রাসূলুল্লাহ (সা:) এর শারিরীক গঠন ও গুনাবলী – পর্ব:০২

579017_329621023802392_115576700_nআসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই। আশা করি আল্লাহ রহমতে সবাই ভালোই আছেন। অনেক দিন পর আবারও আপনাদের সামনে হাজির রাসূলুল্লাহ (সা:) এর শারিরীক গঠন ও গুনাবলী– এই ধারাবাহিকের ২য় পর্ব নিয়ে । গত পর্বে যেখানে শেষ করেছিলাম আজ সেখান থেকেই শুরু  করছি….

অপর রেওয়ায়াতে আছে, তিনি দুনিয়া বা দুনিয়ার কোন বিষয়ে রাগান্বিত হইতেন না । (কারণ তাহার দৃষ্টিতে দুনিয়া ও দুনিয়াবী বিষয়ের কোন গুরুত্ব ছিল না।) তবে দ্বীনি বিষয় বা হকের উপর কেহ হস্তক্ষেপ করিলে (গোস্বার দরুন তাঁহার চেহারা এরূপ পরিবর্তন হইয়া যাইত যে,) তাহাকে কেহ চিনিতে পারিত না এবং তাঁহার গোস্বার সামনে কিছুই টিকিত না, আর কেহ উহা রোধও করিতে পারিত না, যে পর্যন্ত তিনি উহার প্রতিকার না করিতেন। তিনি নিজের জন্য কখনও কাহারও প্রতি অসন্তুষ্ট হইতেন না এবং নিজের জন্য প্রতিশোধও লইতেন না । যখন কোন দিকে ইশারা করিতেন, তখন সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করিতেন। (বিনয়ের খেলাপ বলিয়া অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা  করিতেন না, অথবা অঙ্গুলি দ্বারা শুধু তওহীদের প্রতি ইশারা করিতেন বলিয়া অন্য বিষয়ে সম্পূর্ণ হাতের দ্বারা ইশারা করিতেন।)

তিনি আশ্চর্যবোধকালে হাত মোবারক উল্টাইয়া দিতেন। কথা বলার সময় কখনও (কথার সঙ্গে) হাত নাড়িতেন, কখনও ডান হাতের তালু দ্বারা বাম বৃদ্ধাঙ্গুলির পেটে আঢ়াত করিতেন। কাহারো প্রতি অসন্তুষ্ট হইলে তাহার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া লইতেন ও অমনোযোগিতা প্রকাশ করিতেন অথবা তাহাকে মা’ফ করিয়া দিতেন। যখন খুশী হইতেন তখন লজ্জায় চোখ নিচু করিয়া ফেলিতেন। তাঁহার অধিকাংশ হাসি মুচকি হাসি হইত। আর সেই সময় তাঁহার দাঁত মোবারক শিলার ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল দেখাইত।

হযরত হাসান ইবনে আলী (রা:) বলেন, আমি বেশ কিছুদিন পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সকল গুণাবলী(আমার ভাই) হযরত হুসাইন ইবনে আলী (রা:) এর নিকট প্রকাশ করিলাম না। কিন্তু পরে যখন আমি তাহার নিকট উহা বর্ণনা করিলাম, তখন দেখিলাম তিনি আমার পূর্বেই মামাকে জিজ্ঞাসা করিয়া জানিয়া লইয়াছেন এবং আমি যাহা যাহা জিজ্ঞাসা করিয়াছি তিনি সেই সবই জিজ্ঞাসা করিয়াছেন। উপরন্তু তিনি পিতার নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশ করা, ঘর হইতে বাহির হওয়া, মজলিশে বসা ও তাঁহার অন্যান্য তরীকা সম্পর্কে কোন কিছুই ছাড়েন নাই, সবই জানিয়া লইয়াছেন।

হযরত হুসাইন (রা:) বলেন, আমি আমার পিতার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে(অর্থাৎ আহার-নিদ্রা ইত্যাদির জন্য) ঘরে যাইতেন। এই ব্যাপারে তিনি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হইতে অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি তাঁহার ঘরে থাকাকালীন সময়কে তিনভাগে ভাগ করিতেন-

(১) একভাগ আল্লাহ তায়ালার এবাদতের জন্য।

(২) একভাগ পরিবার পরিজনের হক আদায়ের জন্য।

(৩) একভাগ নিজের (আরাম ও বিশ্রাম ইত্যাদির) জন্য।

তারপর নিজের অংশকেও নিজের মধ্যে ও (উম্মাতের) অন্যান্য লোকজনের মধ্যে দুইভাগ করিতেন। অন্যান্যদের জন্য যে ভাগ হইত, উহাতে অবশ্য বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম (রা:) উপস্থিত হইতেন এবং তাঁহাদের মাধ্যমে তাঁহার কথাবার্তা সর্বসাধারণের নিকট পৌঁছিত। তিনি তাহাদের নিকট (দ্বীনি ও দুনিয়াবী উপকারের) কোন জিনিসই গোপন করিতেন না। (বরং নির্দ্বিধায় সবরকমের উপকারী কথা বলিয়া দিতেন।) উম্মাতের এই অংশে তিনি জ্ঞানী-গুণীদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁহার নিকট উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দিতেন এবং এই সময়কে তিনি তাহাদের মধ্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে শ্রেষ্টত্বের ভিত্তিতে বন্টন করিতেন। তাহাদের মধ্যে হয়ত কেহ একটি প্রয়োজন, কেহ দুইটি এবং কেহ অনেক প্রয়োজন লইয়া আসিত। তিনি তাহাদের প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগী হইতেন এবং তাহাদিগকে এমন কাজে মশগুল করিতেন যাহাতে তাহাদের ও পুরা উম্মাতের সংশোধন ও উপকার হয়। তিনি তাহাদের নিকট সাধারণ লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতেন ও প্রয়োজনীয় কথা তাহাদিগকে বলিয়া দিতেন এবং বলিতেন, তোমাদের যাহারা উপস্থিত তাহারা যেন আমার কথাগুলি অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছাইয়া দেয়।

-(হায়াতুস্ সাহারাহ্ (রা:) প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৫-৩৭)

১ম পর্ব যারা দেখেন নাই তারা  এখানে   ক্লিক করুন।

চলবে…

Leave a Reply