আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ (পর্ব-৩)

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ (পর্ব-১)
আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ (পর্ব-২)

প্রানীর উৎপত্তি

উভচরের উৎপত্তি

বিবর্তনবাদীরা ধারণা করেন যে, মাছ হয়ে যায় উভচর প্রানী আর কোন কোন উভচর প্রানী হয়ে যায় সরীসৃপ। আর সরীসৃপ হয়ে স্তন্যপায়ী ও পাখী। আর সবশেষে স্তন্যপায়ী থেকে মানুষের উৎপত্তি।

বিবর্তনবাদীরা মনে করে যে Chordata পর্বটি একটি অমেরুদন্ডী পর্ব থেকে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এসেছে। কিন্তু সত্য ঘটনা হলো Chordata পর্বের প্রানীগুলো Cambrian age এ আবির্ভূত হয়।

আকা মাছ

ডারউইনবাদীদের আঁকা মাছ ও উভচরের মধ্যবর্তী রুপ

উভচর প্রানী ও মাছের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। দুটি উদাহরণ হল Eusthenopteron ( একটি বিলুপ্ত মাছ) এবং Acanthostega (একটি বিলুপ্ত উভচর প্রানী) এ দুটি চতুষ্পদ প্রানীর উৎপত্তি সংক্রান্ত সমকালীন বিবর্তন চিত্রকল্পের প্রিয়বিষয়। Robert Carrol তার Patterns and Process of vertebrate Evolution গ্রন্থে এ দুটি প্রজাতি সম্পর্কে লেখেন যে Eusthenopteron এবং Acanthostega এর মধ্যে ১৪৫ টি অ্যানাটমিকাল বৈশিষ্ঠের ৯১ টির মধ্যেই ভিন্নতা আছে। অথচ বিবর্তনবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই সবগুলোই ১৫ মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে random mutation এর প্রক্রিয়ায় পুনরায় ডিজাইন হয়েছে। এই ধরণের একটা চিত্রকল্পে বিশ্বাস করা বিবর্তনবাদের পক্ষে সম্ভব হলেও এটা বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনাটি সকল মাছ উভচর প্রানী বিবর্তন চিত্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

kembrian age

Cambrian Age এর একটি ফসিল

bir kenia

Birkenia ৪২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো।

shark

Shark – ৩৩০ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল।

mesozic age

Mesozoic Age এর কিছু মাছের ফসিল

purano macher fosil

১১০ মিলিয়ন বছরের পুরনো মাছের ফসিল ( Brazil এ প্রাপ্ত)

devonian age

Devonian Age. এর সময়ের ৩৬০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Osteolepis panderi

জলচর থেকে স্থলচর প্রানীতে রুপান্তরিত হতে গেলে আর যে সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায় তা হল-

১. ভার বহন

২. তাপ ধারণ

৩. রেচনতন্ত্র

৪. শ্বসনতন্ত্র

bang

ব্যাঙের উৎপত্তিতে কোন বিবর্তন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়নি। জ্ঞাত সবচেয়ে প্রাচীন ব্যাঙটিও মাছ থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন ছিল এবং এর সকল স্বতন্ত্র বিশিষ্ট নিয়ে আবির্ভুত হয়।

canaday prapto

একটি Devonian age এর Eusthenopteron foordi এর ফসিল (Canada ‘য় প্রাপ্ত)

coel acant h

যখন বিবর্তনবাদীদের কাছে Coelacanth এর শুধু ফসিল ছিল তখন তারা এটি সম্পর্কে ডারউইনবাদী ধারণা পেশ করেন। যখন এর জীবিত নমুনা পাওয়া গেলো তখন তারা চুপ হয়ে যায়। উপরের ডানের ছবিটি ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় Coelacanth এর সর্বশেষ নমুনা।

body fin

বিবর্তনবাদীদের Coelacanth এবং সম জাতীয় মাছকে ‘স্থলচর’ প্রানীর পূর্বপুরুষ বলে মনে করার মৌলিক কারণ হল Coelacanth দের কংকালময় ডানা (body fin) আছে। তারা মনে করে এই ডানাগুলো পর্যায়ক্রমে পায়ে পরিণত হয়। যাই হোক, মাছের অস্থি এবং স্থলচর প্রানী এর মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে।

চিত্র  যেরুপ দেখস্নো হয়েছে Coelacanth এর হাড়গুলো মেরুদন্ডের সাথে লাগানো নয় অপরদিকে Ichthyostega এর ক্ষেত্রে তা লাগানো(চিত্রএকারণে মাছের ডানা পর্যায়ক্রমে পায়ে পরিণত হওয়ার ধারণাটি সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়াও Coelacanth এর ডানা Ichthyostega এরপায়ের অস্থির গঠনেও সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

python

৫০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Python এর ফসিল

mitapanir kossop

জার্মানীতে প্রাপ্ত ৪৫ মিলিয়ন বছরের মিঠাপানির কচ্ছপ

purano kossop

১১০ মিলিয়ন বছরের পুরনো কচ্ছপের ফসিল (Brazil এ প্রাপ্ত)

eudi morphodon

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Eudimorphodon ফসিল। এটি flying reptiles এর oldest প্রজাতি (Italy)

plerodact

একটি Pterodactylus Kochi এর ফসিল। এটি উড়ন্ত Reptile. এটার বয়স ২৪০ মিলিয়ন বছর (Bavaria ‘য় প্রাপ্ত)

chtht osaur

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Ichthyosaur এর ফসিল

telapoka

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো তেলাপোকার ফসিল, যা বর্তমান তেলাপোকার সাথে কোন পার্থক্য নেই।

acant her pest

একটি ৩০০ মিলিয়ন বছরের Acantherpestes major millipede এর ফসিল

kalo

একটি ১৪৫ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল

dragon files

একটি dragonflies এর ৩২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল যার বর্তমান প্রজাতির সাথে কোন পার্থক্য নেই।

bat

একটি ৫০মিলিয়ন বছরের পুরনো Bat এর ফসিল (Wyoming in the United States এ প্রাপ্ত)

পাখির উৎপত্তি

থমাস হাক্সলে বলেন, পাখি হল মহিমান্বিত সরীসৃপ। অর্থাৎ সরীসৃপ পর্যায়ক্রমে পাখিতে পরিণত হয়। কিন্তু এ বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

পাখির গঠন এবং সরীসৃপ এর গঠন সম্পূর্ণ আলাদা।

pakhi

পাখির বিশেষ শ্বসনতন্ত্রঃ

শ্বাসগ্রহণ

বাতাস পাখির শ্বাসনালী দিয়ে এর পিছনের বায়ু থলিতে পৌছায়। যে বাতাস ব্যবহার করা হয়ে গেছে তা সামনের বায়ুথলিতে পাঠিয়েদেয়া হয়।

শ্বাসত্যাগ

পাখি যখন শ্বাসত্যাগ করে পিছনের বায়ুথলির বিশুদ্ধ বাতাস তখন ফুসফুসে প্রবেশ করে। এই ব্যবস্থার কারণে পাখির ফুসফুসে সার্বক্ষণিকবিশুদ্ধ বায়ুর প্রবাহ থাকছে।

এই শ্বসনতন্ত্রে অনেক জটিলতা আছে। যা এখানে সরলরুপে দেখানো হয়েছে। যেমনফুসফুসের সাথে বায়ুথলিতে যোগস্থলগুলোতে ভালভআছেযেন বাতাস সঠিক দিকে প্রবাহিত হয়। এসব কিছুই প্রকাশ করে যেএখানে একটি পরিকল্পনা কাজ করছে। এই পরিকল্পনাবিবর্তন প্রক্রিয়াকে শুধু ভুল প্রমাণিতই করে না বরং এটি স্পষ্টতই সৃষ্টির একটি নিদর্শন।

pakhir pakha

পাখির পাখার জটিল গঠন

যখন পাখির পাখাকে নিকট থেকে দেখা হয়তখন একটি সূক্ষ পরিকল্পনা পাওয়া যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র পশমের ভিতরে আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রপশম আছে এবং তাতে আছে বিশেষ হুক। যেগুলো পশমগুলির একটিকে অপরটির সাথে লেগে থাকতে সাহায্য করে।

চলবে……………………………………

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply