সহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৬১ থেকে ৭০ )

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ প্রিয় বন্ধুরা। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া যানাচ্ছি আমাকে এই পোষ্টটি করার তাওফিক দান করার জন্য।
আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৬১ থেকে ৭০ )

গত পোষ্টটি যারা পড়েন নি তারা এখান থেকে পড়ে নিন সহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৫১ থেকে ৬০)

পরিচ্ছেদ ৪৮ :- হাদীস পড়া ও মুহাদ্দিসের কাছে পেশ করা – হাদিস নং ৬১ এবং ৬২ এবং ৬৩

হাদিস –৬১
হাসান (র) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,ওস্তাদের সামনে ছাত্রের পাঠ করাতে বাধা নেই।উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা (র) সুফিয়ান (র) থেকে বর্ননা করেন যে,তিনি বলেন,যখন মুহাদ্দিসের সামনে (কোন হাদিস) পাঠ করা হয় তখন “তিনি আমার কাছ থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন” এই কথা বলায় কোন সমস্যা নেই।বর্ননাকারি বলেন,আমি আবু আসেমকে মালিক ও সুফিয়ান (র) থেকে বর্ননা করতে শুনেছি যে, “ওস্তাদের সামনে পাঠ করা এবং ওস্তাদের নিজের পাঠ করা একই পর্যায়ের”
হাদিস –৬২
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃএকবার আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম।তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকলো।মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখলো।এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল,তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (সাঃ) কে?রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তখন তাদের সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন।আমরা বললাম,এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।তারপর লোকটি তাকে লক্ষ্য করে বলল,হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!নবি করিম (সাঃ)তাকে বললেনঃআমি তোমার জওয়াব দিচ্ছি।লোকটি বলল,আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হবে,এতে আপনি আমার প্রতি রাগ করবেননা।তিনি বললেন,তোমার যেমন ইচ্ছা প্রশ্ন কর।
সে বলল,আমি আপনাকে আপনার রব এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি,আল্লাহই কি আপনাকে সকল মানুষের প্রতি রাসুলরুপে পাঠিয়েছেন?তিনি বললেন,আল্লাহ সাক্ষী,হ্যাঁ।সে বলল,আমি আপনাকে আল্লহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি,আল্লাহই কি আপনাকে দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন?তিনি বললেন,আল্লাহই সাক্ষী,হ্যাঁ।সে বলল,আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি,আল্লাহই কি আপনাকে বছরে এই(রমযানে) মাসে সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন?তিনি বললেনঃআল্লাহই সাক্ষি,হ্যাঁ।সে বলল,আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি,আল্লাহই কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন,আমাদের ধনিদের থেকে এসব সদকা (যাকাত)উসুল করে গরীবদের মধ্যে ভাগ করে দিতে?নবি বললেন,আল্লাহ সাক্ষী,হ্যাঁ।এরপর লোকটি বলল,আমি ঈমান আনলাম আপনি যা (শরিয়তে) এনেছেন তার ওপর।আর আমি আমার কওমের রেখে আসা লোকজনের পক্ষে প্রতিনিধি,আমার নাম যিমাম ইবনে সালাবা,বনী সাদ ইবনে বকর গোত্রের একজন।
হাদিস –৬৩
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,নবি করিম (সাঃ)কে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল।আমরা পছন্দ করতাম গ্রাম থেকে কোন বুদ্ধিমান লোক এসে তাকে প্রশ্ন করুক আর আমরা তা শুনি।তারপর একদিন গ্রাম থেকে একজন লোক এসে বলল,আমাদের কাছে আপনার একজন দূত গিয়েছে।সে আমাদেরকে খবর দিয়েছে যে,আপনি বলেন,আল্লাহ আপনাকে রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন।তিনি বললেনঃসে সত্য বলেছে।সে বলল,আসমান কে সৃষ্টি করেছেন?তিনি বললেন,মহান আল্লাহ তায়ালা।সে বল্ল,পৃথিবি অ পর্বতমালা কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন,মহান আল্লাহ তায়ালা।সে বলল,এসবের মধ্যে উপকারি বস্তুসমুহ কে প্রশ্ন রেখেছেন? তিনি বললেন,মহান আল্লাহ তায়ালা।সে বলল,তাহলে যিনি আসমান সৃষ্টী করেছেন,যমিন সৃষ্টি করেছেন,পর্বত সৃষ্টি করেছেন ও তার মধ্যে উপকারী বস্তুসমুহ রেখেছেন,তার কসম,সেই আল্লাহই কি আপনাকে রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন?তিনি বললেনঃহ্যাঁ।সে বলল আপনার দূত বলেছেন যে,আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা এবং আমাদের মালের যাকাত দেয়া অবশ্য কর্তব্য।তিনি বললে,সে সত্য বলেছে।সে বলল,যিনি আপনাকে রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন তার কসম,আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?তিনি বললেন,হ্যাঁ।সে বলল,আপনার দূত বলেছেন যে,আমাদের মধ্যে যাদের যাতায়াতের সামর্থ আছে,তার উপর বায়তুল্লাহ হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য।তিনি বললেন,সে সত্য বলেছে। সে বলল,যিনি আপনাকে রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন তার কসম,আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন,হ্যাঁ।লোকটি বলল,যিনি আপনাকে সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন,তার কসম,আমি এতে বাড়াবোনা,কমাবোওনা।নবী (সাঃ) বললেনঃযদি সে সত্য বলে থাকে তবে অবশ্যই সে জান্নাতে দাখিল হবে।

