ইসলামে হেজাব বা পর্দা প্রথা এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহঃপ্রথম পর্ব(ভুমিকা)

                                                     ” বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম “                                                        

ভুমিকাঃ– সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য যিনি দুনিয়া ও আখেরাতের এক মাত্র মালিক।দুরুদ ও সালাম আখেরী নবী,নবী শ্রেষ্ট হযরত মুহাম্মদ(সঃ)-সহ সকল পয়গম্বর(আঃ),আহলে বাইত,সাহাবায়ে কেরাম সহ ইসলামের সকল অনুসারীদের উপড়।হেদায়েত তাদের নসীব হইয়াছে যাহারা ইসলামে প্রবেশ করিয়াছেন এবং ক্বোরান ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করিয়াছেন,আর সেই অনুযায়ী আমলও করিয়াছেন।আমার এই লেখাটি বিশেষ ভাবে নারীদেরকে উদ্দেশ্যে করিয়া লিখা।কারন নবী করীম(সঃ) এর হাদীস অনুযায়ী উম্মতে মুহাম্মদীর বেশীর ভাগ জাহান্নামী হইবে নারী।আর এই জাহান্নামে যাওয়ার যেই দুইটি কারন সবচেয়ে বেশী তাহাই নিম্নে বর্ননা করা হইয়াছে।তবে সমতা রক্ষার জন্য পুরুষদেরকেও একেবারে বাদ দেওয়া হয়নাই এই আলোচনায়,আল্লাহর দেওয়া মহান নেয়ামত হইল ইসলাম।সমস্থ মানব জাতীর দুনিয়া এবং পরকালের শান্তি পুর্ন ব্যাবস্থা এক মাত্র এই ইসলামেই আছে।প্রত্যেক মানুষ যেন সুন্দর ভাবে জীবন অতিবাহিত করিতে পারে,সবাই যেন সবার ন্যায্য অধিকার পাইতে পারে সেই ব্যবস্থাই ইসলাম করিয়াছে।যেই দিক দিয়াই বিচার করা হউকনা কেন ইসলামের বিকল্প আর কিছুই নাই।তাই পৃথিবীর অনেক অ-মুসলীম মনীষিও স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছে যে,ইসলামই এক মাত্র মানব জাতীকে শান্তি দিতে পারে। ইসলামে নারীর মর্যাদা প্রদান,পবিত্রতা রক্ষা ও তাদের অধিকার রক্ষা করিয়া যে সীমা নির্ধারন করিয়া দিয়াছে তাহা মানব সমাযের জন্য ইসলামের এক মহান দানই বলা চলে।ইসলামে নারীর যে অধিকার দিয়াছে ইসলাম পুর্ব যুগে তাহা ছিলনা।ইসলামে নারীর জন্য যে উদার ও ভারসাম্যপুর্ন ব্যাবস্থা করিয়াছে,তাহা বর্তমানে সকল ধর্ম,সকল জাতীই মানিয়া নিতে বাধ্য হইয়াছে। ইসলাম আগমনের পুর্বে নারী যেই পর্যায়ে ছিল তাহা মোটামুটি সকলেরই জানা।আরবের পৌত্তলিকগন নারীদেরকে পশু শ্রেনীর পর্যায়ে ফেলিয়া রাখিয়াছিল।ব্যবিচার এমন পর্যায়ে পৌছিয়াছিল যে তাহা ভাষায় প্রকাশ করার মতন নয়।এমনকি তাহারা তাহাদের কন্যা সন্তানদের কে জীবিত কবর দিত।ছেলে বাবার তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করিতো র্নিদিধায়।জিনা ছিল প্রকাশ্য।ইতিহাস ইহার স্বাক্ষ বহন করিয়া আসিতেছে।