লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (শেষ পর্ব)

আসসালামু আলাইকুম,

সবাই ভালো আছেন আশা করি।আবার আসলাম নতুন পোস্ট নিয়ে।যারা এই ধারাবাহিক পোস্টের আগের পর্ব পড়তে পারেননি, তারা নিচের লিঙ্ক থেকে পড়ে নিন।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মর্মকথা (পর্ব- ১)

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-২)

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব- ৩)

 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-৪)

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-৫)

 

 

আমরা পূর্বেই বলেছি যে,” لا إله إلا الله ” এর স্বীকৃতির সাথে এর অর্থ বুঝা এবং এর দাবী অনুযায়ী কাজ করাটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত কিন্তু কুরআনে হাদিসে এমন কিছু উদ্ধৃতি আছে যা থেকে সন্দেহের উদ্ভব হয় যে, শুধুমাত্র ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” মুখে উচ্চারন করলেই যথেষ্ট . মূলত : কিছু লোক এ ধারণাই পোষণ করে . অতএব সত্য সন্ধানীদের জন্য এ সন্দেহের নিরসন করে দেয়া একান্তই প্রয়োজন মনে করি

 

ইতবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বলবে, ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুনকে হারান করেদিবেন (বুখারী ১১ – ২০৬ পৃঃ মুসলিম ৩৩ নং ) এই হাদিসের আলোচনায় শেখ সুলেমান বিন আব্দুল্লাহ বলেন, মনে রাখবেন অনেক হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দেখলে মনে হবে যে, কোন ব্যক্তি তাওহীদ এবং রিসালাতের শুধুমাত্র সাক্ষ্য দান করলেই জাহান্নামের জন্য সে হারাম হয়ে যাবে যেমনটি উপরোল্লেখিত হাদীসে বলা হয়েছে . এমনিভাবে আনাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসেও এসেছে তিনি বলেছেন, রাসুল (সাঃ) এবং ময়াজ রাঃ একবার সওয়ারীর পিঠে আরোহন করে কোথাও যাচ্ছেন এমন সময় নবী সাঃ মোয়াজকে ডাকলেন . তিনি বললেন, লাব্বাইকা ওয় সায়াদাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ , হে মোয়াজ, যে বান্দাই এ সাক্ষ্য প্রধান করবে যে , আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ (সাঃ ) আল্লাহর রাসুল ” আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন (বুখারী ১ম খন্ড পৃষ্ঠা১৯৯)

 

ইমাম মোসলেম ওবাদাহ রাঃ থেকে বর্ননা করেন যে , রাসূল সাঃ বলেন “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে,আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মোহাম্মদ সাঃ আল্লাহর বান্দাহ এবং তাঁর রাসূল , আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন ” (সহীহ মোসলেম ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ২২৮-২২৯)

আরো অনেকগুলো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি তাওহীদ ও রিসালাতের স্বীকৃতি দান করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে , তবে জাহান্নাম তার জন্য হারাম করা হবে এমন কোন উল্লেখ তাতে নেই । তাবুক যুদ্ধ চলাকালিন একটি ঘটনা , আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে যে, রাসূল সাঃ তাদেরকে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল । আর সংশয়হীন ভাবে এই কালিমা পাঠকারী আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, জান্নাতের মধ্যে এবং তার মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না ।

লেখক আরো বলেন, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং অন্যান্য প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম এবিষয়ে যে ব্যাখ্যা প্রধান করেছেন তা অত্যন্ত চমত্কার ।

