ইসলামাইজেশন কেন?

জাস্টিচ আল্লামা তাকী উসমানীর বক্তব্যের আলোকে তুলে ধরা হল…………………

আমরা কেন আমাদের জীনকে ইসলামাইজ করতে চাই এবং কেন রাষ্ট্রীয় সংবিধানকে ইসলামের ধাঁচে ঢেলে সাজাতে চাই। অথচ ইসলামের শিক্ষা চৌদ্দশ বছর, বরং হাজার-হাজার বছরের পুরনো।

আমাদের কাছে বিবেক আছে….

এ-বিষয়ে আমি যে-প্রসঙ্গটির প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি, একটি সেক্যুলার তথা ধর্মহীন রাষ্ট্র তার শাসন ব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালিত করবে? এর জন্য তাদের কাছে কোনো নীতিমালা বা সংবিধান নেই। এর উত্তরে তারা বলে, আমাদের কাছে আকল তথা বিবেক আছে। আমাদের কাছে বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। এই বিবেক ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আমরা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, আমাদের এ-যুগের চাহিদা বা প্রয়োজনাদি কী? তার দাবি কী? আমরা বুঝতে পারি, কীসে আমাদের কল্যাণ ও স্বার্থ আছে। তারপর সে অনুপাতে আমরা আইন তৈরি করে নিতে পারি এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে আমরা তাতে রদ-বদল করতে পারি এবং উন্নতি সাধন করতে পারি।

বিবেকই কি শেষ মানদন্ড?

একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিবেক ও অভিজ্ঞতাকে শেষ মানদণ্ড সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, এই মানদণ্ডটি কতটুকু শক্ত। এই মানদণ্ডের এতটুকু যোগ্যতা-দক্ষতা আছে কি যে, সে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানবতার দিকনির্দেশনা দিতে পারবে। এই মানদণ্ড কি শুধু বিবেক কিংবা শুধু অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে আমাদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে?

 

জ্ঞানার্জনের মাধ্যমসমূহ

এর উত্তর হলো, কোনো জীবনব্যবস্থা যতক্ষন পর্যন্ত আপন কক্ষে জ্ঞানের বিপুল সম্ভার ধারণ না করে, ততক্ষন পর্যন্ত সেটি সফলতার সঙ্গে চলতে পারে না। আর যে-কোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য আল্লাহ পাক মানুষকে কিছু মাধ্যম দান করেছেন। সেই মাধ্যমগুলোর প্রত্যেকটির একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিধি আছে। প্রত্যেকে নিজ-নিজ কর্মপরিধি পর্যন্ত কাজ করে থাকে এবং তার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। কিন্তু তার বাইরে আর সে কোনো কাজ করতে সক্ষম হয় না, তার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না।

 

পঞ্চ ইন্দ্রিয়র কর্মপরিধি

দৃষ্টান্তস্বরূপ মানুষকে সর্বপ্রথম যে-মাধ্যমগুলো দান করা হয়েছে, সেগুলো হলো তার পঞ্চইন্দ্রিয় তথা চোখ, কান, নাক, জিহবা ও চামড়া। চোখে দেখে মানুষ অনেক বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতে পারে। জিহবা দ্বারা স্বাদ গ্রহণ করে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। নাক দ্বারা শুঁকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। হাত দ্বারা ধরে বা স্পর্শ করে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

