ইসলাম ও কোরআনে বিশ্বাসের ভিত্তি! (পর্ব-০৩)

১৯. কোরআনের কিছু সাংখ্যিক মাহাত্ম্য সত্যিই আশ্চর্যজনক।

২০. কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যেটি পড়তে গেলে পাঠকের মন কখনো স্রষ্টার দিকে – কখনো স্রষ্টার দূতের দিকে – কখনো মহাবিশ্বের উৎপত্তির দিকে – কখনো মানুষের উৎপত্তির দিকে – কখনো মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে – কখনো আকাশ-বাতাস ও ঝড়-বৃষ্টির দিকে – কখনো নদ-নদীর দিকে – কখনো সমুদ্রের দিকে – কখনো পাহাড়-পর্বতের দিকে – কখনো গাছ-পালা-ফল-মূলের দিকে – কখনো পশু-পাখির দিকে – কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিকে – কখনো দর্শনের দিকে – কখনো কবিতার দিকে – কখনো সাহিত্যের দিকে – কখনো ইতিহাসের দিকে – কখনো ইহুদীদের দিকে – কখনো খ্রীষ্টানদের দিকে – কখনো সাবিয়ানদের দিকে – কখনো ম্যাজিয়ানদের দিকে – কখনো পেগানদের দিকে – কখনো মুসলিমদের দিকে – কখনো বিশ্বাসীদের দিকে – কখনো অবিশ্বাসীদের দিকে – কখনো সামাজিক আইন-কানুনের দিকে – কখনো অর্থনীতির দিকে – কখনো যুদ্ধের দিকে – কখনো সালাত-সাওম-হজ্জের দিকে – কখনো জাকাত-চ্যারিটির দিকে – কখনো এতিম-বিধবাদের দিকে – কখনো মা-বাবা-ভাই-বোনের দিকে – কখনো পাড়া-প্রতিবেশীর দিকে – কখনো নারী-পুরুষের দিকে – কখনো বিয়ে-শাদীর দিকে – কখনো নৈতিকতার দিকে – কখনো ন্যায় বিচারের দিকে – কখনো জান্নাত-জাহান্নামের দিকে – ইত্যাদি’র দিকে যাবে। অধিকন্তু, কোরআনই হচ্ছে একমাত্র গ্রন্থ যেটিকে দেড় বিলিয়নেরও বেশী মানুষ মনে-প্রাণে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে, যথাসাধ্য অনুসরণ করার চেষ্টা করে, এবং সেই সাথে পুরোপুরি ডিফেন্ডও করে। এমন গ্রন্থ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই!

২১. কোরআন যে সত্যি সত্যি একটি জীবন্ত মোযেজা – তার জ্বলন্ত একটি প্রমাণ হচ্ছে ৯/১১ ঘটনা। ৯/১১ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী ইসলাম, মুসলিম, ও মুহাম্মদ(সাঃ)-এঁর বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে তা কল্পনারও বাইরে। অথচ ৯/১১ ঘটনার পর খোদ আমেরিকাতেই ইসলাম গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশী। পাশাপাশি বৃটেন, জার্মানি, ও ফ্রান্স তো আছেই। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে কোরআন। কোরআনের আরেকটি মোযেজা হচ্ছে ইসলাম গ্রহণের পর অনেকেই আবার তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ইসলাম প্রচারে ব্যয় করেন। ইসলাম প্রচারে তাদের অসাধারণ দৃঢ়তা ও আগ্রহ সত্যিই অবাক করার মতো। তারা এতটাই ডিভোটেড, এতটাই প্রাউড, আর এতটাই কনফিডেন্ট যে তাদের কথা শুনলে জন্মসূত্রে মুসলিমরা লজ্জা পাবে। কারো বিশ্বাস না হলে কোথাও না যেয়ে শুধুমাত্র ইউটিউবে Sheikh Yusuf Estes, Dr. Gary Miller, Hamza Andreas Tzortzis, Adam Deen, Abdur Raheem Green, Dr. Bilal Philips, Khalid Yasin, Yusuf Islam, Yusuf Chambers, Dr. Murad Hoffman, Prof. Jeffery Lang, Hamza Yusuf Hanson, Abdal-Hakim Murad, Idris Tawfiq, Abdullah Hakim Quick, Malcolm X, Michael Wolfe, Dr. Ingrid Mattson, Yvonne Ridley ইত্যাদি নাম লিখে সার্চ দিয়ে তাঁদের লেকচারগুলো শোনা যেতে পারে। এঁরা ছাড়াও ইউটিউবে আরো অনেকেই আছেন।

২২. কোরআন-বহির্ভূত প্রমাণ – তৌরাত ও ইঞ্জিলে একজন নবী সম্পর্কে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী আছে (Deuteronomy 18:18-19, Isaiah 29:12, John 14:16, John 16:7-9, John 16:12-14, Acts: 3:22-25, Acts 7:37)। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্য কারো সাথে খাপ খায় না। এমনকি কোরআনেও দাবি করা হয়েছে যে, মুহাম্মদই হচ্ছেন তৌরাত ও ইঞ্জিলে উল্লেখিত নবী (আয়াত ৭:১৫৭, ৬১:৬)। তৌরাত ও ইঞ্জিলে সত্যি সত্যি ভবিষ্যদ্বাণী না থাকলে কেউ এমনি এমনি এভাবে দাবি করতে পারেন না নিশ্চয়।

২৩. কোরআন এমন একটি গ্রন্থ, যে গ্রন্থে অবিশ্বাস করা মানে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ) দীর্ঘ তেইশ বছরে কখনোই কোরআনকে নিজের বাণী বলে দাবি করেননি। তিনি একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোরআনকে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী বলে দাবি করেছেন। ফলে কোরআনকে মুহাম্মদ (সাঃ) বা অন্য কারো বাণী বলাটা অযৌক্তিক, অনৈতিক, এবং সেই সাথে অন্ধ বিশ্বাসও বটে।

জায়গার স্বল্পতার কারণে বিস্তারিত লিখা সম্ভব হলো না। তথাপি নিরপেক্ষ ও মুক্ত মনে উপরের সবগুলো যুক্তি সার্বিকভাবে বিবেচনা করে দেখুন তো কোরআনকে কোনো মানুষের বাণী হিসেবে আরোপ করা যায় কি-না।

কোরআনে বিশ্বাসের স্বপক্ষে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। আগে তো যুক্তি দাঁড় করাতে হবে – তারপরই না কেবল সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রশ্ন আসবে। ইহাই যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম। ইচ্ছে করলে যে কেউ, যে কোনো সময়, উপরোল্লেখিত যুক্তিগুলো যাচাই করতে পারেন। যারা কোরআন নিয়ে অধ্যয়ন করেননি তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা অধ্যয়ন করেও বলেন যে কোরআন মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে বলেছে তাদের হেমায়েতপুরে ভর্তি হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। একটি গ্রন্থে বিশ্বাসের স্বপক্ষে এতগুলো যুক্তি-প্রমাণ দাঁড় করানোর পরও সেটা আবার অন্ধ বিশ্বাস হয় কীভাবে? এমনকি বিজ্ঞানের অনেক তত্ত্বের স্বপক্ষেও এত বেশী যুক্তি-প্রমাণ নেই। অন্ধ বিশ্বাসের অভিযোগকে কবর দেওয়ার জন্য প্রথম দুটি যুক্তিই তো যথেষ্ট। এখন কেউ যদি অন্ধভাবে বিশ্বাস করে সেক্ষেত্রে কোরআনের তো কিছু করার নেই! পৃথিবীর ঘূর্ণন ও গোলত্বকেও কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। তবে কোরআন এমন একটি গ্রন্থ, যেটা নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা নিয়ে অধ্যয়ন করার পর অবিশ্বাস করার মতো কারো সামনে বড় কোনো যৌক্তিক ওজর থাকার কথা নয়।

সমাপ্ত

ইসলামিক এমবিট টিম

এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

Leave a Reply