ইবনে তাইমিয়া রা বলেন, এ সমস্ত হাদীসের অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি এ কালিমা পাঠ করে এর উপর মৃত্যুবরণ করবে -যে ভাবে নির্দিষ্ট সীমা রেখায় বর্ণিত হয়েছে -এবং এই কালিমাকে সংশয়হীনভাবে একেবারে নিরেট আল্লাহর ভালোবাসায় হৃদয় মন থেকে এর স্বীকৃতি দিবে কেন না প্রকৃত তাওহীদ হচ্ছে সার্বিক ভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা এবং আকৃষ্ট হওয়া । অতএব যে ব্যক্তি খালেস দিলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর সাক্ষ্য দান করবে সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে । আর ইখলাছ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঐ আকর্ষণের নাম যে আকর্ষণ আবেগের ফলে আল্লাহর নিকট বান্দার সমস্ত পাপের জন্য খালেস তওবা করবে এবং যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে তবেই জান্নাত লাভ করতে পারে । কারন অসংখ্যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে,যে ব্যক্তি বলবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সে ব্যাক্তি জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে যদি তার মধ্যে অণু পরিমানও ইমান বিদ্যমান থাকে । এছাড়া অসংখ্যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, অনেক লোক “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার পরেও জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে । অনেকগুলো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে , বনি আদম সিজদা করার ফলে যে চিহ্ন পড়ে ঐ চিহ্নকে জাহান্নাম কখনো স্পর্শ করতে পারবেনা এতে বুঝা গেল ঐ ব্যক্তি নামাজ পড়ত এবং আল্লাহর জন্য সিজদা করত । আর অনেকগুলো হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে ,যে ব্যক্তি বলবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং এই সাক্ষ্য দান করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ,তার উপর জাহান্নামকে হারাম করা হবে . তবে একথা এমনিতে মুখে উচ্চারণ করলে চলবেনা এর সাথে সম্পর্ক রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এমন কিছু নির্দিষ্টি কাজ যা অবশ্যই করনীয় . অধিকাংশ লোক মুখে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারণ করলেও তারা জানেনা ইখলাছ এবং ইয়াকীন বা দৃঢ় প্রত্যয় বলতে কি বুঝায় . আর যে ব্যক্তি এ বিষয়গুলোর সম্পর্কে অবহিত থাকবে না মৃত্যুর সময় এ কারনে ফিতনার সম্মুখী হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং ঐ সময় হয়ত তার মাঝে এবং কালিমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে .

 

অনেক লোক এ কালিমা অনুকরণমূলক বা সামাজিক প্রথা অনুযায়ী পাঠ করে থাকে অথচ তাদের সাথে ঐকান্তিক ভাবে ঈমানের কোন সম্পর্কই থাকেনা . আর মৃত্যুর সময়ও কবরের ফিতনার আম্মুখীন যারা হবে তাদের অধিকাংশই এই শ্রেণীর মানুষ . হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, এ ধরনের লোকদের কবরে প্রশ্ন করার পর উত্তরে বলবে, ” মানুষকে এভাবে একটা কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাদের মত বুলি আওড়িয়েছি মাত্র ” .

তাদের অধিকাংশ কাজ কর্ম এবং আমল তাদের পূর্বসুরীদের অনুকরনেই হয়ে থাকে . আর এ কারণে তাদের জন্য আল্লাহর এ বাণীই শোভা পায় . إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ আমরা আমাদের বাপ দাদাদেরকে একটি পন্থার করতে দেখেছি৷ আমরাও তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরন করছি৷(আয যুখরুফ-২৩) এই দীর্ঘ আলোচনার পর বলা যায় যে, এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে কোন প্রকার বিরোধিতা নেই . অতএব কোন ব্যক্তি যদি পূর্ণ ইখলাছ এবং ইয়াকীনের সাথে এ কালিমা পাঠ করে থাকে তাহলে কোন মতেই সে কোন পাপ কাজের উপর অবিচলিত থাকতে পারেনা . কারন তার বিশুদ্ধ ইসলাম বা সততার কারণে আল্লাহর ভালোবাসা তার নিকট সকল কিছুর উর্ধ্বে স্থান পাবে . অতএব এ কালিমা পাঠ করার পর আল্লাহর হারামকৃত বস্ত্তর প্রতি তার হৃদয়ের মধ্যে কোন প্রকার আগ্রহ বা ইচ্ছা থাকবে না এবং আল্লাহর যা আদেশ করেছেন সে সম্পর্কে তার মনের মাঝে কোন প্রকার দ্ধিধা -সংকোচ বা ঘৃনা থাকবে না . আর এ ধরনের ব্যক্তির জন্যই জাহান্নাম হারাম হবে, যদিও তার নিকট হতে এর পূর্বে কিছু গুনা হয়ে থাকে . কারণ তার এ ঈমান, ইখলাছ, ভালোবাসা এবং ইয়াকিনই তার সমস্ত পাপকে এভাবে মুছে দিবে যেভাবে দিনের আলো রাতের অন্ধকারকে দূরীভূত করে দেয় .

