা বাঁচ এবং নিজেদের পরিবারদেরকে জাহান্নামের আগুন হইতে বাঁচাও্-(সুরা-ত্বাহরীম-৫)।

স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি মনের মিল না হয় তবে তাকে আটকে রেখে কষ্ট দেয়া যাইবেনা,তালাক দিয়া দিতে হইবে।কেননা তিন কারনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যায়।(১)স্ত্রীর দ্বারা যদি নিজের প্রাননাশের আশংকা থাকে।(২)স্ত্রী যদি যেনায় লিপ্ত হইয়া পড়ে।(৩)যদি কোন কারনেই স্ত্রীর সাথে মনের মিল না হয় অর্ধাৎ স্ত্রী যদি অব্যাহত ভাবে স্বামীর আদেশ অমান্য করিতে থাকে-(ফতোয়ায়ে কাযিখান)।স্ত্রী যদি বাপের বাড়ি থেকে কোন জিনিষ আনে তা পরিমানে কম হইলেও সে বস্তুর প্রতি কোন প্রকার ঘৃনা প্রকাশ করা যাইবেনা।স্ত্রী অন্যায় করিলে তাকে শরিয়ত সম্মত ভাবে হালকা শাস্তি দেওয়া যাইবে তবে তাকে কোন অবস্থায়ই চেহারায় আঘাত করা যাইবেনা।স্ত্রীর পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া যাইবেনা।যারা বিদেশ থাকে তারা বাড়ি আসার সময় স্ত্রীর জন্য কিছু উপহার নিয়া আসিবে এইটা সুন্নত।(আমলে নাজাত)।উপরে উল্লেখিত জিনিস গুলো হইলো মোটামোটি ভাবে স্বামীর উপর স্ত্রীর  হক।

স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার ও শ্রেষ্টত্ব :-ইরশাদ হচ্ছে,‘পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রহিয়াছে তেমনি স্ত্রীদেরও অধিকার রহিয়াছে পুরুষদের উপর তবে তা নিয়ম  অনুযায়ী।আর নারীদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হইয়াছে।আল্লাহ হচ্ছে পরাত্রুমশালী,বিজ্ঞ’।(সুরা বাকারা-২২৮)।এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফছির কারক ইবনে কাছির লিখিয়াছেন,পুরুষগন নারীর উপর প্রতিষ্ঠিত,অর্থাৎ পৃরুষ প্রভূ প্রধান এবং হাকেম ইহাই সিদ্ধান্ত।নারী বত্রু স্বভাবা হইলে পুরুষগনই তাহাকে শাজা দিয়া থাকেন।পুরুষ শ্রেষ্টত্বের কারনে নবুয়ত একমাত্র পুরুষের জন্যই নির্ধারিত ছিল।একই ভাবে ক্ষমতা বা রাজ সিংহাসন পুরুষের জন্যই নির্ধারিত।যেহেতু নবী করিম(সঃ) বলিয়াছে,‘যে কওমের কতৃত্বে নারী,তাদের কোন কল্যান নাই’(বোখারী)।এইরূপ ভাবে বিচারের ভারও নারীর উপর দেওয়া যায় না।পুরুষেরা স্ত্রীলোকদের মোহর প্রদান করা,তাদের ভরন পোষন দেয়া তাদের জন্য ব্যয় করা ইহা আল্লাহর কিতাব এবং রসুল(সঃ) এর হাদীস অনুযায়ী ওয়াজিব।যেই কারনে বুঝা যায় পুরুষ ব্যক্তিগত ভাবেও স্ত্রীলোকের উপর শ্রেষ্ট এবং সম্মানিত।

হযরত আবি তালহা (রঃ) বলিয়াছে,‘পুরুষগন নারীর উপর ক্ষমতা প্রাপ্ত’,ইহার অর্থ এই যে,পুরুষগন নারীর উপর কর্তা।আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী নারীরা পুরুষের অনুগত থাকিবে।

হযরত হাসান বসরি(রঃ) বলিয়াছেন,‘একদা একজন স্ত্রীলোক নবী করিম(সঃ) এর নিকট আসিয়া অভিযোগ করিল যে,তাহার স্বামী তাহাকে চপোটাঘাত করিয়াছে’ নবী করিম(সঃ) বলিলেন কেছাছ হইবে তখন এই আয়াত নাজিল হইল“পুরুষগন স্ত্রীলোকদের উপর প্রাধান্য প্রাপ্ত”-(আন নিসা-৩৪)।অতঃপর স্ত্রীলোকটি ফিরিয়া আসিল স্বামীরও কোন কেছাছ হইলনা।–(ইবনে জরির)।এখন কিছু কিছু লোক আছেন যাহারা বলিয়া থাকেন অধিকার সমান কিন্তু মর্যাদা স্বামীর বেশী।এখান থেকে তাহাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ যে,যদি অধিকার সমান হইত তাহা হইলে এখানে অবশ্যই কেছাছ হইত অর্থাৎ চপোটাঘাতের পরিবর্তে চপোটাঘাত।আল্লাহর আইন শুধু মাত্র মর্যাদার কারনে মাপ হইতে পারেনা যেহেতু এইটা বান্দার হক বা অধিকারের মধ্যে পরে।এখানে কেছাছ গ্রহন কারী ব্যতিত কারো কোন ক্ষমতা নাই মাপ করে দেওয়ার।

