মাজহাব এর প্রয়োজনীয়তা (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম,

 

যতদিন মানুষ আকাবিরদের থেকে ইলম শিখবে ততদিন তারা সত্‍পথে পরিচালিত হবে আর যখন মানুষ আসাগির থেকে ইলম শিখবে তখন তারা গোমরা হয়ে যাবে ।

হাদিসটি হাফেজ ইবন আব্দুল বার ঈবন মাসউদ ও উমর রা থেকে বর্ণনা করেছেন দেখুন মুখ্তাসারু জামিউ বয়ানুল ইলম পৃ ৮৩ ।

 

আজকাল অনেককে বলতে শুনা যায়, যারা মাযহাব মানে তারা নাকি গোমরাহ হয়ে গেছে। আসুন কিছু গোমরাহ হওয়া (তাদের ভাষায়) মানুষের লিষ্ট দেখি….

 

……………………………………………………………………………………………………………………………………….

 

মায্‌হাব চতুষ্টয়ের তাক্বলীদের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ‘ইজমা’ সংঘটিত হয়েছে হিজরী ৪র্থ শতাব্দীর পূর্বেই। এবং সাথে সাথে মুসলিম উম্মাহর প্রথিতযশা উলামায়ে কিরাম ও বিশেষজ্ঞ ফক্বীহগণ সর্বসম্মতভাবে একাধিক মায্‌হাবের অনুসরণের দ্বার রুদ্ধ করে কেবল একই মায্‌হাবের অনুসরণকে জরুরী ও ওয়াজিব বলে ফাত্‌ওয়া দেন।

 

নিচে মুহাদ্দিসগণের কিছু মতামত তুলে ধরছিঃ

 

১। মুসলিম শরীফের প্রসিদ্ধতম ও সর্বশ্রেণীতে গৃহীত ব্যাখ্যা  ‘আল্ মিনহাজ’ প্রণেতা ইমাম নববী (রহঃ) (মৃঃ ৬৭৬ হিঃ) ‘রাওযাতুত তালেবীন’ নামক গ্রন্থে লিখেনঃ

 

“উলামাগণ বলেন, ইজতিহাদে মুতলাক ইমাম চতুষ্টয় পর্যন্ত খতম হয়ে গেছে। তাই তাঁরা ইমাম চতুষ্টয়ের কোন একজনের ‘তাক্বলীদ’ মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। ইমামুল হারামাইন জুয়াইনী (মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম সাহেব – রহঃ, মৃঃ ৪৭৮ হিঃ) মায্হাব চতুষ্টয়ের তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ‘ইজ্মা’ উল্লেখ করেছেন। ”

 

( নুরুল হিদায়া হতে সংকলিত, পৃ – ১০; দেখুনঃ ফয়যুল কাদীরঃ পৃ – ১/২১০; শরহুল মুহায্যাব, নববীঃ পৃ – ১/৯১, আদাবুল মুস্তাফতী অধ্যায় )

 

অন্যত্র তিনি লিখেনঃ

 

“ যে কোন একটি মায্হাব বেছে নিয়ে একনিষ্ঠভাবে তা অনুসরণ করাই বর্তমানে অপরিহার্য। ”

 

( আল্-মাজমু’ শরহুল মুহায্যাব্, পৃ – ১/১৯ )

 

২।গাইরে মুক্বাল্লিদ্দের অন্যতম মান্যবর ইমাম , আরব বিশ্বের সর্বনন্দিত লিখক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) (মৃঃ ৭২৮ হিঃ) লিখেছেনঃ

 

“ মুসলিম উম্মাহর ‘ইজমা’ উপেক্ষা করে মায্হাব চতুষ্টয়ের বিপরীতে কোন মায্হাব রচনা বা গ্রহণ বৈধ হবে না। ”

 

( ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়্যাঃ পৃ – ২/৪৪৬ )

 

ইচ্ছামত চার মায্হাবের যখন যেটি খুশি সেটি অনুসরণ করা সকল ইমামের ঐক্যমতে হারাম বা অবৈধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

(ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়্যাঃ পৃ – ২/২৪১ )

 

৩।প্রখ্যাত উসূলে হাদীস বিশারদ, ইবনি নুজাইম (রহঃ) (মৃঃ ৯৭০ হিঃ) লিখেনঃ

 

“ যে ব্যক্তি ইমাম চতুষ্টয়ের বিপরীত মতামত পোষণ করবে সে মুসলিম উম্মাহর ‘ইজমা’ তথা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হবে। ”