কিন্তু এই পাঁচ মাধ্যমের প্রতিটিরই একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিধি আছে, যার বাইরে তারা কোনো কাজ করতে পারে না। চোখ দেখতে পারে- শুনতে পারে না। কান শুনতে পারে- দেখতে পারে না। নাক শুকতে পারে- দেখতে পারে না। কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, আমি আমার চোখ দুটো বন্ধ করে রেখে কান দ্বারা দেখব, তাহলে জগতের প্রতিজন মানুষ তাকে বোকা ঠাওরাবে। কেননা কানকে দেখার জন্য তৈরি করা হয়নি। যদি কেউ তাকে বলে, তোমার কান দেখতে পারে না, তাই কান দ্বারা দেখার চেষ্টা করা বাতুলতা বৈ নয়, যদি সে উত্তরে বলে, কান যদি দেখতে না-ই পারে, তাহলে তো এটি একটি বেকার বস্তু, তা হলেও মানুষ তাকে বোকা বলবে। কারণ সে ততটুকু বিষয় জানে না যে, কানের একটি কর্মপরিধি আছে, সে পর্যন্তই সে কাজ করে থাকে। তার দ্বারা যদি চোখের কাজ নেওয়া শুরু করে, তাহলে সে তা করতে পারবে না।

 

জ্ঞানার্জনের দ্বিতীয় মাধ্যম বিবেক

এ হলো জ্ঞানার্জনের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত প্রথম মাধ্যম। নির্দিষ্ট একটি স্তরে গিয়ে এর প্রতিটির উড়াল শেষ হয়ে যায়। তারপর না চোখ কাজ দেয়, না নাক কাজ দেয়, না কান, না জিহবা, না হাত। এটি সেই স্তর, যেখানে বস্তু সরাসরি প্রত্যক্ষ দর্শনের আওতায় আসে না। এ-ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক আমাকে ও আপনাকে জ্ঞানার্জনের অপর একটি মাধ্যম দান করেছেন। আর তা হলো “আকল” বা “বিবেক“। যেখানে গিয়ে পঞ্চইন্দ্রিয় কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, বিবেক সেখানে সক্রিয় হয়ে ওঠে। যেমন আমার সামনে এই টেবিলটি রাখা আছে। আমি চোখের সাহায্যে দেখে বলতে পারব, এটির রং কী। হাত দ্বারা স্পর্শ করে জানতে পারব, এটি শক্ত কাঠ দ্বারা তৈরি এবং এর উপর ফরমিকা বসানো আছে। কিন্তু টেবিলটি কীভাবে অস্তিত্ব লাভ করল? এই প্রশ্নের উত্তর না আমি চোখ দ্বারা দেখে বলতে পারব, না কান দ্বারা শুনে, না হাত দ্বারা স্পর্শ করে। কারণ এটি তৈরির কাজ আমার চোখের সামনে হয়নি। এখানে আমার বিবেক দিকনির্দেশনা করছে যে, এমন সুন্দর বস্তুটি আপনা-আপনি অস্তিত্বে আসতে পারে না। কোনো একজন কারিগর এটি তৈরি করেছে এবং সে অবশ্যই একজন দক্ষ মিস্ত্রী। তো একজন মিস্ত্রী এই টেবিলটি তৈরি করেছে এ-তথ্যটি আমাকে কে জানাল? আমার বিবেক। তো যেখানে আমার পঞ্চইন্দ্রিয় কাজ করা ছেড়ে দিয়েছিল, সেখানে আমার বিবেক কাজে এসেছে এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে সে আমাকে অপর একটি জ্ঞান দান করেছে।

 

বিবেকের কর্মপরিধি

কিন্তু যেভাবে পঞ্চইন্দ্রিয়ের কর্মপরিধি অসীম ছিল না, বরং একটি সীমানায় গিয়ে তার কর্মপরিধি শেষ হয়ে গিয়েছিল, অনুরূপ বিবেকের কর্মপরিধিও অসীম নয়। বিবেকও একটি সীমানা পর্যন্ত মানুষকে কাজ দেয়, একটি সমীনা পর্যন্ত দিকনির্দেশনা করে। তাকে যদি সেই সীমানার বাইরে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সে সঠিক উত্তর দেবে না, সঠিক দিকনির্দেশনা করবে না।

জ্ঞানার্জনের তৃতীয় মাধ্যম হলো “অহী”