তফছিরে রুহুল মানীতে আছে,পুরুষগন নারীর উপর প্রতিষ্ঠিত।তাহার স্বরুপ এই যে,প্রজার উপর যেমন মনিবের আদেশ নিষেধ ও অন্যন্য ব্যাপারে অধিকার আছে,সেইরূপ নারীর উপরও পুরুষের অধিকার আছে।স্ত্রীলোকগন জ্ঞানে ও ধর্মে অসম্পূর্ণা।কিন্তু পুরুষগন তাহার বিপরিত,জ্ঞানে ও ধর্মে সব দিক দিয়া পুর্নতা লাভ করিয়াছে।তাহার প্রমান,পুরুষগনই দুনিয়াতে রেসালাৎ ও নবুয়ত লাভ করিয়াছেন এবং মুসলমান সমাজের উপর সর্বময় কর্তৃত্ব পুরুষের।জুমা ও ঈদের ইমামতি,আজান,একামত,খোৎবা,তকবীরে-তাশরীক পুরুষের জন্যই নির্ধারিত।তাছারা তালাক প্রদান এবং ইমাম শাফীর মতে বিবাহে পুরুষের সম্মতি,বিচারের স্বাক্ষ্য প্রদান এবং মিরাছে পুরুষের বেশী অংশ লাভ করার অধিকার দ্বারাই নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্টত্ব প্রমানিত হইতেছে।

তফছির রুহুল বয়ানে উল্যেখ আছে,উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত করিয়াছেন যে,পুরুষগন স্ত্রীলোকের উপর ক্ষমতা প্রাপ্ত,কেননা নারীর অস্তিত্ব পুরুষের অস্তিত্বের অধিন।যেমন ফল হইতে গাছ উৎপত্তি,সেইরূপ নারী পুরুষের বাম পাঁজরের অস্থি হইতে সৃষ্ট। আল্লাহ সুবহানা হুয়াতায়ালা ইরশাদ করিয়াছেন,“হে মানব সমাজ!তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করিয়াছেন,আর বিস্তার করিয়াছেন তাহাদের দুজন থেকে অগনিত পুরুষ ও নারী-(সুরা-নিসা-১)।আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম(আঃ) এর বাম পাঁজরের অস্থি হইতে হাওয়া(আঃ)কে সৃষ্টি করিয়াছেন।হযরত আদম,হযরত হাওয়ার উপর ক্ষমতাবান ছিলেন।সেইরূপ পুরুষগন স্ত্রীলোকের উপর পার্থিব ও পরলৌকিক কার্য পরিচালনের অধিকারী।কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ক্বোরআনে ইরশাদ করিয়াছেন,‘তোমরা নিজেরা বাঁচ এবং পরিবারর্বকে জাহান্নামের আগুন হইতে বাঁচাও’-(আত্ব-ত্বাহরীম-৫)।খেলাফৎ এবং নবুয়ত পুরুষের জন্যই নির্দিষ্ট।সন্তান উৎপাদনে ও বংশ স্থাপনের ক্ষেত্রে পুরুষের অস্তিত্বই প্রথম এবং নারীর অস্তিত্ব তাহার অধীন।সন্তানের বংশ পরিচয় পিতার দিক দিয়ে হয় মাতার দিক দিয়ে নয়।নবী করিম (সঃ) বলিয়াছেন,সমস্ত নারী জাতীর মধ্যে হযরত আয়শা(রাঃ) জ্ঞান শ্রেষ্ট।ইহা সত্বে তিনিই(সঃ) বলিয়াছেন,তোমরা আয়শার নিকট হইতে ধর্মের দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষা কর পুরা নয়।