আর সেই সব অন্যায়-অত্যাচার থেকে একমাত্র ইসলামই সবাইকে ফিরিয়ে এনে শান্তির ছায়ায় ঠাই দিয়েছিল,দিয়েছিল সবার সমান ও ন্যায্য অধিকার।কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় বর্তমান যুগে সভ্যতার ছন্দনামে অন্ধকার যুগের সেই বর্বরতা এবং উলঙ্গ ব্যভিচারে সারা পৃথিবী সয়লাব হইয়া গিয়াছে।নারী অধিকার আদায়ের বৃথা চেষ্টায় অবলা নারী গন আজ ঘরের বাহীর হইয়া মাঠ দখলের চেষ্টায় মগ্ন।বেপরদায় রাস্তায় নামিয়া তারা যেই সমস্ত কার্য করিতেছে তা শুধু ইসলাম না মানার কারনেই হইয়াছে।আজ উলঙ্গ সভ্যতার উদ্দাম নেশায় পৃথিবীর আকাশ বাতাশ কলুসিত হইয়া উঠিয়াছে।আর এই সমস্ত কাজ অবশ্যই অত্যন- মর্মান্তিক এবং ইহার পরিমানও অত্যন্ত ভয়াবহ অনেক বেদনা ভরা মনে বলিতে হয়,মুসলমান সমাজেও আজ এই তথাকথিত আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়াছে।মুসলমান ঘরের পর্দানশীল নারীদেরকে ঘরের বাহীর করিবার জন্য এক দল ধর্মদ্রোহী লোক আধুনিকতার নাম করিয়া এক গভির ষরযন্ত্রের শুরু করিয়াছে এবং তারা অনেক খানি এই কাজে সফলও হইয়াছে বলা চলে,কারন তাদের এই অসদুদ্দেশ্যের ফল সমাজে ফলিতেও আরম্ভ করিয়াছে।বিশেষ করিয়া আধুনিক শিক্ষিত পরিবার গুলিতে এই পর্দা উচ্ছেদের মরন ব্যধি ফতোয়া রীতিমত আদৃত হইয়া উঠিয়াছে।মুসলমান সমাজকে তাহার মহান আদর্শ হইতে বিচ্যুত করিয়া ধ্বংশের অতল তলে ঠেলিয়া দিতেছে।আজ তাহারা বলিতেছে মনের পরদাই বর পরদা বাহীরের পরদার কোন দরকার নাই।আপসুস আজ মুসলমাদের জন্য,তাহারা ক্বোরাআন হইতে বোঝার চেষ্টা করিলনা।ইসলামকে জানার চেষ্টা করিলনা।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবকিছইু জানেন এবং সবকিছুই ভাল বুঝেন,তাই তিনি মনের পর্দা নয় বরং বাহীরের বা দেহের পর্দাকেই আবশ্যক করিয়াছেন।এই কথা সহজ করিয়া বুঝিতে অবশ্যই কষ্ট হইবেনা যে,মনকে কিন্তু নিয়ন্ত্রন করে চোখ,আর এই চোখ যদি পর্দা করা না হয় তাহইলে মনকে অবশ্যই পরদা করা সম্ভব হইবেনা।আহকামুল হাকীমিন আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাই বাহীর টাকেই পরদা করিতে বলিয়াছেন আগে যদি বাহীরটা পর্দা হইয়া যায় তাহা হইলে ভিতরটাও আপনা আপনি পর্দা হইয়া যাইবে। আজ যাহারা নারী অধিকারের মিথ্যা অজুহাতে ঘরের মেয়েদেরকে পর্দার বাহীর করিয়া আনিতেছেন,তাহারা অবশ্যই ইসলামের বিধি-বেবস্থা ও উহার গভীর রহস্য উপলব্ধি করিতে পারেননাই ইহা নিঃসন্দেহে বলা যায়।তাইতো তাহারা তাহাদের খেয়াল খুশি মতন ইসলামের আদেশ-নিশেধকে উপেক্ষা করিয়া নিজের ঘরের মেয়েদেরকে বাহিরের লম্পট গুন্ডাদের হাতে তুলিয়া দিবার জন্য ব্যাস্ত হইয়া পরিয়াছে।বোঝাই যাইতেছে,তাহাদের মাথায় নাস্তিকতাবাদ প্রবেশ করিয়া তাহাদের বরবাদ করিয়া দিয়াছে।