ইসলামে হেজাব বা পর্দা প্রথা এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহঃদ্বিতীয় পর্ব(নারী ও পুরুষের পর্দা)

                                                              “بسم الله الرحمن الرحيم”

এই পর্বে আমি নারী ও পুরুষের পর্দা নিয়ে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।

পুরুষের দৃষ্টি এবং পর্দাঃ– পর্দা করা ফরজ।আর পর্দা কথা আসলেই প্রথমে আসে চক্ষুর কথা।চক্ষু মানুষেরএকটি প্রধান ইন্দ্রিয়।চক্ষু দ্বারা মানুষের দর্শন কার্য সমাধা হয়।আরসংসারের অধিকাংশ পাপের মুলেই এই চক্ষু।কারন চক্ষুই প্রথমে দর্শন করিয়াবস্তু সম্মন্ধে জ্ঞান আনয়ন করে এবং মনে বাসনার সৃষ্টি করে আর বাসনা হইতেইভোগের উৎপত্তি হয়।আর ভোগ শরিয়ত সম্মত না হইলেই পাপ হয়।মানুষের মনে যত ভালকিংবা খারাপ বাসনার জন্ম হয় সবই এই চক্ষুর সৃষ্টি।চক্ষুকে সংযত ও শাসনকরিয়া রাখিতে না পারিলে সে বহু পাপের খোজ করিয়া দেয়।কারন চক্ষুই বাসনারগুপ্তচর।চক্ষুর এই অসংযত আচরনে সংসারে বহু মানুষ পাপের দরিয়ায় ডুবিয়ামরিয়াছে।
তাই আল্লাহ মানুষকে সর্তক করিয়া পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ করিয়াছেন,“মুমিনপুরুষদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযতকরে,এতে তাদের জন্য পবিত্রতা আছে,নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তাহা অবহিতআছেন।(সুরা-আন নুর-৩০)। এই আয়াতে মুমিন পুরুষদেরকে বলা হইয়াছে তাহারা যেনতাদের দৃষ্টি নত রাখে।এই আয়াত দ্বারা প্রমান হয় যে,পুরুষ নারীদের প্রতিকু-দৃষ্টি দেওয়া হারাম,যেহেতু দৃষ্টি জিনার সংবাদ বাহক তাই এখানে প্রথমেদৃষ্টি নিয়ন্ত্রন করার হুকুম প্রধান করা হইয়াছে।ইমাম আবু হানীফা(রঃ)বলিয়াছেন,কোন স্ত্রী লোক অন্য পুরুষের প্রতি এবং কোন পুরুষ অন্য মেয়ে লোকেরপ্রতি পুর্ন দৃষ্টি দেওয়া জায়েয নহে।কেননা আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন,নিশ্চয়কর্ন,চক্ষু এবং সমস্ত সন্তকরন কেয়ামতে জিজ্ঞাসিত হইবে তার কৃতকর্মেরবেপারে।
নবী(সঃ) বলিয়াছেন,যখন কোন বেগানা মহিলার উপর হঠাৎ দৃষ্টি পরিয়া যায় তখনসাথে সাথে দৃষ্টি ফিরাইয়া নিবে,দ্বিতীয় বার আর দৃষ্টি দিবেনা কারন প্রথমদৃষ্টি তোমার আর দ্বিতীয় দৃষ্টি শয়তানের।হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হইতেবর্নিত,নবী (সঃ) বলিয়াছেন,আদম সন্তানের উপর আংশিক জেনা(ব্যভিচার) লিখিতহইয়া থাকে এবং নিশ্চয় তাহারা উহার প্রতিফল ভোগ করিবে।যেমন-চক্ষুদ্বয়েরজেনা,পরস্ত্রীর প্রতি কামভাবে দৃষ্টি করা।কর্নদ্বয়ের জেনা,কামস্পৃহা হইয়াপরস্ত্রীর কন্ঠস্বর শ্রবন করা।রসনার জেনা,পরস্ত্রীর প্রতি কামভাবেবাক্যালাপ করা।হস্তের জেনা,কামভাবে পরস্ত্রীকে স্পর্শ করা।পায়েরজেনা,পরস্ত্রীর দিকে কামভাবে অগ্রসর হওয়া।হৃদয়ের জেনা,পরস্ত্রী সম্বন্ধেকুচিন্তা করা।আর লজ্জাস্থান এই সকলের সত্য মিথ্যা প্রমান করিয়া দেয়।(বোখারীও মুসলীম)।
হযরত আবু ইমামা হইতে বর্নিত,হুজুর(সঃ) বলিয়াছেন,কোনও ইমানদার ব্যক্তিপরস্ত্রীর সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি করিয়া স্বীয় চক্ষুদ্বয় নিম্নগামীকরিলে।আল্লাহ তায়ালা তাহাকে একটি পুন্য কার্য্যের প্রতিফল দান করেন,সে উহারমাধুর্য্য অন-রে অনুভব করিতে থাকিবে।(তেবরানী ও হাকেম)।নবী করিম(সঃ)বলিয়াছেন,যে ব্যক্তি পরস্ত্রীর সৌন্দর্য্যের প্রতি কামদৃষ্টি নিক্ষেপকরিবে,কেয়ামতের দিন তাহার চক্ষে গরম শিশা ঢালিয়া দেওয়া হইবে(হেদায়া।)
যাহা হউক,উপরে বর্নিত আয়াত এবং হাদীস দ্বারা ইহাই প্রতিয়মান হয় যে,কোনপুরুষ কোন বেগানা মহিলার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া জায়েজ নাই।যদিও অসাবধানতা বশতদৃষ্টি পরিয়া যায় তা হইলে অবশ্যই সাথে সাথে দৃষ্টি পিরাইয়া নিতেহইবে।ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন পুরুষেরই বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া জায়েজনাই।
মহিলাদের দৃষ্টি এবং পর্দাঃ- ইরশাদ হচ্ছে,“ইমানদার নারীদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখেএবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে।তারা যেন যা সাধারনত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদেরসৌন্দর্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলিয়ারাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী,পিতা,শ্বশুর,নিজ পুত্র,স্বামীরপুত্র(অর্থাৎ সতীন পুত্র),ভ্রাতা,ভ্রাতুষ্পুত্র,ভগ্নি পুত্র,অধিকার ভুক্তবাদীঁ,যৌন কামনা মুক্ত পুরুষ ও বালক,যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কেঅজ্ঞ,তাদের ব্যতিত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করিবার জন্য জোরেপদচারানা না করে।মুমিনগন,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর যাতে তোমরাসফলকাম হও’।(সুরা-আন নুর-৩১)।
এইখানে মুমিনা নারীদেরকে বলা হইয়াছে তাহারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে।এইআয়াত দ্বারা প্রমান হয় যে,নারী পুরুষদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হারাম,যেহেতুদৃষ্টি জিনার সংবাদ বাহক তাই এখানে প্রথমে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রন করার হুকুমপ্রধান করা হইয়াছে।তারপর বলা হইয়াছে কিছু সংখ্যক আত্নীয়ের সম্বন্ধে যাহাদেরসামনে সাধারন কাপড় পড়া(অর্থাৎ পুর্ন পরদা করা ব্যতিত) অবস্থায় যাওয়াযাইবে।এই ছাড়া পৃথিবীর কাহারো নিকট পুর্ন পর্দা করা ব্যতিত যাওয়া যাইবেনাসে যত বড় আত্নীয়ই হোক কিংবা যত পরিচিতই হোকনা কেন।তাহারা সবাই বেগানাপুরুষ।তাহাদের সামনে যাওয়া হারাম।এথন জানা দরকার বেগানা পুরুষ কাহাকেবলে।স্বামীর মৃত্যুর পর যেই সমস্ত পুরুষের সাথে বিয়ে হালাল অর্থাৎ যেইসমস্ত পুরুষের সাথে বিয়ে বসা শরিয়তে জায়েজ তাহা দিয়কে বেগানা পুরুষ বলে।পিতা,শ্বশুর,নিজ পুত্র,স্বামীর পুত্র(অর্থাৎ সতীনপুত্র),ভ্রাতা,ভ্রাতুষ্পুত্র,ভগ্নি পুত্র,আপন চাচা,আপন মামা,আপন দাদা(উপরেযা যত আছে অর্থাৎ দাদার দাদা তার দাদা তার দাদা ইত্যাদি),আপন নানা(ইহাওদাদার মতন উপরে যত আাছে)দুধ ভাই,দুধ ছেলে,এই সমস্ত লোক হইলো মহররম ব্যাক্তিঅর্থাৎ স্বামী মৃত্যুর পরও এই সমস্ত লোকের সাথে কোন মহিলার বিয়ে জায়েজনাই।এই ছাড়া পৃথিবীতে আর বাকী যত পুরুষ আছে সবাই বেগানা পুরুষ সবার সাথেবিয়ে জায়েজ আছে।বেগানা পুরুষের মাঝে কিছু লোক আছে যাহাদেরকে গায়রে মহররমবলা হইয়া থাকে,অর্থাৎ তাদের সাথেও বিয়ে জায়েজ,তবে শর্ত অনুযায়ী।যেমন আপনবোনের জামাই,যতক্ষন পর্যন্ত বোন ঐ স্বামীর ঘর করে ততক্ষন পর্যন্ত বিয়েজায়েজ নাই,কিন্তু বোন মারা গেলে কিংবা তালাক দিলে তাকে বিয়ে করা জায়েজ হইয়াযায়,অর্থাৎ কোন পুরুষ একই সাথে দুই আপন বোনকে বিয়ে করিতে পারিবেনা।তারপরেআপন খালু,ইহাও ভগ্নি পতির মতনই,যদি খালা মারা যায় কিংবা তালাক হইয়া যায়তাহা হইলে খালুর সাথেও বিয়ে বসা মহিলাদের জন্য জায়েজ।তেমনি ভাবে ফুফাও।তারপরে মনে রাখা দরকার পিতার আপন চাচাত ভাইয়ের সাথেও বিয়ে জায়েজ।হযরতআলি(রাঃ) ছিল ফাতেমার চাচা অর্থাৎ নবী(সঃ) এর আপন চাচাত ভাই।তাই তাহাদেরসামনেও সবসময় পরদা করা প্রত্যেক মহিলার জন্য ফরজ।অর্থাৎ মহররম পুরুষ ছাড়াপৃথিবীর সব পুরুষের সাথেই মহিলাদের বিয়ে হালাল বা জায়েজ এবং তাদের সামনে