তাফছিরে খাজেনে উল্যেখ আছে,কতিপয় কারনে পুরুষ নারী অপেক্ষা শ্রেষ্ট।তম্মধ্যে পুরুষের ধর্মের আধিক্য,জ্ঞানের আধিক্য,প্রভুত্বেও অধিকার,স্বাক্ষের মর্যাদা,জেহাদের যোগ্যতা,জুমা ও জামাতের অধিকার এবং নেতৃত্ব বা ইমামতির অধিকার ইত্যাদি।পুরুষগন আবার একাধারে চারিটি স্ত্রী গ্রহনের অধিকারী সে স্থলে নারী একটি মাত্র স্বামীর অধিক একই সময়ে গ্রহন করিতে পারেনা।পুরুষগন মিরাছও অধিক লাভ করিয়া থাকেন।স্ত্রীকে তালাক দিবার এবং গ্রহন করিবার অধিকার পুরুষেরই রহিয়াছে।তাছারা পুরুষ দ্বারাই বংশ প্রতিষ্টা হইয়া থাকে।উল্যেখিত সব গুলিই নারাীর উপর পুরুষের শেষ্ঠত্ব ঘোষনা করিতেছে।আগেই বলা হইয়াছে,শরিয়তে স্বাক্ষ গ্রহনের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ সমান দুই জন নারী স্বাব্যস্থ করিয়াছেন,যেহেতু আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ক্বোরআনে ইরশাদ করিতেছেন, “দু জন স্বাক্ষী কর তোমাদের পুরুষদের মধ্যে হইতে।যদি দুই জন পুরুষ পাওয়া না যায়,তবে এক জন পুরুষ ও দুই জন মহিলা-(আল বাক্বারাহ-২৮২)।এই আয়াতের তফছিরে বিখ্যাত তফছির কারক ইবনে কাছির বলিয়াছেন,যদি দুই জন পুরুষ পাওয়া না যায়,তবে সে অবস্থায় এক জন পুরুষ ও দুই জন স্ত্রীলোকের স্বাক্ষ গ্রহন করিবে।আর শুধু বৈষয়িক ব্যাপারেই স্ত্রীলোকের স্বাক্ষ গ্রহন যোগ্য,হুদ বা কেছাছ ইত্যাদিতে নয়।স্ত্রীলোকের জ্ঞান অসম্পুর্ন বলিয়াই একজন পুরুষের স্থলে দুই জন স্ত্রীলোকের স্বাক্ষ সমান হইবে।

পবিত্র ক্বোরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে,“পুরুষদেরকে নারীদের উপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হইয়াছে,ইহা এই জন্য যে আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট দান করিয়াছেন এবং এই জন্য যে তারা তাদের অর্থ ব্যায় করে।অতএব নেককার স্ত্রীলোকগন হয় স্বামীর অনুগতা এবং আল্লাহ যাহা হেফাযত যোগ্য করে দিয়েছেন (অর্থাৎ স্ত্রীদের গোপন বিষয় বা অঙ্গ সমুহ) লোক চক্ষুর অন্তরালেও তারা তার হেফাযত করে’।–(সুরা-নিসা-৩৪)।এই আয়াতেও নারীদের উপর পুরুষের শ্রেষ্টত্ব ঘোষনা করা হইয়াছে।শুধু তাই নয় বলা হইয়াছে নেককার স্ত্রীগন হয় স্বামীর অনুগতা এবং তারা তাদের সতিত্বের হেফাযত করে এবং পরপুরুষ হইতে পর্দা করে।এই আয়াত দ্বারা ইহাই প্রমান হইতেছে যে,যেমনি স্ত্রীর উপর স্বামীর শ্রেষ্টত্ব তেমনি কোন স্ত্রী শরিয়ত সম্মত ভাবে স্বামীর আনুগত্য না করিলে সে নেককার হইতে পারেনা।এখন যারা নারীর সমান অধিকার দ্বাবী করিয়া স্বামীর অবাধ্য হয়,নিজের ইচ্ছা্‌ মতন চলিতে চায় ঠিক মতন পর্দা করেনা তাদের পরকালীন অবস্থাটা একটু চিন্তা করিয়া লওয়া উচিৎ।

হযরত আয়শা (রাঃ) বলেন,রাসুল (সঃ) বলিয়াছেন,নারীর উপর সবচেয়ে বেশী হক তার স্বামীর এবং পুরুষদের উপর বেশী হক তার মায়ের।–(বোখারী শরিফ)।

হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ননা করেন,যে নারী(ইমানদার নারী) এমতাবস্থায় মৃত্যু বরন করে যে,তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট,সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।–(তিরমিজি শরিফ ও মেশকাত শরিফ)।

