বিশ্ব ইজতেমা এর ইতিহাস এবং কিছু প্রশ্ন উত্তর!

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ প্রিয় বন্ধুরা। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া যানাচ্ছি আমাকে এই পোষ্টটি করার তৌফিক দান করার জন্য। আমার পরিচয়, আমি মুসলিম। পবিত্র আল-কোরআন এবং সহীহ হাদীস ছাড়া অন্য কোন বাণী বা বাক্যে আমি বিশ্বাসী নই। দোয়া করি সকলেই যেন পবিত্র আল-কোরআন এবং সহীহ হাদীসের আলোকে নেক আমল করে যেতে পারেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

আসুন এখন মূল পোষ্টের আলোচনায় আসি………..

ভারতের রাজধানী দিলস্নীর দক্ষিণাঞ্চলের এলাকা হরিয়ানা মেওয়াত অধিবাসী ধর্মকর্মহীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমানদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছিলেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত আজকের তাবলীগ জামায়াতের সার্থক রূপকার হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্ধলভী (রহ.)। তিনি বলেছেন-দাওয়াত ও তাবলীগের হাকিকত বা উদ্দেশ্য হল ‘ঈমানের দাওয়াত। এ দাওয়াত নিজের সংশোধন তথা সমগ্র মানবজাতির মুক্তির দাওয়াত। ঈমানের এই দাওয়াতের উদ্দেশ্য হল আল্লাহর দেয়া জীবন, সম্পদ এবং সময় আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে এর সঠিক ব্যবহার শিক্ষা করা এবং বাস্তব জীবনে এর সঠিক প্রয়োগ করার পাশাপাশি আল্লাহ ভোলা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক করে দেয়ার মেহনত করা। মানবজীবনে আজ এই দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

১১ ও ১৮ জানুয়ারি টঙ্গীতে দুই পর্বের ইজতেমা

আগামী ১১-১৩ এবং ১৮-২০ জানুয়ারি দুই পর্বে টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। সুষ্ঠু ভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমাকে নির্বিঘে  সম্পন্ন করার জন্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, ভেজাল খাদ্য রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ বস্তি ও দোকানপাট এবং ব্যানার বিলবোর্ড উচ্ছেদ, ময়দানের প্রবেশ পথে র‌্যাবের ৯টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন, রাস্তাঘাট সমূহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ।
এছাড়া মুসুল্লীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ময়দানের আশপাশে পর্যাপ্ত মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন, তুরাগ নদীতে ১০টি অস্থায়ী পল্টুন ব্রিজ নির্মাণ, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৬০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা মাঠে বিশ্বের  প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেন। তারা এখানে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনেন এবং ইসলামের দাওয়াতী কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামায়াতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান। ইউরোপ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের তাবলীগ অনুসারীরা মিলিত হন এ ইজতেমায় ।
প্রতিবছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও কলকারখানার শ্রমিক-মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতিমুলক কাজ করে চলেছেন। কেউ প্যান্ডেলের চট টানাচ্ছেন, কেউ খুঁটি পুঁতছেন, কেউ মাঠ পরিস্কার করছেন। সকলেই এখন প্রস্তুতি কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ময়দানে মুসুল্লিদের কাতারবদ্ধ হওয়ার জন্যে পুরো মাঠে দাগ কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি মুসুল্লিদের স্থানও ( খিত্তা) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রথম পর্বের জন্য পুরো ময়দানকে ৪০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দফায় ৩০ জেলার মুসুল্লিরা ৪০টি খিত্তায় অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মাঠের প্রস্তুতির কাজ তদারকীর দায়িত্বে থাকা তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী গিয়াস উদ্দিন। তিনি আরও জানান, সব কাজ করা হচ্ছে মোশাআরার (পরামর্শ) মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৫০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি,গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে । তিনি আরো জানান, গত বছর প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি মুসুল্লী ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন। বাইরের মুসুল্লীদের সংখ্যা এবার ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের থাকার জন্য ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিশেষ কামরা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে ।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব পুলিশসহ এবার পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবে।
র‌্যাবের উপ-অধিনায়ক লে.কমান্ডান্ট কাউসার মাহমুদ জানান, পুলিশ ও র‌্যাবের সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করা হবে। এছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করা হবে। ইজতেমা মাঠের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইজতেমা শুরুর ৩-৪দিন আগেই সকল কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনস্তরে মাঠের নিরাপত্তার জোরদার করা হবে। নৌ-টহল, চেকপোষ্ট ও বোম্ব স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। খিত্তায় খিত্তায় সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান করবেন। থাকবে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুম ও পেট্রোল ডিউটি। কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুমও স্থপন করা হবে। যেখানে সার্বক্ষনিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা থাকবেন। ময়দানের প্রতি খিত্তায় ফায়ার ডিস্টিংগুইসারসহ ২জন করে ফায়ারম্যান, গুদাম ঘর ও বিদেশি মেহমান খানা এলাকায় ৩টি পানিবাহী গাড়ি, তিন সদস্যের ডুবুরি ইউনিট, ১টি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং ৩টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। তাদের ২০০কর্মী সার্বক্ষনিক মোতায়েন থাকবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ হাবিব উল্যাহ জানান, তাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিক্যাল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হচ্ছে। মুসুল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মন্নু গেইট, এটলাস গেইট, বাটা কারাখানার গেইটসহ ৬টি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া টঙ্গী হাসপাতালে ৫০টি বেড বাড়ানো হচ্ছে। এখানে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ণ, চক্ষু এবং ওআরটি কর্ণারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসা দেবেন। এছাড়া মুসুল্লী রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

কথিত আছে যে, আজ থেকে প্রায় ৬ দশক আগে ১৯১০ সালে ভারতের এক জনবিরল অঞ্চল মেওয়াত থেকে হাতে গোনা ক’জন মানুষ নিয়ে হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্ধলভী (রহ.) তাবলীগের দাওয়াতে মেহনত শুরু করেন। তাবলীগের এ মেহনত এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। হজরত ইলিয়াছ (র.) ১৩৫১ হিজরি সালে হজ্ব থেকে ফিরে আসার পর সাধারণ মুসলমানদের দুনিয়া ও সংসারের ঝামেলা থেকে মুক্ত করে ছোট ছোট দলবদ্ধ করে মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশে অল্প সময়ের জন্য দ্বীনি শিক্ষা দিতে থাকেন। এরই মাঝে একদা তিনি মহানবী (স.) কে স্বপ্নে দেখেন এবং মহানবী (স.) তাকে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের জন্য নির্দেশ দেন। মহানবীর (স.) নির্দেশ মোতাবেক তিনি দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের সূচনা করেন। তারপর এ কাজকে আরও বেগবান ও গতিশীল করার জন্য এ উপমহাদেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও বুজর্গদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয় এবং দিলস্নীর কাছে মেওয়াতে সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য ইজতেমা বা সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়। [এই কথিত কথা কতটুকু সত্য তা আমার জানা নেই]

এরপরই ক্রমেই তাবলীগের কার্যক্রম বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের গন্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় বিশ্বের সর্বত্র। হযরত মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ.) এর মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে তাবলীগ শুরু হয়। তারপর ১৯৪৬ সলে বিশ্ব ইজতেমা সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের তাবলীগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে। পরে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে ইজতেমা শুরু হয়। এরপর ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, তারপর ১৯৬৫ সালে টঙ্গির পাগারে এবং সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে টঙ্গির ভবেরপাড়া তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ইজতেমা সেই থেকে এ পর্যন্ত সেখানেই ১৬০ একর জায়গায় তাবলীগের সর্ববৃহৎ ইজতেমা বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, তাবলীগ জামায়াতের সদর দফতর দিল্লীতে থাকা সত্বেও এর বার্ষিক সমাবেশের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেয়া হয়। কথিত আছে, তাবলীগ জামায়াতের মুরুবি্বদের বৈঠকে ইজতেমার স্থান নির্ধারণের জন্য নাকি লটারি হয়েছিল। সেই লটারিতে বাংলাদেশের নাম ওঠে। আর সেই থেকেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ এ বিশ্ব ইজতেমা। ভারতের মুম্বাই ও ভূপালে এবং হালে পাকিস্তানের রায় বেন্ডে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও জনসমাগমের বিচারে টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাই বড় এবং বিশ্ব দরবারে বিশ্ব ইজতেমা বলতে বাংলাদেশের টঙ্গিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমাকেই বুঝায়।

বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন-উত্তর

** পৃথিবীর কোন দেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
** বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য কি?
বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দিশ্য হলো ধর্মীয় কাজের জন্য মুসলমানদিগকে একত্রিত করা।
**  ইজতেমা শব্দটি কোন ভাষা?
ইজতেমা শব্দটি আরবী ভাষা।
** ইজতেমা বলতে কি বুঝায়?
ইজতেমা বলতে ধর্মীয় কাজে একত্রিত বা সমবেত হওয়াকে বুঝায়।
** বিশ্ব ইজতেমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি ?
বিশ্বের আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে কুরআন-হাদিসের বয়ান শুনা ও তা বিশ্বের দরবারে পৌঁছিয়ে দেওয়া।
** তাবলীগ শব্দের অর্থ কি?
তাবলীগ শব্দের অর্থ হলো প্রচার বা প্রসার।
** তাবলীগ বলতে কি বুঝায় ?
তাবলীগ বলতে ইসলাম ধর্মের কর্মকাণ্ডের প্রচার ও প্রসারকেই বুঝায়।
** চিল্লা বলতে কি বুঝায় ?
চিল্লা বলতে ১৪/১৫ জন মুবাল্লিগ ঈমান ও আমলের কাজে ৪০ দিন যে কোন মসজিদে ইবাদতে মগ্ন থাকাকে বুঝায়।
** একটি চিল্লায় কত জন মুবাল্লিগ অংশ নেয়?
একটি চিল্লায় ১৪ থেকে ১৫ জন এর মত মুবাল্লিগ অংশ নেয়।
** এক চিল্লা কত দিনে হয় ?
এক চিল্লা ৪০ দিনে হয়।
**  চিল্লাদানকারীরা কি কাজে নিয়োজিত থাকেন ?
চিল্লাদানকারীরা বিশ্বাবাসীর নিকট তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাতসহ ইমান আমলের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত থাকেন।
**  আখেরী মোনাজাতের উদ্দেশ্য কি?
আখেরী মুনাজাত এর উদ্দিশ্য হলো নিজ, পরিবার, দেশ, জাতী ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষভাবে দোআ করা।
**  তাবলীগ জামাতের ১ম উদ্যোক্তা মুরব্বী কে ?
তাবলীগ জামাতের প্রথম উদ্যোক্তা মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রাহঃ।
**  মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর রাহঃ-এর জন্ম স্থান কোথায়?
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর রাহঃ এর জন্ম স্থান ভারতের দিল্লীতে।
**  তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় কোন্ দেশে?
তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় ভারতের দিল্লীতে।
**  মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রাহঃ কত সাল হতে এই মহতি কাজের দাওয়াতি কাজ শুরু করেন।
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রাহঃ হিজরী ১৩৪৫ সন হতে এই মহতি কাজের দাওয়াত শুরু করেন।
**  মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রাহঃ কত সালে ইন্তেকাল করেন?
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রাহঃ ১৯৪৪ ইংরেজী সনে ইন্তেকাল করেন।
**  বাংলাদেশে কত সাল হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ?
বাংলাদেশে ১৯৪৬ইং সন হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
**  সর্ব প্রথম বাংলাদেশের কোথায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?
সর্ব প্রথম ঢাকার কাকরাইলস্থ প্রাচীন তাবলীগ মসজিদে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে।
**  বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে।
**  বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে ১৯৫৮ সালে।
**  ১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় কতজন মুসল্লী অংশগ্রহণ করেছিল?
১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় মাত্র ৪৫০০ জন মুসল্লি অংশগ্জরহণ করেছিল।
**  ১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্য কতটি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল ?
১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্যমাত্র ১০টি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল।
**  বর্তমানে ইজতেমা ময়দানে অঢেল পানি সরবরাহের উৎস কি?
৪টির অধিক বিদ্যুৎ চালিত গভীর প্রডাকশন নলকূপ।
**  বর্তমানে বিশ্বে কতটি জামাত তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?
প্রায় ২০০ শতের অধিক জামাত।
**  বর্হিঃবিশ্বে কতটি দেশ তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?
প্রায় ১১২টি দেশ।
**  বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর কোথায়?
বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর ঢাকা শহরের কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদে।
**  বিশ্ব ইজতেমায় মুসলীম মুসল্লী ছাড়া অন্য কোন ধমর্মের লোকেরা অংশগ্রহণ করে?
হ্যাঁ, প্রায় ২০০ শত সনাতন ধর্মের লোকেরা অংশ গ্রহণ করে থাকে (জরিপ অনুযায়ী)।
**  তাবলীগ জামাতে কি কি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়?
তাসকিল, জুড়নেওয়ালে জামাত, গাশ্ত, চিল্লা, সাল, তালিম, বয়ান, এলান, আমির, মেহনত, জিম্মাদার, জামাত, সাথী, মামুর,

                              মোতাকাল্লেম, হযরতজী, উসুলি ইত্যাদি।
**  ঢাকা শহরে কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদের অপর নাম কি?
জিন্দা মসজিদ।
** কাকরাইল মসজিদকে জিন্দা মসজিদ বলা হয় কেন?
প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এই মসজিদের কোন তালা-চাবি নেই, সর্বক্ষণিক মুসল্লীরা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে। (( উপাসনায়রত থাকে, প্রতি

                         মুহূর্তেআরাধনা চলে (এই শব্দ দুইটা বাদ দেওয়া হল)) যার ফলে দরজা বন্দের প্রয়োজন হয় না বলেই সর্বদা জিন্দা।
**  বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী কারা?
বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী সমগ্র বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
**  বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লীদের পার্থক্য কিরূপ?
কোন পার্থক্য বা ভেদাভেদ নেই, আমির ফকির সকলেই এখানে সমান সমান।
**  বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সহজ-সরল খাবার কি?
সাধারণত ডাল খিচুরি।
**  বিশ্ব ইজতেমায় পত্রে কাওকে দাওয়াত দেয়া হয় কি না?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, কাওকেই দাওয়াত দিতে হয় না, ধর্মপ্রাণ মুসলমারা আল্লাহর দাওয়াতে সকলে নিজ

                        নিজ দায়িত্ব অংশগ্রহণ করে থাকেন।
**  বিশ্ব ইজতেমায় মুনাজাতের নির্দিষ্ট সময় কখন?
সকাল ১০টা হতে জোহরের আগ পর্যন্ত।
**  বিশ্ব ইজতেমায় আগত অধিক সংখ্যক বিদেশী মেহমান কোন্ দেশের?
পাকিস্তানের।
**  বিশ্ব ইজতেমায় প্যান্ডেল নির্মাণের শ্রমিক কারা এবং কত দিন পর্যন্ত সময় লাগে?
ধর্মপ্রাণ সকল শ্রেণীর স্বেচ্ছা শ্রমিক প্রায় ৩ মাসের অধিক সময় লাগে।
**  বিশ্ব ইজতেমায় অর্থ যোগানদারী কারা?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশী-বিদেশী ধর্মপ্রাণ বিত্তশালীরা।
**  বিশ্ব ইজতেমা আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়?
বাদশা, আমির, ফকির সকলেই সমান, সকলেই আল্লাহর বান্দা।

                                                             আজ এই পর্যন্ত ই । ধন্যবাদ সকলকে । আল্লাহ হাফেজ

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

3 thoughts on “বিশ্ব ইজতেমা এর ইতিহাস এবং কিছু প্রশ্ন উত্তর!

Leave a Reply