যে-জায়গায় গিয়ে বিবেকের উড়াল শেষ হয়ে যায়, সেখানে আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞানার্জনের তৃতীয় আরেকটি মাধ্যম দান করেছেন। তাহলো আল্লাহ পাকের অহী তথা আসমানী শিক্ষা। জ্ঞানার্জনের এই মাধ্যমটি শুরুই সেখান থেকে, যেখানে বিবেকের উড়াল শেষ হয়। সুতরাং অহীর ক্ষেত্রগুলোতে বিবেকের ব্যবহার করা ঠিক এমন, যেমন চোখের কাজের জন্য নাকের ব্যবহার করা। কানের কাজের জন্য চোখকে ব্যবহার করা। তার অর্থ কখনো এই নয় যে, বিবেক কোনো কাজের নয়। বরং সেটি একটি কার্যকর বস্তু। তবে শর্ত হলো, তাকে তার কর্মপরিধিতে ব্যবহার করতে হবে। যদি তাকে তার কর্মপরিধির বাইরে ব্যবহার করেন, তাহলে তা হবে এমন যে, যেমন কেউ চোখ ও কান দ্বারা ঘ্রান শুঁকার কাজ নেওয়ার চেষ্টা করল।

ইসলাম ও সেক্যুলার ব্যবস্থার মাঝে পার্থক্য

ইসলাম ও একটি সেক্যুলার জীবনব্যবস্থার মাঝে পার্থক্য এটাই যে, সেক্যুলার জীবনব্যবস্থায় জ্ঞানার্জনের প্রথম দুটি মাধ্যম ব্যবহারের পর থেমে যায়। তাদের মতে মানুষের কাছে জ্ঞানার্জনের তৃতীয় কোনো মাধ্যম নেই। ব্যস, আমাদের চোখ-কান-নাক আছে আর আমাদের বিবেক আছে। এর সামনে জ্ঞানার্জনের আর কোনো মাধ্যম নেই। আর ইসলাম বলে, এই দুটি মাধ্যমের সামনে তোমাদের কাছে জ্ঞানার্জনের আরও একটি মাধ্যম আছে। তাহলো ‘অহীয়ে ইলাহী‘ বা ‘আল্লাহ পাকের অহী‘।

অহীয়ে ইলাহীর প্রয়োজনীয়তা

এখন দেখার বিষয় হলো, বিবেকের মাধ্যমে সকল বিষয় জানা যায় না, বরং আসমানী নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা আছে, অহীয়ে ইলাহীর প্রয়োজনীয়তা আছে, নবী-রাসূলের প্রয়োজনীয়তা আছে, আসমানী কিতাবের প্রয়োজনীয়তা আছে ইসলামের এই দাবি আমাদের বর্তমান সমাজে কতটুকু সঠিক ও বাস্তব?

‘বিবেকপূজা‘ আজকাল প্রকট আকার ধারণ করেছে। বলা হয়ে থাকে, প্রতিটি বস্তুকে বিবেকের পাল্লায় পরিমাপ করে গ্রহণ করব। অথচ বিবেকের কাছে এমন কোনো ধরাবাঁধা ফর্মুলা বা মূলনীতি নেই, যার সার্বজনীন মর্যাদা আছে এবং যাকে জগতের সমস্ত মানুষ মেনে নিয়ে তার মাধ্যমে ঠিক করে নেবে, কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা গ্রহণ করা উচিত নয়। এ-জাতীয় সিদ্ধান্তের ভার বিবেকের উপর ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে ইতিহাসের পাতা উল্টালেই তার নজির দেখতে পাওয়া যায় যে, বিবেক মানুষকে এর বেশি ধোকা দিয়েছে, যার সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিবেককে এভাবে স্বাধীন ছেড়ে দিলে মানুষ কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে যায় ইতিহাস থেকে তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করছি।