 

( আল্-আশ্বাহ্ ওয়ান নাযাইরঃ পৃ – ১৩১ )

 

৪।আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার মক্কী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর স্বীয় প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ফাত্হুল মুবীন’ এ লিখেনঃ

 

“ আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবু হানীফা, শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ বিন হাম্বল – এ চার ইমাম ব্যতীত অন্য কারও তাক্বলীদ (অনুসরণ) জায়িয নয়। ”

 

( ফাত্হুল মুবীনঃ পৃ – ১৯৬ )

 

৫।আল্লামা শা’রানী  (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল্-মিযানে লিখেনঃ

 

“ নিজে পথভ্রষ্ট না হওয়া ও অপরকে পথভ্রষ্ট না করার জন্য নির্দিষ্ট মায্হাবের অনুসরণ জরুরী। ”

 

( ইনতেছারুল হক্ব হতে সংকলিতঃ পৃ – ১৫৩ )

 

৬।শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহঃ) (মৃঃ ১১৭৬ হিঃ), লা-মায্হাবীদের কাছেও যিনি গ্রহণযোগ্য, তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগায় লিখেনঃ

 

“ সু-বিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ এ চার মায্হাবের উপর সকল ইমামগণের ‘ইজমা’ তথা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ”

 

(হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাঃ পৃ – ১/১২৩ )

 

৭। আহলে হাদীস নামক দলের অন্যতম আলিম মুফতী ছদরুদ্দীন বলেনঃ

 

“ চার মায্হাবের কোন নির্দিষ্ট মায্হাব নির্বাচন করা রসূল (সঃ) এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। ”

 

( তামবীহুদ্দাল্লীনঃ পৃ – ৪৫ )

 

একটি হাদীসে আল্লাহর রসূল (সঃ) ইরশাদ করেনঃ

 

“ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে কোন ধরণের ভ্রষ্টতায় ‘ইজমা’ বা ঐক্যবদ্ধ করবেন না। আল্লাহর কুদরতী হাত মুসলমানদের জামাআতের উপর। যারা মুসলমানদের পথের বিপরীত রাস্তা গ্রহণ করবে তারা বিচিত্রভাবে দোযখে যাবে। ”

 

( তিরমিযীঃ পৃ – ৪/৪০৫, হাঃ ২১৬৭; মুস্তাদরাকে হাকিমঃ পৃ – ১/১১৬, হাঃ ৩৯৭

বুখারী ও মুসলিম শরীফসহ অসংখ্য হাদীসগ্রন্থে হযরত আব্বাস (রঃ) সহ ১৭ জন সাহাবী (রঃ) থেকে সমার্থবোধক শব্দে বর্ণিত।)

 

মুফাসসিরগণের মাযহাবঃ

 

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ ইমাম ইবনে মঈন (রহঃ) এর মায্হাবঃ

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ, হাদীসের জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজন স্বীকৃত ইমাম বিশেষত হাদীস যাচাই-বাছাই বা ইল্মুল্ জারহ্ অ-তা’দীলের অতুলনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্যাসাগর ইয়াহ্ইয়া ইবনে মঈন (রহঃ) অসীম জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বল্গাহীন পথ পরিহার করে ইমাম আবু হানীফার তাক্বলীদ করে চলতেন।

 

এ সম্পর্কে তাঁর নিজের মত দেখুনঃ

 

“ আমার নিকট গ্রহণযোগ্য ক্বিরাআত হামযার ক্বিরাআত এবং গ্রহণযোগ্য ফিক্বহ ইমাম আবু হানিফার ফিক্বহ। সকল মানুষকেও আমি এর উপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি। ”

 

( তারিখে বাগদাদঃ পৃ – ১৩/৩৪৭ )

 

ইমাম ইবনে মঈন (রহঃ) এর মায্হাব সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বর্ণনা করেনঃ

 

“ ইয়াহইয়া ইবনে মঈন জারহ অ-তা’দীলের ইমাম এবং শীর্ষস্থানীয় হানাফীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ”

 

( মা’রিফাতুল্ মুতাকাল্লাম ফীহিম…যাহাবীঃ পৃ – ৭, ছাপা, মিশর ১৩২৪ হিঃ )

 

ইবনে মঈনের প্রশংসা করতে গিয়ে ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ

 