আল্লাহর কাছে দোয়া করি এবং একান্ত ভাবে আশা করি অচিরেই তাহারা তাহাদের ভুল বুঝিয়া ইসলামের নিকট ফিরিয়া আসিবে। একটা কথা না বলিলেই নয় যাহারা আাজ নারীদেরকে স্বাধীন করিয়া দিবার জন্য মাঠে নামিয়াছে এবং নিজের ঘরের নারীদেরকেও ঘরের বাহীর করিয়াছেন তাহাদের অবস্থাটা একটু দেখা যাক।আজ তাহারা তাদের এই অপকর্মের ফল মর্মে মর্মে টের পাইতেছে।আজ তাহারা তাহাদের স্ত্রী-কন্যাদের অবাধ মেলা মেশায় অতিষ্ঠ হইয়া পাগল প্রায়।কন্যাগন উচ্চ শিক্ষার নাম করিয়া বাহিরে ছাড়িয়া দিয়া তারা শুধু ভুলই করেনাই নিজের ঘরেও অসভ্যতা ডাকিয়া আনিয়াছে।তাদের স্ত্রী-কন্যগন আজ প্রকাশ্যে দিবালোকে ব্যভিচার,অসংখ্য ভ্রুন হত্যা,গোপন প্রেম,অনাবশ্যক বিলাসিতা,সংসার ধর্মে অনিচ্ছা,জন্ম নিরোধ বিবাহে অসম্মতি ইত্যাদি নানা প্রকার বিপদ আজ শুধু তথাকথিত স্ত্রী স্বাধীনাই ডাকিয়া আনিয়াছে।অনেক পরিবারই আজ নারীদের এই গর্হিত আচরনে লজ্জায় অধমুখ হইয়া যাইতেছে।কিন্তু এই সব লাগামহীন আধূনিক নারীগন এখন উল্টা পুরুষদিয়কে পাল্টা জবাব দিতেছে এবং যাতা ব্যবহার করিতেও মোটেও এতটুকু পরওয়া করেনা।দেখা যায় তাহারা নানা প্রকার মন মাতানো পোষাক পরিধান করিয়া,নানা প্রকার কেমিকেল প্রশাধনি ব্যবহার করিয়া অপরূপ দেহ ভঙ্গি করিয়া ঘরের বাহির হইয়া পরে।কখনও স্বামীর সহয়তায় কখনো হতভাগা স্বামীকে একেবারেই অগ্রাহ্য করিয়া ঘরের বাহির হইয়া যায়।তাহারা কখনো একা কখনো সদলবলে কখনো গৃহ-শিক্ষক কখনো সহপাঠী পুরুষ বন্ধুর সহিত কখনো বা নিজ বাড়ীর বা পাড়ার আত্নীয় অনাত্নীয় পুরুষ ছেলেদের সাথে গৃহের বাহিরে যাতায়াত করিয়া থাকে।এই সমস্ত মেয়েরা যায় কোথায়?এই সব নির্বোধ মেয়েরা নিজের ঘরের আঙ্গিনা পরিত্যাগ করিয়া,গানের আসরে.সিনেমা হলে,নাট্যশালায়,খেলার মাঠে,হাঠে বাজারে,প্রমোদ ভ্রমনে,বিভিন্ন উৎসবে যোগদান করিয়া থাকে।বিভিন্ন নাচের আসরে গিয়ে দেখা যায় অনেক সময় নিজেরাই নাচিতে আরম্ব করে,গাইতে আরম্ব করে বেহায়া ভাবে।এমনকি এমন সব পার্টিতে যোগদান করে যেখানে বাধাহীন ভাবে নেশা দ্রব্য পান করা হয় এবং এই সব নেশা দ্রব্য পান করিয়া নেশায় মত্য হইয়া কি সব বেহায়া আচরন করে তাহারা নিজেরাই তা বলিতে পারেনা।নারী পুরুষের এই সব অবাধ মিলন ক্ষেত্রে লম্পট চক্ষুর যুবক এবং পুরুষ সঙ্গ প্রয়াসী নারীরা একে অন্যকে নানা অবৈধ উপায়ে উপভোগ করিয়া থাকে।পরিনামে যখন দুর্ঘটনা প্রকাশ হইয়া পড়ে,তখন আত্নহত্যা বা ভ্রুন হত্যা করে কিংবা পতিতালয়ে গমন করিয়া আত্নীয় স্বজনদের মুখে কলঙ্কের কালী মাখাইয়া দেয়।