সবসময় প্রত্যেক মহিলার পরদা করিয়া চলা ফরজ।যাহারা আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহরআযাবকে ভয় করে তারা অবশ্যই আল্লাহর হুকুম মানিয়া চলিবে।মনে রাখা দরকার যেইসমস্ত কারনে মহিলাদের জাহান্নামে যাইতে হইবে,তার ভিতরে মহিলাদেও বেপর্দায়থাকা একটি।পৃথিবীতে এমন অনেক মহিলা আছে যাহারা বড় বড় ব্যাবসায়ী ছিল কিন্তুতাহারা কোনদিন বিনা পর্দায় চলে নাই।এখন উপরে উল্লেখ্যিত আলোচনার প্রেক্ষিতেসবাই নিজের অবস্থাটা একটু চিন্তা করিয়া লওয়া দরকার যে কে কতটুকু আল্লাহরহুকুম পালন করিতেছি।জান্নাতে যাওয়া বড়ই কঠিন, শুধু নামায রোজা করিলেইজান্নাতে যাওয়া যাইবেনা।এই ছাড়াও বহু কারন আছে যার কারনে জাহান্নামে যাইতেহইবে।এখন আসা যাক মুল কথায়,আয়াতের প্রথমে বলা হইয়াছে “ইমানদার নারীদেরকেবলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে”।এইখানেইমানদার নারী বলা হইয়াছে এই কারনে যে,যারা জান্নাতের আশা করে তারা যেন এইআদেশ গুলো মান্য করিয়া চলে।আর যাহারা জান্নাতের আশা করে তারা অবশ্যইইমানদার মহিলা অর্থাৎ মুসলমান মহিলা।পুরুষরা যেমন কোন মহিলার দিকে দৃষ্টিদেওয়া বা দেখা জায়েজ নাই তেমনি কোন নারীও কোন পুরুষকে দেখা জায়েজ নাই।এরপক্ষে হাদীস হইলো,উম্মুল মুমেনিন হযতর উম্মে সালামা (রাঃ) হইতে বর্নিত,তিনিবলেন,একদিন আমি এবং মায়মুনা(রাঃ) উভয়েই হুজুরের(সঃ) সাথে ছিলাম এমন সময়অন্ধ সাহাবী হযরত উম্মে মাকতুম(রাঃ) সেইখানে আসিলেন,তখন নবী (সঃ) আমাদেরকেপরদা করিবার জন্য নির্দেশ দিলেন।তখন আমি আরয করিলাম,ইয়ারাসুলুল্লাহ(সঃ),উনিত অন্ধ উনিত আমাদেরকে দেখিতে পাইবেনা।তখন নবী(সঃ)বলিলেন,তোমরাওকি অন্ধ তোমরাওকি তাহাকে দেখিতে পাওনা অর্থাৎ তোমরাতো তাহাকেদেখিতেছ!(আবু দাউদ ও তিরমিঝি)।উম্মুল মুমেনীনগন অর্থাৎ নবী করিম(সঃ) এরপুন্যবতী বিবিগন উম্মতের জননী,কোন মুসলমানের পক্ষে হালাল নয় উনাদেরকে বিয়েকরা।তথাপিও নবী করিম(সঃ) একজন অন্ধ সাহাবী হইতে স্ত্রীদেরকে পরদা করিতেআদেশ করিয়াছেন।ইহাতে বুঝা গেল কোন নারীর জন্য জায়েজ নাই কোন বেগানা পুরুষকেদেখা তাহা হইলে তাদেরও নাম দাইউজের খাতায় লেখা হই্‌বে আর দাইউজের জন্যজান্নাত হারাম করা হইয়াছে।অতএব এই বেপারে সাবধান হওয়া উচিত।আর কোন পুরুষেরওউচিত হইবেনা নিজ স্ত্রীকে বিনা কারনে বাহিরে যাইতে দেওয়া,কিংবা কোন বেগানাপুরুষের সামনে প্রেরন করা।স্বামীর কারনে কোন স্ত্রী দাইউজ হইলে সেইস্বামীও জাহন্নামী।এই কারনে হযরত আলী(রাঃ) বলিতেন,তোমাদেরকি লজ্জা বলিতেকিছু নাই?তোমাদের কি আত্মমর্যাদাবোধ নাই,তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে মানুষেরমাঝে ছাড়িয়া দাও,আর তারা বেগানা পুরুষদেরকে দেখে এবং বেগানা পুরুষরাওতাহাদেরকে দেখে(কিতাবুল কাবায়ের—ইমাম আযযাহাবী(রঃ)।
বলা হয়েছে “পুরুষদের ভিতরে যাহারা স্ত্রীলোক সম্বন্ধে অনাসক্ত তাহাদের নিকটসৌন্দর্য প্রকাশ করিতে কোন দোশ নাই”।এই আয়াতের তাফছিরে অনেকে অনেক কথাবলিয়াছেন,যেমন আসক্তি বিহিন অর্থ ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলিয়াছেন,বর্বর ওনির্বোধ।হাসান(রঃ) বলিয়াছেন,স্ত্রী সহবাসে অক্ষম।কেহ বলিয়াছেন,নপুংষকইত্যাদি।কিন্তু তাফছিরে কবির প্রনেতা বলিয়াছেন,খাসীকৃত ও কর্তিত লিঙ্গপ্রভ্রতি প্রকারের ব্যক্তিরাও কখনো কখনো কামাসক্ত হইয়া থাকে।তিনি আরোলিখিয়াছেন যে,হযরত(সঃ) নপুংষক লোকের সহিত দেখা দিতে নিষেধ করিয়াছেন’।হেদায়াকিতাবে উল্যেখ আছে,‘খাসী কৃত কর্তিত লিঙ্গ এবং নপুংষককে দেখা দেয়াস্ত্রীলোকের পক্ষে জায়েজ নাই।অতএব,আসক্তি বিহীন পুরুষ নিয়া বিভিন্ন মতবেদআছে।তাছাড়া সঠিক ভাবে জানাও সম্ভব নয় কার আসক্তি আছে আর কার নাই এই অবস্থায়তাহাদের সাথে দেখা না দেয়াই উত্তম।
তারপর বলা হইয়াছে যৌনাঙ্গের হেফাযত করার জন্য।পৃথিবীতে যত জিনা হয় এবং এইজিনার বেপারে পুরুষদের থেকে নারীরা বেশী অগ্রগামী।অর্থাৎ নারীদের কারনেইবেশী জিনা হইয়া থাকে।কারন নারীদের দুর্বলতা না থাকিলে কোন পুরুষ জিনায়লিপ্ত হইতে পারিবেনা।এর প্রমান আল্লাহ পবিত্র ক্বোরাআন,ক্বোরানে যত জায়গায়বিভিন্ন অন্যায়ের বিচারের রায় দিয়াছেন,যেমন চুরি করিলে হাত কাটিতে হইবে,মদখাইলে দোররা মারিতে হইবে,কেউ জিনা করিলে,যদি অবিবাহিত হয় তবে দোররা মারিতেহইবে আর বিবাহিত হইলে পাথর চুড়িয়া মারিয়া ফেলিতে হইবে ইত্যাদি।আর ক্বোরআনশরিফে যত যায়গায় এই সমস্ত রায় দেওয়া হইয়াছে সেই সমস্ত জায়গায়ই পুরুষের কথাআগে বলিয়াছেন।কিন্তু একমাত্র জিনার বেপারে মহিলাদের কথা আগে বলাহইয়াছে।কারন জিনা একটি ঘৃনিত কাজ আর এই কাজ পুরুষের চেয়ে নারীদের কারনেবেশী সংঘঠিত হয় এই বেপারে নারীরাই অগ্রগামী।আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদকরিয়াছেন,“ব্যভিচারিনী নারী ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে একশত করেবেত্রাঘাত কর।আল্লাহর আইন কার্যকর করিতে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ারউদ্রেক না হয়।যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও এবংমুসলমানের একটি দল যেন তাহাদের শাস্থী প্রত্যক্ষ করে।(সুরা নুর-২)।এই আয়াতেআরো বলা হইয়াছে তাদেরকে মারিতে তোমাদের মনে যেন কোন দয়া না হয় এবং তাদেরকেযখন মারিবে তখন লোকদেরকে ডাকিয়া সমবেত করিবে এবং তাদের সামনে তাদেরকেদোররা মারিবে।জিনা হয় গোপনে কিন্তু এর বিচার হয় প্রকাশ্যে।এতে উপকার হয় এইযে,যারা জিনা করে তারা লোকের কাছে লজ্জায় পতিত হয় এবং যারা প্রত্যক্ষ করেতারাও সতর্ক হইয়া যায়।একটা কথা স্মরন রাখা দরকার জিনার উৎপত্তিই হয় বেপরদাহইতে। কিতাবে আছে যখন কোন বেগানা পুরুষ মহিলা একাকি মিলিত হয় অর্থাৎ কথাবলে তখন তাদের তৃতীয় জন হয় শয়তান।আল্লাহ ইরশাদ করেন “নিশ্চয় শয়তান মানুষেরপ্রকাশ্য শত্রু”(সুরা বাকারা-২০৮)।
