আল্লাহর উপর ঈমান – {ঈমানের স্তম্ভ সমূহ ০২}

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর।

যিনি আমাদের মাবুদ অর্থাৎ যাঁহার ইবাদত আমরা করি, যিনি সর্বশক্তিমান, যার হুকুমে সমস্ত কিছু সৃষ্টি হয়েছে ও ধ্বংস হবে, যার কোন শরীক নেই, যিনি সমস্ত কিছু দেখেন ও শুনেন, যিনি অনাদি অনন্ত, যিনি কিয়ামতের দিন আমাদের ভাল মন্দের বিচার করবেন। তিনি আল্লাহ। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেছেন

যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর যারা আখিরাতকে নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।

(সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ৩-৫)

তাওহীদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ, আল্লাহ তাআলাকে এক বলে স্বীকার করা এবং আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করা। একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ইবাদাতের একমাত্র হকদার বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস ও স্বীকার করাকেই তাওহীদ বলে। আল্লাহতাআলা বলেছেন

যদি আসমান ও জমিতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ থাকত, উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।

(সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং ২২)


আল্লাহ পাক যা বলেছেন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স) যা বলেছেন সেগুলো বিনা দিধায় বিশ্বাস করা এবং মেনে নেয়াই হল ঈমান। সেগুলো বুঝে আসুক বা না আসুক সেগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

Iman

আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

এই কথা মনে প্রানে বিশ্বাস করে নেয়ার নাম হল ঈমান। পৃথীবিতে যত নবী রাসুল এসেছেন    তাদের প্রথম কথাই ছিল আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেছেন –

আপনার পূর্বে আমি যে রাসুলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর।

(সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং ২৫)

ঈমানদারদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেছেন

যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।

(সুরা আনফাল আয়াত নং ২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন –

অতএব, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন করেছে তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের আওতায় স্থান দেবেন এবং নিজের দিকে আসার মত সরল পথে তুলে দেবেন।

(সুরা নিসা আয়াত নং ১৭৫)

উবায়দুল্লাহ ইবন মূসা (রা), ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১. আল্লাহ ছড়া ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান। ২. সালাত কায়েম করা। ৩. যাকাত দেওয়া। ৪. হজ্জ করা এবং ৫. রমযান-এর সিয়াম পালন করা।

(বুখারী ও মুসলিম)

অর্থাৎ ইসলামের মূল ভিত্তি হল পাঁচটি। ঈমান হল প্রথম ভিত্তি। যেকোন আমলের মূল হল ঈমান। ঈমান ব্যতিত কোনো আমল গ্রহনযোগ্য হবেনা। আমলের প্রধান মানদন্ধ হল ঈমান।

মানুষের চিরকালের সফলতা অর্থাৎ জান্নাত লাভের প্রথম শর্ত হল ঈমান। কার যদি শেরেক মুক্ত ঈমান থাকে তাহলে আল্লাহ নিজ দয়ায় তাকে জান্নাত দান করবেন। সে ব্যক্তির যদি কোন আমল না থাকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন এবং শাস্তির পর তাকে জান্নাত দিতে পারেন। অথবা শাস্তি না দিয়ে জান্নাত দান করতে পারেন। ঈমানদার ব্যক্তি যত গুনাহ করুখ যদি তার ঈমান শেরেক মুক্ত থাকে তাহলে আল্লাহ তাকে একদিন জান্নাত দান করবেন। আর জান্নাত শুধু ঈমানদারদের জন্য। এসম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে-

হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা কোন তাঁবুতে নবী করীম (স) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে, এটা কি তোমরা পছন্দ কর? আমরা বললাম হ্যাঁ। তিনি আবার বললেন, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে, এটা কি তোমরা পছন্দ কর? আমরা বললাম হ্যাঁ। তখন নবী করীম (স) বললেন, শপথ ঐ মহান সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদ (স) এর জান। আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশী যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। আর এটা চিরন্তন সত্য যে, জান্নাতে শুধুমাত্র মুসলমানগনই প্রবেশ করতে পারবে। আর মুশরিকদের মুকাবিলায় তোমরা হচ্ছ এমন, যেমন কালো ষাঁড়ের চামড়ার উপর শুভ্র পশম। অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ার উপর কালো পশম।                                                                                                    (বুখারী)

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

Leave a Reply