বোনের সঙ্গে বিবাহ বিবেক পরিপন্থী নয়

আজ থেকে প্রায় আটশ বছর আগে মুসলিম বিশ্বে একটি ফেরকার অভ্যুদয় ঘটেছিল, যাকে ‘বাতেনি‘ বা ‘কারামিতা ফেরকা‘ নামে অভিহিত করা হয়। উক্ত ফেরকার একজন বিখ্যাত নেতা ছিল, যার নাম ছিল উবায়দুল্লাহ ইবনে হাসান কায়রাওয়ানি। সে তার অনুসারীদের নামে একটি পত্র লিখেছিল, যেটি কিনা ছিল খুবই চমকপ্রদ। উক্ত চিঠিতে সে জীবনযাপনের জন্য তার অনুসারীদেরকে কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিল। তাতে সে লিখেছিল:

‘এই অযৌক্তিক বিষয়টি আমার বুঝে আসছে না যে, মানুষের কাছে নিজ ঘরে বোনের আকারে অতিশয় রূপসী, ভদ্র ও চরিত্রবতী একটি যুবতী মেয়ে আছে। সে তার ভাইয়ের মন-মানসিকতা ভালোভাবে বোঝে, তার চিন্তাধারা ও চাল-চলন জানে। কিন্তু নির্বোধ মানুষটি এমন একটি বোনের হাত একজন অচেনা-অজানা পুরুষের হাতে ধরিয় দেয়, যার সম্পর্কে এতটুকুও জানা নেই যে, তার সঙ্গে মেয়েটির আদৌ বনিবনা হবে কিনা। বিপরীতে ভাই নিজের জন্য অনেক সময় এমন একটি মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসে, যে রূপ-সৌন্দর্য, চাল-চলন ও চরিত্রে কোনো অবস্থাতেই বোনের পর্যায়ভুক্ত নয়। আমার বুঝে আসছে না যে, ঘরের মূল্যবান সম্পদকে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে বাইরে থেকে এমন কাউকে ঘরে আনা, যার দ্বারা জীবনে সুখ লাভ করার কোনোই নিশ্চয়তা নেই-কীভাবে যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে? এই রীতি বিবেক পরিপন্থী ও অযৌক্তিক। আমি আমার অনুসারীদেরকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা এই অযৌক্তিক রীতিকে পরিহার করো এবং ঘরের সম্পদকে ঘরেই রেখে দাও।‘

বোন ও যৌনসুখ

অন্যত্র উবায়দুল্লাহ ইবনে হাসান কায়রাওয়ানি বিবেকের উপর ভিত্তি করে অনুসারীদেরকে বার্তা প্রদান করেছে:

‘এর কারণ কী যে, কোনো বোন ভাইয়ের জন্য খাবার রান্না করতে পারে, তার পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে, তার আরামের জন্য কাপড় সেলাই করে দিতে পারে, বিছানা ঠিক করে দিতে পারে, এমতাবস্থায় তার যৌনসুখের ব্যবস্থা কেন করতে পারবে না? এর কারণ কী? এ তো বিবেক পরিপন্থী।‘

এই প্রশ্নের উত্তর কী? এর বিবেকনির্ভর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এই বক্তব্যের আপনি যত খুশি অভিসম্পাত করুন। কিন্তু যুক্তি দিয়ে এই বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করতে পারবেন না। অহীর আলো ছাড়া শুধু বিবেকের উপর ভিত্তি করে আপনি কিয়ামত পর্যন্তও এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

আপনি বলতে পারেন, এ তো চরম এক নোংরামি! বলতে পারেন, এ তো চরম এক চরিত্রহীনতার কথা! তো এর উত্তর আছে যে, আপনি মনে করেছেন বলে এটি আপনার কাছে নোংরামি। একে আপনি চরিত্রহীনতা মনে করছেন বলে আপনার দৃষ্টিতে এটি চরিত্রহীনতা। এক কথায় এসব হলো পরিবেশের তৈরি করা চিন্তাধারা। আপনি এমন একটি পরিবেশে জন্মলাভ করেছেন, যেখানে এ-বিষয়টিকে দোষের মনে করা হয়। অন্যথায় বিবেকের দৃষ্টিকোণে এটি কোনো দোষ নয়।