পরিচ্ছেদ ৪৯ :- শায়খ কর্তৃক ছাত্রকে হাদীসের কিতাব প্রদান এবং ‘আলিম কর্তৃক ‘ইলমের কথা লিখে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ – হাদিস নং ৬৪ এবং ৬৫

হাদিস –৬৪
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যক্তিকে তার চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং তাকে বাহরাইনের গভর্নর এর কাছে তা পৌছে দিতে বললেন।এরপর বাহরাইনের গভর্নর তা কিসরা (পারস্য সম্রাট) এর কাছে দিলেন।পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললো।বর্ননাকারি বলেন আমার ধারনা ইবনে মুসায়্যিব (র) বলেছেন (এ খবর শুনে) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের জন্য বদ দোয়া করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পুর্নরূপে টুকরো টুকরো ফেলা হয়।
হাদিস –৬৫
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,নবী করীম (সাঃ) একখানি পত্র লিখতে মনস্থ করলেন।তখন তাকে বলা হয় যে, তারা (রোমবাসী ও অনারবরা) সীলমোহরযুক্ত ছাড়া কোন পত্র পড়েনা।এরপর তিনি রূপার একটি আংটি তৈরি করালেন যার নকশা ছিল محمد رسول الله আমি যেন তার হাতে (এখনো) সে আংটির ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি।

পরিচ্ছেদ ৫০ :-মজলিসের শেষ প্রান্তে বসা এবং মজলিসের ভেতরে ফাঁক দেখে সেখানে বসা – হাদিস নং ৬৬

হাদিস –৬৬
আবু ওয়াকিদ আল লায়সি (রা) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একবার মসজিদে বসেছিলেন; তার সঙ্গে আরো লোকজন ছিলেন।ইতিমধ্যে তিনজন লোক এলেন।তন্মধ্যে দু’জন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দিকে এগিয়ে গেলেন এবেং চলে গেলেন।আবু ওয়াকিদ (রা) বলেন,তারা দু’জন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলেন।এরপর তাদের একজন মজলিসের মধ্যে কিছুটা জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অন্যজন তাদের পিছনে বসলেন।আর তৃতীয় ব্যক্তিটি ফিরে গেল।রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মজলিস শেষ করে বললেনঃআমি কি তোমাদেরকে এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব?তাদের একজন আল্লাহর দিকে এগিয়ে এসেছেন তাই আল্লাহ তাকে স্থান দিয়েছেন।অন্যজন (ভীড় ঠেলে অগ্রসর হতে অথবা ফিরে যেতে) লজ্জাবোধ করেছেন,তাই আল্লাহও তার ব্যাপারে (তাকে শাস্তি দিতে এবং রহমত থেকে বঞ্চিত করতে) লজ্জাবোধ করেছেন।আর অপরজন (মজলিসে হাজির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে,তাই আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

