সাধারণ মুসলমানের হক

সকল মুসলমান

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সাবাই? আশা করি ভালই আছেন? আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভাল আছি। তাহলে কাজের কথায় আসি।

 

01।কোন মুসলমান কোন অন্যায় করিলে তাহা মাফ করিয়া দিবে।

০২। কোন মুসলমানকে কাঁদিতে দেখিলে বা কষ্টে দেখিলে তাহার প্রতি দয়া প্রকাশ করিবে।

০৩। কোন মুসলমানের দোষ অন্বেষণ করিবে না।

০৪। কোন মুসলমান কোন ওজর পেশ করিলে বা মাফ চাহিলে তাহা গ্রহণ করিবে।

০৫। কোন মুসলমানের কোন কষ্ট দেখিলে বা জানিতে পারিলে, তাহা দূর করিবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিবে।

০৬। প্রত্যেক মুসলমানের খায়েবখাহী অর্থাৎ হিত কামনা করিবে।

০৭। কোন মুসলমানের ভালবাসাকে উপেক্ষা করিবে না এবং চির জীবন তাহা নির্বাহ করিয়া চলিবে।

০৮। মুসলমানদের সহিত অঙ্গিকারের খেয়াল রাখিবে।

০৯। কোন মুসলমান পীড়িত হইলে তাহার যত্ন নিবে।

১০। কোন মুসলমান মরিয়া গেলে তাহার দাফন-কাফনে শরীক হইবে এবং তাহার জন্য দোয়ায়ে মাগফেরাত করিবে।

১১। কোন মুসলমান ডাকিলে তাহার ডাকে সাড়া দিবে, কোন প্রশ্ন করিলে তাহার উত্তর দিবে, আর্জু করিয়া, মহব্বত করিয়া দাওয়াত করিলে তাহা গ্রহণ করিবে।

১২। কোন মুসলমান কোন তাহ্ফা হাদিয়া দিলে তাহা গ্রহণ করিয়া তাহার মন সন্তুষ্ট করিয়া দিবে।

১৩। কোন মুসলমান সামান্য কোন উপকার করিলেও তাহা সারা জীবন স্মরণ রাখিবে, তাহার প্রত্যুপকারের জন্য আজীবন চেষ্টা করিবে।

১৪। কোন মুসলমান সামান্য নেয়ামত দান করিলেও তাহা অতি বড় মনে করিয়া তাহার শোকর গুজারী করিবে।

১৫। কোন মুসলমানের কাজে ঠেকা পড়িলে সকলে মিলিয়া সে কাজ উদ্ধার করিবে।

১৬। যে কোন মুসলমানের বিবি বাচ্চার হেফাজত করিবে।

১৭। যে কোন মুসলমানের কাজ করিয়া দিবে, তাহাতে লজ্জা বোধ করিবে না বা বখিলি করিবে না বা পর মনে করিবে না।

১৮। যে কোন মুসলমান কোন কথা বলিতে চাহিলে, কিছু সময় দিয়া মনোযোগের সহিত কথা শুনিবে।

১৯। কোন মুসলমান কোন সুপারিশ করিলে তাহা যথাসম্ভব গ্রহণ করিবে।

২০। কোন মুসলমান কোন আশা করিয়া আসিলে আশায় তাহাকে নিরাশ বা বঞ্চিত করিবে না।

২১। কোন মুসলমান হাঁচি দিয়া “আল্ হামদু লিল্লাহ্” বলেল, “ইয়ার হামু কাল্লাহ্” বলিয়া তাহাকে আল্লহ্’র রহমতের দো’আ দিবে।

২২। কোন মুসলমানের হারান জিনিস পাইলে তাহা তাহাকে পৌঁছাইয়া দিবে।

২৩। কোন মুসলমানকে দেখিলে “আসসালা-মু আলাইকুম” বলিয়া সালাম করিবে এবং কেহ সালাম করিলে “অ-আলাইকুমুস সালাম” বলিয়া তাহাকে জওয়াব দিবে।