তারপর বলা হইয়াছে,“তারা যেন ওড়না মাথার উপর দিয়া বক্ষ অর্থাৎ বুক সহ ডাকিয়ারাখে”।অর্থাৎ এমন ভাবে চাদর দ্বারা শরীলকে ডাকিয়া রাখিতে হইবে যেন তাদেরমুখ,বুক সহ সমস- শরীল কোন অবস্থায়ই কোন বেগানা পুরুষ না দেখিতে পারে।শুধুমহররম ব্যাক্তি গন(বাবা,ভাই,ছেলে ইত্যাদি) মূখ,হাতের পাতা,পায়ের পাতাদেখিতে পারিবে ইহা থেকে বেশী নয়।তারপর বলা হইয়াছে মহিলারাও অন্য মহিলার কাছহইতে পরদা করিতে হইবে।এক মহিলা অন্য মহিলার স্বাভাবিক অঙ্গ গুলোই দেখিতেপারিবে গোপন অঙ্গ দেখিতে পারিবেনা,এটা শুধু মুসলমান মহিলাদের জন্য কিন্তুকাফের মহিলারা যেমন হিন্দু মহিলাদের নিকটও মুসলমান মহিলাদের পুর্ন পর্দাকরিতে হইবে।তবে কোন চিকিৎসা করিতে হইলে কাফের মহিলারাও মুসলমান মহিলাদেরগোপন অঙ্গ দেখিতে পারিবে কোন অসুবিধা নাই।
রাসুল(সঃ) একবার হযরত ফাতেমা(রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করিলেন,বলোতো মা নারীর জন্যউত্তম কি?উত্তরে ফাতেমা বলিলেন,কোন নারী বেগানা পুরুষকে দেখিবেনা এবং কোনবেগানা পুরুষও তাকে দেখিবেনা।নবী(সঃ) তখন তাকে বুকে জরাইয়া ধরিয়া আদরকরিলেন-(এহইয়াউ উলুমিদ্দিন-ইমাম গাজ্জালী)।
হুজুর(সঃ) বলিয়াছেন নারীরা আল্লাহর অধিক নিকটে তখন যায়,যখন সে তার কক্ষেরঅভ্যন্তরে থাকে। অনেকে বলে মনের পরদাই বড় পরদা তাহারা হইল এক নাম্বারজাহেল।যদি মনের পরদাই সব কিছু হইত তাহা হইলে আল্লাহ ক্বোরান শরিফে এত আদেশনিশেধ কেন দিয়াছেন,কেন সব জিনিসের একটা সীমা টানিয়া দিয়াছেন,কেন শরিলেরপরদাকে ফরজ করিয়া দিয়াছেন।এইগুলো হইতেছে শয়তানি কথাবার্তা।অতএব এই সমস্তকথা বলিয়া আল্লাহর আদেশকে অমান্য করা ছাড়া আর কিছুই না।এতে যে কত বড় পাপ হয়মানুষ চিন্তা করিলে কোন কুল কিনারা পাইবেনা।তারাই অভিশপ্ত যারা আল্লাহরআইনকে অমান্য করে,যারা হারাম কাজে লিপ্ত থাকে।দোয়া করি আল্লাহ সবাইকেহেদায়েত নসীব করুন।
অন্য আয়াতে ইরশাদ করিয়াছেন,“হে নবী!আপনি আপনার পত্নীগনকে,কন্যাগনকে এবংমুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপরটানিয়া নেয়-(আল আহযাব-৫৯)।অতএব একটু চিন্তা করিয়া দেখি আমরা কি এই সবআল্লাহর আদেশ গুলি সঠিক ভাবে মানিয়া চলিতেছি।
এখন অনেকে বলিতে পারে বর্তমান জমানায় এত সব মানা সম্ভব নয়।এইটা নিতান্তমিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুইনয়। কারন আল্লাহ শুধু প্রথম যুগের নারীদের জন্যইপর্দার হুকুম জারি করেননাই।কেয়ামত পর্যন্ত এই আদেশ জারি থাকিবে।যদি বর্তমানযুগের নারীদের জন্য এই সমস্ত হুকুম মানা কঠিন হইত তাহা হইলে আল্লাহ এই সবআদেশ নিষেধ নাযিল করিতেন্না।এই সমস্ত ওজর শুধু মাত্র শয়তানী কাজ ছাড়া আরকিছুই নয়।বরং আগের দিনের মহিলারা বর্তমান যুগের মহিলাদের চেয়ে আরো কষ্টকরিয়া দিনাতিপাত করিতে হইয়াছিল।বর্তমান যুগে সব কিছু হাতের কাছে পাওয়াযায়।তখনকার যুগে এই সব কল্পনাও করা যাইতনা।তখন কার যুগে স্বামী সন্তানরাথাকিতো দিনের পর দিন জেহাদে।মহিলাদেরই সব করিতে হইত,ফসল বুনিতে হইতো,বাজারেযাইতে হইত,কেনা বেচাও তাদেরই করিতে হইত কিন্তু এমন কোন ইতিহাস নেই,এমন কোনপ্রমান নেই তারা বিনা পর্দায় এতসব করিয়াছেন কিংবা তাহাদের চেহারা কোনবেগানা পুরুষ কোনদিন দেখিয়াছেন।এমনও অনেক সাহাবী ছিল যাদের দাস দাসী ছিলকাফের,ইহুদী কিংবা খ্রীষ্টান যারা সব সময় পরিবারের সাথে উঠা বসা করিতে হইততারপরেও তাদের পর্দার এতটুও কমতি হইতনা।এর একটাই কারন তাদের ইমান মজবুত ছিলএবং তাদের ভিতরে আল্লাহর ভয়,জাহান্নামের ভয় সর্বদা বিরাজ করিত।
হযরত আলী(রাঃ) বলেন,একবার আমি ও ফাতেমা রাসুল(সঃ) এর সমীপে হাযির হইয়াদেখিতে পাইলাম,তিনি অত্যন্ত ব্যকুল হইয়া কাঁদিতেছেন।আমি নিবেদন করিলাম,ইয়ারাসুলুল্লাহ!আপনার তরে আমার মাতা পিতার জীবন উৎসর্গ হোক!আপনি কাঁদিতেছেনকেন?রাসুল(সঃ) বলিলেন,ওহে আলী!মেরাজের রাতে আমি আমার উম্মতের মহিলাদেরবিভিন্ন ধরনের শাস্তি পাইতে দেখিয়াছি,সেই কঠিন শাস্তি কথা স্মরন করিয়াকাঁদিতেছি।আমি দেখিয়াছি,এক মহিলাকে তার চুলের সাহায্যে লটকিয়ে রাখাহইয়াছে।তার মাথার মস্তক টগবগ করিয়া ফুটিতেছে।আর এক মহিলাকে দেখিয়াছি,তাহারজিহবা টানিয়া প্রলম্বিত করিয়া তার সাহায্যে তাকে লটকাইয়া রাখা হইয়াছে এবংতার গলার তপ্ত পানি ঢালা হইতেছে।আর এক মহিলাকে দেখিয়াছি.তার দু’পাদু-স্তনের সাথে এবং উভয় হাত কপালের চুলের সাথে বাঁধিয়া লটকাইয়া রাখাহইয়াছে।আর এক মহিলাকে দেখিয়াছি,তাহাকে স্তনে বাঁধিয়া লটকাইয়া রাখাহইয়াছে।আর এক মহিলাকে দেখিয়াছি.তার মাথা শূকুরের মাথার ন্যায়,তার শরীরগাধার দেহের ন্যায় এবং তাকে সহস্র প্রকারের আযাব দেয়া হইতেছে।আর এক মহিলাকেদেখিয়াছি,সে কুকুরের মতন গঠন প্রাপ্ত হইয়াছে,আগুন তার মুখ দিয়া ঢুকিয়াগুহ্যদ্বার পথে বাহির হইতেছে।ফেরেস্তাগন তাহার মাথায় লোহার মুগুর দিয়াপিটাইতেছে”।হযরত ফাতেমা(রাঃ) বলিলেন,আমার পরম প্রিয় আব্বাজান তাহারা এমনকিঅন্যায় করিয়াছিল যে তাহাদেরকে এই ধরনের শাস্তি দেওয়া হইতেছে? হুজুর(সঃ)বলিলেন,ওহে আমার কন্যা!যাকে চুল দিয়ে বাঁধিয়া লটকায়া রাখা হইয়াছে,সে নিজেরমাথার চুল বেগানা পুরুষের সামনে ঢাকিয়া রাখিতো না।যাকে তার জিহবার সাহায্যেলটকাইয়া রাথা হইয়াছে,সে তার স্বামীকে তিক্ত কথা দিয়ে দুঃখ দিত।যাকে স-নেবাঁধিয়া লটকায়া রাখা হইয়াছে,সে তার স্বামীর বিছানায় অশ্লীলতায় রত হত।অর্থাৎসে ছিল ব্যভিচারিনী।আর যার উভয় পা দুই স্তনের সাথে এবং উভয় হাত কপালেরচুলের সাথে বাঁধিয়া লটকাইয়া রাখা হইয়াছে,সে যৌন মিলন ও স্রাব জনিত নাপাকীহইতে পাক হইতো না এবং নামায নিয়া ঠাট্টা-মস্কারা করিতো।যার মাথা শূকুরেরন্যায় এবং শরীরের গঠন গাধার মত,সে চোগলখোর ও অসত্যবাদী ছিল।আর কুকুরেরআকৃতি ধারনকারিনী,যার বাহ্যদ্বার পথে আগুন প্রবেশ করিতেছে,সে ছিলঈর্ষাপরায়ণ ও দানের খোটা দান কারী।
তাই প্রত্যেক নারীরই উচিৎ এই সমস্ত নেক্কার জনক কাজ হইতে নিজেকে দুরে রাখা এবং আল্লাহর আযাব হইতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
নারীর কন্ঠস্বর ঃ– আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ করিয়াছেন,হে নবী পত্নীগন!তোমরা অন্য নারীদেরমতন নয়।যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সাথে কোমল সুরে বা নরমসুরে এবং আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে কথা বলিবেনা।যাতে সেই ব্যক্তি কু-বাসনা করিতে নাপারে,যার অন-রে ব্যাধি রহিয়াছে।তোমরা সঙ্গত কথা বার্তা বলিবে।(আলআহযাব-৩২)।এই আয়াতে যদিও শুধু নবী পত্নিগনকে উদ্দেশ্য করিয়া বলা হইয়াছেকিন্তু এর নির্দেশ সমগ্র মুসলমান নারীদের জন্য,ক্বোরআন সমস্ত মানব জাতীরজন্যই জীবন বিধান।আর নবী পত্নিগনই হইল সকল নারীদের জন্য প্রকৃত আর্দশ এবংউনাদেরকে যেই সব নারী অনুসরন করিবে তাদের জীবন ধন্য হইবে।তাদের জন্যইআল্লাহর জান্নাতের সুসংবাদ।এই আয়াত থেকে পরিস্কার ভাবে বুঝা যায় পর পুরুষেরসাথে নরম ভাষায় কথা বলা যাইবেনা।কারন মহিলাদের কন্ঠ স্বরও হইলো ফেতনা।নরমসুরে কথা বলিলে যেই সব পুরুষের সাথে শয়তান আচর করিয়া আছে তাদের মনে কুবাসনাজন্ম নিতে পারে এবং পাপ কাজে জরাইয়া জাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।আর শয়তানমানুষের প্রকাশ্য শত্রু।আরেকটা কথা মনে রাখা দরকার নরম সুরের যে কথা নাবলিতে বলা হইয়াছে তাও পর্দার ভিতর হইতে।বিনা পর্দায়তো কোন অবস্থায়ই কথা বলাযাইবেনা।
সুরা নুরে আরো ইরশাদ হয়েছে,“এবং তারা যেন তাদের গোপন সৈন্দর্য প্রকাশ করারজন্য জোরে পদচারনা না করে-(সুরা নুর—৩১)।নারীরা এমন ভাবে চলা উচিৎ নয় যারচলার শব্দ অন্য পুরূষ শুনিয়া থাকে।বিষেশ করে,যারা পায়ের অলংকার পরে।এমনকিহাতের চুরি বা যেই কোন অলংকার পরিয়া উহাদের দ্বারা কোন শব্দ সৃষ্টি করাজায়েজ নাই।কারন নারীর অলংকারের রিনিঝিনি আওয়াজও পুরূষের মনে আকর্ষনেরসৃষ্টি করিয়া থাকে।এই জন্যই পবিত্র ক্বোরআনে নারীগনকে অলংকার বাজাইয়াপুরূষগনকে সজাগ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।এমন সব আচরন হইতে নারী-পুরুষ উভয়কেইসাবধান হইয়া চলার নির্দেশ উক্ত আয়াতে দেওয়া হইয়াছে।অনেক আলেমগনবলিয়াছেন,নারীদের কাপড়ও এমন স্থানে শুকাইতে দেওয়া উচিত নয় যাতে অন্যপুরুষের চোখ পরে।সোজা কথা সব বিষয়েই তাকওয়া ও পরহেজগারীর সহিত চলিতেহইবে।এখন চিন্তা করা উচিৎ যে,যেখানে নারীর সামান্য গহনার আওয়াজও পর পুরুষশুনা জায়েজ নাই সেখানে নারীর কন্ঠ কিভাবে অন্য বেগানা পুরুষ শুনিতেপারিবে।যেই কারনে মহিলাদের আযান-ইকামত নিষিদ্ধ এমনকি কোন মহিলার জন্যনামাযের ইমাম হওয়াও জায়েজ নাই।
বর্তমানে আমাদের আধুনিক মেয়েরা কি করিয়া বেরায় তাহা একটু দেখা যাক।তারাবিভিন্ন সুরে গান করিয়া পরপুরুষে মন রাঙ্গাইয়া থাকে।তারা গান শিখে একজনপুরুষের নিকট আবার শুনায়ও অন্য পুরুষকে।আজতো মিডিয়ার কারনে সমস্ত পৃথিবীরমানুষ এই সমস্ত গান শুনে এবং মনতৃপ্তি লাভ করে।এমনকি তাদের চালচলনে বুঝাইযায় না তারা কোন মুসলমানের ঘরের সন্তান(নাউজু বিল্লাহ)।ইহা আল্লাহ তায়ালারআদেশের সম্পুর্ন বিপরিত।আর যেই সমস্ত অভিবাক বৃন্দ তাদের মেয়েদেরকে এই সবেনিয়া যাইতেছেন তাহা ইসলামের পথ নয়া নিশ্চিত জাহান্নামের পথ।এই পথ হইতেসবাইকে তওবা করিয়া পিরিয়া আসিতে হইবে।যারা এই সব পথে গিয়াছে তারা কেহ সুখীহইতে পারেনাই কারন আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন করিয়া সুখী হওয়া যায়না।তাই আমাদেরআধুনিক ভাই বোনদের অনুরোধ করিতেছি,আপনারা নারীদের সঠিক ধর্মিয় শিক্ষা দানকরিয়া তাহাদেরকে পর্দায় রাখুন।ইহা শুধু আপনাদের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থাই নয়তৃপ্তিকরও বটে।আর ইহাতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হইবে।
নারীর ঘরে অবস্থান এবং বাহীরে যাতায়াত ঃ-স্ত্রীলোকদের জন্য বিনা কারনে পুরুষের গতিবিধি স্থানে বাহির হওয়াহারাম।ফেতনার নিশ্চিত আশংকার স’লে সুগন্ধি মাখাইয়া কিংবা সাজ-সজ্জা করিয়াবাহির হওয়া কবিরা গুনাহ।আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে আরো ইরশাদ করেন,“তোমরাজিনাতো দুরের কথা জিনার ধারে কাছেও যাইবেনা।(বনী ঈসরাইল-৩২)।এখন জিনাতোবুঝা যায় কিন্তু নিকটে যাওয়া কি জিনিস তা বুঝিতে হইবে।এক নাম্বারে আসে বিনাপরদায় থাকা।তারপর বেগানা পুরুষের সাথে মেলামেশা,পর পুরুষের দিকে দৃষ্টিদেওয়া,খারাপ ফটো দেখা,খারাপ কথা বার্তা বলা,টিবি-বিসিআর-সিনেমা দেখা,গানশুনা ইত্যাদি।এই সমস- কারন গুলোর কারনে মানুষ জিনার দিকে ধাবিত হয়।অতএব এইসমস্ত কাজ হইতে আমাদের সবাইকে বাঁচিয়া থাকা জরুরী।হযরত আয়শা ছিদ্দিকা(রাঃ)হইতে বর্নিত,রাসুলুল্লাহ(সঃ) বলিয়াছেন,(মেরাজ রাতে) আমাকে জাহন্নাম দেখানোহয় আর সেখানের অধিকাংশই দেখি নারী-(বোখারী)।মহিলারা জাহান্নামে বেশী যাওয়ারকারন হিসাবে বলা হইয়াছে তাহারা আল্লাহ,রাসুল(সঃ) ও স্বামীর বশ্যতা কম করেএবং “তাবাররুজ”করে।তাবাররুজ হইতেছে নারী বাহিরে(জনসমক্ষে)চলাচলের সময়সর্বাপেক্ষা সুন্দর পোশাক পরা,বেশী করে সাজগোজ করা এবং রূপলাবন্য দেখাইয়ামানুষজনকে আকৃষ্ট করা।এক কথায় পর্দাহীন অবস্থহায় বেহায়াপনার সাথে চলাচলকরাই হচ্ছে তাবাররুজ।এই জন্য নবী (সঃ) বলিয়াছেন,মহিলারা হইলো গুপ্তধন,সেযখন গৃহের বাহিরে যায় শয়তান তখন তাহাকে প্রশংসাবাদ জানায়-(কিতাবুলকাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))।মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে মহিলাগন ততক্ষন পর্যন্তসর্বাপেক্ষা বেশী সম্মানীতা থাকেন,যতক্ষন পর্যন্ত তাহারা ঘরে অবস্থানকরেন।হাদিসে আরো বলা হইয়াছে,“স্ত্রীলোক গৃহে থেকে এবাদত ও স্বামীর অনুগতথাকার মাধ্যমে যতটা আল্লাহর পাকের রেজামন্দি(সন্তুষ্টি) অর্জন করিতে পারেততটা অন্য কোনমতে পারেনা-(কিতাবুল কাবায়ের-ইমাম আযযাহাবী(রঃ))। হযরতাআনাস(রাঃ) হইতে বর্নিত যে,কতক স্ত্রীলোক হজরত(সঃ) এর নিকট আগমন করিলেন এবংবলিলেন,হে আল্লাহর রাসুল(সঃ)!পুরুষগন আল্লাহর পথে জেহাদ করিয়া আমাদের চেয়েঅধিক নেকী ও সম্মান অর্জন করিয়াছেন।আমরা কি কাজ করিলে তাহদের সমকক্ষ হইতেপারিব।নবী(সঃ) বলিলেন,তোমাদের ঘরই তোমাদের জেহাদ অর্থাৎ নিজের ঘরকে দেখাশুনা করা,সন্তানদেরকে ইসলামে রিতিমত পালন করা এবং ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিতকরা।
