নামাজ আপনাকে খারাপ কাজ থেকে ফিরাতে পারে না কেন? দেখুন এবং অজু/নামাজ/গোসল/তায়াম্মুম এর ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নত গুলো যেনে নিন

 salah

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন? আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভাল আছি। তাহলে কাজের কথায় আসি।

 

আমরা সাধারনত অনেকেই বলি আমরা নামাজ পড়ি কিন্তু, আমরাতো খারাপ কাজ থেকে ফিরে থাকতে পারি না কিন্তু কেন? পারি না? বা ওলামায়েকারাম বলে নামাজ পড়লে, নামাজ তাকে খারাপ কাজ থেকে ফিরাবে কিন্তু আমরা নামাজ পড়ি তারপরও কেন ফিরায় না? কারন আমাদের নামাজ সঠিক ভাবে হয় না, আমরা অনেকেই আছি যারা নামাজ এর ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নত গুলো যানি না, তাই আমাদের নামাজের মধ্যে কোন সমস্যা হলেও আমরা বুঝতে পারি না, অজু হল নামাজের চাবি, যদি আপনি অজুর ফরজ না যানেন তাহলে আপনার না জানার কারনে যদি কোন ফরজ তরক হয়ে যায় তাহলে আপনার অজু সঠিক ভাবে হল না, আর অজু সঠিক ভাবে হলনা মানে আপনার নামাজও হলনা, আরো যদি আপনি এই সঠিক অজু না করেই নামাজ এ চলে যান তাহলে আপনার ঈমান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আপনাকে সর্ব প্রথমে অজুর প্রতি লক্ষ রেখে অজু সঠিক ভাবে করতে হবে, এরপরে আসুন নামাজ, আপনি যদি নামাজ এর সঠিক ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নত না যানেন তাহলেও আপনি বুঝবেন না আপনার নামাজের মধ্যে কোন ভুল আছে কিনা, আর আপনার নামাজ থেকে যদি কোন একটি ওয়াজিব ছুটে যায় তাহলে আপনাকে শেষ বৈঠকে সহু সেজদা দিতে হবে, তাহলেই আপনার নামাজ সঠিক ভাবে হয়ে যাবে। আর যদি আপনার নামাজের মধ্যে কোন ফরজ ছুটে যায় তাহলে আপনার নামাজ ছেড়ে দিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে, এখন আপনি যদি না ই যানেন কোনটা ফরজ আর কোনটা ওয়াজিব তাহলে কেমন করে সঠিক ভাবে নামাজ আদায় করবেন? তাই নামাজের মধ্যে সকল ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নত এই গুলো আমাদের সর্ব প্রথম যেনে তারপর নামাজ আদায় করতে হবে। এরপরে আসুন আমরা মনে করি সব যানি বা সব কিছুই আমি পারি বা মেনে চলি তারপরও আমার নামাজ আমাকে খারাপ কাজ থেকে কেন ফিরায় না? তাহলে এবার আপনার তাকবির/হাত বাঁধা/রুকু/সেজদাসহ অন্যান্য গুলো সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা? সেই গুলো কোন এক আলেম এর কাজ থেকে চেক করিয়ে নিন, কোন এক আলেম এর কাছে গিয়ে তাকে বলবেন দেখুন আমি আপনার সামনে নামাজ আদায় করতেছি, আমার নামাজ টা সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা একটু দেখে আমাকে যানান, বা ভুল হলে দেখিয়ে দিন, তারপর হল আপনার সূরা কেরাতা সঠিক হচ্ছে কিনা তা চেক করান, তারপর দেখুন আপনার নামাজ আপনাকে খারাপ কাজ থেকে ফিরায় কিনা, মসজিদে গিয়ে আমরাতো শুধু কপাল টাকাই তাই আমাদের নামাজ আমাদেরকে খারাপ কাজ থেকে ফিরাতে পারে না, তাই এখন সব গুলোর ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাতসহ অন্যান্য সমূহ যেনে নিন নিচ থেকে।

 

অজু

০১। ফরজ

০২। সুন্নাত

অজু নামাজের চাবি

ফরজ ৪টি

০১। সমস্ত মুখ ধৌত করা।

০২। দুই হাতের কনুইসহ ধৌত করা।

০৩। মাথা মাছেহ্ করা।

০৪। দুই পায়ের টাখনুসহ ধৌত করা।

(এখানে টাখনু বলতে পাঁয়ের গিড়াকে বুঝানো হয়েছে)

 

বি: দ্র: এই তিনটি ফরজের মধ্যে থেকে যদি কোন যায়গায় থেকে একটি চুল পরিমানও শুকনো থাকে তবে অজু হবে না।

 

 

সুন্নাত ১৬টি

০১। অজুতে নিয়ত করা।

০২। বিসমিল্লাহ বলা।

০৩। দুই হাতের কব্জি সহ তিন বার ধৌত করা।

০৪। তিন বার মেছওয়াক করা। (যে কোন লাইব্রেরীতে বা ইসলামক দোকানে মেছওয়াক পাওয়া যায়)