হযরত আবূ হুরায়রা(রাঃ) বর্ননা করেন,রাসুল (সঃ) কে প্রশ্ন করা হইলো কোন নারী সর্বোত্তম,তিনি বলিলেন,যে নারীকে দেখিলে স্বামীর মন প্রফুল্ল হইয়া যায়,স্বামী যা আদেশ করে সে তা খুশি মনে পালন করে।নিজের এবং ধন-সম্পদের বেপারে কোন অপ্রিয় কথা বলিয়া স্বামীর বিরুদ্ধাচরন করে না।–(নাসায়ী)।আরো বলা হইয়াছে,স্বামী বাহিরে থাকিলে যে নারী তার অনুপস্থিতিতে তার বাড়ী ঘর ও ধন সম্পদের হেফাযত করে সেই নারী উত্তম।–(আবু দাউদ)।

আনাস(রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,“যে স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়িলো।রমজানের রোজা রাখিলো।লজ্জা স্থানের হেফাজত করিলো এবং স্বামীর আনুগত্য করিলো,সে জান্নাতের যেই দরজা দিয়ে ইচ্ছা সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করিতে পারিবে।–(মেশকাত)।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ)এর নিকট একদা একজন মহিলা আসিয়া অভিযোগ করিয়া বলিলো,আমার স্বামী সাফয়ান ইবনে মুয়াত্তাল(রাঃ) নামায পড়িলে আমাকে মারে।রোজা রাখিলে ভাঙ্গিয়া ফেলিতে বলে।সে সুর্য উদয় হইলে ফজরের নাময পড়ে।“মহিলার স্বামী তখন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন,রাসুল(সঃ) তাকে তার স্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন,সে বলিলো হে আল্লাহর রাসুল!সে নামায পড়িলে আমি মারধর করি কারন,সে প্রত্যেক রাকাতে দুটি করিয়া সুরা পড়ে এবং আমি তাকে এইভাবে পড়িতে বারন করি।গুজুর (সঃ) বলিলেন,একটি সুরাই যথেষ্ট।সে আবার বলিলো,রোজা ভাঙ্গিয়া ফেলিতে বলি,কারন হইলো সে একাধারে রোজা রাখিতে থাকে।এই দিকে আমি যুবক মানুষ,ধৈর্য রাখিতে পারিনা।হুজুর(সঃ) বলিলেন,স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতীত রোজা(নফল) রাখিতে পারেনা।অতপর সে বলিলেন,সুর্য উদয় হইলে ফজরের নামায পড়ার কারন।আমরা ওই গোত্রের লোক যাদের সম্পর্কে সবাই জানে যে,আমরা সুর্য উদয়ের পুর্বে ঘুম হইতে জাগিতে পারিনা।হুজুর(সঃ) বলিলেন,হে সাফয়ান!যখনই ঘুম হইতে জাগিবে তখনই নামায পড়িয়া নিবে।–(আবু দাউদ)।

এই হাদীস দ্বারা পরিস্কার হইয়া যায় যে,ফরজ নামায থেকে যদিও স্ত্রীদের বিরত থাকিতে বাধ্য করা যাইবেনা।কিন্তু নফল নামায পড়িবার বেলায় স্ত্রীগনও স্বামীর প্রয়োজনের প্রতি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে।দ্বীনদারীর অতি উৎসাহে লম্বা লম্বা সুরা পড়া পরিহার করিতে হইবে।নফল নামায নফল রোজা স্বামীর উপস্থিতিতে স্বামীর অনুমতি ব্যতিত রাখা ঠিকনা।–(রাহে আমল।)

সাওবান (রাঃ) হইতে বর্নিত।তিনি বলেন,যখন ক্বোরানের এই আয়াত নাজিল হয়“ওয়াল্লাজিনা ইয়াকনিজু নাজ্জাহাবালখা”তখন আমরা রাসুল(সঃ)এর সাথে কোন এক সফরে ছিলাম।আমাদের কেউ কেউ বলিলো,সোনা-রূপা জমা করার বিষয়ে এই আয়াত নাযিল হইয়াছে।মনে হইতেছে সোনা-রুপা জমা করা উত্তম নয়।আমরা যদি জানিতে পারিতাম কোন সম্পদ উত্তম তাহা হইলে ঐ সম্পদই সংগ্রহ করিতাম।এ কথা শুনিয়া রাসুল(সঃ) বলিলেন,“সর্বোত্তম সম্পদ হইলো আল্লাহকে স্মরন কারী জিহবা।কৃতজ্ঞ অন্তর ও মুমিনা স্ত্রী,যে আল্লাহর পথে স্বামীকে সাহায্য করে।”-(তিরমিজি)।

হযরত আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,তিন ব্যক্তির এবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়না।(১)যে ব্যক্তি মানুষের নেতৃত্ব করে,অথচ মানুষ তার উপড় সন্তুষ্ট নয়।(২)যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে রক্তের সম্পর্কচ্ছেদ করে।(৩)যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট কিন্তু সে সুখনিদ্রায় বিভোর।–(বোখারী)।