পবিত্র ক্বোরআনে আরো ইরশাদ হইয়াছে,“তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থানকরিবে।জাহিলিয়াত যুগের নারীদের মতন ঠাক ঠমক করিয়া নিজেদেরকে প্রদর্শনকরিবেনা-(সুরা আহযাব-৩৩)। নবী করীম(সঃ) এর আগের যুগকে জাহেলিয়াত যুগ বামুর্খ যুগ বলা হয়।সেই যুগের মহিলারা বিনা পরদায় চলাফেরা করিতো,জিনার মতনঘৃন্য কাজে লিপ্ত থাকিতো।তখন এমন অবস্থা ছিল,তারা পিতার তালাক প্রাপ্তাস্ত্রী কিংবা পিতার মৃত্যুর পর তার পরিতেক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করিতে কোনকুন্ঠা বোধ করিত না অর্থাৎ সৎমাকে বিয়ে করিত।এই ছাড়াও অনেক অপকর্মহইত।কিন্তু এই সমস্ত কাজ গুলো ছিল সমাজের কাছে এবং আল্লাহর কাছে ঘৃনিত।তাইআল্লাহ মুসলমান নারীদেরকে হুশিয়ার করিয়াদিয়া বলিয়াছেন,তোমরাও জাহেলিয়াতযুগের মহিলাদের মতন চলিওনা।কিন্তু বর্তমান যুগের মহিলারাও জাহেলিয়াত যুগেরমহিলাদের মতন সাজ সজ্জা আরম্ভ করিয়াছে বরং এক ধাপ বেশীই অগ্রসর হইয়াগিয়াছেন।বর্তমান নারী সমাজ র্নিজল্য ভাবে বেপরদায় চলাফেরা আরম্ভকরিয়াছে।এমনকি জিনা-ব্যভিচারে সারা দুনিয়া ভরিয়া গিয়াছে।সাজ সজ্জা মহিলাদেরজন্য নাজায়েজ নয়।কিন্তু সেটা কিরকম আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদকরিয়াছেন,“নারীগন যেন তাদের সৌন্দর্য তাদের স্বামীদের ব্যতিত অন্য কারোনিকট প্রকাশ না করে-(সুরা-নুর)।মনে রাখিতে হইবে কোন মহিলাকে যদি আল্লাহসৌন্দর্য দিয়া থাকেন তাহা আল্লাহর একটা বিরাট নেয়ামত।আর এই সৌন্দর্য আল্লাহদান করেন শুধু মাত্র তার স্বামীর জন্যই অন্য কারো জন্য নয়।কিন্তু আমরা কিদেখি স্বামীর সামনে সাজিয়া গুজিয়া না থাকিয়া বরং কেউ যদি কোথায় বেরাইতেবাহির হয় তখন সাজার ধুম পরিয়া যায়।ভাল করিয়া না সাজিলে মনে হয় বেরানোর মজাইথাকেনা।অর্থাৎ আল্লাহ যাহা আদেশ করিয়াছেন আমরা তার উল্টাটি
করিতে বেশী ভালবাসি, মনে রাখিতে হইবে এই সমস্ত কাজ হারাম এবং বহুত বড় পাপহয়।জাহান্নাম যে মানুষের কত নিকটে এই সমস্ত অবস্থা হইতেই বুঝা যায়।অতএব সববেপারেই আমাদের সাবধান হওয়া উচিত।
আমাদের নারী সমাজে এমনও দেখা যায় যে, অনেক মহিলা খুব একটা নিজে ঘর হইতেবাহির হননা।কিন্তু অন্য পুরুষ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করাইতেও কৃপনতাকরেন্না।তারা অন্য পুরুষকে নিজের ঘরে স্থান করিয়া দিয়া আড্ডা জমায় আনন্দপুর্তি করে।এক সাথে গান শুনে,টেলিভিশন দেখে,ভিডিও দেখে।এটা হচ্ছে চোখ বুঝেঅন্ধের অভিনয় করার মতন।মনে রাখিতে হইবে নিজে যেমন বাহিরে গিয়ে পর পুরুষেরসঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ নাই তেমনি ঘরের ভিতরও কোন পুরুষের সাথে দেখা দেওয়াজায়েজ নাই।পাপ সর্বাবস্থায়ই সমান।
জরুরী অবস্থায় নারীর বাহিরে গমন ঃ-পিতা-মাতার সহিত সাক্ষাত করা,তাদের সেবা করিতে স্ত্রীকে পর্দার সহিত যাইতেদেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ।কিন্তু বেগানা পুরুষের সেবা করিতে তাহাকে যাইতেঅবশ্যই দিবেনা।বরং এইরূপ অবস্থায় স্বামী অনুমতি দিলেও স্ত্রীর জন্য যাওয়াবৈধ নয়।যদি স্বামী অনুমতি দেয় এবং স্ত্রী যায় তাহা হইলে উভয়ই গুনাহগারহইবে।স্ত্রীলোকদের সাধারন গোসল করার স্থানে গোসল করিতে যাইতে দেওয়া ঠিকনয়।স্বামীর বিনা অনুমতিতে কিছু শিক্ষা করিতে যাওয়াও স্ত্রীর জন্য বৈধনয়।যদি স্ত্রীর এমন কোন শরিয়তের মাসলার প্রয়োজন হয় যাহা না হইলে কাজচলেনা।তাহা যদি স্বামীর জানা থাকে তবে স্বামীর কাছ হইতে শিক্ষা গ্রহন করিয়ানিবে।আর যদি স্বামীর জানা না থাকে তবে স্বামী কোন আলেমের নিকট হইতে জানিয়াস্ত্রীকে বলিয়া দিবে।আর যদি স্বামী ইহাও না করিতে পারে তাহলে স্ত্রীরস্বামীর অনুমতি নিয়া কোন আলেমের নিকট হইতে উক্ত মাসয়ালা জানিয়া আসিতেপারিবে।বর্তমান জমানায় মেয়েলোকদের এমন কোন অসুবিধা পরিতে প্রায় দেখা যায় নাযে তাহাকে বাহিরে গিয়ে কিংবা আলেম সাহেবের বাড়ী গিয়ে মাসইয়ালা শিক্ষাগ্রহন করিয়া আসিতে হইবে।বর্তমান যুগে নানা কিতাবাদি প্রকাশ হইয়াছে,উহারসাহায্যে যে কোন মাসলা ঘরে বসিয়া শিক্ষা করা যায়।তারপর নিজের মহররম গনেরমাধ্যমে আলেম সাহেবের নিকট হইতে মাসয়ালা জানা যায়।যদি একান্তই এই সমস্তব্যবস্থা না থাকে তাহা হইলে আলেম সাহেবের স্ত্রীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয়মাসয়ালা আলেম সাহেব হইতে জানিয়া লওয়া যাইতে পারে।নবী (সঃ) এর যুগেও এইব্যবস্থা ছিল,মহিলারা উম্মুল মুমেনীনদের মাধ্যমে প্রশ্ন করিয়া সকলপ্রয়োজনীয় মাসয়ালা জানিয়া লইতেন।তাইত দেখা যায় মহিলা সম্পর্কীয় বেশীর ভাগমাসয়ালাই হযরত আয়শা(রাঃ) এর রেওয়াতে বর্নিত হইয়াছে।অবশ্য যদি এই সমস্ত কোনসুযোগ সুবিধা না থাকে তবে পরদার সহিত কোন আলেমের নিকট হইতে প্রয়োজনীয়মাসয়ালা শিক্ষা গ্রহন করার মাঝে কোন দোশ নাই।
তারপরও যে যে স্থানে স্বামীর অনুমতি ব্যতিত যাওয়া যায়,সেখানেও বিবেচনাকরিতে হইবে যে,স্বামীর নিষেধ করার মাঝে কোন যুক্তি সংগত কারন আছেকিনা।বর্তমানে সঠিক আলেম পাওয়া বরই মুশকিল।হয়তো ব্যক্তি বিশেষের চরিত্রসম্বন্ধে সন্দেহের কারনে স্বামী তাহার নিকট যাইতে নিশেধ করিতেছেন।স্ত্রীরপক্ষে ইহা বিবেচনা করিয়া কাজ করিতে হইবে।মনে রাখিতে হইবে স্বামী অবশ্যইস্ত্রী অপেক্ষা বাহিরের খবর বেশী রাখে।ঠিক তেমনি স্বামী যদি পিতা মাতারবাড়িতে যাইতে শরিয়ত সম্মত ভাবে নিশেধ করে,সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর জেদ ধরা এবংঅধিকারের দোহাই দেওয়া সঙ্গত হইবেনা।মনে রাখিতে হইবে শরিয়ত সম্মত ভাবেস্বামীর আনুগত্য করাও স্ত্রীর জন্য আবশ্যক।
বোরখা প্রথা ও অবাধ চলাফেরা ঃ– বর্তমান যুগে এইরূপ ফতোয়া প্রদান করা হইতেছে,মহিলারা বোরকা পরিধান করিয়াস্বাধীন ভাবে চলাফেরা করিতে পারিবে এবং ইহাতে তাহার পরদা হইয়া যায়।কিন্তুবোরকা পরিধান করিয়াও মেয়েলোকের অবাধ চলাফেরায় পর্দার উদ্দেশ্য যে র্ব্যথহইয়া যায় ইহা সহজেই স্বীকার করিতে হয়।স্ত্রীলোকদের অঙ্গ ঢাকিয়া রাখিলেইপর্দার সব কার্য সমাধা হয় না।বরং স্ত্রীলোকদের কন্ঠস্বর,শরীরের গঠন,চলারভঙ্গী ইত্যাদি সবই পর্দার আওতায় পরে এবং এই সবকিছুরও পর্দা করা ফরজ।হযরতআয়শা (রাঃ) হইতে বর্নিত,হেজাব বা পর্দার হুকুম নাজিল হইবার পর উম্মুলমুমেনীন হযরত সওদা(রাঃ) একদিন বাহির হইলেন।তিনি স্থুলুকার ছিলেন,লোক তাহাকেসহজেই চিনিতে পারিতেন।পথে হযরত ওমর(রাঃ) তাঁহাকে দেখিয়া বলিলেন,“হেসওদা,আপনি আমার নিকট গোপন নহেন,আচ্ছা দেখি আপনি কিভাবে বাহির হন”।হযরতসওদা(রাঃ) এই কথা শুনিয়া নিরুত্তরে ফিরিয়া আসিলেন।হযরত(সঃ) তখন ঘরে রাত্রিরখানা গ্রহন করিতেছিলেন।তাহার হাতে একখানা হাড় ছিল।এমন সময় হযরত সওদা(রাঃ)আসিয়া তাঁহার নিকট এই ঘটনা বর্ননা করিলেন।হযরত(সঃ) এর নিকট আল্লাহর তরফহইতে অহি আসিল।তিনি(সঃ) বলিলেন,হে সওদা!আল্লাহ তোমাদিগকে অত্যাবশ্যকপ্রয়োজনেই মাত্র বাহিরে যাওয়ার হুকুম দিয়াছেন।শুধু শুধু বাহিরে ঘোরা পেরারজন্য নয়।
