কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-১৪] :: ৬টি সময়কালে মহাবিশ্বের আত্নপ্রকাশ

আসসালামুআলাইকুম শুভেচ্ছা সবাইকে 🙂 । আশা করি ভালো আছেন?

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব১৪] :: ৬টি সময়কালে মহাবিশ্বের আত্নপ্রকাশ

 

history.bigbangআমাদের এই মহাবিশ্বটি সৃষ্টির প্রারম্ভিক হতে আকৃতি, রঙ ও প্রকৃতিতে পৌছাঁতে সর্বমোট ৬টি অনির্দ্দিষ্টট সময়কাল অতিবাহিত করেছে। বর্তমান বিজ্ঞান বিশ্ব মোট ৬টি Period বা সময়কালকে বিশ্লেষন করেছেন এভাবে-

1| Time Zero

2| Inflation

3| Annihilation

4| Proton and Neutron

5| Atomic Nuclei

6| Stable atom

নাস্তিকদের জন্য আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বিভিন্ন আয়াতে তা বর্নিত করেছেন যার মধ্যে সূরা ‘হাদীদ’-৫৭:৪ নং আয়াত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য-

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَ السَّموتِ وَالاَرْضَ فِىْ سِتَّةِ اَيَّامٍ.

“তিনিই ছয়টি দিনে (সময়কালে) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী (তথা সমগ্র মহাবিশ্বটি) সৃষ্টি করে করেছেন।”(অনুবাদ:-মাওলানা সালাহউদ্দীন ইউসুফ, পাকিস্তান)।

 

inagalaxyfarপবিত্র কুরানের বিভিন্ন স্থানে ৬ দিনে পৃথিবী সৃষ্টির বর্ননা উল্লেখ করা হয়েছে সুরা আরাফ-৭, আয়াত-৫৪/ সুরা ইউনুস-১০, আয়াত-৩/ সুরা হুদ-১১, আয়াত-৭ ইত্যাদি। সুরা ফুসিলাত-৪১, আয়াত-৯-১২-

041.009 قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الأرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ

041.010 وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ

041.011 ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلأرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ

041.012 فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

‘‘ বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অত:পর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অত:পর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচছায় অথবা অনিচছায়। তারা বলল, আমরা সেবচছায় আসলাম।’’ (অনুবাদ:-প্রফেসর ড. মুজিবর রহমান, কুরআনুল কারিম, USA)।

 

Scaleঅনেক Anti-Islamic ওয়েব-সাইটে কাফের ও মুনাফিকরা সাধারন মুসলিমদের কটাক্ষ করেন ও ’কুরআনের বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্যতা’ নির্দেশনা করে বলেন যে- 24 ঘন্টা * 6= 144 ঘন্টায় মহাবিশ্বের সৃষ্টি অবাস্তব! কিন্তু প্রকৃতার্থে শাব্দিক বিশ্লেষনে যদি আমরা যাই এই আয়াতে ‘ইয়ম’ ব্যবহার না করে ‘আইয়াম‘ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। Arabic Dictionary- তে ‘আইয়াম’ শব্দের অর্থ লম্বা সময় এটি ১ দিন ,১০০ বছর অথবা অনির্দ্দিষ্ট সময়কাল হতে পারে। আর ‘ইয়ম’ মানে একদিন এই আয়াতে আইয়াম শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। যদি ‘ইয়ম’ ব্যবহ্রত হতো তাহলে নাস্তিকদের টেনশন মুক্ত করা যেত।

 

বাইবেল ও কুরআন এক নয়, কালের আবর্তে যা মানুষ বিকৃতি করেছে । Software-এর মতো প্রতিবছর KJV Bible (সবচাইতে অধিক বিক্রিত হয়) Update version নিয়ে আসে, অবিস্বাসীদের এই বিভ্রান্তির ইন্ধন রয়েছে কিছু verse-এ যা তুলে ধরা হল-

Ge:1:31: And God saw every thing that he had made, and, behold, it was very good. And the evening and the morning were the sixth day.

আদিপুস্তক 1:1:31-এবং প্রত্যেক সৃষ্টি জিনিষ অবলোকন করলেন, যা দেখতে মনোরম এবং বিকেল ও সকালের সময়টা ছিল ষষ্ঠ দিন। (KJV Bible- version 8.0.0)

 

অতএব নিঃসন্দেহে প্রমানিত যে-মানুষের জ্ঞানের পরিধি যত বাড়ছে ততই আল-কুরআনের বিজ্ঞানের সত্যের উদ্ভাসিত সৌন্দর্যে সারা বিশ্ব হয়ে পড়ছে মুগ্ধ । ইসলামের দিকে মানুষ আকৃষ্ট হবার একমাত্র কারন বর্তমান প্রমানিত তথ্য ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সাথে কুরআনের নির্ভূল বর্ননা শৈলী ও অতুলনীয় মিল । বিজ্ঞান যতই সামনে এগিয়ে যাক তা বারবার নিঃসঙ্কোচে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করবে ‘আল-কুরআন জ্ঞান বিজ্ঞানের অসীম তথ্যভান্ডার , এক ও অদ্বিতীয় সৃর্ষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি’।

erasপবিত্র কুরআন মানুষের সৃষ্টি নয়। এটা সৃষ্টিকর্তা হতে আগত। ১৪০০ বছর পূর্বে কোন মানব এই কবিতা, সাহিত্য ও বিজ্ঞান সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করতে পারবেনা। অধিকন্তু কুরআন বিজ্ঞানের চাইতেও অগ্রপথিক কুরআন এক একটি আয়াত মানব জাতির একমাত্র সঠিক পথের সর্বশেষ অবলম্বন। আল্লাহ বলেন সুরা ফুসিলাত-৪১, আয়াত-৫৩-

041.053 سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

অচিরেই আমি এদেরকে র্সবত্র আমার নির্দশনসমূহ দেখাবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও ৷ যাতে এদের কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এ কুরআন যর্থাথ সত্য এটাই কি যথেষ্ঠ নয় যে, তোমার রব প্রতিটি জিনিষ দেখছেন ? জেনে রাখো, এসব লোক তাদরে রবের সাথে সাক্ষাত সর্ম্পকে সন্দেহ পোষণ করে শুনে রাখো, তিনি সব জিনিষকে পরিবেষ্টন করে আছেন ৷(অনুবাদ:-হাফেয মুনিরউদ্দীন আহমেদ, কুরআনের সরল বাংলা অনুবাদ, লন্ডন)।

 

এই নির্দশন মানুষকে সত্য পথের আলোয় উদ্ভাসিত হতে আহবান করে যাতে সে সৃষ্টিকর্তা প্রণীত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পৃথিবীর প্রকৃতির সাথে নিজের জীবনকে সাজাতে পারে। এতো নির্দশন দেখার পর যারা সঠিক পথে ফিরে আসেনা। পবিত্র কুরআনে তাদের সম্পর্কে বলেছে সূরা-বাকারা ২: আয়াত-১৮-
002.018 صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ

বোবা, কালা অন্ধ তারা সত্যপথে ফিরে আসবেনা।(অনুবাদ:-ডাঃ জহুরুল হক, উম্মুল কোরা, সৌদি আরব)।

 

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

 

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

Leave a Reply