পরিচ্ছেদ ৫১ :-নবী করীম (সাঃ)-এর বাণী,’যাদের কাছে হাদীস পৌঁছানো হয় তাদের মধ্যে অনেকে এমন আছে, যে শ্রোতা (বর্ণনাকারীর) চাইতে বেশী মুখস্ত রাখতে পারে – হাদিস নং ৬৭

হাদিস –৬৭
আবু বাকরা (রা) থেকে বর্নিত,তিনি একবার নবী করীম (সাঃ) এর কথা উল্লেখ করে বলেন,(মিনায়) তিনি তার উটের উপর বসেছিলেন।একজন লোক তার উটের লাগাম ধরে রেখেছিল।তিনি বল্লেনঃআজ কোন দিন?আমরা চুপ থাকলাম এবং ধারণা করলাম যে,এ দিনটির আলাদা কোন নাম দিবেন তিনি।তিনি বল্লেনঃএটা কোরবানির দিন নয় কি?আমরা বললাম,জ্বী হ্যাঁ।তিনি বললেনঃ এটা কোন মাস? আমরা চুপ করলাম এবং ধারণা করলাম যে তিনি হয়ত অন্য কোন নাম দিবেন।তিনি বলেনঃএটা জিলহজ্জ মাস নয় কি?আমরা বল্লাম,জ্বি হ্যা।তিনি বললেনঃ তোমাদের জান,মাল,সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম যেমনিভাবে আজকের এ মাস,দিন ও তোমাদের এ শহর সম্মানিত।এখানে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌছে দেয়।কারণ উপস্থিত ব্যক্তি হয়ত এমন এক ব্যক্তির কাছে পৌছাবে,যে এ বাণীকে তার থেকে বেশি মুখস্থ রাখতে পারবে।

পরিচ্ছেদ ৫২ :-কথা ও আমলের পূর্বে ইলম জরুরী

পরিচ্ছেদ ৫৩ :-রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ওয়ায-নসীহতে, ইলম শিক্ষাদানে উপযুক্ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যাতে লোকজন বিরক্ত না হয়ে পড়ে – হাদিস নং ৬৮ এবং ৬৯

হাদিস –৬৮
ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,নবি করীম (সাঃ) আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট দিনে ওয়ায-নসিহত করতেন,যাতে আমরা বিরক্ত না হই।
হাদিস –৬৯
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,নবী করীম (সাঃ) বলেছেনঃতোমরা দ্বীনের ব্যাপারে সহজ পন্থা অবলম্বন করবে,কঠিন পন্থা অবলম্বন করবেনা,মানুষকে সুসংবাদ শুনাবে,বিরক্তি সৃষ্টি করবেনা।

পরিচ্ছেদ ৫৪ :-ইলম শিক্ষার্থীদের জন্য দিন নির্দিষ্ট করা – হাদিস নং ৭০

হাদিস –৭০
আবু ওয়াইল (রা) থেকে বর্নিত,তিনি বলেনঃইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রতি বৃহস্পতিবার লোকদের ওয়াজ-নসিহত করতেন।তাকে একজন বলল,হে আবু আব্দুর রাহমান!আমার মন চায়,যেন আপনি প্রতিদিন আমাদের নসিহত করেন।তিনি বললেনঃ এ কাজ থেকে আমাকে যা বিরত রাখে তা হল, আমি তোমাদের ক্লান্ত করতে পছন্দ করিনা।আর আমি নসিহত করার ব্যাপারে তোমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখি,যেমন নবী (সাঃ) লক্ষ্য রাখতেন আমাদের ক্লান্তির আশঙ্কায়।
আমাদের পেজ এর হাদিসগুলো লাইক,শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।মনে রাখবেন আমি যেই সওয়াব পাব আপনিও তার সমপরিমান পাবেন।তাই শেয়ার করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।
আজ এই পর্যন্ত ই । ধন্যবাদ সকলকে । আল্লাহ হাফেজ

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply