কোরআন হাদিসের অনুসরণই পূর্ণাঙ্গ দ্বীন

কোরআন হাদিসের অনুসরণই পূর্ণাঙ্গ দ্বীন

 

আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম । তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম (মায়েদা, আয়াত ৩)

 

প্রকৃত মুমিনতো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনে (হুজরাত, আয়াত ১)

 

যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ স] অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন (ইমরান, আয়াত ৩১)

 

যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর (নিসা, আয়াত ৫৯)

 

সে লোক ইমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে [রাসুল স] ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে (নিসা, আয়াত ৬৫)

 

তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর (হুজরাত, আয়াত ১)

 

আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের (ইমরান, আয়াত ৩২, ১৩২; নিসা, আয়াত ৫৯; আনফাল, আয়াত ১, ২০, ৪৬; নুর, আয়াত ৫৪, ৫৬; মুহাম্মদ, আয়াত ৩৩; মুজাদালাহ, আয়াত ১৩; আততাগাবুন, আয়াত ১২)

 

হে যারা ঈমান এনেছ পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর (বাক্বারা, আয়াত ২০৮)

 

সাবধান! সৃষ্টি তাঁর এবং হুকুম ও বিধান ও তাঁরই (আ’রাফ, আয়াত ৫৪)

 

আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (ইমরান, আয়াত ১০২)

 

সকল ইবাদত কোরআন হাদিস অনুসারে

 

আমরা মুসলিম । আমাদের ধর্ম ইসলাম । ইসলাম অর্থ আল্লাহর ইচ্ছার কাছে বশ্যতা স্বীকার করা ও সমর্পন করা । পরিভাষায় ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা দ্বীনের নাম । যা আমাদের রাসুল মেহাম্মদ (স) এর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে ।

 

অতএব আমাদের অলী আওলিয়া, পীর দরবেশ, মুফতী, মুহাদ্দীস, আলেম মাওলানা, মসজিদের ইমাম এরূপ অনেক পরহেজগার লোক যে সকল ইবাদত বন্দেগীর কথা বলুক তা অবশ্যই কোরআন হাদিসের আলোকে হতে হবে ।

 

অনেকে মৌখিকভাবে বলে কিন্তূ কোরআন হাদিসের দলিল পেশ করে না । অনেকে মৌখিক কথার উপর আমল করে কিন্তূ কোরআন হাদিসে আছে কিনা যাচাই করে না ।

 

কোন আক্বীদা, ইবাদত কোরআন হাদিস বহির্ভূত হলে তা বেদআত । কোরআন হাদিস বহির্ভূত কারো মৌখিক কথার উপর আক্বীদা রাখলে, আমল করলে শির্ক হবে ।

 

সুতরাং কোন আক্বীদা, ইবাদত বন্দেগীর কথা বললে দলিল পেশ করবেন এবং আমরা যারা আমল করবো তা কোরআন হাদিসে আছে কিনা যাচাই করে করবো ।

 

তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তাঁর অনুসরণ করো এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অলী আওলীয়াদের অনুসরণ করো না । তোমরা অল্প সংখ্যক লোকই তা স্মরণ রাখো (আ’রাফ, আয়াত ৩)

 

আপনি যদি অধিকাংশ লোকের কথা মানেন, তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করে দিবে, কেননা তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধারণার অনুকরণ করে এবং অনুমান করে কথা বলে (আনআম, আয়াত ১১৬)

 

বরং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে জানে না; অতএব তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় (আম্বিয়া, আয়াত ২৪)

 

আর তাদের অধিকাংশ শুধু আন্দাজ অনুমানের উপর চলে অথচ আন্দাজ অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না (ইউনুস, আয়াত ৩৬)

 

যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই কাফের (মায়েদা, আয়াত ৪৪)

 

যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই জালেম (মায়েদা, আয়াত ৪৫)

 

যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই পাপাচারী (মায়েদা, আয়াত ৪৭)

 

যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে আওলীয়া বা উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে তারা বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্যই করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে (আয যুমার, আয়াত ৩)

 

তাদেরকে যখন বলা হয় যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সেইদিকে এবং রাসুলের দিকে আসো । তখন মুনাফিকদের দেখতে পাবেন যে, তারা আপনার নিকট আসতে ইতস্তত করছে ও পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে (আন নিসা, আয়াত ৬২)

 

যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে পথে এবং রাসুলের পথে আস । তখন তারা বলে, আমরা আমদের বাপ দাদাদেরকে যার উপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট । যদিও তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান রাখে না এবং হিদায়াত প্রাপ্তও না হয় তবুও কি তারা তাই করবে (মায়েদা, আয়াত ১০৪)

 

আর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তাহলে জানবেন তারা শুধু নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে । আল্লাহর হিদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার থেকে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না (কাসাস, আয়াত ৫০)

 

তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমা লংঘণ করো না (নিসা, আয়াত ১৭১)

 

আল্লাহ কোন জাতীর অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে (রা’দ, আয়াত ১১)

 

জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর যদি তোমাদের জানা না থাকে (নাহল, আয়াত ৪৩)

 

আপনি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবেন না । বলুন আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি (আশশুরা, আয়াত ১৫)

 

রাসুল (স) বলেছেন, তোমরা যদি ২টা জিনিষ আঁকরে ধরে থাক তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না, এ দু’টি জিনিষ হলো আল্লাহর কুরআন ও আমার সুন্নাহ (মিশকাত ১ম খন্ড হা ১৭৭)

 

কোরআন-হাদিস ব্যতীত পরনির্ভরতা

 

কোরআন হাদিসের সাথে না মিলিয়ে যারা অন্যের মুখের কথার উপর আক্বীদা রাখে, আমল করে তাদের বেশীরভাগ লোকই কোন না কোন বেদআতী আমল করে বা শির্ক করে

 

যে আমলই করতে বলুক না কেন আমাদের উচিত হবে তার দলিল নেওয়া এবং কোরআন হাদিসের সাথে মিলিয়ে নেওয়া । যা কোরআন হাদিসে পাওয়া যাবে না তা আমল না করাই ভালো ।

 

না দেখে না বুঝে বেদআতী বা শির্ক আমল করলে কোন আমিলই কবুল হবে না এবং তা আমাদের ধ্বংসের কারন হবে ।

 

যখন একমাত্র আল্লাহর আলোচনা হয় তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায় । আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের আলোচনা হয় তখন তারা আনন্দে উল্লাসিত হয়ে উঠে (যুমার, আয়াত ৪৫)

 

যারা আল্লাহর সাথে অংগীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভংগ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টী করে (বাক্বারা, আয়াত ২৭)

 

নিশ্চয়ই আল্লাহ যে তার সাথে শরীক করবে তাকে ক্ষমা করবেন না (আন নিসা, আয়াত ৪৮, ১১৬)

 

আল্লাহ্‌ বলেন,

]إِنَّهُ ُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ[

নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে কাউকে অংশী স্থাপন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন । তার ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম । আর যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই(সূরা মায়েদাঃ ৭২)

 

যদি আপনি আল্লাহর সাথে শরীক করেন তাহলে আপনার আমল বাতিল হয়ে যাবে (আয যুমার, আয়াত ৬৫)

 

যারা কাফীর এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে তারা জাহান্নামী (মায়েদা, আয়াত ১০)

 

নিশ্চয়ই মুশরিকরা নোংরা ও অপবিত্র (তওবা, আয়াত ২৮)

 

আর কেহ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্য হলে এবং তাঁহার নির্ধারিত সীমা লংঘণ করলে তিনি তাহাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন । সেখানে সে চির কাল থাকবে এবং তার জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রয়েছে (নিসা, আয়াত ১৪)

 

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে বিরোধীতা করে তারা লাঞ্ছিত হবে (মুজাদালা, আয়াত ২০)

 

যারা রাসুলের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সতর্ক থাকা উচিত যে তারা যে কোন বিপদের সম্মুখীণ হবে অথবা যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে (নূর, আয়াত ৬৩)

 

এক্ষণে যে কেহ আল্লাহ ও রাসুলের কথা অমান্য করবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন রয়েছে এবং তারা উহাতে চিরকাল থাকবে (জ্বীন, আয়াত ২৩)

 

তোমাদের নিকট যে জ্ঞান পৌঁছেছে তারপরও যদি তোমরা তাদের (কুরআন-হাদিস বহির্ভূত কারো কথা) মনের ইচ্ছা ও বাসনার (দলিল বিহীন মতবাদ) অনুসরণ কর তাহলে নিশ্চিত রুপে তোমরা যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে (বাক্বারা, আয়াত ১৪৫)

 

মাসউদ (রা) বর্ণিত রাসুল (স) বলেছেন- তোমাদের অপরিহার্য্য কর্তব্য হলো সত্য কথা বলা কেননা সত্য পুণ্যের দিকে নিয়ে যায় । আর পুণ্য নিয়ে যায় জান্নাতে । লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যের উপর নির্ভর করে, এমন কি আল্লাহর নিকট সত্যবাদী লিখিত হয়া যায়

 

আর তোমরা মিথ্যা হতে বেঁচে থাকো । কেননা মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ কাজ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় । আর মানুষ সর্বদা মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যার উপর নির্ভর করে এমনকি আল্লার নিকট মিথ্যাবাদী লিখিত হয়ে যায় (বুখারী ২য় খন্ড ৯০০ পৃ; মুসলিম ২য় খন্ড ৩২৬ পৃ;)

 

রাসুল (স) বলেন- বিদআতিদের নামায, রোযা, হজ্জ, উমরাহ, জিহাদ, যাকাত এবং ফরজ নফল কোন এবাদতই আল্লাহর নিকট কবুল হবে না তারা ইসলাম থেকে সেরুপ ভাবে খারিজ হয়ে যাবে, যেভাবে আটা থেকে চুল পৃথক হয়ে যায় (ইবনে মাযাহ ই ফা ১ম খন্ড হা ৪৯)

Leave a Reply