নবী করিম(সঃ) বলেন,আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন সেই মহিলার দিকে দৃষ্টি দিয়া তাকাইবেনা,যে স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা।অথচ স্ত্রী কোন সময়ই স্বামীর মুখাপেক্ষী ব্যতিত থাকিতে পারেনা।–(নাসায়ী)।

রাসুলে আকরাম (সঃ) বলেন,মুমিনের জন্য খোদা ভীতির পরে সর্বাধিক উপকারী ও কল্যানকর বিষয় হইতেছে স্বতী-স্বাধ্বী স্ত্রী।স্বামী তাকে কোন কাজ করিতে বলিলে সে প্রফুল্লচিত্তে তা সম্পাদান করে।আর যখন সে তার প্রতি তাকায় তখন তার মন খুশিতে ভরিয়া যায়।যখন তার ভরসায় কোন কসম খাইয়া বসে,তখন সে তা পুর্ন করে।স্বামী যখন সফরে চলিয়া যায়,তখন সে তার নিজের ইজ্জত আবরুর হেফাযত করে।স্বামীর ধন-সম্পদ দেখাশোনার কাজে স্বামীর হিতাকাংখী ও বাধ্য থাকে।–(ইবনে মাজাহ)।

হুজুর (সঃ) যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে(রাঃ) ইয়ামেনের আমীর করিয়া পাঠাইয়াছিলেন,তখন সেইখানে এক বৃদ্ধা মহিলা আসিয়া প্রশ্ন করিলো,আপনি রাসুল(সঃ)এর প্রতিনিধি,আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করিতে চাই।মুয়াজ(রাঃ) বলিলেন,প্রশ্ন করুন।মহিলা বলিল,স্ত্রীর উপড় স্বামীর হক কতটুকু?হযরত মুয়াজ (রাঃ) বলিলেন,যথা সম্ভব আল্লাহকে ভয় করিয়া(অর্থাৎ কোন প্রকারেই স্বামীকে কষ্ট দেওয়া যাইবেনা এতে আল্লাহ নারাজ হন) স্বামীর অনুগত্য করিবে অর্থাৎ স্বামীর মন মতন চলিবার চেষ্টা করিবে।হে মহিলা,শুনে রাখুন,আপনি আপনার স্বামীর দায়িত্ব থেকে কোন অবস্থায়ই নিস্কৃতি পাইতে পারেন্না।যদি কুষ্ঠ রোগে আপনার স্বামীর দেহ পঁচিয়া ফাটিয়া যায়,রক্ত ও পুঁজ সেইখান হইতে পড়িতে থাকে আর আপনি তাতে মুখ লাগাইয়া চুষিয়া চুষিয়া নেন,তবুও আপনি স্বামীর হক আদায় হইয়াছে বলিয়া দাবী করিতে পারিবেন্না অর্থাৎ স্বামীর হক পুরোপুরি আদায় হইবেনা।–(মুসনাদে আহমদ,সীরাত ইবনে হিশাম,সীরায়ে আনসার)।হযরত মুয়াজ বিন জাবাল হইলো সেই মর্তবার সাহাবী যাহাকে নবী করীম(সঃ) দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় ফতোয়া দেওয়ার অনুমতি দিয়াছিলেন।বড় বড় অনেক সাহাবী উনার কাছ হইতে ফতোয়া জানিয়া নিতেন।বলা হইয়াছে উম্মতের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হইলো হযরত মুয়াজ বিন জাবাল এবং কেয়ামতের দিন সকল জ্ঞানী ব্যক্তি হযরত জাবালের চাতার নিচে অর্থাৎ

নেতৃত্বে অবস্থান করিবে।–(আসহাবে রাসূল(সঃ))।

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ননা করেন,রাসুল(সঃ) একবার নারীদেরকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন,হে নারী সমপ্রদায় তোমরা (বিশেষ ভাবে) সদকা-খয়রাত কর এবং বেশী বেশী এস্তেগফার(আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) কর।কেননা আমি জাহান্নামীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশী দেখিয়াছি।এই কথা শুনিয়া সাহস করিয়া এক মহিলা বলিয়া উঠিল,কেন ইয়া রাসূলূল্লাহ!আমরা কি অন্যায় করিলাম? তখন রাসূল(সঃ) বলিলেন,পারস্পারিক কথা বার্তায় একে অপরের অভিসম্পাত(অর্থাৎ এক মহিলা অন্য মহিলাকে সামান্য কারনে গালি গালাজ এবং আল্লাহর নিকট বদদোয়া বেশী করিয়া থাকে) করার অভ্যাস তোমাদের মধ্যে বেশী।এছাড়াও তোমরা তোমাদের স্বামীদের প্রতিও বেশী না শুকুরী কর(অর্থাৎ স্বামীগন যতই করুক স্ত্রীদের মন সন্তুষ্ট করতে পারেনা কোন কারনে না কোন কারনে স্ত্রীরা স্বামীদের উপর অসন্তুষ্ট থাকিয়াই যায়)।এবং ধর্ম কর্ম ও বিচার বুদ্ধিতে তোমরা অপক্ব অর্থাৎ দুর্বল হওয়া সত্বেও (আল্লাহ ক্বোরান শরিফে বলিয়াছে দুই জন মহিলা সমান একজন পুরুষ) একজন চালাক ও বুদ্ধিমান পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করিতে আমি তোমাদের মত অন্য কাউকেও দেখিনা।–(বোখারী শরিফ ও মুসলিম শরিফ) ।