 

শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এই প্রসঙ্গে তাদের আরেকটি সংশয় এই যে তারা বলে , উসামা (রাঃ) এক ব্যক্তিকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার পরেও হত্যা করার কারণে রাসূল (সাঃ) তাঁর এ কাজকে নিন্দা করেছেন এবং উসামা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছেন , তুমি কি তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার পরও হত্যা করেছ ? . এ থেকে এ সকল মুর্খরা বলতে চায় যে, কোন ব্যক্তি এ কালিমা পড়ার পর যা ইচ্ছা করতে পারে কিন্তু এ কারণে আর কখনো কাফের হয়ে যাবেনা এবং তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য এটাই যথেষ্ট . এ সমাপ্ত অজ্ঞদের বলতে হয় যে , রাসূল (সাঃ) ইয়াহুদীদের সাথে জিহাদ করেছেন এবং তাদের বন্দী করেছেন অথচ তারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এ কথাকে স্বীকার করত . আর রাসূল (সাঃ) সাল্লামের সাহাবাগন হানিফা গোত্রের সাথে জিহাদ করেছেন অথচ তারা স্বীকার করত যে , আল্লাহর এক এবং মোহাম্মদ- সাঃ আল্লাহর রাসূল আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ এবং তারা নামাজ পড়ত ও ইসলামের দাবীদার ছিল .

 

এভাবে আলী রাঃ যাদেরকে জ্বালিয়ে মেরেছিলেন তাদের কথাও উল্লেখ করা যায় . আবার এ সমস্ত অজ্ঞরাই এ বিষয়ে স্বীকৃতি দান করে যে, যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার পর পুনরুথানকে অবিশ্বাস করবে সে কাফের ও মোরতাদ হয়ে যাবে এবং মোরতাদ হবার কারণে তাকে হত্যা করা হবে . এছাড়া যে ব্যক্তি ইসলামের স্তম্বগুলোর কোন একটিকে অস্বীকার করবে তাকে কাফের বলা হবে এবং মোরতাদ হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হবে যদিও সে মুখে ” لا إله إلا الله ” এ কালিমা উচ্চারন করুক . তা হলে বিষয়টা কেমন হলো? আংশিক দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বক্রতার পথ গ্রহন করলে যদি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার কোন উপকার না আসে তা হলে রাসূল সাঃ দিনের মূল বিষয় তাওহীদের সাথে কুফরী করার পর কিভাবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” শুধুমাত্র মুখে উচ্চারন করাটা তার উপকার সাধন করতে পারে ? মূলত আল্লাহদ্রোহিরা এই সমস্ত হাদীসের অর্থ বুঝতে পারেনি . উসামা রাঃ এর হাদীসের ব্যাখ্যায় তিনি আরো বলেন, উসামা রাঃ ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন এই মনে করে যে, ঐ ব্যক্তি মুসলমান হওয়ার দাবি করেছেন শুধুমাত্র তার জীবন ও সম্পদ রক্ষার ভয়ে . আর ইসলামে নীতি হচ্ছে কেউ ইসলাম গ্রহন করলে ঐ পর্যন্ত তার ধন -সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে যে পর্যন্ত ইসলামের পরিপন্থী কোন কাজ না করে . আল্লাহ বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا হে ঈমানদারগণ ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য বের হও তখন বন্ধু ও শত্রুর মধ্যে পার্থক্য করো (আন নিসা ৯৪) এই আয়াতের অর্থ হলো এই যে , কোন ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের পর ঐ পর্যন্ত তার জীবনের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে যে পর্যন্ত ইসলামের পরিপন্থী কোন কাজ তার থেকে প্রকাশ না পায় . আর যদি এর বিপরীত কোন কাজ করা হয় তাহলে তাকে হত্যা করা যাবে কেননা আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা অনুসদ্ধানের মাধ্যমে নিরুপণ কর . আর হদি তাই না হত তাহলে এখানে { فَتَبَيَّنُوا } অর্থাৎ যাচাই কর এ শব্দের কোন মূল্যই থাকে না . অভাবে অন্যান্য হাদীসসমূহ ,যার আলোচনা পূর্বে বর্ননা করেছি অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলাম এবং তাওহীদের স্বীকৃতি দান করল এবং এর পর ইসলাম পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকল তার জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা ওয়াজিব , আর একথার দলিল হল রাসূল (সাঃ) হজরত উসমানকে বললেন তুমিকি তাকে ” لا إله إلا الله ” বলার পরও হত্যা করেছ ? রাসূল (সাঃ) বলেন , আমি মানুষের সাথে জিহাদ করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য আর কোন মাবুদ নেই . আবার তিনিই খারেজিদের সম্পর্কে বলেনঃ

 

” তোমরা যেখানেই তাদের দেখা পাও সেখানেই তাদেরকে হত্যা কর,আমি যদি তাদেরকে পেতাম তাহলে ”আদ জাতির হত্যার মত তাদেরকে হত্যা করতাম ” অথচ এরাই ছিল তখনকার সময় সব চেয়ে বেশী আল্লাহর মহত্ব বর্ণনাকারী . এমন কি সাহাবায়ে কেরাম এ দিক থেকে এ সমস্ত লোদের তুলনায় নিজেদেরকে খুব খাট মনে করতেন , যদিও তারা সাহাবায়ে কেরামদের নিকট শিক্ষা গ্রহন করত . এদের নিকট থেকে ইসলাম বহিরর্ভূত কাজ প্রকাশ পাওয়ায় এদের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার বা এর প্রচার করা এবং ইবাদত করা ও মুখে ইসলামের দাবি করা কোন কিছুই তাদের কাজে আসলো না . এভাবে ইয়াহুদীদের সাথে যুদ্ধ করা এবং সাহাবাদের “বনু হানিফা” গোত্রের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়গুলোও এখানে উল্লেখ যোগ্য .

 

এ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে রজব তাঁর “কালিমাতুল ইখলাছ ” নামক গ্রন্থে রাসূল (সাঃ) এর হাদীস আমি মানুষের সাথে জিহাদ করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য আর কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রাসূল . এর ব্যাখ্যায় বলেন হজরত ওমর এবং একদল সাহাবা বুঝে ছিলেন যে , যে ব্যক্তি শুধুমাত্র তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দান করবে একমাত্র এর উপর নির্ভর করে তাদের দুনিয়াবী শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে এ জন্যই তাঁরা যাকাত প্রদান করতে যারা অস্বীকার করছে তাদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হয়ে পরেছেন এবং আবুবকর (রাঃ) বলেছিলেন যে, ঐ প্রর্যন্ত তাদের যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবেনা যে পর্যন্ত তারা যাকাত প্রদানে স্বীকৃতি না দিবে . কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যারা “তাওহীদ ও রিসালাতের ” সাক্ষ্য দিবে তারা আমার নিকট থেকে তাদের জীবনকে হেফাজত করবে তবে ইসলামি দন্ডে মৃত্যুদন্ডের উপযুক্ত হলে তা প্রয়োগ করা হবে এবং তাদের হিসাবের দযিত্ব আল্লাহর উপর বর্তাবে” লেখক আরো বলেছেন যাকাত হচ্ছে সম্পদের হক এবং আবুবকর (রাঃ) এটাই বুঝে ছিলেন .

 

রাসূল (সাঃ) হতে ইবনে ওমর, আনাছ ও অন্যান্য অনেক সাহাবা রাঃ বর্ননা করেন যে , তিনি বলেন . আমি মানুষের সাথে জিহাদ করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য আর কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রাসূল এবং নামাজ প্রতিষ্ঠিত করবে ও যাকাত প্রদান করবে . আল্লাহ তা’য়ালার বানীগুলোও এ অর্থই বহন করে তিনি বলেনঃ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ তারপর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাহলে তাদের ছেড়ে দাও৷(আত তাওবা -৫) আল্লাহ আরো বলেনঃ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ যদি তারা তাওবা করে নেয় এবং নামায কয়েম করে এবং যাকাত দেয় তাহলে তারা তোমাদের দীনী ভাই৷(আত তাওবা -১১) এ থেকে প্রমাণিত হয় যে , কোন ব্যক্তি সাথে দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব ঐ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত হে তাওহীদের স্বীকৃতির সাথে সাথে সমস্ত ফরজ ওয়াজিব আদায় না করবে . আর শিরক থেকে তাওবা করা ঐ পর্যন্ত প্রমাণিত হবে না যে পর্যন্ত তাওহীদের উপর অবিচল না থাকবে .

 

আবু বকর (রাঃ) যখন সাহাবাদের জন্য এটাই নির্ধারণ করলেন তখন তাঁরা এ রায়ের প্রতি ফিরে আসলেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তই ঠিক মনে করলেন . এতে বুঝা গেল যে, দুনিয়ার শাস্তি থেকে শুধুমাত্র এই কালিমা পাঠ করলেই রেহাই পাওয়া যাবে না বরং ইসলামের কোন বিধি বিধান লঙ্ঘন করলে দুনিয়াতে যেমন শাস্তি ভোগ করতে হবে , তেমনি আখেরাতেও শাস্তি ভোগ করতে হবে . লেখক আরো বলেন (কালেমাতুল ইখলাস-৯-১১) আলেমদের মধ্যে অন্য একটি দল বলেন এই সমস্ত হাদিসের অর্থ হচ্ছে ” لا إله إلا الله ” মুখে উচ্চারন করা জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার একটা প্রধান উপকরণ এবং এর দাবি মাত্র . আর এ দাবির ফলাফল সিদ্ধি হবে শুধুমাত্র তখনই যখন প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আদায় করা হবে এবং এর প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হবে . আর ঐ লক্ষ্যে পৌঁছার শর্ত গুলো যদি অনুপস্থিত থাকে,অথবা এর পরিপন্থী কোন কাজ পাওয়া যায় তবে এ কালিমা পাঠ করা এবং এর লক্ষ্যে পৌঁছার মাঝে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে .

 

হাসানুল বসির এবং ওয়াহাব বিন মোনাববিহও এই মতই ব্যক্ত করেছেন এবং এ মতই হল অধিক স্পষ্ট . হাসানুল বসরি রাঃ থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে. ফারাজদা নামক কবি তার স্ত্রীকে দাফন করার সময় হাসানুল বসরি বলেন, এ দিনের -কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুতি গ্রহন করেছ? উত্তরে ফারাজদাক বলেন, সত্তর বত্সর যাবত কালিমা ” لا إله إلا الله ” এর যে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি সেটাই আমার সম্বল . হাসানুল বসরি বলেন, বেশ উত্তম প্রস্তুতি কিন্তু এই কালিমার কতগুলো শর্ত রয়েছে, তুমি অবশ্যই সতী-সাধবী নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে কবিতা লেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে . হজরত সাসানুল বসরিকে প্রশ্ন করা হলো, কিছু সংখ্যক মানুষ বলে থাকে যে, যে ব্যক্তি বলবে ” لا إله إلا الله ” সে জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বলবে, ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং এর ফরজ ওয়াজিব আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে . এক ব্যক্তি ওয়াহাব বিন মোনাববিহ কে বললেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা” কি বেহেস্তের কুঞ্জি?

 

তিনি বলেন হাঁ তবে প্রত্যেক চাবির মধ্যে দাঁত কাটা থাকে তুমি যে চাবি নিয়ে আসবে তাতে যদি দাঁত থাকে তবেই তোমার জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে, নইলে না . যারা বলে ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়লেই জানাতে যাবে ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বললেই তাদেরকে কাফের বলা যাবেনা , চাই মাজার পূজা ও পীর পূজা মধ্যে যত বড় শিরকের চর্চাই করুক না কেন . এ সমস্ত শিরক মিশ্রিত কর্মকান্ড যে, ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর একে বারেই পরিপন্থী এ সন্দেহের অবসান করার জন্য আমি আহলে ইলমদের কথা থেকে যতটুকু এখানে উপস্থাপন করেছি তাই যথেষ্ট বলে মনেকরি .

যারা কুরআন ও হাদিসের সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সমূহকে বিশদ ব্যাখ্যা দ্বারা না বুঝে ভাসা-ভাসা অর্থ গ্রহন করে এবং এর পর এটাকে তাদের পক্ষের দলিল হিসাবে প্রমান করে, আর বিস্তারিত ব্যাখ্যাকারীর উদ্ধৃতিসমূহকে উপেক্ষা করে এটাই হচ্ছে মূলতঃ পথ ভ্রষ্টকারীদের কাজ . এদের অবস্থা হলো ঐ সমস্ত লোকদের মত যারা কুরআনের কিছু অংশে বিশ্বাস করে আর কিছু অংশের সাথে কুফরি করে এদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ هُوَ الَّذي أَنزَلَ عَلَيكَ الكِتابَ مِنهُ آياتٌ مُحكَماتٌ هُنَّ أُمُّ الكِتابِ وَأُخَرُ مُتَشابِهاتٌ ۖ فَأَمَّا الَّذينَ في قُلوبِهِم زَيغٌ فَيَتَّبِعونَ ما تَشابَهَ مِنهُ ابتِغاءَ الفِتنَةِ وَابتِغاءَ تَأويلِهِ ۗ وَما يَعلَمُ تَأويلَهُ إِلَّا اللَّـهُ ۗ وَالرّاسِخونَ فِي العِلمِ يَقولونَ آمَنّا بِهِ كُلٌّ مِن عِندِ رَبِّنا ۗ وَما يَذَّكَّرُ إِلّا أُولُو الأَلبابِ ﴿٧﴾ رَبَّنا لا تُزِغ قُلوبَنا بَعدَ إِذ هَدَيتَنا وَهَب لَنا مِن لَدُنكَ رَحمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الوَهّابُ ﴿٨﴾ رَبَّنا إِنَّكَ جامِعُ النّاسِ لِيَومٍ لا رَيبَ فيهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ لا يُخلِفُ الميعادَ ﴿٩

তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। (7) হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা। (8) হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবেঃ এতে কোনই সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না। (9)

 

হে আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন, সত্যকে সত্য হিসাবে গ্রহন করতে এবং মিথ্যাকে পরিহার করতে . আমীন .

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply