শিরক – ১ম পর্ব

শিরকআসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। এই সাইটে এটাই আমার প্রথম পোষ্ট। জানিনা কেমন হবে লিখা, অনেক বড় একটি বিষয় নিয়া লিখা শুরু করলাম। আশা আছে এ বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে বিস্তারিত লিখার। আসুন এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। আজ যে বিষয়টি নিয়া লিখব তা হল- ”শিরক” ।

عن عمىر ابن شرحبيل قال قال عبد الله قال رجل يا رسول الله  اى الذنب اكبر عند الله قال ان تدعو الله ندا وهو خلقك  قال ثم اى قال ان تقتل ولد ك مخافة ان يطعم معك قال ثم اى قال ان تزانى حيلة جارك فانزل الله عز و جل تصديقها والذين لا يدعون مع الله الها اخر ولا يقتلون النفس التى حرم الله الا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذالك يلق اثاما-

 

“হযরত আমর বিন শুরাহবিল (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন এক ব্যক্তি রাসুলে করীম (সঃ) কে প্রশ্ন করল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কঠিন পাপ কি? তিনি বললেন-আল্লাহর সাথে শরীক করা ।অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, এরপর কী? তিনি বললেন এই ভয়ে সন্তানকে হত্যা করা যে সে তোমার সাথে খাবে। সে বলল,  এরপর কী? তিনি বললেন তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা।অতপর আল্লাহ তায়ালা তার রাসুলের কথার সমর্থনে একটি আয়াত নাযিল করেন।–আর যারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ ডাকেনা, আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে হত্যা করেনা।তবে কারো উপর হত্যার বিধান আরোপিত হলে ভিন্ন কথা। এবং ব্যাভিচার করেনা। আর যে ব্যক্তি এ বিধান সমূহ মান্য করবে আল্লাহ তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে ‍দেবেন।”(মুসলিম)

শিরক কী?

ان تدعو الله ندا-কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা। আল্লাহর প্রাপ্য কোন ইবাদাত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য পালন করা।

কারো কারো মতে,- আল্লাহর সত্তা বা গুনের মধ্যে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে সমকক্ষ মনে করাকে শিরক বলে।

এককথায়- “Participate anybody or anything in a subject which is related to Allah.”

উল্লেখ্য, শিরক একটি ক্ষমার অযোগ্য আপরাধ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন-আল্লাহ তায়ালা শিরকের অপরাধ কখনোই ক্ষমা করবেননা।এছাড়া অন্য সব গুনাই ক্ষমা করে দেবেন যেগুলো তিনি ইচ্ছা করেন।

শিরক অনুপ্রবেশের কারণঃ

জাহেলী যুগের ন্যায় বর্তমান সমাজে ও বিভিন্ন রকম শিরক দেখা যায়। প্রথমে দেখা যাক জাহেলী যুগে শিরক অনুপ্রবেশের কারণ:

  • পূর্বেকার নবীগনের শিক্ষা ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়া।
  • অতি ভক্তির কারণে নবী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দের প্রতিকৃতি তৈরী করে এদের উপাসনা করা।
  • ক্রমান্বয়ে এ ধারনার অনুপ্রবেশ ঘটা যে মুর্তি পুঁজা করলে আল্লাহ পাক খুঁশি হবেন এবং মূর্তি গুলো পরকালে আল্লাহ তায়ালার নিকট তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে।
  • ইসলামের সঠিক জ্ঞান না থাকায় জাহেলী যুগে শিরক অনু প্রবেশ করে।

এবারে দেখা যাক ইসলামী যুগে শিরকের অনুপ্রবেশের কারণঃ বর্তমান যুগে মানুষ সরাসরি মূর্তি পূঁজা না করলে ও পরোক্ষ ভাবে তাদের মধ্যে শিরকের আলামত লক্ষ করা যায়। এর দুটি কারন রয়েছে।

  1. আকিদাগত কারণঃ ইসলামের গণ্ডির ভেতরে অবস্থান করে অমুসলিমদের মত ও পথকে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের পাথেয় হিসেবে বেছে নেয়া।
  2. কর্মগত কারণঃ অতি ভক্তির কারণে বিভিন্ন পীর ও অলীদের মাজারে গমণ করে তাদের নিকট কিছু পাওয়ার আশায় পার্থণা করা এবং তাদের কবরে সেজদা করা।