স্ত্রীর অন্যতম আদব হইলো,সে কোন অবস্থায়ই স্বামীকে পীড়ন করিবেনা।হযরত মোয়ায বিন জাবাল(রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন, দুনিয়াতে যখন কোন স্ত্রী তার স্বামীকে পীড়ন করে,তখন তার বেহেস্তী হুর স্ত্রীগন দুনিয়ার স্ত্রীকে বলে তোমর ধ্বংশ হউক।তুমি তাকে পীড়ন করিওনা।সেতো তোমার কাছে মুসাফির,অতি সত্বরই সে তোমার কাছ হইতে আমাদের নিকট চলিয়া আসিবে। (এহইয়াউ উলুমিদ্দিন-ইমাম গাজ্জালী)।

স্বামীর মর্যাদা সম্বন্ধে হাদীসে আছে,একদিন হজুর(সঃ) সাহাবাগন সহ কোন এক জঙ্গলে বেড়াইতে গিয়াছিলেন।তখন কতগুলো উট এবং হরিন আসিয়া নবী(সঃ)কে সেজদা করিলো।তাহা দেখিয়া সাহাবীরা আরজ করিলো ইয়া রাসুলুল্লাহ(সঃ) এই সব পশু আপনাকে সেজদা করিয়া ভাগ্যবান হইতেছে আমাদেরও ইচ্ছা আমরা আপনাকে সেজদা করি।তখন হুজুর(সঃ) বলিলেন,আল্লাহ ছাড়া যদি কাউকে সেজদা করিবার অনূমতি দিতাম তাহা হইলে হুকুম করিতাম প্রত্যেক স্ত্রীরা যেন তাদের স্বামীদেরকে সেজদা করে।কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকেও সেজদা করিবার নিয়ম নাই।–(মেশকাত)।

স্বামীর মর্যাদা সম্মন্ধে এই হাদীসটাই যথেষ্ট।“হযরত আবু বকরের কন্যা,হযরত আসমা বিনতে আবু বকর(রাঃ) বলেন,একদিন আমি খেজুরের বিচির বস্তা মাথায় করিয়া আসিতেছিলাম পথিমধ্যে নবী করিম(সঃ)এর সাথে দেখা হইয়া গেল উনার সাথে সাহাবীরাও ছিল।তিনি তাঁর উটকে বসাইলেন এবং আমাকে উনার পিছনে বসিবার জন্য বলিলেন,কিন্তু আমি পুরুষদের সাথে চলিতে লজ্জা বোধ করিলাম এবং আমার সামনে আমার স্বামীর আত্নমর্যাদা ভাসিয়া উঠিল।কারন আমার স্বামী ছিল অত্যান্ত আত্নমর্যাদবোধ সমপন্ন ব্যক্তি।তাই আমি হুজুর(সঃ) এর সাথে সওয়ার হইলামনা”।নবী করিম(সঃ) এর নিকট কোন মহিলার পর্দা করা ফরজ ছিলনা।তিনি ছিলেন সকল নারীর জন্য মহররম ব্যক্তি।আর উনার সাথে সওয়ার হওয়াতো অনেকে ভাগ্যের বেপার বলিয়া মনে করিতেন।কিন্তু হযরত আসমা স্বামীর সম্মানের দিকে তাকাইয়া সওয়ারিতে উঠিলেন্না।অথচ নবী করীম(সঃ) যখন মদীনা হিজরত করিলেন এবং পথে কাফেরদের নিকট ধরা পরিবার ভয়ে যেই গুহায় লুকায়াছিলেন সেই গুহায় এই আসমা প্রতিদিন উনাদেরকে খাবার দিয়া আসিতেন।উনার স্বামী ছিলেন একজন শহীদ এবং দুনিয়াতে জান্নাতের টিকিট পাওয়া দশজনের এক জন।এবং তার সন্তানও ছিল একজন শহীদ।ছেলেকে নিজের সামনে অত্যাচারিরা কাটিয়া ছিলেন এবং উনি সবর করিয়াছিলেন।–(এহইয়াউ উলুমিদ্দিন-ইমাম গাজ্জালী ও আসহাবে রাসুল)।আর বর্তমান স্ত্রীদের অবস্থা হইল স্বামীর নিষেধ থাকা সত্বেও অন্য বেগানা পুরুষের সাথে কথা বলিতে কোন বাধা হয়না।অনেক স্ত্রীরা বলে স্বামী কাছে নাই তাই ঠিক মত চলা যায়না।এই কথাটা,কোন অবস্থায়ই ঠিকনয়,কারন এই কথায় বুঝাযাইতেছে যার স্বামী মারা যায় তার জন্য পর্দা করা কিংবা শরিয়ত মতন চলা সম্ভব হয়না।যারা এই সব করে আর্থাৎ বিভিন্ন উচিলা খুজিয়া শরিয়তের হুকুম অমান্য করে তারাত নিশ্চিত গোমরাহী মাঝে আছে-নাউজু বিল্লাহ।

