কুর’আনে প্রযুক্তি [র্পব-০৩খ] :: ‘বিগব্যাং’ কতটুকুসঙ্গতপূর্ণ?

আসসালামুআলাইকুম রাহমাতুল্লাহে ওবারাকাতুহু

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি পড়ার জন্য।

কুর’আনে প্রযুক্তি [র্পব-০৩খ] :: ‘বিগ ব্যাং’ কতটুকু সঙ্গতপূর্ণ?

সময়টা ছিল ১৯৬৪ সাল আমেরিকান বিজ্ঞানী ‘রবার্ট উইলিসন’ ও ‘আরনো পেনজিয়াস’ বেল ল্যাব, নিউজার্সিতে গবেষনারত ছিলেন। কর্মস্থলে হঠাৎ করেই তারাঁ বেলের আবিষ্কৃত বিশাল ‘রেডিও টেলিস্কোপে’-এ এক ধরনের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান,যা সাধারনত আমরা টিভি-তে কোন অনুষ্ঠানের চ্যানেল না থাকলে অথবা রেডিওতে কোন নির্দ্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সেতে সেট করা না থাকলে যে শব্দটা শুনতে পাই অর্থাৎ সাধারন দৃষ্টিতে রেডিও বা টিভির যেমন রেডিয়েশন তথা ফ্রিকোয়েন্সি রিসিভ করা প্রয়োজন তার চাইতে অতিরিক্ত রেডিয়েশন তাঁরা গ্রহন করছিলেন, দুইজন বিজ্ঞানীর প্রশ্ন ছিল এর উৎপত্তিস্থল কোথায়! পরবর্তীতে তাঁরা শব্দের তরঙ্গকে ভাইব্রেশনাল তাপমাত্রায় রূপান্তর করার ফলে তা ২.৭৩ কেলভিন এ উপনিত হয়। প্রথম প্রথম তারা ব্যাপারটা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েন কারন শব্দ তরঙ্গের বিভিন্ন উৎস ছিল যেমন এন্টেনার আশেপাশে কবুতর ও এরোপ্লেনের আনাগোনা ছিল কিন্তু সেসব সমস্যা তাড়ানোর পরও সেই অনাকাঙ্খিত শব্দ আসতে থাকে, বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষনার পর অবশেষে তাঁরা প্রমান করেন এই শব্দ তরঙ্গ প্রতিটি দিক থেকে আসছে ,এবং ফলশ্রুতিতে এই গবেষনার ফলাফল ইঙ্গিত করে- Big Bang-এর দিকে । এই সুচিন্তিত আবিষ্কার ও অবদানের জন্য দু’বিজ্ঞানী পরবর্তী বছরই নোবেল পুরষ্কারের সম্মাননা অর্জন করেন। আল্লাহ বলেন- সুরা ইমরান-৩, আয়াত-১৯০-

“নিঃসন্দেহে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পালাক্রমে যাওয়া আসার মধ্যে যে সমস্ত বুদ্ধিমান লোক উঠতে বসতে ও শয়নে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বহুতর নির্দশন ৷ (তারা আপনা আপনি বলে ওঠে) হে আমাদরে প্রভু! এসব তুমি অর্নথক ও উদ্দশ্যেবিহনভাবে সৃষ্টি করোনি বাজে ও নির্রথক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র ও মুক্ত “

এতে প্রমাণিত হয় এক বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমেই এই মহাজগতের সুচনা যা আমরা কুরআন কারীমে ১৪০০ বছর পূর্বে জানতে পারি।

এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে Big Bang কে নিয়ে যদিও বর্তমান বিশ্বে আলোচনা চলছে এবং সমসাময়িকতার সাথেও বইছে সমালোচনার ঝড় কারন বর্তমান সময়ের কিছু প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এখনো এটি সম্পূর্ন সমর্থন করেননি এবং বেশ কিছু অন্যরকম যুক্তিকতার অবতারনা করেছেন যা (প্রতি সেকেন্ডের Big Bang) তাঁরা বলেন- “আমাদের এই মহাবিশ্ব দিয়েই সবকিছুর প্রারম্ভিক নয়, এই ক্ষুদ্র মহাবিশ্ব শুধু মাত্র একটি শিশু মহাবিশ্ব যার “ Parents Universe” রয়েছে। প্রতিটি Universe ঠিক পানির বুদবুদের মতো ভাসছে (যেমনটি মহা-সাগর বিলিয়ন বিলিয়ন বুদবুদের সমম্বয়), প্রতিটি বুদবুদের অভ্যন্তরে রয়েছে- হাজার কোটি গ্যালাক্সী, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নিহারিকা ,গ্রহ, Black whole, White whole, Warm whole , উপগ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুসহ অগুনিত জানা-অজানা মহাজাগতিক বস্তু ও আলোর বিকিরন, আলো এমনকি সময় ” অর্থাৎ প্রতিনিয়ত Black whole ঘটে চলছে এবং এক মহাবিশ্ব অন্য মহাবিশ্বের জন্ম দিচ্ছে তারা আরও বলেন-“ সর্বগ্রাসী Black whole দিয়ে গ্যালাক্সী, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নিহারিকা ,গ্রহ, আলো এমনকি সময় প্রবেশ করে কিন্তু বের হয় কোন পথে? যে পথে বের হয় তা -Big Bang এর নামান্তর নয়কি? যখন বেসিনের ক্ষুদ্র ফুটো দিয়ে পানি প্রবেশ করে বড় টাংকিতেই ছড়িয়ে পড়ে যাকে “সম্প্রসারিত মহাবিশ্ব” এর ক্ষুদ্র উপমা বলা হয়। একেক বিশ্ব বিভিন্ন ডাইমেন্শনে থাকার কারনে আমাদের পক্ষে অন্য মহাবিশ্ব অবলোকন করা সম্ভব হচ্ছেনা এবং প্রতিটি মহাবিশ্বে যাতায়াতের জন্য অতি সংক্ষিপ্ত রাস্তা আছে যাকে Warm whole বলা হয়” তাঁরা উদাহরন স্বরুপ সমুদ্রে ভাসমান নৌকায় মানুষদের এবং পানির নীচে মাছেদের ব্যবধানের বিশ্লেষন করেছেন।

আমাদের এই মহাবিশ্বটি সৃষ্টির প্রারম্ভিক হতে আকৃতি, রঙ ও প্রকৃতিতে পৌছাঁতে সর্বমোট ৬টি অনির্দ্দিষ্টট সময়কাল অতিবাহিত করেছে। বিভিন্ন আয়াতে তা বর্নিত করেছেন যার মধ্যে সূরা ‘হাদীদ’-৫৭:৪ নং আয়াত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য-

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَ السَّموتِ وَالاَرْضَ فِىْ سِتَّةِ اَيَّامٍ.

“তিনিই ছয়টি সময়কালে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী তথা সমগ্র মহাবিশ্বটি সৃষ্টি করে নিয়মিত করেছেন।”

বর্তমান বিজ্ঞান বিশ্ব আশ্চর্যজনক হলেও সত্য মোট ৬টি Period বা সময়কালকে বিশ্লেষন করেছেন এভাবে-

1| Time Zero

2| Inflation

3| Annihilation

4| Proton and Neutron

5| Atomic Nuclei

6| Stable atom

সম্প্রতিকালে ২০০১ সালে উৎক্ষিপ্ত অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট (WMap) এর সাথে সংশ্লিষ্ট জাপানী গবেষক মিকিও কুকু বর্ননা করেন-“এই WMap স্যাটেলাইট ৩টি স্যাটেলাইটের সমম্বিত কর্মপদ্বতি যা Laser Technology-র মাধ্যমে ত্রিভুজ সৃষ্টি করেছে এই ট্রায়াঙ্ল স্যাটেলাইটের দুরত্বও বিশাল প্রায় ৩০ লক্ষ মাইল, এটিকে Big Bang হতে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত লেজারের মাধ্যমে নির্ভূল পদ্বতিতে বিচার-বিশ্লেষন করতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে আমাদের বায়ুমন্ডলের উপরে (পৃথিবীর orbits-এ)। এর বিশেষত্ব: হলো LISA COSEUP Orbits অর্থাৎ (The Laser Infantry Satellites) Big Bang –এর পর হতে শকওয়েভ বা ভাইব্রেশন সৃষ্টি হয়েছে তা এই বিশাল লেজার গাইডেড ট্রায়াঙ্গলে মধ্য দিয়ে পরিবাহের সময় বিভিন্নভবে গবেষনা, পর্যালোচনা তথা বিশ্লেষনের মাধ্যমে প্রমানিক পর্যায়ে উপনিত করা।”