২৪। প্রত্যেক মুসলমানের সহিত নম্রভাবে হাসিমুখে, মিষ্টি ভাষায় কথা বলিবে।

২৫। কোন মুসলমানেরই কোন ক্ষতি বা অপকার করিবে না-প্রত্যেক মুসলমানেরই উপকার করিবে এবং করাইয়া দিতে চেষ্টা করিবে।

২৬। কোন মুসলমান যদি কোন বিষয়ে ন্যায্য কসম খাইয়া বসে, তবে তাহা পূর্ণ রক্ষা করার জন্য সকলে চেষ্টা করিবে।

২৭। কোন মুসলমানের উপর অত্যাচার হইতে দেখিলে তাহার সাহায্য করিবে এবং কোন মুসলমানকে অত্যাচার করিতে দেখিলে বাধা দিবে।

২৮। কোন মুসলমানের সহিত শত্রুতা করিবে না- প্রত্যেক মুসলমানকে অন্তরঙ্গ বন্ধুর ন্যায় ভাল বাসিতে।

২৯। কোন মুসলমানকে লজ্জা দিবেনা বা অপমান করিবে না।

৩০। নিজে যেইরূপ করিতে ভালবাস, প্রত্যেক মুসলমানের সহিত তদ্রূপ ব্যবহার করিবে।

৩১। পুরুষের সহিত পুরুষের এবং স্ত্রীলোকের সহিত স্ত্রীলোকের সাক্ষাৎ হইলে একে অন্যকে “আসসালা-মু আলাইকুম” বলিয়া সালাম করিবে এবং হাতে হাত ধরিয়া মুসাফাহ্ করিয়া দেল মিশাইয়া রাখিবে।

৩২। যদি কোন কারণবশত মুসলমানে মুসলমানে কিছু দ্বন্দ্ব কলহ হইয়া যায়, তবে তিন দিনের বেশি তাহা মনে রাখিবে না-তিন দিনের মধ্যে তাহা আপোষ মীমাংসা করিয়া ফেলিয়া রীতিমত সালাম কালাম করিবে।

৩৩। কোন মুসলমানের সহিত হিংসা-বিদ্বেষ করিবে না এবং কোন মুসলমানের সহিত মনমালিন্য রাখিবে না।

৩৪।প্রত্যেক মুসলমান প্রত্যেক মুসলমানকে সৎ কাজের আদেশ এবং বদ কাজ হইতে নিষেধ করিতে থাকিবে।

৩৫। প্রত্যেক মুসলমানই বড়কে আদব এবং ছোটকে স্নেহ করিবে।

৩৫। দুইজন মুসলমানের মধ্যে কোন ঝগড়া-কলহ হইয়া পড়িলে প্রত্যেক মুসলমানের তাহা মিটাইয়া দেওয়া অজেব।

৩৬। কোন মুসলমানেরই অসাক্ষাতে তাহার নিন্দা বা গীবত করিবে না।

৩৭। কোন মুসলমানেরই কোনরূপ আর্থিক ক্ষতি বা সম্মানের লাঘবজনক কোন কাজ করিবে না।

৩৮। মজলিসের মধ্যে কোন মুসলমানকে তাহার জায়গা হইতে উঠাইয়া দিয়া সে জায়গায় বসিবে না।

 

 

প্রতিবেশীর হক

০১। প্রতিবেশীর উপকার করিবে। প্রতিবেশির সহিত অবদ্ব্যবহার করিবে না। প্রতিবেশির দ্বারা বা তাহার গরু-বাছুর, ছাগল, মুসগী বা ছেলে-মেয়ের দ্বারা যদি কিছু নষ্ট হয় বা ক্ষতি হয়, তবে সে কারণে তাহার সহিত ঝগড়া ফ্যাসাদ ও মারামারি করিবে না-ছবর করিবে।

০২। প্রতিবেশির বিবি-বাচ্চার, গরু-বাছুরের হেফাজত করিবে। তাহার অনুপস্থিতিতে বা তাহার অপারগ অবস্থায় লাকড়ি, পানি, বাজার-সদায় ইত্যাদি কাজে তাহার সহায়ত করিবে। প্রতিবেশ গরীব হইলে তাহাকে বা তাহার ছেলে-মেয়েদের দেখাইয়া তাহাদের না দিয়া তুমি ভাল ভাল জিনিস খাইবে না বা ব্যবহার করিবে না।