নবী (সঃ)এরশাদ করিয়াছেন তিন ব্যক্তির এবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়না।(১)যে গোলাম মনিবের কাছ হইতে পালাইয়া গিয়াছে,সে ফিরিয়া আসা না পর্যন্ত।(২)নেশাখোর ব্যক্তি সে নেশা ছাড়িয়া দেওয়া না পর্যন্ত।(৩)সেই স্ত্রী যার উপড় তার স্বামী অসন্তুষ্ট,সেই স্ত্রীর এবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হইবেনা যতক্ষন না পর্যন্ত তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট না হইবে।–(মেশকাত)।

স্বামী-স্ত্রীর হক যেই স্থানে সমান বলিয়া থাকে তাহা হইলো স্বামী যদি ভাল কাপড় পড়িধান  করে তাহা হইলে স্ত্রীকেও ভাল কাপড় দেওয়া।স্বামী যদি ভাল খাবার খায় তাহা হইলে স্ত্রীকেও ভাল খাবার দেওয়া।স্বামী যদি ভাল বিছানায় শোয় তাহা হইলে স্ত্রীকেও ভাল বিছানায় শোয়ানো।স্ত্রীর সাথে হাসি খুশি ভাবে থাকা।অন্যায় ভাবে স্ত্রীকে প্রহার না করা ইত্যাদি।

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার যদি সমান হইত তাহা হইলে আল্লাহ মহিলাদেরকেও তাহাদের স্বামীদেরকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিতেন কিন্তু কোন মহিলাদেরকে অধিকার দেওয়া হয় নাই সে তার স্বামীকে তালাক দিতে পারিবে।ইসলামে মহিলাদের তালাক জায়েজ নাই।হাদীসে আসেছ নবী করীম(সঃ) বলিয়াছেন,উনুনে হাড়ী চরানো অবস্থায়ও যদি স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে(সহবাসের জন্য)।তখন যেন স্ত্রী তাৎক্ষনিক ভাবে সাড়া দেয় যদি সে পবিত্র অবস্থায় থা্কে-(তিরমিঝি)।কিন্তু হায়েজ অবস্থায় সহবাস করা জায়েজ নাই যদি স্বামী আহবান করে তবুও।পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ হয়েছে.“হায়েজ নেসাফ অবস্থায় তোমরা স্ত্রী সঙ্গম করিওনা।(গোসল করে)পবিত্র হওয়ার আগে(সঙ্গমের জন্য)তার ধারে কাচেও যেওনা-(সুরা-বাকারা-২২২)।হাদীসে আছে নবী(সঃ) বলেছেন,যে হায়েজ অবস্থায় এবং বাহ্যদ্বার দিয়ে সঙ্গম করে সে অভিসপ্ত-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))।ওলামাদের মতে কোন হালাল কাযে যেমন স্বামীর বিরুদ্বাচরন করা যাবেনা তেমনি কোন হারাম কাজে কোন শরিয়ত বিরোধী কাজেও স্বামীকে সহযোগিতা করা যাবেনা-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))।নবী(সঃ) বলিয়াছেন,কেয়ামতের দিন নারী সর্ব প্রথম জিজ্ঞাসিত হবে নামায এবং তাদের স্বামীদের বেপারে-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))।একবার হুসাইন ইবনে মুহসেনের ফুফু রাসুল(সঃ) এর নিকট তার স্বামী সম্মদ্বে অভিযোগ করিলে,তিনি বলিলেন,ভেবে দেখ তুমি তার থেকে কত টুকু মর্যাদা সম্পন্ন।মনে রেখ সে তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম-(নাসায়ী)।হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ) বলেন,সর্বদা স্বামীর উপর নির্ভরশীল হয়েও যে স্ত্রী স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ নয় আল্লাহপাক তার প্রতি সু-দৃষ্টি দিবেন্না-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))। নবীদের স্ত্রীরা ও সন্তানরাও অনেকে জাহান্নামে যাইবে কিন্তু কোন নবী কি জাহান্নামে যাইবে নাউযুবিল্লাহ এইটা কল্পনা করাও পাপ।এইবার একটু চিন্তা করার দরকার বর্তমানে মহিলারা কোন পর্যায়ে আছে।কোন কিতাব,হাদিস বই কিংবা ক্বোরান শরিফের কোথায়ও পাওয়া যায় নাই যে,মেয়েরা বিয়ের পর মা বাবার কথা মতন চলিবে,মা বাপের খেদমত শুধু মাত্র ছেলেদের জন্য ফরজ করা হইয়াছে।মেয়েদের জান্নাতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ হইলো ইমানদার স্বামীর আনুগত্য করিয়া চলা।আর জাহান্নামে যাওয়ারও সবচেয়ে সহজ পথ হইলো স্বামীর নাফরমানী করা।হযরত আয়শা ছিদ্দিকা(রাঃ) বলেন,ওহে নারী সমপ্রদায়!তোমরা যদি জানিতে তোমাদের উপর স্বামীদের কি হক আছে।তাহা হইলে মেয়েরা সবাই আপন গাল ও চেহারা দিয়ে স্বামীর পা মুছিয়া দিতে-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))।