আপনি যদি বলেন, এই নীতি অবলম্বন করলে বংশধারা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এটি করা যাবে না। তো এরও উত্তর বিদ্যমান আছে যে, বংশধারা নষ্ট হয়ে যাবে, যেতে দাও। এতে অসুবিধার কী আছে? বংশধারা রক্ষা করতেই হবে এমন কথা বিবেক বলে না।

এই যুক্তির উত্তরে যদি আপনি বলেন, এই রীতি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ক্ষতিকর। কারণ গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যৌনমিলন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। তো এর উত্তর আছে যে, গবেষণায় এ-ও প্রমাণিত হয়েছে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যৌনমিলন মানুষের সৃষ্টিগত কামনার একটি অংশ এবং এর ফলে স্বাস্থ্যগত যে ক্ষতির কথা বলা হয়ে থাকে, তা সঠিক নয়। এই স্লোগানটিই আজ থেকে আটশ বছর আগে উবায়দুল্লাহ ইবনে হাসান কায়রাওয়ানি তুলেছিল। আজ তার শুধু প্রতিধ্বনি-ই তোলা হচ্ছে না, বরং পশ্চিমা বিশ্বে এই নীতির অনুসরণও করা হচ্ছে।

অহীয়ে এলাহী থেকে মুক্তি লাভের প্রতিফল

এসব কেন হচ্ছে? এ-কারণে যে, বিবেককে সেই জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যেটি তার কর্মপরিধির অন্তর্ভূক্ত নয়, যেখানে অহীয়ে ইলাহীর আবশ্যকতা রয়েছে। বিবেককে অহীয়ে ইলাহীর দিকনির্দেশনা থেকে মুক্ত করার প্রতিফল এই দাঁড়িয়েছে যে, ব্রিটেনের পার্লামেন্ট করতালির মাধ্যমে সমকামিতার বৈধতার বিল পাস করেছে। এখন সমকামিতা যথারীতি একটি বিদ্যায় পরিণত হয়েছে। আমি ঘটনাচক্রে একবার নিউইয়র্কের একটি লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম। তাতে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সেকশন ছিল, যার গায়ে সাইনবোর্ড ঝোলানো ছিল ‘গাই স্টাইন অফ লাইফ‘। এ-বিষয়ের উপর বহু গ্রন্থও বাজারে এসেছে এবং যথারীতি বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এসব সংস্থার যারা কর্মকর্তা, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

আসুন, ইসলামাইজেশন করার মাধ্যমে সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন পূরণ করি।

 

ধন্যবাদ: http://quranwithbiggan.wordpress.com

Omur

ইসলামের শিক্ষার কঠোর অনুসরণ, দয়ার সাথে দৃঢ়তার মিশ্রণ, কঠোরতার সাথে সুবিচারের সমতাবিধান এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীলতার অপর নামই ওমর মোহাম্মদ ফারুক!

3 thoughts on “ইসলামাইজেশন কেন?

  • May 20, 2013 at 9:50 pm
    Permalink

    ভাই জ্ঞানের ভান্ডার যদি এ ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেন তাহলে আপনাকে আমি আর ছাড়বো না। আমি আপনার পিছু লেগে ই থাকবো। খুবি সুন্দর একটি পোস্ট এবং আল্লামা তাকী উসমানী সাহেবের কথা গুলো এক একটি স্বর্ণের খন্ডের চেয়েও দামী। অসখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এই পোস্ট টি করার জন্য ভাই।

  • May 20, 2013 at 9:52 pm
    Permalink

    ফারুক ভাই@আশা করছি এই জাতিয় আরো অনেক লেখা আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।এই লেখাটা আমার অনেক ইলম দিয়েছে।আশা করি আমাদেরকে নিরাশ করবেননা।

  • May 20, 2013 at 11:05 pm
    Permalink

    লেখতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে জৈষ্ঠের মিষ্টি ধন্যবাদ। আমি চেষ্টা করবো। বাকীটা পিপড়ার পায়ের আওয়াজ শ্রবণকারী প্রভুর উপর।

Leave a Reply