এই হইল গিয়ে বাংলার প্রগতিশীলা নারী সমাজের স্বরূপ। বর্তমানে ধর্ম জ্ঞানহীন,অবিবেচক ও উচ্ছৃঙ্খল একদল লোক এই দলে যোগদান করিয়াছে এবং পর্দানশীল মুসলীম নারী দিগকে রাজ পথে ফেলিয়া তাহাদের কোমল নারীত্বকে নষ্ট করিয়া দিবার জন্য ইহারা মাতিয়া উঠিয়াছে।পৃধিবীতে যে সকল জাতি নারীকে গৃহের বাহীরে অবাধ বিচরনের অধিকার দিয়াছে তাহারাই আজ মরিবার ভয়ে আতষ্কিত।কিন্তু মুসলমান কখনো এইরুপ করিতে পারেনা।তাই আজ যাহারা নারীদিগকে স্বাধীন করিয়া দিবার নামে সোচ্চার হইয়াছে এবং পথে ঘাটে ব্যভিচার করিয়া দুনিয়ার বাতাসকে কলুসিত করিয়া তুলিবার জন্য প্রস্তুত তাহাদের হাত হইতে মুসলমান সমাজকে রক্ষা করিতে হইবে।নারীকে স্বাধীনতা ও সমান অধিকার দেওয়ার কথা যাহারা বলেন তাহারা কোনদিনই তাহা করিয়া দেখাইতে পারেন্নাই।শুধু মাত্র নারীদেরকে বিভিন্ন বেহায়াপনা কাজ করাইতেই উদগ্রীব এই ছাড়া অন্য কিছু নহে।তাইতো দেখা যায় আজকাল পুরুষগন পোষাক দিয়া নিজের শরীরটাকে পুর্ন রূপে ঢাকিয়া রাখে অপরদিকে নারীদের দেহ থেকে কাপর নামাইতে নামাইতে এমন অবস্থা হইয়াছে,মনেহয় তাদের দেহে এই সামন্যতম কাপড়টুকু না থাকিলেই ভাল হইত।আর আমাদের বিশ্বাস নারী স্বাধীনতার ঠিকাদারেরা বোধ হয় ইহাতেই তৃপ্ত। আজ কাল এক শ্রেনীর লোক দেখা যায়,তাহারা বলিয়া বেরায় তাহারা নারীদেরকে মায়ের মতন দেখিয়া থাকেন।আবার তাহারই সুযোগ পাইলে মাতৃত্বের উপর পশুত্বের ক্ষুদা মিঠাইতে এতটুকু দ্বিধা করেন্না।আর এই শ্রেনীর সাধুরাই নারীর পর্দা উম্মোচন করিয়া দিবার জন্য ব্যতিব্যস্ত।আসলে তাহারা হইল শয়তানের দালাল,দুশ্চিরিত্র।তাহাদের ক্বোরআনের উপর কোন বিশ্বাস নাই,আল্লাহর আইনের উপর কোন বিশ্বাস নাই তাহারা শুধু ওঁত পাতিয়া থাকে নারীদেরকে বিভিন্ন প্রকারে ভোগ করিবার জন্য।আবার এক শ্রেনীর লোক আছে যাহারা মুখে ক্বোরআন ও হাদীসের কথা বলে কিন্তু নামায-কালামের ধারধারেনা।তাহাদের মাঝে কোনই আমল নাই কিন্তু মুখে মুখে আলেম সাজিয়া বড় বড় ফতোয়া দান করে।তাহাদের কাছ থেকেও আমাদিয়কে বাঁছিয়া থাকিতে হইবে।মনে রাখিতে হইবে আলেম তাহাদিগকে বলা হয় যাহাদের ইলম আছে এবং আমলও আছে।মনে রাখিতে হইবে যাহাদের মাঝে আমল নাই কিন্তু মুখে শরিয়তের কথা বলে তাহারা অবশ্যই শয়তানের অনুচর কারন শয়তানেরও অনেকে কিছু জানা আছে তবে আমল নাই। তাই আজ মুসলমানদেরকে এই সমস্ত ষরযন্ত্র হইতে বাঁচিয়া থাকিতে হইবে।যাহারা এই সব ধোকাবাজি করিয়া বেরায় তাহারা অবশ্যই আমাদের বন্ধু নয় শত্রু।সকল মুসলমানদের তাই ক্বোরান ও হাদীস থেকে শিক্ষা নিতে হইবে.আল্লাহর আইনকে মানিয়া চলিতে হইবে।তাহা হইলেই মঙ্গল হইবে।মনে রাখিতে হইবে নারীদের নারীত্ব পর্দার ভিতরেই বেহায়াপনার ভিতরে নয়।আর ইহাতেই দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল রহিয়াছে।