এখন যাহারা স্ত্রী স্বাধীনতাকে কিংবা পুরুষ-মহিলার সমান অধিকার জায়েজ করিবার জন্য উঠিয়া পরিয়া লাগিয়াছেন এবং সেই উদ্দেশ্যে নানা প্রকার অবান্তর যুক্তি প্রমানের অবতারনা করিয়া থাকেন।তাদের এই সব যুক্তিতর্ক সম্পুর্ন ভিত্তিহীন এবং শরিয়ত বিরোধী এমন কি অসৎ উদ্দেশ্য প্রনোদিত,ইহাই ক্বোরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয়।বর্তমানে নারী প্রগতির শ্রোত যেই ভাবে প্রবাহিত হইয়াছে এবং পুরুষের সহিত ‘সমান তালে পা’ ফেলিবার যেরূপ আরম্ভ হইয়াছে,তাহা বাস্তবিকই গর্হিত এবং অন্যায় না বলিয়া পারা যায় না এবং এই সব করিয়া কি নারীরা তাদের তথাকথিত সমান অধিকার পাইয়াছে!পায় নাই এবং পাইবেওনা কারন আল্লাহ তাদের জন্য যাহা করেন নাই তাহারা তাহাই করিতে চায়,ইহা সুস্পষ্ট আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধাচরন এবং আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধাচরন করিয়া কেহই সফল হইতে পারিবে না।তাই নারীদিকগে গৃহ-ধর্মের উপযোগী করিয়া গঠন না করিয়া পুরোচিত কার্যের দিকে টানিয় আনা অস্বাভাবিক বই আর কিছুই নহে।ইহাতে নারীদেরকে তাদের স্থান হইতে অপেক্ষাকৃত অযোগ্যস্থানে ফেলিয়া দিয়া তাহাদের জীবনকে দুঃখময় এবং যন্ত্রনাময় করিয়া তোলা হইতেছে।যাহা নারী জাতীর জন্য শোভনীয় নয় এবং ইসলামও এই স্বেচ্চাচার সমর্থন করেনা।যাহারা এই সব অভিনব মত ও পথ আবিষ্কার করিতেছেন,তাহারা ইসলামের আদর্শ হইতে বিচ্যুত ইহাতে কোন সন্দেহ নাই।

পরিশেষে ইহাই প্রমানিত হইতেছে যে,নারী কল্যানের জন্য এক মাত্র উপায় হইতেছে ক্বোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পদ্ধতী চালানো এবং সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আইন  মানিয়া চলা।আর ইহাতেই দুনিয়া এবং আখেরাতের মুক্তির এক মাত্র উপায়।আল্লাহ সবার সহায় হউন এবং সবাইকে ইসলামী জীবন পদ্ধতীতে চালানোর তৈফিক দান করুন-আমিন।

লেখকঃ আতাউর রহমান।

(পুর্বে এই লেখাটি এই ব্লগে প্রকাশিত- www.boiag.com )

আগের পর্ব গুলু-১ম-http://www.islamicambit.com/tune-id/3563/

২য়-http://www.islamicambit.com/tune-id/3570

 

Leave a Reply