এই ঘটনা দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রতিয়মান হইতেছে যে,হযরত (সঃ) এর পবিত্র স্ত্রীগনওবিনা কারনে পরদা করিয়াও বাহিরে যাওয়ার অনুমতি পায়নাই।সুতরাং বর্তমানেবোরখা পরিয়াও সর্বত্র যাতায়াত করা কোন রকমেই জায়েজ হইতে পারেনা।এই প্রসঙ্গেসুবিখ্যাত আলেম হযরত আল্লামা আশরাফ আলী থানবী(রঃ) এর উক্তি বর্ননাকরিতেছি,তিনি তাঁর কিতাবে লিখিয়াছেন,“শরীয়তে পরদার উদ্দেশ্য পুর্ন পবিত্রতারক্ষার ব্যবস’া করা।সুতরাং যে সমস- কার্য্যে এই পবিত্রতায় কোন দাগ লাগেউহাই শরীয়তে নিষেধ চাই মহিলারা খোলাখুলি ভাবে চলুক বা বোরখা পরিধান করিয়াচলূক।স্ত্রীলোকেরা যদি বোরকা পরিধান করিয়াও অবাধে পুরুষের মধ্যে চলাফেরাকরে,কথাবার্তা বলে তবে তাহার অবস’া অর্থাৎ সে বৃদ্ধা কি যুবতি,সুন্দরী কিকুৎসিৎ তাহা পুরুষের পক্ষে অনুমান করিয়া লওয়া মোটেও কঠিন কার্য নহে।অগত্যাযদি তাহা সম্ভব নাও হয়,তবু বোরখার আচ্ছাদনে আবৃতা রমনীটি কেমন তাহা জানারজন্য পুরুষের মধ্যে অবশ্যই কৌতুহল সৃষ্টি হইবে।আর এই যদি অবস্থা হয় তাহাইহলে এখানে পুরুষের আন্তরিকতা নষ্ট হওয়ার কারন উপস্থিত হইবে।”
আবার যে স্ত্রীলোকটি বোরকা পরিধান করিয়া পথে বাহির হইবে সে তাহার বোরকারছিদ্র দিয়া পুরুষকে স্বচ্ছন্দে দেখিয়া লইবে,কেননা নারীর মধ্যেও কাম-ভাববিরাজমান।সেও সুন্দর ও মন মতন পুরুষ দেখিলে তার মনে কুবাসনা সৃষ্টিহইবে।সুতরাং দেখা যাইতেছে যে,নারী ও পুরুষ উভয়ই যখন পরস্পর সম্বন্ধে বেশসজাগ,তখন বোরকা কি কাজে আসিতে পারে।এই জন্য বোরকা পরিধান করিয়াও মহিলাদেরপর পুরুষের সহিত অবাধে চলাফেরা করিতে দেওয়া পর্দার উদ্দেশ্যের বিপরিত।এইজন্য শরীয়তে পুরুষগনকে বেগানা স্ত্রীলোকদের প্রতি এবং স্ত্রীলোকদিগকে বেগানপুরুষদের প্রতি দৃষ্টি করিতে নিষেধ করিয়াছে।ইহা ছাড়াও আরও দেখা যাইতেছেযে,হযরত নবী করিম(সঃ),সাহাবায়ে কেরাম কিংবা সলফে সালেহিনদের যুগে কেহইএইরূপ কোন নজির রাখিয়া যান নাই যে,তাঁহারা বোরকা পরাইয়া বিবিগনকে সঙ্গেলইয়া পুরুষের সমাজে শুধু শুধু বাহির হইয়াছেন এবং বক্তৃতা দেওয়াইয়াছেন কিংবাবন্ধু বান্ধবের সহিত সাক্ষাত করাইয়াছেন।বরং তাহারা বিবিগনকে কঠোর ভাবেপর্দা করিতে আদেশ দিয়াছেন।
ইহা দ্বারা পরিস্কার ভাবে প্রমানিত হইতেছে যে,বর্তমানে পর্দা যে অবস্থায়আসিয়া দাড়াইয়াছে,এই সমন্ধে স্বয়ং নবী(সঃ),সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ী,মোজতাহেদআলেমগন কেহই এই বিষয়ে কোন দলিল প্রমান রাখিয়া যান নাই।বর্তমানে বোরকা পরিয়াপর্দার নাম করিয়া যত্রতত্র যাতায়াত কোন প্রকারেই পর্দার হুকুমের আওতায়পরেনা।অবশ্যই তাহা পর্দার পরিস্কার খেলাফ।কাজেই বর্তমান পত্নীদের খেয়াল ওআচরনকে শরীয়তী পরদা বলিয়া স্বীকার করিয়া লওয়া চলেনা।
অপরের গৃহে প্রবেশ ঃ– আল্লাহ পবিত্র ক্বোরানে ইরশাদ করেন,“হে মুমিনগন তোমরা নিজেদের ঘর ব্যাতিতঅন্যের ঘরে প্রবেশ করিওনা,যে পর্যন্ত না আলাপ পরিচয় হয় এবং গৃহ বাসীদেরকেসালাম না কর।এইটাই তোমাদের জন্য উত্তম যাতে তোমরা স্মরন রাখ।যদি তোমরা গৃহেকাউকে না পাও,তবে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সেইখানে প্রবেশ করিওনা।যদিতোমাদেরকে বলা হয় ফিরিয়া যাও তবে ফিরিয়া যাইবে।এতে তোমাদের জন্য অনেকপবিত্রতা রহিয়াছে এবং তোমরা যাহা কিছুই কর আল্লাহ তাহা ভাল ভাবেইজানেন।–(সুরা নুর–২৭-২৮)।হযরত উম্মে আয়াস(রাঃ)বলেন,আমরা চার জন মহিলাপ্রায়ই হযরত আয়শা(রাঃ) এর ঘরে যাইতাম।আমরা প্রথমে তাঁর কাছ হইতে অনুমতিনিতাম এবং অনুমতি পাইলে তারপর ঘরে প্রবেশ করিতাম। -(ইবনে কাসীর।)
অন্য হাদীসে আছে,আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্নিত,জনৈক ব্যক্তি রাসুল(সঃ)এর কাছে জিজ্ঞেস করিলো,আমি আমার মাতার কাছে যাওয়ার সময়ওকি অনুমতিচাইব?হুজুর(সঃ) বলিলেন হ্যাঁ,অনুমতি চাও।সে বলিল,ইয়ারাসুলুল্লাহ আমিতোআমার মায়ের ঘরেই থাকি।রাসুল(সঃ) বলিলেন,তবু অনুমতি না নিয়ে ঘরে প্রবেশকরিবেনা।লোকটি আবার বলিল ইয়া রাসুলুল্লাহ আমিতো সর্বদা আমার মায়ের কাছেইথাকি।হুজুর(সঃ) বললেন,তবুও অনুমতি না নিয়ে ঘরে প্রবেশ করিবেনা।তুমি কিতোমার মাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখিতে চাও?সে বলিল না।হুজুর(সঃ) বলিলেন তাইঅনুমতি চাওয়া আবশ্যক।কেননা,গৃহে কোন প্রয়োজনে তার অপ্রকাশযোগ্য কোন অঙ্গখোলা থাকিতে পারে-(আল মুয়াত্তা ও মাযহারী।)
কেই যদি কারো ঘরে প্রবেশ করিতে চায় তাহা হইলে প্রথমে দরজার বাহির হইতেঅনুমতি নিতে হইবে তিনবার।যদি অনুমতি পাওয়া যায় তাহা হইলে ঘরে প্রবেশ করিতেপারিবে,না হয় ফিরিয়া যাইতে হইবে।এইটা এই জন্য যে ঘরের বাসিন্দারা যদিবেপরদায় থাকে তাহা হইলে তারা যেন পরদা করিয়া নিতে পারে।এবং এই আদেশ শুধুপুরুষদের জন্য নয় মহিলারাও কোন ঘরে প্রবেশ করিবার আগে অনুমতি নিতেহইবে।এখানে জানিয়া রাখা ভাল যে স্বামী ঘরে না থাকিলে কোন বেগানা পুরুষকেঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া যাইবেনা এবং অপরিচিত কাউকেও ঘরে প্রবেশেরঅনুমতি দেওয়া ঠিক নয়।আর যদি ঘরের ভিতর হইতে কোন জবাব না আসে কিংবা অনুমতিনা দেওয়া হয় তাহা হইলে ফিরিয়া আসিতে হইবে।ঘরে প্রবেশ করা যাইবেনা।ঘরেপ্রবেশ করিবার বা অনুমতি নেওয়ার সুন্নত ত্বরীকা হইলো।প্রথমে বাহির হইতেসালাম করিতে হইবে,এরপর নিজের নাম নিয়া বলিতে হইবে অমুকে আপনার সাথে সাক্ষাতবা দেখা করিতে চায়,এই ভাবে তিন বার বলার পর সারা না পাওয়া গেলে ফিরিয়াযাইতে হইবে।
হযরত আবু উমামা(রাঃ) হইতে বর্নিত,হযরত (সঃ) বলিয়াছেন,যে ব্যক্তি আমাকেআল্লাহর রাসুল বলিয়া স্বীকার করে,সে যেন অপরের গৃহে বিনা অনুমতিতে এবং বিনাসালামে প্রবেশ না করে।যে ব্যক্তি অন্যের গৃহে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিল,সে যেনগৃহেই প্রবেশ করিল।–(তিবরানী।)
নবী(সঃ) বলিয়াছেন,যদি কোন ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তোমার গৃহের মধ্যে ঝুঁকিদিয়া দেখে,তবে তুমি প্রস্তর খন্ড দ্বারা তাহার চক্ষু নষ্ট করিলে তোমার কোনগুনাহ হইবে না।(বোখারী ও মুসলীম)।
আকাবা ইবনে আমের হইতে বর্নিত,হযরত(সঃ) বলিয়াছেন,“সাবধান!তোমরা পরস্ত্রীরসহিত সাক্ষাৎ করিওনা”।এক ব্যক্তি বলিলেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ!স্বামীর ভ্রাতাগনসম্বন্ধে কি হুকুম?হযরত(সঃ) বলিলেন,“স্বামীর ভ্রাতাগন অর্থাৎ দেবরগনতো হইলমৃত্যু সমতুল্য”।–(বোখারী ও মুসলীম)।