আবারো বলে রাখি এখানে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের পর্দার কথাই বেশী বলা হইছে যেহেতু পুরুষরা বাহিরে তাদের কর্মব্যাস্ত জীবন পালক করতে হয় তাই পুরুষদের পর্দার প্রথাটা মেয়েদের মতন এত বেশী ক্বোর’আন হাদিসে প্রকাশিত হয়নাই যেমনটা মেয়েদের বেলায় প্রতিয়মান হয়েছে,যাক এখন আসি মুল কথায়, এমন অনেক মহিলা আছে যাহারা নামায-রোজা ঠিক মতন পালন করিতেছে কিন্তু পর্দা ঠিক মতন পালন করিতেছেনা।অনেক মহিলা এমনও মনে করে যে,শুধু ঘর হইতে বাহির হইলেই পর্দার দরকার হয়,আর কোথাও এর দরকার নাই।অথবা অনেকে মনে করে শুধু অপরিচিত পুরুষদের সামনেই পর্দা করিতে হইবে কিন্তু পরিচিত পুরুষদের সামনে পর্দা করিতে হইবে না অর্থাৎ তাহারা বোঝেইনা বেগানা পুরুষ কাহাকে বলে এবং কোথায় কোথায় পর্দা করিতে হইবে।আবার অনেকে আছে জানা সত্বেও বেগানা পুরুষদের সামনে যাইতে হয়,হয়ত সামাজিক কারনে কিংবা পারিবারিক কারনে অথচ এটা সর্বাবস্থায় হারাম।কিন্তু ইমানদার নারীগন যাহারা পরকালে বিশ্বাসী এবং জান্নাতের আশা করেন,তাহারা স্বরন রাখিতে হইবে,যদি কোন স্বামী স্বয়ং স্ত্রীকে বেপর্দায় কোন বেগানা পুরুষের সামনে যাইতে বলে,সেই ব্যক্তি যত বড় আত্মীয়ই হোক না কেন,তবে স্ত্রী সেই আদেশ মানিতে বাধ্য নয়।সে যদি স্বামীর কথা মতন বেগানা পুরুষের সামনে না যায় তাহা হইলে তার কোন গুনাহ হইবেনা বরং সওয়াব হইবে।আর যদি স্বামী জালিম হয় জুলুম করিয়া হইলেও স্ত্রীকে বেগানা পুরুষের সামনে যাইতে বাধ্য করে,তাহা হইলে এই অবস্থায় স্বামী গুনাহগার হইবে স্ত্রীর গুনাহ হইবে না।তবে এই ক্ষেত্রে পুন্যবর্তী স্ত্রীগনের উচিৎ আদর ভালবাসা দিয়ে নিজ নিজ স্বামীদেরকে বোঝানো এবং এই সমস্ত পাপের কাজ থেকে পিরানো।আবার অনেকে পরদা সম্মন্ধে জ্ঞান রাখেন আবার পর পুরুষের সামনে নিজেকে জাহির করিতেও দ্বিধাবোধ করেনা অর্থাৎ আমল নাই।আবার এমন অনেক স্বামীও আছেন যাহারা নিজের স্ত্রীকে পর-পুরুষের সামনে,বন্ধু-বান্ধবের সামনে প্রকাশ করিতে গর্ব বোধ করে এবং স্ত্রীরাও ইহাতে অতি উৎসাহিত বোধ করিয়া নিজেরাও যাইতে আগ্রহী থাকে।আর এই ভাবেই আল্লাহর আইন লঙ্গিত হইতেছে প্রতিনিয়ত।এখন সকল স্বামীদের উচিত তাহাদের নিজ নিজ স্ত্রীদেরকে পর্দা মতন রাখা এবং স্ত্রীদেরও কর্তব্য সম্পুর্ন ভাবে পর্দা করিয়া ইসলামী জীবন যাপন করা।