০৩। মাঝে মাঝে প্রতিবেশির বাড়িতে তোহ্ফা-হাদিয়া পাঠাইবে। তোমার ঘরে যা কিছু তৈয়ার হয়, তাহা হইতে কিছু দিবে। বিশেষত প্রতিবেশি যদি গরীব হয় এবং খাওয়া-পরার কষ্ট থাকে, তবে তাহাকে খাবার দিয়া তাহাকে সাহায্য করিবে।

০৪। প্রতিবেশিকে কিছুতেই কোনরূপ কষ্ট দিবে না। জানিয়া রাখিবে-প্রতিবেশি যেরূপ শহরে বা গ্রামের বাড়িতে হয়, তদ্রুপ সফরে এবং বিদেশেও হয়। বাড়ি হইতে যাহার সহিত একত্রে সফরে যায় বা বদেশে গিয়া এক সঙ্গে সফর করে বা স্কুলে বা মাদ্রাসায় বা অফিসে সঙ্গে থাকে-এই সবই প্রতিবেশি। প্রতিবেশি সম্বন্ধে মোটামুটি এতটুকু খেয়াল রাখা দরকার যে, নিজের কষ্টের চেয়ে তাহার কষ্টকে বড় মনে করিবে। নিজের আরামের চেয়ে তাহার আরামের জন্য বেশি চেষ্টা করিবে। কোন কোন লোক গাড়িরির বা জাহাজের সহযাত্রীদের সহিত অনেক নিষ্ঠুর ব্যবহার করে, ইহা বড়ই জঘন্য।

 

নিরাশ্রয়ের হক

০১। যাহারা এতিম, বিধবা চিররোগা, আতুর, কর্মশক্তিহীন, দরিদ্র, ভিক্ষুক, মুসাফের, তাহাদের প্রতি দয়া করা এবং তাহাদের সাহায্য করা প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য।

০২।টাকা পয়সা বা খাওয়ার, পরার জিনিস দিয়া তাহাদের সাহায্য করিবে।

০৩। তাহাদের বাড়ির কাজ, নিজ হাতে করিয়া দিয়া তাহাদের সাহায্য করিবে।

০৪। কথার দ্বারা সান্ত্বনা দিয়া তাহাদের সাহায্য করিবে। এইরূপে হতভাগ্যর আকাঙ্খা রক্ষা করিয়া তাহাদের আব্দার রদ না করিয়া তাহাদের সান্ত্বনা দিবে।

 

অ-মুসলমানদের হক

 

০১। হিন্দু, খৃষ্টান, প্রভৃতি অ-মুসলমানগণ মুসলমান না হইলেও তাহারা মানুষ। কাজেই মানুষ হওয়ার কারণে তাহাদেরও হক আছে। তাহাদের হক এই যে, অন্যায় ভাবে কাহারো জানে কষ।ট দিবে না, কাহারো মালের ক্ষতি করিবে না।

০২। অন্যায় ভাবে কাহাকেও মন্দ বলিবে না বা গালি দিবে না বা কাহারও সহিত খমাখা ঝগড়া করিবে না।

০৩। কাহাকেও খাওয়া পরার অভাবে বা রোগে যন্ত্রণায় কষ্ট ভোগ করিতে দেখিলে বা বিপদগ্রস্ত দেখিলে বা আগুনে পুড়িতে বা পানিতে ডুবিতে দেখিলে তাহার জান মাল বাঁচাইয়া দিবে, কষ্ট দূর করিয়া দিবে।

০৪। শরীআতের আইন অনুসারে কেহ শাস্তির উপযুক্ত হইলে ন্যায় বিচার এবং ন্যায় শাস্তি দিবে, অন্যায় ভাবে বিচার করিবে না বা শাস্তি দিবে না।

ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে ভুলবে না…

ভুলে ভরা জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,যদি আমার লেখার মাঝে কোন ভুলত্রুটি থাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন।

মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Leave a Reply