শিরক পর্ব-৩

সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক-কুফরঃ

এখানে শিরকের পাশাপাশি কিছু কুফরির কথা উল্লেখ করা হলো যেগুলো প্রায়শঃ শিরকে পরিণত হয় ।

১. ভবিষ্যদ্বক্তাকে বিশ্বাস করাঃ গণক, ঠাকুর, জ্যোতিষী, রাশিচক্রবিদ, হস্তরেখাবিদ বা যে কোন ভবিষ্যদ্বক্তার ভবিষ্যতদ্বাণীকে সত্য বলে বিশ্বাস করা কুফরঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,“হে রাসূল আপনি বলুন-আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউ অদৃ্শ্য বিষয়ে জ্ঞান রাখেনা ।”(সূরা নামলঃ আয়াত-৬৫)

২. আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানেন বলে বিশ্বাস করাঃ নবীগণ গায়েব জানতেন না , আল্লাহ যতটুকু জানাতেন তারা শুধু ততটুকু জানতেন । রাসূলুল্লাহ (সঃ) গায়েব জানতেন এরূপ আকিদা পোষণ করা কুফরি ।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,“হে রাসূল আপনি বলুন-আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউ অদৃ্শ্য বিষয়ে জ্ঞান রাখেনা ।”(সূরা নামলঃ আয়াত-৬৫)

৩. পাপকে বৈধ বলে বিশ্বাস করাঃ এ ব্যাপারে মোল্লা আলী কারী বলেন, “কোনো পাপ তা সগীরা হোক বা কবীরা হোক, তা যদি সুনিশ্চিত ও সন্দেহাতীত ভাবে পাপ বলে প্রমাণিত হয় তবে সে পাপকে বৈধ বা হালাল মনে করা কুফর । আনূরূপ শরীয়তকে নিয়ে উপহাস বা মস্করা করাও কুফর”

৪. আল্লাহ তায়ালার কোন নির্দেশর সমালোচনা বা উপহাসঃ এ ব্যাপারে মোল্লা আলী কারী বলেন, “মহান আল্লাহর সম্মানের অবমাননা কর কোন বিশেষণ বা কর্ম তার উপর আরোপ করা অথবা তার  কোন নাম বা নির্দেশ নিয়ে উপহাস করা কুফর ।”

সমাজে প্রচলিত এসব কুফরের মধ্যে রয়েছে, পর্দা, সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ্জ, চুরি কিংবা হত্যার শাস্তি এরকম সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত কোন বিধানকে অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, মধ্যযুগীয়, বা অনুপযোগী মনে করা।

৫. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করাঃ মূলতঃ আল্লাহ ছাড়া কাউকে সাজদা করা হলো সবচেয়ে বড় শিরক ।কারণ চুড়ান্ত ভক্তির প্রকাশ ছাড়া কেউ কাউকে সেজদা করেনা ।

৬. আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে অলৌকিক সাহায্য প্রার্থনা করাঃ শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী(রঃ) বলেন, “শিরকের অন্যতম প্রকার হলো হাজত মেটানোর জন্য আল্লাহ ছাড়া কারো সাহায্য প্রার্থনা করা ।”

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনি তোমাদের জলে স্হলে ভ্রমণ করান এবং তোমরা যখন নৌকারোহী হও এবং এগূলো আরোহী নিয়ে অনুকূল বাতাসে বয়ে যায় এবং তারা তাতে আনন্দিত হয়, অতঃপর এগূলো ব্যাতাহত এবং সর্বদিক হতে তরাঙ্গাহত হয় এবং তার তা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করে, তখন তারা আনুগত্যে বিশুদ্ধ-চিত্ত হয়ে আল্লাহকে ডেকে বলে- তুমি আমাদের ত্রাণ করলে আমরা অবশ্য কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো ।” (সূরা ইউনুসঃ আয়াত-২২)

৭. আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মাণত বা নযর পেশ করাঃ আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে আছে, “জেনে রাখ, মৃতদের জন্য নযর-মানত যা অধিকাংশ সাধারণ মানুষ করে থাকে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের মাযার কবরের জন্য যেসব টাকা-পয়সা, মোমবাতি, তেল ও অনুরূপ দ্রব্য গ্রহণ করা হয় তাদের নৈকট্য অর্জনের জন্য তা সবই বাতিল ও হারাম বলে ইজমা সংঘঠিত হয়েছে । যদি না তারা দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য তা ব্যয় করার মানত করে ।লোকেরা এরূপ নিষিদ্ধ নযর বা মানতের মধ্যে নিপতিত হয়েছে বিশেষত বর্তমান যুগ ।”

Leave a Reply