“ ইমাম ইবনে মঈন যে হাদীস সম্পর্কে জানেন না সেটি হাদীস নয়। ”

 

( তাহযীবুত্‌ তাহযীব, ইবনে মঈনের জীবনী পর্বঃ পৃ – ১১/২৯ )

 

বস্তুত ইমাম ইবনে মঈন হাদীসের বর্ণনাকারীর সত্যায়ন ও হাদীসের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সত্যিই অতুলনীয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতঃ হাদীসের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ও বিশুদ্ধ মায্হাব হিসেবেই তিনি হানাফী মায্হাবকে মনোনীত করেছেন। অতএব, যারা বলে, হানাফী মায্হাব বিশুদ্ধ হাদীস পরিপন্থী, তাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহর ভয় নিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

মুহাম্মদ ইব্নে আব্দুল ওহ্হাব নজদী (রহঃ) এর মায্হাবঃ

লা-মায্হাবীরা দাবী করে থাকে যে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহহাব নজদীও লা-মায্হাবী ছিলেন। কিন্তু তিনি একজন হাম্বলী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি নিজেই স্বীয় মায্হাব সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন।

 

-দেখুনঃ আল-হাদিয়াতুস্ সুন্নাহঃ পৃ – ৯৯

 

সাথে সাথে চার মায্হাবের যে কোন একটির ত্বাকলীদ করা যাবে এবং এই চার মায্হাব ছাড়া অন্য কোন মায্হাবের অনুসরণ করা যাবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

 

-তারীখু নাজদ-আলূসীঃ পৃ – ৫৪-৫৬; ছিয়ানাতুল্ ইনসানঃ পৃ – ৪৭১১

 

লা মায্‌হাবীদের অন্যতম মান্যবর ইমাম, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এর মায্হাবঃ

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) (মৃঃ ৭২৮ হিঃ) একজন যুগশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, আল্লামা ও বিখ্যাত কলম সৈনিক ছিলেন। অসংখ্য রচনাবলী, ফাত্ওয়া ও সমকালীন জিজ্ঞাসার জবাব তাঁ মহাজ্ঞানের উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। আরব বিশ্বে তিনি আজও শাইখুল ইসলাম হিসেবে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর গুণগ্রাহী ভক্তবৃন্দদেরকে প্রতারণার মানসে তথাকথিত আহলে হাদীস বা গাইরে মুক্বাল্লিদ ও লা-মায্হাবীরা দাবি করে থাকে যে, ইবনে তাইমিয়্যা গাইরে মুক্বাল্লিদ ও লা-মায্হাবী ছিলেন। আর সকল গাইরে মুক্বাল্লিদরা ইবনে তাইমিয়্যার ত্বাকলীদ করে এবং তাঁরই মায্হাব অনুসরণ করে থাকে।

 

তাদের এ দাবী যদি মানা হয়, তাহলে প্রমাণিত হয় যে, লা-মায্হাবীরা মায্হাব মানে না বা ত্বাকলীদ করে না বলে জনসাধারণকে কেবল ধোঁকাই দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তারা নিজেরাই ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার তাক্বলীদ করে এবং তাঁরই মায্হাব অনুসরণ করে চলেছে।

 

বস্তুত ইবনে তাইমিয়্যা গাইরে মুক্বাল্লিদ বা লা-মায্হাবী ছিলেন মর্মে কেউ কোন তত্ত্ব আদৌ পেশ করতে পারবে না। বরং এটা সর্বজন স্বীকৃত যে, ইবনে তাইমিয়্যা ও তাঁর একান্ত শিষ্য ইবনুল ক্বাইয়্যিম উভয়ই হাম্বলী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন। তাঁর রচিত ৩৭ খন্ডে সমাপ্ত অমর গ্রন্থ ‘মাজমুয়াতুল ফাত্ওয়া’ এরই সাক্ষ্য বহন করে।

 

লা-মায্হাবীদের অন্যতম পুরোধা ছিদ্দীক হাসান খানও ইবনে তাইমিয়্যাকে হাম্বলী মায্হাবের বলেই উল্লেখ করেছেন।

 

-দেখুনঃ আল-জুন্নাহঃ পৃ – ৩৮

 