০৫। তিন বার কুলি করা।

০৬। তিন বার নাকে পানি দেয়া।

০৭। সমস্ত মুখ তিন বার ধৌত করা।

০৮। ডান হাতের কনুই সহ তিন বার ধৌত করা।

০৯। বাম হাতের কনুই সহ তিন বার ধৌত করা।

১০। দুই হাতের আঙ্গুলী খিলাল করা।

১১। সমস্ত মাথা একবার মাছেহ্ করা।

১২। কান মাছেহ্ করা।

১৩। ডান পায়ের টাকনুসহ তিন বার ধৌত করা।

১৪। বাম পায়ের টাকনুসহ তিন বার ধৌত করা ।

১৫। দুই পায়ের আঙ্গুলী খিলাল করা ।

 

মুস্তাহাফ

০১। গরদান মাছেহ্ করা।

 

 

অজু ভঙ্গের কারণ ৭টি:

 

০১। পায়খানা-পেশাবের রাস্তা দিয়া কোন কিছু বাহির হওয়া।

০২। মুখ ভরিয়া বমি হওয়া।

০৩। শরীরের কোন জায়গা হইতে রক্ত, পুঁজ, পানি বাহির হইয়া গড়াইয়া পড়া।

০৪। থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।

০৫। চিত বা কাত হইয়া হেলান দিয়া ঘুম যাওয়া।

০৬। পাগল, মাতাল ও অচেতন হইলে।

০৭। নামাজে উচ্চস্বরে হাসিলে।

 

বি: দ্র: নামাজের মূল সর্ত পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হল অজু। (অজু নামেজের চাবি)

 

 


নামাজ

নামাজের মধ্যে রয়েছেঃ-

০১। ফরজ

০২। ওয়াজিব

০৩। সুন্নত

০৪। সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ্

০৫। মুস্তাহাব

 

ফরজ

নামাজের বাহিরে (৭) এবং ভিতরে (৬) মোট ১৩ ফরজ।

 

নামাজের বাহিরে ৭ ফরজ

০১। শরির পবিত্র হওয়া।

০২। কাঁপড় পবিত্র হওয়া।

০৩। নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া।

০৪। পুরুষের জন্য নাবি থেকে হাটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা, মহিলাদের জন্য সর্ব শরীর ঢেকে রাখা।

০৫। কিবলা মুখী হওয়া।

০৬। সময় মত নামাজ পড়া।

০৭। নামাজের নিয়্যত করা।

 

নামাজের ভিতরে ৬ ফরজ

০১। নামাজের শুরুতে হাত উঠাইয়া আল্লাহু আকবার (তাকবিরে তাহরিমা) বলা।

০২। দাড়িয়ে নামাজ পড়া।

০৩। কিরাত পড়া।

০৪। রুকু করা।

০৫। দুই সেজদা করা।

০৬। আখিরী (শেষ) বৈঠক।

 

ওয়াজিব ১৪টি

মাসআলাহ্: নামাজে ভুলবশত: কোন ওয়াজিব ছুটিয়া গেলে নামাজ শেষে সাজদায়ে সাহু করিলে নামাজ  হইয়া যায়। তবে ইচ্ছকৃত ওয়াজিব তরক করিলে নামাজ পুনরায় পড়িতে হয়।

 

০১। আলহামদু শরীফ পুরা পড়া।

০২। আলহামদুর সঙ্গে সূরা মিলান।

০৩। রুকু সেজদায় দেরী করা।

০৪। রুকু হইতে সোজা হইয়া দারিয়ে একটু দেরি করা।

০৫। দুই সেজদার মাঝখানে সোজা হইয়া বসিয়া দেরি করা।

০৬। দরমিয়ানী বৈঠক।( চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের মধ্যে দ্বিতীয় রাকাতের পরে বসা)

০৭। দুই বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া।

০৮। ইমামের জন্য কেরাত আস্তে এবং জোরে পড়া।

০৯। বিতরের নামাজে দু’আয়ে কুনূত পড়া।

১০। দুই ঈদের নামাজে ছয় ছয় তাকবীর বলা।

১১। প্রত্যেক ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতকে কেরাতের জন্য নির্ধারিত করা।

১২। প্রত্যেক রাকাতের ফরজগুলির তারতীব (সিরিয়াল) ঠিক রাখা।

১৩। প্রত্যেক রাকাতের ওয়াজিবগুলির তারতীব (সিরিয়াল) ঠিক রাখা।

১৪। আসসালামু আলাইকুম বলিয়া নামাজ শেষ করা।

 

 

সুন্নত

০১। হাত উঠানো।

০২। হাত বাঁধা (মেয়েদের জন্য হাত রাখা)।

০৩। ছানা পড়া।

০৪। আউযুবিল্লাহ পড়া।

০৫। বিসমিল্লাহ্ পড়া।

০৬। সূরায়ে ফাতিহার পর (আমিন) বলা।

০৭। রুকুতে যাইবার সময় (আল্লাহু আকবার) বলা।

০৮। রুকুতে থাকিয়া তাছবিহ্ (কম পক্ষে তিনবার) বলা।

০৯। রুকু হইতে উঠিবার সময় (সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ্ রব্বানালাকাল হামদ্) বলা।