হযরত জাবের(রাঃ) হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,যে স্ত্রী লোকের স্বামীবাড়ী নাই,তাহাদের নিকট যাইওনা।কেননা শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের শিরায় শিরায়রক্তের ন্যায় চলাচল করিয়া থাকে।আমরা আরজ করিলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ আপনারওকিতদ্রূপ?হযরত(সঃ) বলিলেন,হাঁ আমার মাঝেও ঐরূপ শয়তান চলাচল করিত।কিন্তুআল্লাহ তায়ালা আমাকে সাহায্য করিয়াছেন,শয়তান আমার নিকট মুসলমান হইয়াগিয়াছে।–(তিরমিজি)।
হুজুর(সঃ) বলিয়াছেন,যখন কোন ব্যক্তি কোন পর নারীর সহিত নির্জনে সাক্ষাৎকরে,নিশ্চয় তাহাদের মধ্যে শয়তান তৃতীয় ব্যক্তিরূপে উপসি’ত হয়।–(তিরমিজি)।হযরত আবু ইমামা হইতে বর্নিত,রাসুল(সঃ) বলিয়াছেন,সাবধান !তোমরা অন্যস্ত্রীলোকের সহিত নির্জনে একত্রিত হইওনা।যাহার হাতে আমার প্রান,সেই আল্লাহরশপথ করিয়া বলিতেছি,যদি কোন ব্যক্তি ভিন্ন স্ত্রীলোকের সহিত নির্জন স্থানেদেখা করে,সেখানে উভয়ের মধ্যে শয়তান প্রবেশ করে।–(তিবরানী)।
উপরে বর্নিত ক্বোরআনের আয়াত এবং হাদীস দ্বারা ইহাই প্রতিয়মান হয় যে,কোনব্যক্তিই কারো ঘরের মধ্যে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করিতে পারিবেনা।হোক সেবেগানা কিংবা মহররম।এমনকি আপন সন্তানও মায়ের ঘরে প্রবেশের সময় অনুমতি নেওয়াআবশ্যক।আর কোন বেগানা মহিলার ঘরে কোন বেগানা পুরূষের প্রবেশ করারতো কোনঅনুমতিই নেই।বিশেষ করিয়া যাদের স্বামীরা বাড়ীতে থাকেনা।অতএব আমরা নিজেরাইচিন্তা করিয়া দেখি আমরা কতটুকু আল্লাহর আইনকে মানিয়া চলিতেছি।বর্তমান যুগেঅনুমতিতো দুরে থাকুক বরং আমাদের সমাজে এমনো মহিলা আছে যাহারা নিজেই বেগানাপুরুষকে নিমন্ত্রন করিয়া আনিয়া বিভিন্ন গল্প গুজবে মত্ত হইয়া পরে।আরপুরুষরাও আবেগে আটখানা হইয়া পর নারীর ঘরে ঢুকিয়া যায় অনায়াসে।ইহা স্পষ্টশরিয়তের পরিপসি’ ও হারাম।
নারীর নামাযের জামাত ঃ-মহিলারানামাজের জামাতে যোগদান করিবে কিনা এই নিয়া বর্তমানে অনেক কথাই শুনাযাইতেছে।তাই এই সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত করা আমি প্রয়োজন মনে করিতেছি।
নবী করিম(সঃ) এর যুগে মহিলারা নামাযের জামাতে যোগদান করিতেন।সেই সময়বর্তমান যুগের মতন এত ফেতনা ছিলনা।মহিলারা নামায পরে যতক্ষন ঘরে পৌছিতেন্নাততক্ষন পর্যন- সাহাবায়ে কেরামগন মসজিদে বসিয়া থাকিতেন।তারপরেও কিছুমুনাফিক নামাযে পিছনের কাতারে দাড়াইয়া মহিলাদের দিকে উঁকি যুকিদিতেন।বর্তমান যুগে সাহাবায়ে কেরামগনের মতন এই রকম ইমান কোন মুসলমানেরআছেকিনা তা আমাদের জানা নাই।বরং এইটা জানা আছে বর্তমানে ইমানদার থেকেমুনাফেকের সংখ্যাই বেশী।নবী করিম (সঃ) বলিয়াছেন,“আমার যুগ র্সব শ্রেষ্টযুগ”।তাইতো সেই যুগে মহিলারা জামাতে নামায পড়তে কোন অসুবিধা হয় নাই।সেইযুগের নিরাপত্তার সমিকরনটা ছিল একশতে একশ।কারো সাহস হয়নাই পথে ঘাটে কোনমহিলাকে উত্যক্ত করিতে এমনকি কোন মহিলার দিকে চোখ তুলিয়া তাকাইবে এমন বীরপুরুষও সে যুগে ছিলনা।তারপরেও আমরা কি দেখিতে পাই,মহিলাদের জামাতে নামাযপড়া নিয়ে নবী করিম(সঃ) এর উক্তি, “একদিন একজন মহিলা সাহাবীয়া এসে নবী(সঃ)এর কাছে আরজ করল হে আল্লাহর রাসুল(সঃ) আমার ইচছা হয় আমি আপনার মসজিদে এসেআপনার সাথে জামাতে নামায পড়ি।নবী করিম(সঃ)বলিলেন হে মহিলা তুমি শুনেরাখ,আমার এই মসজিদে নামায পড়া হইতে উত্তম হচ্ছে তুমি তোমার ঘড়ে নামায পড়।আরঘড় হইতে উত্তম হচ্ছে তুমি ঘরের এক কোনে আলাদা কুঠরিতে নিরিবিলি নামাযপরা”।এই হাদীস দ্বারা ইহাই প্রমান হয়না যে,জামাতে নামায পড়ার চেয়ে ঘরেনামায পড়াই অধিক সওয়াবের কাজ।অথচ কথা হচ্ছিল মসজিদে নববী নিয়ে যেখানে নামাযপড়া মসজিদুল হারাম ব্যতিত পৃথিবীর সকল মসজিদ হইতে এক হাজার গুন বেশীসওয়াবের ছিল অথচ নবী(সঃ) বললেন,এই মসজিদ হইতেও উত্তম তুমি তোমার ঘরে নামায
কিন্তু কোন নারী যদি মসজিদে নামায পড়তে চায় বা যায় তবে তাকে বাঁধা দেয়াযাবেনা তবে পরিবেশ পরিস্থিতির বিবেচনায়ই মেয়েদের মসজিদে গিয়ে নামায আদায়করা উচিত,মনে রাখতে হবে মহিলাদের মসজিদে নামায পড়া ফরজ বা ওয়াজীব না।
ছোট মেয়েদের পরদা ঃ-ছোটবালিকাদের অবস্থাভেদে পর্দা করা ওয়াজিব হইয়া যায়।অভিভাবকগন সে বিষয়েউদাসিনতা করিলে এর পরিনাম খুবই খারাপ হয়।বর্তমানে নাবালিকার উপরে যেসবপাশবিক কান্ড ঘটিতেছে তাহা কি এই পরদাহীনতার পরিনাম নয়?যাহা রিতি মত সংবাদপত্র পাঠ করেন তাহারা অবশ্যই এই সমস্ত খবর জানেন।আমাদের দেশে এমনও ঘটনাঘটিয়াছে যে,মাত্র পাঁচ বৎসরের বালিকা সন্তান প্রসব করিয়াছে।প্রতিনিয়ত অবুঝবালিকারা ধর্ষন হইতেছে।এই সব দেখিয়াও আমাদের সমাজের হুস হইতেছেনা।তাইআমাদের উচিত ছো্‌ট ছোট মেয়েদেরকে অল্পবয়স হইতেই পর্দা করা শিখানো এবংইসলামী নিয়ম কানুন শিখানো।আর ইহাতেই রহিয়াছে প্রকৃত কল্যান।
যদি একেবারে শিশু হয়,তবে দর্শন ও স্পর্শ করা জায়েজ হইবে।যখন হইতে কিছু কিছুজ্ঞান বুদ্ধির বিকাশ হয় এবং পৃথিবীর হালচাল কিছু কিছু বুঝিয়া উঠে,তখনহইতেই তাহাদিয়কে সাবধান করিতে হইবে।তাদেরকে গায়রে মহররম ব্যক্তি হইতে দুরেসরাইয়া রাখিতে হইবে।ছেলে বন্ধুদের সাথে খেলিতে দেয়া যাইবেনা।তাদের সাথে আজেবাজে কৌতুক করা যাইবেনা।যেমন নানা দাদা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভাইয়েরা যেইসমস্ত বাজে ঠাট্রা মস্কারি করে তাহা করা যাইবেনা।তাদেরকে শরম শিখাইতেহইবে।ছোট সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষা না পাইলে পরিনামে বেপরোয়া হইয়া উঠিবে।মনেরাখিবেন ছোট ছোট বালিকারা যদিও শরিয়তের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তুযাহারা তাদেরকে দেখিতেছে তাহাদের মাঝে অনেকেই বেগানা এবং শরিয়তেরঅন্তর্ভুক্ত।বর্তমান ফেতনার জামানায় এই সব কিছুই বাঁচিয়া চলিতে হইবে।গানবাজনা,নাটক সিনেমা ইত্যাদি হইতে তাদেরকে দুরে রাখিতে হইবে।দশম বর্ষীয়বালককে প্রহার করিয়া নামাজ পড়াইবার হুকুম আছে।মেয়েদের পর্দার বেলায় ইহা আরোবেশী জরুরী মনে করা উচিত।এবং বালিকা পুর্ন বয়স্কার কাছা কাছি পৌছিলেই তাকেপুর্ন বয়স্কা মনে করিবে এবং সেই ভাবে চালাইবে।
