ঈমান কি, ঈমানের পরিচয় এবং ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান – পর্ব: ৩

AL_Ikhlas_Surah_10_by_Callligrapherআসসলামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। কেমন আছেন ভাই ও বোনেরা। প্রায় দীর্ঘ দিন পর আবারও আপনাদের সামনে হাজির হলাম ঈমান কি, ঈমানের পরিচয় এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান এর ৩য় পর্ব নিয়া। আসুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

আমরা বিগত ২টি পর্বে আলোচনা করেছি ঈমানের প্রথম বুনিয়াদ- “আল্লাহর প্রতি ঈমান” নিয়া। আজ আলোচনা করব ঈমানের দ্বিতীয় বুনিয়াদ ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান নিয়া।

ঈমানের দ্বীতিয় বিষয় হল: ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনয়ন করা। আসুন দেখি ফেরেশতা কি বা কি দিয়া তৈরী, তাদের কাজ কি, তাদের শ্রেণী বিন্যাস এবং তাদের অস্থিত্ত্ব নিয়া কিছু আলোচনা করি।

মালাইকা যার বাংলা অর্থ ফেরেশতা।  প্রাচীন সেমেটিক শব্দ মালআকের অনিয়মিত বহুবচন; এর অর্থ ‘দূত’।  আরবিতে এর একবচন ‘মালাক’ ‘হামযা’ ব্যতীত এবং এরূপেই কোরআন মাজিদে সর্বত্র লিখিত হয়েছে।ফেরেস্তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। ফেরেস্তাগণ অদৃশ্য জগতের অধিবাসী। আল্লাহ তাদেরকে নূর বা জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে তার আদেশের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের যোগ্যতা এবং তার আদেশ বাস্তবায়নের শক্তি-সামর্থ দান করেছেন। প্রভু অথবা উপাস্য হওয়ার নূন্যতম কোন বৈশিষ্ট্য তাদের নেই। তারা হলেন সৃষ্ট। আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং মর্যাদা দিয়েছেন তার সম্মানিত বান্দা হিসেবে। বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মানুষের সাথে তাদের কোন মিল নেই। তারা পানাহার করেন না, ঘুমান না, বিবাহের প্রয়োজন নেই তাদের। যৌন চাহিদা হতে তারা মুক্ত, এমনকি যাবতীয় পাপাচার হতেও। মানুষের নানান আকৃতিতে আত্মপ্রকাশে তারা সক্ষম।

ফেরেশতা কী উপাদানে সৃষ্ট: এ বিষয়ে কিছু হাদীস বর্ণিত আছে। তাঁরা নূর বা আলোক দ্বারা সৃষ্ট; এই গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল:

“হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত  হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘ফেরেশতারা আলোক দ্বারা সৃষ্ট (খুলিকাত্ মিন নূর) এবং জিন্ন আগুনের ‘মারিজ’ দ্বারা সৃষ্ট এবং আদম যা তোমাদেরকে বলা হয়েছে তা দ্বারা।”

ফেরেশতাদের আকৃতি : ফেরেশতাদের আকৃতি সম্পর্কে বিশদভাবে কোনো কিছু জানা যায় না। তবে ফেরেশতারা আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতাবলে যেকোনো আকৃতি ধারণ করতে পারেন। এ তথ্য বিভিন্ন হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায়। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে সংক্ষেপে বলা হয়েছে:

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। যিনি ফেরেশতাদের বার্তাবাহক হিসেবে নিয়োগ করেছেন, যাদের পালকবিশিষ্ট দু-দুটি, তিন-তিনটি এবং চার-চারটি ডানা রয়েছে। তিনি সৃষ্টিতে যত ইচ্ছা অধিক করে থাকেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী ।” -সুরা ফাতির, আয়াত-১

আলোচ্য আয়াত থেকে এ বিষয়টি জানা যায় যে ফেরেশতারা ডানাবিশিষ্ট। তাই বলে ফেরেশতাদের পাখিরূপে কল্পনা করা যাবে না। কারণ ফেরেশতা যে নূর বা জ্যোতি থেকে সৃষ্ট এ কথা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় হজরত জিবরাঈল (আ.)-কে দেখেছেন এবং তার বর্ণনা সাহাবায়ে কেরামের কাছে দিয়েছেন। তবে এ-জাতীয় হাদিসেও জিবরাঈল (আ.)-এর পূর্ণ আকৃতির বর্ণনা নেই। ইমাম আহমাদ (র.) রচিত ‘কিতাবুয যুহদ’ এ-

“হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জিবরাঈল (আ.)-কে অবতরণ করতে দেখেছি এমতাবস্থায় যে তিনি আসমানের উভয় পার্শ্ব ঘিরে রেখেছিলেন, তাঁর গায়ে অত্যন্ত সুন্দর ও পাতলা কাপড় ছিল, যার সঙ্গে মূল্যবান মোতি ও ইয়াকুত জড়ানো ছিল।”

অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,  “জিবরাঈল (আ.)-এর উভয় কাঁধের দূরত্ব দ্রুত ধাবমান পাখির ৫০০ বছরের রাস্তার সমান।” অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন,  “হজরত জিবরাঈলের ৬০০ ডানা আছে।” বিভিন্ন হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত জিবরাঈল (আ.) ও অন্য ফেরেশতাদের বিভিন্ন অঙ্গের যে বিবরণ পেশ করেছেন, ধারণা করা যায় যে রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময়ে ফেরেশতাদের যে আকৃতিতে দেখেছেন সে বিবরণই পেশ করেছেন। বস্তুত ফেরেশতারা যেহেতু নূরের তৈরি আর নূর বা জ্যোতির কোনো নির্দিষ্ট রূপ বা আকৃতি নেই, অতএব ফেরেশতাদেরও কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। তাঁরা বিভিন্ন আকৃতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। মানুষের আকৃতিতেও ফেরেশতারা নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। হজরত লূত (আ.), হজরত মারইয়াম (আ.), হজরত মুসা (আ.) এবং অন্য নবীদের সঙ্গে মানব আকৃতিতে ফেরেশতাদের সাক্ষাতের বিষয়টি পবিত্র কোরআনের বর্ণনা থেকে জানা যায়। হজরত জিবরাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মানুষের আকৃতিতে সাক্ষাৎ করেছেন। বুখারি শরিফের প্রসিদ্ধ হাদিস, ‘হাদিসে জিবরীল’ দ্বারা তার প্রমাণ পাওয়া যায়। আসল কথা হলো, আম্বিয়ায়ে কেরামও অন্য ফেরেশতাদের যেসব আকৃতিতে দেখেছেন, সেটা তাদের আসল আকৃতি নয়। রাসুল (সা.) হজরত জিবরাঈল (আ:)-কে তাঁর আসল রূপে দেখেছেন বলে হাদিসে উল্লেখ থাকলেও তাঁর আকৃতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কোনো হাদিসে পাওয়া যায় না।

ফেরেশতাদের কাজ: ফেরেশতাদের মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের বিভিন্ন কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত করে রেখেছেন। হাদীসে আছে-

“হজরত হুজাইফা ইবনে উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন মাতৃগর্ভে সন্তানের অস্থি-মজ্জা, চক্ষু-কর্ণসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি ও তার আকৃতি নির্ধারণের জন্য একজন ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে প্রেরিত হন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি সন্তানের পুত্র বা কন্যা হওয়ার বিষয়টিও স্থির করে দেন।”-মুসলিম শরীফ ।

তিরমিজি শরিফে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষের রিজিক সরবরাহের দায়িত্বে মহান আল্লাহ অসংখ্য ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন। বিভিন্ন হাদিসের বিবরণ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো জানা যায়, প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত করতে মহান আল্লাহর নির্দেশে অসংখ্য ফেরেশতা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। যুগে যুগে নবী ও রাসুলদের সঙ্গে জামানার খোদাদ্রোহী সম্প্রদায় যখন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতা আগমন করেছেন নবী ও রাসুলদের সাহায্য ও খোদাদ্রোহীদের শাস্তি বিধানের জন্য। কওমে আদ, সামুদ, হুদ, লূত, ফিরাউন ইত্যাদি জাতির ঘটনা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। বদরযুদ্ধে মহান আল্লাহ মুসলমানদের ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে,

 “অবশ্যই যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা তোমাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ করে, তাহলে তোমাদের রব তোমাদের পাঁচ হাজার বিশেষ চিহ্নধারী ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন।” – সুরা আলে ইমরান, ১২৫ আয়াত

“হজরত রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একবার হজরত জিবরাঈল (আ.) আগমন করে প্রশ্ন করলেন, যেসব মানুষ বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল আপনাদের কাছে তাদের মর্যাদা কিরূপ? রাসুল (সা.) বললেন, তাঁরা তো আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম মুসলমান। অতঃপর হজরত জিবরাঈল (আ.) বললেন, ফেরেশতাদের মধ্যে যারা রাসুল (সা.) ও মুসলমানদের সঙ্গে বদরযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তারাও আমাদের মাঝে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।” – ইবনে মাজা

