মওদূদী সাহেব ও দাড়ি

দাড়ি নামক উর্দু কিতাবে মওদূদী সাহেব ও দাড়ি শিরোনামে কিছু কথা লেখা হয়েছে তা এখানে অনুবাদ করা হচ্ছে। হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমদ সাহেব পাকিস্তানী লিখেছেন, দাড়ি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “দাড়ি বাড়াও” এবং সকল উম্মত একমত যে, দাড়ি এক মুঠের কম করা হারাম। কিন্তু মওদূদী সাহেব দাড়ি কাটা জায়েয ফতোয়া দিয়ে সমস্ত উম্মতকে নষ্ট করেছে। এর থেকে বড় কথা হল, মওদূদী সাহেব একথা বলতে সাহস করেছে যে, হাদীসে শুধু দাড়ি রাখার কথা আছে। যতটুকু রাখা হোক না কেন হাদীসের উপর আমল হয়ে যাবে। একথা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানী ব্যক্তিত্বের উপর জেনে শুনে স্পষ্টভাবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোন হাদীসে এটা নেই, “দাড়ি রাখো”। বরং দাড়ির সকল হাদীসে এ শব্দ এসেছে, “দাড়ি বাড়াও” “দাড়ি ছেড়ে দাও” “দাড়ি বেশি কর” ইত্যাদি।

মওদূদী সাহেবের কত বড় সাহস! من كذب على متعمدا فليتبؤا مقعده من النار অর্থ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনে বুঝে আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দিবে তার ঠিকানা জাহান্নাম হবে। এ হাদীসের প্রতি সে কোন ভ্রুক্ষেপও করল না। (মওদূদী সাহেব আকাবেরে উম্মত কি নজর মে ৮৬ পৃ.)

দাড়ি কিতাবের লেখক বলেন, মওদূদী সাহেবের এ হাদীসের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন বা কি ছিল? কারণ মওদূদী সাহেব তো “সাবাই সম্প্রদায়” এবং “শিয়া সম্প্রদায়ের” মুজাদ্দেদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। (মওদূদী সাহেব আকাবেরে উম্মত কি নজর মে ৯৫ পৃ.)

শিয়া ধর্মের বিশেষ গুণ এবং শিয়া মতালম্বী হওয়ার জন্য মূল আকীদা ও বিষয়সমূহ হল (১) تحريف القرأن কোরআনের অর্থ বিকৃত করা (২) সাহাবাগণের সাথে খারাপ ব্যবহার করা (৩) বুযুর্গগণকে গোমরাহ বলা ও তাঁদেরকে তিরষ্কার করা (৪) মোতায়া, তাকিয়া ইত্যাদি বিষসমূহে মওদূদী সাহেব শিয়াদের সাথে একমত পোষণ করে। এর থেকে বড় কথা হল, তেহরানে মওদূদী সাহেবের কিতাবসমূহ ফার্সী ভাষায় অনুবাদ করে তা প্রচার করা হচ্ছে।
হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমদ সাহেব পাকিস্তানী এটাও লিখেছেন, মওদূদী সাহেব যে “খেলাফত ও মুলূকিয়াত” কিতাব লিখেছে তা মূলত বিশিষ্ট শিয়া লেখক মোতাহার আলীর রচিত আরবী “মিনহাজুল কারামাত” এবং “মারেফাত ও ইমামত” কিতাবের অনুবাদ।

হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমদ সাহেব পাকিস্তানী আরো বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন সূত্রে খবর পৌঁছেছে যে, মওদূদী সাহেবের বংশধর শিয়া ছিল। তাই সাহাবাগণের সাথে শত্রুতা করা ও তাঁদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা মওদূদী সাহেব স্বীয় বাপ দাদার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকেই মিরাস হিসাবে পেয়েছে। জনাব মাহমূদ আহমদ আব্বাসী “হাফওয়াতে মওদূদী” নামক কিতাবে মওদূদী সাহেবের শিয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করার কথা প্রমাণ করেছেন। (মওদূদী সাহেব আকাবেরে উম্মত কি নজর মে ৮৯-৯১ পৃ.)

মোটকথা মওদূদী সাহেবের জামাত সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বাইরে। তাদের ভিন্ন মতালম্বী ও বিশেষ আকীদা হওয়ার কারণে তারা সাধারণ মুসলমান থেকে ভিন্ন দল এবং একটা বিশেষ জাতি হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

তাই মওদূদী সাহেবের জামাতের লোকদের সাথে আত্মীয়তা করা বৈধ নয়। মওদূদী সাহেবের জামাতের কোন লোককে নামাযের ইমাম বানানো জায়েয নয়। কোন মসজিদে মওদূদী জামাতের কোন ইমাম থাকলে তাকে বের করে দেওয়া সে মহল্লার গণ্যমান্য লোকদের উপর ফরজ। আর মসজিদ কমিটি সে ইমামকে বের করতে রাজি না হলে সে কমিটি বাদ দিয়ে ইসলামী আকীদার ভাল লোকদের দিয়ে কমিটি বানানো মহাল্লাবাসীর উপর ফরজ। (উর্দু দাড়ির কিতাব ৬৬ – ৬৮ পৃ.)