১০। সেজদাতে যাইবার সময় (আল্লাহু আকবার) বলা।

১১। সেজদাতে থাকিয়া তাছবীহ্ (কম পক্ষে তিনবার) বলা।

১২। সেজদা হইতে উঠিবার সময় (আল্লাহু আকবার) বলা।

১৩। প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ পড়া(মুস্তাহাব)।

১৪। আখেরী (শেষ) বৈঠকে দূরূদ শরীফ এবং দু’আয়ে মাসুরা পড়া।

 

বি: দ্র: ফরজ নামাজ দাঁড়াইয়া পড়া ফরজ।

তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতের রুকু ও সেজদার মাস্‌আলা প্রথম রাকাতের ন্যায়। কিন্তু ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে রুকুর আগে চারটি মাস্‌আলা।

০১। হাত বাঁধা (সুন্নত)

০২। বিসমিল্লাহ পড়া (সুন্নত)

০৩। সূরায়ে ফাতিহা পুরা পড়া (সুন্নত)

০৪। সূরায়ে ফাতিহার পর আমীন বলা (সুন্নত)

 

নামাজে সুন্নতে মুআক্কাদাহ্ ১২টি:

 

০১। দুই হাত উঠান।

০২। দুই হাত বাঁধা।

০৩। সানা পড়া।

০৪। আউযুবিল্লাহ পড়া।

০৫। বিসমিল্লাহ্ পড়া।

০৬। আলহামদুর পর আমীন বলা।

০৭। প্রত্যেক উঠা-বসায় আল্লাহু আকবার বলা।

০৮। রুকুর আসবীহ্ বলা।

০৯। রুকু হইতে উঠিবার সময় সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ্, রাব্বানালাকাল হামদু বলা।

১০। সেজদার তাসবীহ্ বলা।

১১। দূরূদ শরীফ পড়া।

১২। দু’আয়ে মাসুরা পড়া।

 

নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি:

০১। নামাজে অশুদ্ধ কেরাত পড়া।

০২। নামাজের ভিতর কথা বলা।

০৩। কোন লোককে সালাম দেওয়া।

০৪। সালামের উত্তর লওয়া।

০৫। উহ্!আহ্ শব্দ করা।

০৬। বিনা ওজরে (বিনা কারণে) কাশা।

০৭। আমলে কাছীর করা। (নামাজের মধ্যে এমন কোন কাজ করা যার দ্বারা অন্য কোন লোক মনে করে, সে নামাজের মধ্যে নেই)।

০৮। বিপদে কি বেদনায় শব্দ করিয়া কাঁদা।

০৯। তিন তাসবীহ্ পরিমাণ ছতর খুলিয়া থাকা। (তিন বার সুবহানা রবহিয়ালআলা বলতে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময় যদি আপনার নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত খোলা থাকে তাহলে আপনার নামাজ ভেঙ্গে যাবে)

১০। মুক্তাদী ব্যতীত অপর ব্যক্তির লোকমা নেওয়া।

১১। সুসংবাদ ও দুঃসংবাদে উত্তর দেওয়া।

১২। নাপাক জায়গায় সেজদা করা।

১৩। কেবলার দিক হইতে সিনা ঘুরিয়া যাওয়া।

১৪। নামাজে কোরআন শরীফ দেখিয়া পড়া।

১৫। নামাজে শব্দ করিয়া হাঁসা।

১৬। নামাজে সাংসারিক কোন বিষয়ক প্রার্থনা করা।

১৭। হাঁচির উত্তর দেওয়া।

১৮। নামাজে খাওয়া ও পান করা।

১৯। ইমামের আগে মুক্তদী রুকু/সেজদা/দাঁড়ান/সালাম ফিরানো/ইত্যাদি করা।

 

 

গোসলে ৩ ফরজ

০১। কুলি করা।

০২। নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।

০৩। সমস্ত শরীর ভাল করে ধৌত করা (এক চুল পরিমানও শুকনো থাকতে পারবে না)।

 

তায়াম্মুমে ৩ ফরয

 

০১। নিয়্যত করা।

০২। সমস্ত মুখ একবার মাছেহ্ করা।

০৩। দুই হাতের কনুইসহ একবার মাছেহ্ করা।

 

 

লেখকঃ মোঃ আবুল বাশার

সাহায্যেঃ মুফতি মোঃ নিজাম উদ্দিন

কওমি মাদ্রাসা (শিক্ষক)

ছোট চৌরাস্তা, টাউন কালিকাপুর, পটুয়াখালী।

 

ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে ভুলবে না…

ভুলে ভরা জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,যদি আমার লেখার মাঝে কোন ভুলত্রুটি থাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন।

মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

2 thoughts on “নামাজ আপনাকে খারাপ কাজ থেকে ফিরাতে পারে না কেন? দেখুন এবং অজু/নামাজ/গোসল/তায়াম্মুম এর ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নত গুলো যেনে নিন

Leave a Reply