অতএব নিঃসন্দেহে প্রমানিত যে-মানুষের জ্ঞানের পরিধি যত বাড়ছে ততই আল-কুরআনের বিজ্ঞানের সত্যের উদ্ভাসিত সৌন্দর্যে সারা বিশ্ব হয়ে পড়ছে মুগ্ধ । ইসলামের দিকে মানুষ আকৃষ্ট হবার একমাত্র কারন বর্তমান প্রমানিত তথ্য ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সাথে কুরআনের নির্ভূল বর্ননা শৈলী ও অতুলনীয় মিল । বিজ্ঞান যতই সামনে এগিয়ে যাক তা বারবার নিঃসঙ্কোচে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করবে ‘আল-কুরআন জ্ঞান বিজ্ঞানের অসীম তথ্যভান্ডার , এক ও অদ্বিতীয় সৃর্ষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি’।

পবিত্র কুরআন মানুষের সৃষ্টি নয়। এটা সৃষ্টিকর্তা হতে আগত। ১৪০০ বছর পূর্বে কোন মানব এই কবিতা, সাহিত্য ও বিজ্ঞান সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করতে পারবেনা। অধিকন্তু কুরআন বিজ্ঞানের চাইতেও অগ্রপথিক কুরআন এক একটি আয়াত মানব জাতির একমাত্র সঠিক পথের সর্বশেষ অবলম্বন। আল্লাহ বলেন সুরা ফুসিলাত-৪১, আয়াত-৫৩-

অচিরেই আমি এদেরকে র্সবত্র আমার নির্দশনসমূহ দেখাবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও ৷ যাতে এদের কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এ কুরআন যর্থাথ সত্য এটাই কি যথেষ্ঠ নয় যে, তোমার রব প্রতিটি জিনিষ দেখছেন ? জেনে রাখো, এসব লোক তাদরে রবের সাথে সাক্ষাত সর্ম্পকে সন্দেহ পোষণ করে শুনে রাখো, তিনি সব জিনিষকে পরিবেষ্টন করে আছেন ৷

এই নির্দশন মানুষকে সত্য পথের আলোয় উদ্ভাসিত হতে আহবান করে যাতে সে সৃষ্টিকর্তা প্রণীত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পৃথিবীর প্রকৃতির সাথে নিজের জীবনকে সাজাতে পারে। এতো নির্দশন দেখার পর যারা সঠিক পথে ফিরে আসেনা। পবিত্র কুরআনে তাদের সম্পর্কে বলেছে সূরা-বাকারা ২: আয়াত-১৮-

বোবা, কালা অন্ধ তারা সত্যপথে ফিরে আসবেনা।

উপরোক্ত বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে পবিত্র কুরআন নিঃসন্দেহে আল্লাহর অমোঘ বিধান। মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আরকে আছে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে? আল্লাহ আমাদের সকলকে দয়া, ক্ষমা, এবং আলোর পথ প্রর্দান করুন। (আমিন)

 

 

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (Sikkim Manipal University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University South France), DEW of CERIS Institute, Brussels,Belgium
www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931
http://muslim.zohosites.com/
http://www.quranic-science.blogspot.com/

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

One thought on “কুর’আনে প্রযুক্তি [র্পব-০৩খ] :: ‘বিগব্যাং’ কতটুকুসঙ্গতপূর্ণ?

  • January 6, 2013 at 12:47 pm
    Permalink

    ভাই কি বলবো পোষ্টের কথা ! খুবি সুন্দর এবং তর্থবহুল একটি পোষ্ট আর সহিহ দলিল এর কারনে আরো সুন্দর মনে হচ্ছে ।
    তবে এগুলো আমার মাথায় ডুকবে না কিন্তু মূল বিষয় টি আমি বুঝতে পারছি । দোয়া করি এই রকম আরো পোষ্ট আমরা পাবো ইনশাআল্লাহ

Leave a Reply