যে ফেরেশতা মুহূর্তের জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না, আল্লাহর নির্দেশে যারা মানুষের জীবন-পরিক্রমা সচল রাখতে দিবানিশি অবিরত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, তাদের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করলে ইমানের পূর্ণতা আসতে পারে না। আর যে মহান মালিকের নির্দেশে ফেরেশতারা মানবকল্যাণে নিয়োজিত তাঁর দ্বিধাহীন আনুগত্য ছাড়া মানুষের জীবনে কোনো কল্যাণ বা মুক্তি আসতে পারে না।

ফেরেস্তার উপর ঈমান পূর্ণ হয় চারটি বিষয়ের মাধ্যমে :

১. আল্লাহ তাদের যে সকল গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন সে অনুসারে তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

২. কোরআন এবং বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা তাদের যে সকল নাম আমরা জেনেছি, সে গুলো বিশ্বাস করা, যেমন জিব্রাইল, ইস্রাফিল, মিকায়ীল, মালিক, মুনকার, নাকীর এবং মালাকুল মাউত ফেরেস্তাবৃন্দ এবং তাদের মধ্য হতে যাদের নাম আমাদের জানা নেই, তাদেরকেও সাধারণভাবে বিশ্বাস করা।

৩. তাদের মধ্য হতে যার বৈশিষ্ট্যের কথা কোরআনে এবং বিশুদ্ধ হাদীসে আমরা জেনেছি, তার প্রতি বিশ্বাস পোষণ করা। যেমন, জিব্রাইল আলাইহিস সালামের বৈশিষ্ট-তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেছেন, যে আকৃতিতে আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন অবিকল সে আকৃতিতে। যিনি তার ছয়শত ডানায় আচ্ছাদিত করেছিলেন আদিগন্ত। এমনিভাবে আরশবহনকারী ফেরেস্তার বৈশিষ্ট্য এই যে তার এক কান হতে অপর কানের দূরত্ব হলো সাতশত বছরের পথ। সুবহানাল্লাহ!

৪. তাদের মধ্য হতে যাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা অবগতি লাভ করেছি, তা বিশ্বাস করা। যেমন, ক্লান্তিহীনভাবে দিনরাত তারা আল্লাহর তাসবীহ পাঠে নিমগ্ন থাকেন। কোন প্রকার অবসাদ তাদের স্পর্শ করে না। তাদের মধ্য রয়েছেন, আরশবহনকারী, জান্নাতের প্রহরী এবং জাহান্নামের রক্ষী। আরো আছেন এক ঝাক ভ্রাম্যমান পবিত্র ফেরেস্তা, যারা আল্লাহর আলোচনা হয় এমন স্থান সমূহকে অনুসরণ করেন।

ফেরেশতাদের শ্রেণীবিন্যাস তাদের কর্ম সমূহ:

ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত। কোনো কোনো ইসলামী চিন্তাবিদ কাজের উপর ভিত্তি করে ফেরেশতাদের চৌদ্দটি শ্রেণীতে ভাগ করে থাকেন। যাদের মধ্যে চারজন উচ্চমর্যাদার ফেরেশতা বলা হয়ে থাকে।

  1. হামালাত আল-আরশ: যে সকল ফেরেশতা আল্লাহর আরশ ধরে রাখে বা বহন করে।
  2. জিবরাইল (আ.): আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা ফেরেশতাদের সরদার। এই ফেরেশতার নাম তিনবার কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা ২:৯৭; ৯৮, ৬৬:৪)। সূরা ১৬:১০২ আয়াতে জিবরাইল ফেরেশতাকে পাকরূহ বা রুহুল কুদুস বলা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ এবং সংবাদ আদান-প্রদান যেসব ফেরেশতার দায়িত্ব, জিব্রাইল তাদের প্রধান। জিব্রাইল-ই আল্লাহর নবীদের বা বাণীবাহকদের কাছে গমনাগমন করেন।
  3. মিকাইল (আ.): কুরআনের ২:৯৭ আয়াতে এই ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  4. ইসরাফিল (আ.): এই ফেরেসতা কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘোষণা করবেন। তার কথা কুরআন শরীফে বলা না হলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
  5. আজরাঈল (আ.): তাকে কুরআনে মালাকুল-মাউত নামে অভিহিত করা হয়েছে। ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও প্রাণ হরণ করেন।
  6. সাতটি বেহেশতের ফেরেশতাগণ।
  7. হাফাজা বা তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাগণ।
  8. মুনকার ও নাকীর: কবরে প্রশ্নকারী ফেরেশতাদ্বয়।
  9. দারদায়িল
  10. মালিক: জাহান্নাম বা নরক তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  11. রেদওয়ান: জান্নাত বা স্বর্গ তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  12. জাবানিয়া: জাহান্নামে দায়িত্ব পালনকারী ফেরেশতাগণ।
  13. নিয়ম শৃংখলা পালনকারী ফেরেশতাগণ।
  14. কিরামুন ও কাতিবীন: বিশেষ দুজন ফেরেশতা প্রতিজন মানুষের ভালো-মন্দ কাজের হিসাব রাখেন।

এছাড়া আরো অনেক ফেরেস্তা আছেন, যাদের আমল সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আল্লাহ তাআলা বলেন :

وما يعلم جنود ربك الا هو وما هي إلا ذكرى للبشر. المدثر

 “আপনার প্রভুর বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। এ তো মানুষের জন্য উপদেশ মাত্র।” (সূরা মু্‌দ্দাসসির : ৩১)

ফেরেস্তাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন মুসলমানদের ব্যক্তি জীবনের নানান উপকারিতার কারণ। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

১. আল্লাহর বড়ত্ব এবং শক্তি সম্পর্কে জানা। কারণ সৃষ্টির বড়ত্ব সষ্ট্রার বড়ত্বের প্রমাণ বহন করে।

২. আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহের জন্য কায়মনোবাক্যে এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করা যে, তিনি ফেরেসতা নিয়োজিত করে মানুষকে রক্ষা করেছেন বিভিন্ন আপদ-বিপদ হতে ; তাদের আমলগুলো লিপিবদ্ধ করা, আরশে তাদের দোয়া পৌঁছে দেয়া, তাদের জন্য ইস্তেগফার, পুরস্কারের সংবাদ দান-ইত্যাদি দায়িত্বগুলো তাদের কাঁধে অর্পণ করেছেন।

৩. তারা আল্লাহর একান্ত অনুগত ও ইবাদতগুজার-এজন্য তাদের মোহাব্বাত করা।

৪. ইবাদাত-বন্দেগীর মাধ্যমে তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়া। কারণ, তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় বান্দাদের দৃঢ় মনোবল দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন –

إذ يوحي ربك إلى الملائكة أني معكم فثبتوا الذين آمنوا. الأنفال

 “(ঐ মুহূর্তকে স্মরন করুন) যখন আপনার প্রভু ফেরেস্তাদের নির্দেশ করলেন আমি তোমাদের সাথে রয়েছি। সুতরাং, ঈমানদারদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির রাখ।” (সূরা আনফাল :১২)

৫. সর্বাবস্থায় আল্লাহর পর্যবেক্ষণের আওতায় এবং পরিপূর্ণ সজাগ থাকা ; যেন মানুষের কাছ থেকে বৈধ এবং নেক আমল ব্যতীত কোন গুনাহ প্রকাশ না পায়। কারণ মানুষের আমলসমূহ লেখার জন্য আল্লাহ তাআলা সম্মানিত ফেরেস্তা নিয়োজিত করেছেন। তারা মানুষের সকল কর্মকান্ড বিষয়ে অবগত হোন। তারা সর্বাবস্থায় তাদের রক্ষণ ও পর্যবেক্ষণে সক্ষম।

৬. ফেরেসতাদের কষ্ট হয় এই ধরণের কাজ হতে বিরত থাকা। গুনাহের কাজ হলে তারা কষ্ট পায়। এজন্য তারা কুকুর এবং প্রাণীর ছবি আছে এমন ঘরে প্রবেশ করে না। দুর্গন্ধ বস্তু তাদের কষ্টের উদ্রেক করে। যেমন- মসজিদে পেঁয়াজ, রসুন খাওয়া অথবা খেয়ে মসজিদে যাওয়া।

সম্মানিত ভাই ও বোনেরা উপরোল্লিখিত সংক্ষিপ্ত বিষয়-বস্তু গুলো মনে প্রানে জানা ও মানার  নামই হলো- ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান।

আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপনাকে ও সকল জিন ও ইনসান কেই এই বিষয় গুলোর প্রতি সত্যিকারের ঈমান আনার তওফিক দান করুন এবং  যেমন ঈমান আনয়ন করতে তিনি কোরআন মাজিদে বলেছেন তেমন  খাঁটি ঈমানের স্বাদ আমাদের উপভোগ করার তওফিক দান করুন ।। আমীন…

ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি, যদি কোন ভূল পান তো সুধরিয়ে দিবেন আশা করি।

বিগত পর্ব গুলো দেখতে পারেন:

ঈমান কি, ঈমানের পরিচয় এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান- পর্ব:০১

ঈমান কি, ঈমানের পরিচয় এবং ঈমানের শাখাসমূহ – পর্ব:০২

(চলবে…)

Leave a Reply