শিরকের প্রকারভেদঃ  শিরক প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

  1. শিরকে আকবার
  2. শিরকে আসগার

শিরকে আকবার:আল্লাহরে একত্ববাদ বা তা্ওহীদের তিনটি পর্যায় রয়েছে। শিরক যেহেতু তাওহীদের বিপরীত সুতরাং শিরকেআকবারকে ও তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রতিপালনে শিরকঃ আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেন,প্রতিপালন করেন রিযিক দান করেন সৃষ্টির প্রতিপালনে আল্লাহর সহিত কাউকে অংশীদার করা।
  • নাম ও গুনাহবলির শিরকঃ আল্লাহ তায়ালার নাম বা ৯৯টি গুনের সাথে কাউকে সমকক্ষ মনে করা।
  • ইবাদাতের শিরকঃ ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা বা কারো ইবাদাত করা।

বস্তুত শিরককারী আগে কাফির হয় তার পর মুশরিক হয়  কারণ ঈমানের কোন একটি রোকনকে অবিশ্বাস করলেই সে কাফির বলে গন্য হয়। এজন্যই পবিত্র কোরআনে আধিকাংশ স্থানে কাফের বুঝাতে শিরকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শিরকে আসগারঃ আল্লাহর ইবাদাতের ক্ষেত্রে মানুষের প্রশংসা সুনাম সুখ্যাতি বা জাগতিক কোন কিছু আশা করাকে শিরকে আসগার বলে।কোন ব্যক্তিকে ইবাদাত বা চুড়ান্ত ভক্তি ও বিনয় গ্রহণের যোগ্য বলে বিশ্বাস করা এবং তার নিকট থেকে অলৌকিক সাহায্য,দয়া,আশীর্বাদ ও নেক দৃষ্টি লাভের জন্য তার অলৌকিক ক্রোধ,অভিশাপ বা বিরক্তি থেকে আত্মরক্ষার জন্য তার নিকট চুড়ান্ত ভক্তি বা বিনয় প্রকাশ করা।

প্রর্দশনেচ্ছা বা শুনানোর ইচ্ছা এগুলো শিরকে আসগরের অন্তর্ভূক্ত।

মাহমুদ ইবনে লাবিদ বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন-“আমি সবচেয়ে যে বিষয়টি তোমাদের  ব্যাপারে ভয় পাই তা হলো শিরকে আসগর বা ক্ষুদ্রতর শিরক। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেন হে আল্লাহর রাসূল,শিরকে আসগার কী? তিনি বললেন, রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা। কিয়ামতের দিন যখন মানুষদের তাদের কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তোমরা যাদের দেখাতে তাদের নিকট যাও, দেখ তাদের কাছে তোমাদের পুরস্কার পাও কি না?”(আহমদ)

হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ)বলেন, রাসূল (সঃ) বলেন- “আমি কি তোমাদেরকে সেই বিষয়টি সম্বন্ধে বলবো না? যে বিষয়টি নিয়ে আমি তোমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়ে বেশি ভয় পাই। আমরা বললাম, হ্যাঁ, আবশ্যই বলুন। তিনি বললেন বিষয়টি হচ্ছে গোপন শিরক।গোপন শিরক এই যে এক জন নমাজে দাঁড়াবে, এরপর যখন দেখবে যে মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে, তখন সে সালাত সুন্দর করবে।” (ইবনে মাজাহ)

 

শিরকের পরিনামঃ  তাওবার মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। তবে আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে করলে নেক কর্মের কারণে বা শাস্তির মাধ্যমে বা তার অপার করুনায় সব পাপ ক্ষমা করতে পারেন। তবে তিনি শিরকের পাপ ক্ষমা করবেননা বলে পবিত্র কোরআনে ঘোষনা দিয়েছেন।

-“আল্লাহ তায়লা তার সাথে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করবেননা।তাছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সাথে শরীক করবে সে মহাপাপ করবে।”(সূরা নিসা আয়াত-৪৮)

-“তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে তুমি আল্লাহর শরীক স্থির করলে তোমার কর্মফল নিষ্ফল হবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”(সূরা যূমার আয়াত-৬৫)

 কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করবেন ও তার আবাস জাহান্নাম; জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।”(সূরা মায়িদা আয়াত-৭২)

আজ এ পর্যন্তই। ভালো লাগলে জানাবেন।

–(চলবে)–

3 thoughts on “শিরক – ১ম পর্ব

  • January 15, 2013 at 10:50 am
    Permalink

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ভাই । আপনি কত সুন্দর একটি পোষ্ট লিখেছেন আর কত সুন্দর ভাবে সাজিয়ে প্রকাশ করেছেন তা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ ।খুবি সুন্দর
    চালিয়ে যায় ভাই পাশেই আছি

  • January 15, 2013 at 11:12 am
    Permalink

    খুব সুন্দর একটি পোষ্ট লিখেছেন ভাই। আপনার বাকি পোষ্ট গুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে আরো সুন্দর পোষ্ট আমাদের উপহার দেওয়ার তওফিক দান করুন।

Leave a Reply