মওদূদী সাহেব রাসায়েল ও মাসায়েলের ১ খ. ১৪৫ পৃ. লিখেছে, বিগত আলেমগণ দাড়ির ব্যাপারে তেমন কোন গুরুত্ব দিতেন না। হাদীস বর্ণনাকারীগণ থেকে এবং ইতিহাসের পাতায় মাত্র দুই তিনজন সাহাবীর লম্বা দাড়ি রাখার কথা পাওয়া যায়।
এর প্রথমত উত্তর হল : হাদীস বর্ণনাকারীগণ এবং ইতিহাস লেখকগণ সকল সাহাবাগণের আকৃতি বর্ণনা করা নিজেদের উপর জরুরী মনে করে কিতাব লিখেননি। তাঁরা শুধু বিশেষ বিশেষ সাহাবাগণের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। যে কারণে সেখানে তাঁদের দাড়ির আলোচনাও এসে গেছে।

দ্বিতীয়ত উত্তর হল : সাহাবাগণের যুগে দাড়ি ও সুন্নত পালনের আলোচনা করার তেমন কোন প্রয়োজন হত না। নবীর সুন্নতের উপর আমল করা সাহাবাগণের অভ্যাস ছিল। কিন্তু যখন থেকে ইসলামী শিক্ষানুযায়ী আমল করায় অবজ্ঞা দেখা দিল এবং মানুষ স্বীয় ইচ্ছামত চলতে ফিরতে শুরু করল এবং নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কার করতে শুরু করল তখন থেকে আলেমগণও সে ব্যাপারে আলোচনা করা শুরু করলেন।

মোটকথা : সকলের প্রতি আমার (মুফতী রশীদ আহমদ সাহেব পাকিস্তানী) আবেদন হল! মওদূদী সাহেবের ভুলসমূহের মধ্য হতে দাড়ি কাটা বৈধ হওয়ার ফতোয়াও একটা ভুল ফতোয়া। তাই তার বর্ণিত ভুল মাসআলার উপর আমল করে ও তা বিশ্বাস করে এবং তা প্রচার প্রসার করে তার রুহকে কষ্ট পৌঁছানো উচিত নয়। (দাড়ি উর্দু ২৭ পৃ.)

(ইসলামি দাড়ী ও ইসলামি পোশাক অবলম্বনে)

সংকলক
ফকীহুল উম্মত মুফতী মাহমূদ হাসান গাঙ্গুহী (রহ.) মুফতী আজম দারুল উলূম দেওবন্দ এর সুযোগ্য খলীফা শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মামুন রশীদ সাহেব (দা.বা.)

 

Hm

 

4 thoughts on “মওদূদী সাহেব ও দাড়ি

  • June 13, 2013 at 10:20 am
    Permalink

    আমি বুঝি না ! পৃথিবীর বেশির ভাগ মুসলিম দেশের বাদশাদের মুখেই দাঁড়ি নেই বা থাকলেও খুব ছোট নামে মাত্র ।
    তারা কি এ হাদিস জানে না ? নাকি তাদের কাছে অন্য কোন হাদিস/যুক্তি আছে ?
    জাযাকাল্লাহ !

  • June 13, 2013 at 10:59 am
    Permalink

    আরমান ভাই@আমাদের দলীল কি বেশীরভাগ দেশের মুসলিম বাদশা নাকি কোরআন ও হাদিস?সৌদির বর্তমান বাদশা এমিরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে বসে মদ খেয়েছে তাই বলে কি তিনি জানেনা ইসলামে মদ হারাম?

    কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিচার করুন,কোন দল বা দেশের দিকে ইঙ্গিত করা উচিৎ নয়।

  • June 15, 2013 at 11:36 am
    Permalink

    ফারুক ভাই @ আমি জানি , কিন্তু যদি মুসলিম দেশের বাদশারা পুরোপুরি সুন্নাহ মেনে চলতো বিশেষ করে সৌদি বাদশা তাহলে সারা বিশ্বের মুসলমানদের অনেক উপকার হতো । আজকাল অনেক তরুন তাঁদের দেখে ভাবে হয়তো কোনো হাদিস আছে বা দাড়ি রাখা অতো জরুরী কোন বিষয় নয় !

Leave a Reply