নারী শিক্ষা:-নারীদেরজন্য যেমন পর্দার ব্যবস্থা করিতে হইবে তেমনি তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষায়শিক্ষিত করিয়াও তুলিতে হইবে।হযরত নবী করিম(সঃ) বলিয়াছেন,প্রত্যেক নর-নারীরউপড় বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।তিনি (সঃ) শুধু মাত্র ছেলেদের কথা বলেন নাই।বরংবলিয়াছেন ছেলে মেয়ে উভয়কেই শিক্ষা নিতে হইবে।কিন্তু দুনিয়াতে বহু রকমেরবিদ্যা আছে এই সকল বিদ্যা একত্রে কোন মানুষের পক্ষে অর্জন করা সম্ভবনয়,কিন্তু বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।তাহা হইলে বুঝিতে হইবে হযরত নবী করিম(সঃ)কোন বিদ্যার প্রতি এত খানি গুরুত্ব আরপ করিয়াছেন।
এই কথা চিরন্তন সত্য যে প্রথমে আমাদেরকে মুসলমান হইতে হইবে।ইসলামের আদর্শশিক্ষা গ্রহন করিতে হইবে।ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে অবগত হইতে হইবে।ক্বোরআন ওহাদীসের আদেশ নিষেধ গুলি মানিয়া চলিতে হইবে।যাহাকে এক কথায় বলা হয়‘ইলমেদ্বীন’।ইলমে দ্বীন হইতেছে যথা-ইমান আনার পর অর্থাৎ ইসলামে দাখেল হওয়ারপর,আল্লাহকে চেনা,নামায পরা,রোজা থাকা,হজ্জ্ব করা,যাকাত দেওয়া,সত্য কথা বলাও মিথ্যা পরিহার করা,হারাম হইতে বাঁচিয়া থাকা,হালাল অন্বেষন করা,নারীপুরুষ পরদায় থাকা,ব্যভিচার না করা,কোন জুলুম না করা ইত্যাদি,অর্থাৎ মোটামোটি ভাবে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ নিশেধ গুলি মানিয়া চলা এবং তদঅনুযায়ী আমলকরিতে যাহা শিক্ষা করা আবশ্যক তাহাই হইল ফরজ ইলম।দুনিয়াতে আরো বৈধ ইলম আছেযাহা শিক্ষা করা শরিয়তে অনুমোদন করে কিন্তু তাহা ফরজ নয়।যেমন কেহ ব্যবসায়ীহইলে তাহাকে ব্যবসা সম্পর্কীত বিদ্যা অর্জন করা আবশ্যক তেমনি কেহ কোন হালালচাকরী করিলে তাহাকে সেই বিষয়ে বিদ্যা অর্জন করা আবশ্যক।সুতরাং দেখাযাইতেছে যে,শরিয়তের শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি বিদ্যা অর্জন করা ফরজ এবং অন্যন্যবৈধ বিদ্যা আবশ্যক অনুযায়ী শিক্ষা অর্জন করিতে হয়।
এখন স্ত্রীলোকের কথায় আসা যাক।মানব সৃষ্টির প্রথম ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিদেয়া যাক।হযরত আদম(আঃ)কে সৃষ্টি করিবার পর তিনি পরম সুখের বেহেস্তের মাঝেওনিঃসঙ্গ অবস্থায় আনন্দহীন কাটাইতে ছিলেন।আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে সুখি করিবারজন্য আদম(আঃ) এর বাম পাজরের অস্তি দ্বারা হযরত হাওয়া(আঃ)কে সৃষ্টি করিয়াতাহার শান্তির সহচরী বানাইলেন।আদম(আঃ) এর নিঃসঙ্গতা দুর করিবার জন্যহাওয়া(আঃ) কে সৃষ্টি করিয়া আদম(আঃ)এর সঙ্গী বানাইলেন এবং একাকীত্বের অবসানঘটাইলেন।পবিত্র ক্বোরআন মজীদেও আল্লাহ তায়ালা নারী সৃষ্টির রহস্য ব্যক্তকরিয়াছেন এই ভাবে,“আমার অস্থিত্ব সমুহের নিদর্শনের মধ্যে ইহাও একটি নিদর্শনযে,আমি তোমাদের জাতি হইতে তোমাদের জন্য স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করিয়াছি এবংতোমাদের মাঝে ভালবাসা ও অনুগ্রহ ঢালিয়া দিয়াছি”-(আন-নিসা)।এই আয়াত দ্বারাআল্লাহ তায়ালা নারীকে পুরুষের শান্তির আধার বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।এখন দেখাযাক এই শান্তি পরিবারে কিভাবে সৃষ্টি হইতে পারে।
নারী প্রকৃত নিয়মেই পুরুষের অধীনা,পুরুষ চিরদিনই তাহার ভরন পোষনযোগাইতেছে,তাহাকে আশ্রয় দিয়াছে।আর স্ত্রীলোকেরা গৃহ-কর্ম রক্ষা করিয়াচলিতেছে।সন্তান প্রতিপালন করিয়া আসিতেছে।তাহাকে বাহিরের কঠোর কর্মক্ষেত্রেযাইতে হয় না।কারন আল্লাহ নারীকে কঠোর কর্মের জন্য সৃষ্টি করেন্নাই।নারীরদৈহিক গঠন ও নানান প্রাকৃতিক অসুবিধার কারনেই সেই সব হইতে সে মুক্তিপাইয়াছে।চাকুরি করা তাহার পেশা নয়,অর্থোপার্জন করা তাহার কাজ নয়।সমাজে যদিওদুই একটি ব্যতিত্রুম পাওয়া যায় তাহা দিয়ে সার্বিক ভাবে বিবেচনা করাযায়না।তাহা শুধু বিভিন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতেই হইয়া থাকে।সুতরাং নারীদেরজন্য দ্বীনি শিক্ষা ও গৃহকর্মের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যতিত পুরুষের ন্যায়বিভিন্ন অর্থকরী বিদ্যা অর্জন করার প্রয়োজন দেখা যায় না।কারন তাহাদেরগারস্থ জীবনে উহার আবশ্যকতা নাই।সেই জন্য নারীদেরকে অবশ্যই দ্বীনি শিক্ষাদেওয়ার সাথে সাথে সাংসারিক জীবন সম্বন্ধেও জ্ঞান দেওয়া আবশ্যক।কিন্তু অতিবদুঃখের বিষয় এই যে,আমাদের মুসলমান সমাজে স্ত্রী শিক্ষার অবস্থা অতিবশোচনীয়।অধিকাংশ পরিবারেই স্ত্রী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব নাই এবং তাহারব্যবস্থাও নাই।কিছু কিছু পরিবার আছে যাহারা শুধু মাত্র মেয়েদেরকে ক্বোরআনচলিত ভাবে পরানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে,দ্বীনি শিক্ষার প্রতি তাদের কোনগুরুত্বই নাই।আর বেশীর ভাগ পরিবারই মেয়েদের আধুনিক শিক্ষার প্রতি ঝুকিয়াপরিয়াছে।উচ্চ শিক্ষার নাম করিয়া যেই সব মেয়ারা একাকী বিভিন্নবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িতে যায় তাদের লাগামহীন চলা ফেরা এবং নানান অঘটনের জন্মদেয়া কি ইহাই প্রমান করেনা যে ইহার পরিনাম কত ভয়ানক।আর তাই ধর্মের প্রতিতাদের অনিহা।ইসলামের আইন কানুন মানার ধার-ধারেনা তারা।ইহা জাতীয় জীবনেরপক্ষে মারাত্বক অশুভ লক্ষন।
তবে পরিবেশ অনুকুলে থাকিলে এবং সফরের দুরুত্বের মাঝে থাকিলে মেয়েদের আধুনিকশিক্ষা বা উচ্চ শিক্ষা নিতে কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়িতে কোন সমস্যা নাই।
পরিশেষে বলিতে চাই আজ মুসলীম সমাজকে প্রকৃত শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি শিক্ষারপ্রতি গুরুত্ব দিতে হইবে।কারন শিক্ষা ব্যবস্থার দোশত্রুটির কারনে আমাদেরসবার ধর্মময় জীবন নষ্ট হইতেছে আর এই জন্য সর্বপ্রথমে পিতা-মাতাকেই আল্লাহরনিকট জবাবদিহি করিতে হইবে।যার কপালে হেদায়েত আছে,যার ভিতরে আল্লাহ ওজাহান্নামের ভয় আছে,তার জন্য ক্বোরানের একটা আয়াত কিংবা একটা হাদিসই যথেষ্টহইয়া যায়।আর যার কপালে হেদায়েত নেই,তার জন্য একটা বৃহত আকারের ইতিহাস রচনাকরিয়া দিলেও কোন লাভ নাই।আমাদের সবাইকে মনে রাখিতে হইবে,আমাদের মৃত্যুহইবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে উঠিতে হইবে,তখন সেইখানে কাহারো কোনওজর চলিবেনা।দোয়া করি আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্বোরান-হাদীস পড়িবার ও বুঝিবারএবং সেই অনুযায়ী আমল করিবার তৈফিক দিন।আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত ওহেদায়েত দান করুন -আমীন।
লেখকঃ আতাউর রহমান।

বি,দ্রঃএই লেখাটি প্রথমে (http://www.boiag.com/) ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।
(প্রথম পর্ব এখানে-http://www.islamicambit.com/tune-id/3563)

Leave a Reply