মসিজদ-২ বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট মসিজদ!

                               বিসমিল্লাহিররহমানির রহিম   

                                                                                        এসো হে তরুন,ইসলামের কথা বলি

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ প্রিয় ভাই ,বোন এবং বন্ধুরা। কেমন আছেন আপনারা ? আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আর আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার আশে-পাশে সকলকে।

 

এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট মসিজদ এর সর্ম্পকে।  যদি আপনাদের কারো উপকার হয় তাহলে আমার এই পোষ্টটি সফল হবে।

কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলা যায়, এর চেয়ে ছোট কোনো মসজিদ দেশের কোথাও নেই। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে এতটাই ছোট যে, মাত্র তিনজন মুসল্লির বেশি একসাথে সেখানে নামাজ আদায় করা কঠিন। এর অবস্থান বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকায়।

মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য প্রায় সমান, ৮ ফুট। ভাঙা (আধলা) ইট দিয়ে তৈরি দেয়ালের পুরত্ব দেড় ফুট। মসজিদের দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া দেড় ফুট। কোনো রকমে একজন মানুষ এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। মসজিদের দরজায় দুটি রাজকীয় নিদের্শনা আছে। এছাড়া মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শনসম্বলিত মিনার, দরজায় রাজকীয় নকশা এবং মেহরাবই মসজিদটির প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাক্ষ্য বহন করে।

প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩০০ বছর আগের ঘটনা। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এক গম্বুজবিশিষ্ট এমন একটি মসজিদ তৈরি হবে যার আকৃতি হবে খুবই ছোট। মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদে একটিমাত্র ছোট্ট দরজা থাকলেও থাকবে না কোনো জানালা।

সান্তাহার থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে তারাপুর গ্রামে এর অবস্থান। জনশ্রুতি আছে, তারাসুন্দরী নামের একজন নারীর নামানুসারে এই গ্রামের নামকরণ। তবে তারাসুন্দরী কে তা জানা যায়নি। কিন্তু তারাপুর দক্ষিণপাড়ায় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে সেই মসজিদটি।

স্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগেও এখানে নামাজ পড়া হতো। এরপর দীর্ঘদিন থেকে এই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ আছে। তবে কে বা কারা এবং কেন এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন তা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য দেখা গেছে। যেহেতু এই মসজিদ নির্মাণের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো লিখিত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেহেতু জনশ্রুতি থেকেই আসল ইতিহাস জানার চেষ্টা করতে হবে।

এই চেষ্টা চালাতে গিয়ে গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার বয়স্ক, যুবক, কিশোর সবার মধ্যেই এর ইতিহাস জানার কৌতূহল রয়েছে। গ্রামের আজমুল হুদা রিপন বাংলানিউজকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদটিকে এভাবেই দেখে আসছেন। তিনি জানান, তার দাদার কাছে দাদার বাবা এই মসজিদ সম্পর্কে গল্প করেছেন। গল্প শুনে যেটুকু জেনেছেন, তা হলো কোনো এক কারণে শিতন নামের একজন মুসলমানকে গ্রামবাসী একঘরে করে দিলে তিনিই একা নামাজ পড়ার জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

গ্রামের আরেক বয়স্ক ব্যক্তি রাজ্জাক জানান, তার দাদারা গল্প করতেন, প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে নামাজ পড়ার জন্য তারাপুরে তেমন কোনো মসজিদ ছিল না। এলাকাটি জমিদার অধ্যুষিত হবার কারণে প্রয়োজনের তাগিদে সে সময় জমিদারবাড়িতে কয়েকজন মুসলমান পেয়াদাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা কয়েকজন স্বল্প পরিসরে নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। জমিদারের পেয়াদারা নামাজ পড়তেন বলে পরে এটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংস্কার করে পাকা করে নির্মাণ করা হয়। এজন্য এই মসজিদটি দেখতে রাজকীয় পূরাকীর্তির মতো।

গ্রামের আরেকজন আরিফুল ইসলাম জনি জানান, উপজেলার সান্তাহারের ছাতিয়ান গ্রামে ছিল রানী ভবানীর বাবার বাড়ি। এ কারণে সান্তাহার ও এর পাশের এলাকা তারাপুরও ছিল রানী ভবানীর বাবার রাজত্ব। এরই অংশ হিসেবে রানীর আসা-যাওয়া ছিলো ঐ গ্রামে। সে সময় গ্রামে একজন পরহেজগার মুসলমান নারী ছিলেন, যিনি নিয়মিত নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে চলতেন। তৎকালীন সময়ে এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হবার কারণে ধর্মভীরু ঐ মহিলার নামাজ পড়ার অনেক অসুবিধা হতো। এ কথা জানতে পেরে রানী ভবানী নিজেই গ্রামে এসে তার অধীনস্থ পেয়াদাদের হুকুম দেন, ওই নারীকে যেন আর কেউ নামাজ পড়তে বাধা না দেয় এবং নির্দেশ দেন তার জন্য রাজকীয় নকশায় একটি মসজিদ তৈরি করে দেবার। হয়তো এভাবেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মসজিদটি যে কোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সেখানে যে একসময় নামাজ আদায় হতো এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানার জন্য কথা হয় বগুড়া মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান নাহিদ সুলতানার সাথে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, এ বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে হয়তো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দেশ দিবেন বলে জানান।

এরপর কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলমের সাথে। তিনিও বাংলানিউজকে একইভাবে জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে সাথে সাথে তিনি বিষয়টি নজরে আনার জন্য এই প্রতিবেদককে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করতেও অনুরোধ জানান।

তবে মসজিদটির অবস্থা এখন ধ্বংসপ্রায়। দ্রুত এর সংস্কার ও সংরক্ষণ করা না হলে এই বিশিষ্ট স্থাপত্যটি যে অচিরেই হারিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

{copy — amarbornomala}

 

 

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

4 thoughts on “মসিজদ-২ বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট মসিজদ!

Leave a Reply