স্বামীদের বুঝা দরকার আমার স্ত্রীর সৌন্দর্য শুধু আমার জন্য আমি তা উপভোগ করিবো বাহিরের মানুষের সামনে স্ত্রীকে ছাড়িয়া দিব কোন দুঃখে।আর স্ত্রীদেরও বুঝা উচিত আমাকে যদি আল্লাহ সৌন্দর্য দান করিয়া থাকেন তাহা শুধু আমার স্বামীর জন্য,শুধু শুধু পর পুরুষকে দেখাইয়া পাপ কামাই করিয়া লাভ কি।এমনওতো হইতে পারে এই সৌন্দর্য আল্লাহ ক্ষনিকের মধ্যে কুৎসিত বানাইয়া দিতে পারেন। আবার অনেক পুরুষ আছে যারা বেগানা মহিলার প্রতি কু-দৃষ্টি দিতে কোন কুন্ঠা বোধ করেনা বরং মনে মনে তৃপ্তি অনুভব করিয়া থাকেন।অনেক পুরূষ আছে এমন,যারা বেগানা মহিলাদের নিকট যাতায়াত করে,আড্ডা বাজি করে হাসি তামাসা করে।তারা সামান্য আত্বিয়তার অজুহাত দেখাইয়া মহিলাদের অন্দর মহলে অনায়াসে প্রবেশ করিয়া থাকে।যাহারা এইসব করে তাহাদের বোঝা উচিত এই সমস্ত কাজ হারাম।নারী যেমন কোন বেগানা পুরূষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া জায়েজ নাই তেমনি কোন পুরূষের জন্যও বৈধ নয় কোন বেগানা মহিলার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। তাই আমাদের সবার উচিত ক্বোরান ও সুন্নাহর আলোকে আমাদের জীবনকে পরিচালিত করা,ইসলামী শরিয়াতকে সঠিক ভাবে জানা এবং উহার উপর আমল করা।তাহা হইলেই আমাদের পরকালের শান্তি মিলিবে।সবসময়ই মনে রাখা দরকার যে,দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী আর আখেরাত অনন্ত কালের,যার কোন শেষ নেই।

লেখকঃ আতাউর রহমান।

বি,দ্রঃএই লেখাটি প্রথমে (http://www.boiag.com/) ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।

3 thoughts on “ইসলামে হেজাব বা পর্দা প্রথা এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমুহঃপ্রথম পর্ব(ভুমিকা)

  • July 14, 2013 at 8:32 am
    Permalink

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ভাই ।আপনার লেখার মান খুবি উচু মাপের ।মহান আল্লাহ তাআলাকে আমি শুকরিয়া জানাই যে আপনার মত একজন ভাইকে আমি ইসলামিক এমবিট এ পেয়েছি । আশা করি আপনি নিয়তিম হবেন ।

  • July 14, 2013 at 7:09 pm
    Permalink

    ওয়াআলাইকুম সালাম ভাই,আমার জন্য দোয়া করবেন যেন নিয়মিত লিখে যেতে পারি এবং ইসলামের সেবা করে যেতে পারি।

    • July 15, 2013 at 3:54 am
      Permalink

      নিশ্চই ভাই। আর আপনার কোন প্রকার সমস্যা কিনবা কোন মতামত থাকলে আমাকে জানাবেন কিন্তু ভাই।

Leave a Reply