অন্যদিকে লা-মায্হাবীরা যতই বলুক তারা ইবনে তাইমিয়্যাকে অনুসরণ করে, প্রকৃতপক্ষে তাও ভুল।শুধু বিতর্কিত কয়েকটি বিষয় ব্যতীত অসংখ্য-অগণিত বিষয় এমন রয়েছে, যেগুলোতে ইবনে তাইমিয়্যার সঙ্গে গাইরে মুক্বাল্লিদদের কোন মিলে নেই।

 

উদাহরণস্বরূপ শুধু একটি বিষয় তুলে ধরছিঃ

 

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) তারাবীহর নামায বিশ রাকআত সুন্নাত বলে উল্লেখ করেছেন।

 

-মাজমুয়ায়ে ফাত্ওয়াঃ খঃ ২৩, পৃ – ১১২

 

পক্ষান্তরে লা-মায্হাবী বা আহলে হাদীস নামধারী নতুন ফেরকাটি সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে আট রাক্আত তারাবীহর নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

 

পবিত্র মক্কা-মদীনার ইমামগণের মাযহাবঃ

প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত চার মায্হাবের অনুসারীগণ চার ইমামের পিছনে ভিন্ন-ভিন্নভাবে জামাআতে নামায আদায় করেছেন। হানাফী মায্হাবের অনুসারীগণ হানাফী মায্হাবের ইমামের পেছনে, মালেকী মায্হাবের অনুসারীগণ মালেকী মায্হাবের ইমামের পেছনে, এভাবে অপর দুটি মায্হাবের অনুসারীগণও তাঁদের স্ব-স্ব মায্হাবের ইমামের পেছনে নামায আদায় করতেন। এ ধারা হারাম শরীফে চলে আসছে প্রায় এক হাজার বছর নাগাদ। কিন্তু ১২১৮ হিজরীর ৮ই মুহাররম বাদশা সাউদ ইবনে আব্দুল আযীয তাঁর সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ প্রবেশ করেন। তিনি তখন তথাকথিত সংস্কারের নামে যেসব কাজ করেন, তন্মধ্যে একটি হল, তিনি হারাম শরীফে সকল মুসল্লীকে একই ইমামের পিছনে একই সাথে জামাআতে নামায আদায়ের নির্দেশ জারী করেন।

 

( তারীখে মামলাকাঃ পৃ – ২৫ )

 

উল্লেখ্য যে, তদানীন্তনকালে সমগ্র বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানই হানাফী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন। তৎকালে সমগ্র বিশ্বের শত কোটি মুসলমানের জামাআতে প্রায় অধিকাংশ মুসলমানই হানাফী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন। তাই সমগ্র বিশ্ব থেকে হারাম শরীফে আগত এবং সেখানকার স্থানীয় মুসলমানগণের বিশাল জামাআত হানাফী ইমামের পেছনেই সমবেত হতেন। সে সুদীর্ঘকাল যাবৎ হানাফীদেরই রাজত্ব চলে আসছিল। এমতাবস্থায় এ বিশাল জামাআতের অনুসারীগণ মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মায্হাবের সংখ্যালঘু অনুসারীদেরকে ভিন্ন-ভিন্ন জামাআতে নামায আদায় করার সুযোগ দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু সংখ্যালঘুরা ক্ষমতায় এসে তাদের মায্হাবের ইমাম ব্যতীত অন্যদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারী করে সংকীর্ণমনার পরিচয় দিয়েছেন।

 

তবে আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে পারি যে, যখন চার ইমাম ছিল তখনও হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মায্হাবেরই ছিল। গাইরে মুক্বাল্লিদ বা লা-মায্হাবীদের কোন ইমাম ছিল না। আর যখন থেকে এক ইমামের ধারা চলছে তখনও কোন না কোন মায্হাবের অনুসারীই ইমাম হয়ে আসছেন। আজ পর্যন্ত গাইরে মুক্বাল্লিদ বা লা-মায্হাবীদের কোন ইমাম পবিত্র মক্কা-মদীনায় নিয়োগ হতে পারে নি।

 

উল্লেখ্য যে, আব্বাসী যুগের প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত পবিত্র মক্কা-মদীনার সকল ইমাম ও বিচারক হানাফী ছিলেন। অতঃপর প্রায় দু’শ বছর খাওয়ারিয্মী ও সালজুক্বীদের অধীনে চলে, তারাও রক্ষণশীল হানাফী ছিলেন। অতঃপর উসমানী ও তুর্কী খেলাফত প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত চলে। তারাও সবাই হানাফী ছিলেন।

(চলবে)

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply