২১ শে ডিসেম্বর কি পৃথিবী ধ্বংস হবে?

কয়েকদিন ধরেই যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা চলছে তা হল ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

আসুন আমরা পর্যলোচনা করে দেখিঃ

মায়ান জাতির পরিচয়ঃ

মায়ান জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত হচ্ছেন সেইসব মানুষ যারা প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কৃতির এবং আধুনিক জনগণ, যারা মেক্সিকোর দক্ষিণে এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকাতে বসবাস করতো এবং তারা মায়া ভাষী় পরিবারের মানুষ। প্রথম দিকে এর সময় কাল প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-২৫০ অব্দ পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রাচীন কালে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলোতে তাঁরা উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছেছিল এবং স্প্যানিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো পোস্টক্লাসিক জুড়ে চালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিলো বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘন জনবসতি এবং সংস্কৃতিভাবে গতিশীল একটি সমাজ।

উচ্চ স্তরের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কারণে এবং সাংস্কৃতিক প্রসারণ করার দরুন অন্যান্য মেসোআমেরিকান সভ্যতার সঙ্গে মায়া সভ্যতাকে অনেক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন: লেখার উন্নতি-সাধন, গ্রন্থারম্ভে উদ্ধৃত বাক্য এবং বর্ষপঞ্জিকা যা মায়ার সঙ্গে উদ্ভূত হয়নি, তবুও তাঁদের সভ্যতা তাঁদেরকে সম্পূর্ণভাবে বিকশিত করেছিল। হণ্ডুরাস, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর এবং যতদূর দেখা যায় মায়া অঞ্চল থেকে ১০০০ কিলোমিটারের (৬২৫ মাইল) চেয়েও বেশি, মধ্যে মেক্সিকোতেও মায়ার প্রভাব লহ্ম্য করা যায়। এর বাইরেও অনেক মায়া সভ্যতার প্রভাব শিল্প এবং স্থাপত্য খোঁজ পাওয়া যায়, যা বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চিন্তা ধারার ফলস্বরূপ বরং সরাসরি বাহ্যিক জয়। মায়া জনগণ কখনই অন্তর্ধান হয়নি, প্রাচীন কালেও না, স্প্যানিশ বিজয়ীদের আগমনের সাথেও না, এবং পরবর্তীতে যখন স্প্যানিশরা আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন করে তখনও না। আজ, পুরো মায়া অঞ্চল জুড়ে মায়া এবং তাদের বংশধরদের বিস্তার। প্রাচীন কলাম্বিয়ান এবং ভাবতত্ত্বের জয়ের ঐতিহ্য ও ধারণার পাথক্যসূচক একটি সমষ্টির ফলাফল বজায় রাখার অর্ন্তভুক্তি। অনেক মায়া ভাষী তাদের প্রাথমিক ভাষা হিসেবে আজও মায়া ভাষায় কথা বলে। রাবিনাল আচি, আচি ভাষায় একটি খেলা লিখেছে। মায়াকে ২০০৫ সালে ইউনেস্কো মাস্টারপিস অফ দি ওরাল এন্ড ইন্ট্যানজিবল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মায়ানরা জানত যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্যান্য গ্রহ-তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে। তারা নিখুঁভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌর বছরের প্রতিটি মিনিটের নিখুঁত বর্ণনা ছিল।

মায়ান পঞ্জিকার পরিচয়ঃ

মায়ান সভ্যতার নাম কম-বেশি আমরা প্রত্যেকেই শুনেছি। পুরাতন সেই মায়ান সভ্যতা মায়ানদের এক অনুপম সৃষ্টি। সময় এবং সৃষ্টির এক সুন্দর বিন্যাস সম্পর্কে তারা অনেক আগেই অবগত হয়েছিলেন। মায়ানরা জানত যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্যান্য গ্রহ-তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে। তারা নিখুঁভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌর বছরের প্রতিটি মিনিটের নিখুঁত বর্ণনা ছিল। মায়ান ক্যালেন্ডার সম্পর্কে উইকিপিডিয়ার পেজটা দেখতে চাইলে এখানে ঢুঁ মারুন।

মায়ানরা মনে করত প্রতিটি জিনিসের উপর সময়ের প্রভাব আছে এবং প্রতিটি জিনিস সময় অনূযায়ী একেকটি অবস্থানে অবস্থান করছে। পুরোহিতরা নভোঃমন্ডল এবং পঞ্জিকা ব্যাখ্যা করতে পারত। এ কারণে সাধারণ মানুষের সমস্ত কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকত। কখন বীজ রোপণ করতে হবে, কখন ফসল ঘরে তুলতে হবে, কবে থেকে বর্ষা শুরু হবে, কবে থেকে গরম শুরু হবে- এ সব সম্পর্কে তারা জানত বলে তারা ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। তাদের সময়, ঋতু, চক্র উপলব্ধি করার খুব উচ্চ ক্ষমতা ছিল।

মায়ান পঞ্জিকায় ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর এর পর আর কোন হিসেব নেই।সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে অনেকে বলেন তাহলে  ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর ধ্বংস হতে যাচ্ছে পৃথিবী।

আসুন এবার আমরা ইসলামের আলোকে এটি পর্যলোচনা করি।

কোরআন কি বলেঃ

إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلْمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۭ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًۭا ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۢ بِأَىِّ أَرْضٍۢ تَمُوتُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۢ [٣١:٣٤]

নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

﴿٣٤﴾

5) يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ﴿الأحزاب: ٦٣

লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই। (৩৩: ৬৩)

إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَىٰ ﴿طه: ١٥﴾

কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। (২০: ১৫)

هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿الزخرف: ٦٦﴾

তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবং তারা খবর ও রাখবে না। (৪৩: ৬৬)

أَفَأَمِنُوا أَن تَأْتِيَهُمْ غَاشِيَةٌ مِّنْ عَذَابِ اللَّهِ أَوْ تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿يوسف: ١٠٧﴾

তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না? (১২: ১০৭)

إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿غافر: ٥٩﴾

কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না। (৪০: ৫৯)

وَتَبَارَكَ الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَعِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿الزخرف: ٨٥﴾

বরকতময় তিনিই, নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু যার। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (৪৩: ৮৫)

إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ ﴿فصلت: ٤٧﴾

কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না। (৪১: ৪৭)

يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿الأعراف: ١٨٧﴾

আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না। (৭: ১৮৭)

এই আয়াতগুলো থেকে যা স্পষ্ট হয়েছেঃ

১-কেয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে।

২-কেয়ামতের সময় কেউ জানেনা এমনকি হযরত মুহাম্মাদ সাঃ ও না।

৩-কিয়ামত হঠাৎ করে আসবে।

৪-কিয়ামত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

৫-আল্লাহ তায়ালা নিজে ইচ্ছা করেই কেয়ামতের সময় গোপন রেখেছেন।

৬-কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় কেউ জানবেনা।

৭-প্রাচীনকালেও কেয়ামত নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

এবার আপনি বিচার করুন,আপনি যে ধর্মের হন না কেন?

কোরআন যদি নির্ভুল হয় তাহলে কেয়ামতের খবর মায়ানরা জানলো কি করে?

মায়ান জাতির অনেক পরে রাসুলের আগমন। যদি মায়ানরা এ খবর জানতই তাহলে রাসুল কেন জানলেননা?

আমরা যারা মুসলিম তারা কাকে বিশ্বাস করবো?আল্লাহ ও তার রাসুলকে নাকি মায়ান জাতিকে?

এবার আসুন হাদিসের আলোকে দেখিঃ

কেয়ামতের বহু আলামত বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমনঃ

এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমরা কেয়ামতের পূর্বে দশটি আলামত যতক্ষণ না দেখবে ততক্ষণ কেয়ামত সংঘটিত হবে না। অতঃপর তিনি সেগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে বললেন-

(১) দুখান (ধোঁয়া)

(২) দাজ্জাল

(৩) দাব্বাতুল র্আ‌দ (প্রাণীবিশেষ যা মাটি ভেদ করে বের হবে।) পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়

(৫) হযরত ঈসা (আঃ) এর অবতরন

(৬) ইয়াজূজ-মাজূজ

(৭,৮,৯) তিনটি ভূধ্বস, একটি পূর্ব প্রান্তে, একটি পশ্চিম প্রান্তে আরেকটি জাযীরাতুল আরবে।

(১০) আর শেষটি হচ্ছে, ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হবে যা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। (মুসলিম)

এমনিভাবে হাদীসে জিব্রাঈলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কিছু আলামতের উল্লেখ করেছেন, যেমন- বাঁদী আপন মুনিবকে অথবা বাদশাহকে প্রশব করবে, নগ্ন পা বিশিষ্ট, নগ্ন দেহ বিশিষ্ট, দরিদ্র ও মেষরাখালদেরকে বিরাট বিরাট অট্টালিকায় গর্ব করতে দেখা যাবে। কেয়ামতের আরো বহু আলামতের কথা হাদীসে উল্লেখ রয়েছে এ পুস্তিকায় পূর্ণ বিবরণ সংকুলান হবে না। অর্থাৎ, পৃথিবীর স্বাভাবিক রীতি-নীতিতে উলট-পালট শুরু হয়ে যাবে। তবে এসব আলামতের কোনটি কেয়ামতের একটু দূরবর্তী সময়ে প্রকাশ পাবে আর কোনটি একেবারে কাছাকাছি সময়ে এবং পূর্বক্ষণে প্রকাশ পাবে।

 

কেয়ামত সংঘটিত হবে একমাত্র বদকার অর্থাৎ, কাফের-মুশরেকদের উপর হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতদিন পৃথিবীতে “আল্লাহ, আল্লাহ” উচ্চারিত হবে ততদিন কেয়ামত হবে না। (মুসলিম)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে একমাত্র নিকৃষ্ট মাখলুকের উপর (অর্থাৎ, কাফের মুশরেকদের উপর।)

হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা (কেয়ামতের পূর্বে) ইয়ামান থেকে একটি বাতাস পাঠাবেন যা রেশমের চেয়েও মুলায়েম। ঐ বাতাসের ফলে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে যাবে যার অন্তরে অনুপরিমাণ (অর্থাৎ, সামান্য) ঈমান রয়েছে। (অতঃপর থেকে যাবে কেবল কাফের-মুশরেক তাদের উপরই কেয়ামত সংঘটিত হবে।) (মুসলিম)

কিয়ামতের সময় যখন আরও নিকটবর্তী হবে তখন ইমাম মাহদীর আগমন, দাজ্জালের আর্বিভাব, হযরত ঈসা (আঃ) এর আকাশ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উৎপাত, পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদয়, কুরআনের অক্ষর বিলোপ, তাওবার দরজা বন্ধ, দুনিয়া হতে ইমানদারের বিলুপ্তি ইত্যাদি দেখা দেবে…..

যা দাঁড়ায়ঃ

১-রাসুলের হাদিস অনুযায়ী বড় কোন আলামত এখনো প্রকাশ পায়নি।

২-কেয়ামত হবে যখন পৃথিবীতে কোন মুসলিম থাকবেনা।

৩-হযরত ঈসা আঃ এ পৃথিবীতে আসবেন।

আপনি যদি একজন মুসলিম হন তাহলে আপনাকে অবশ্যই রাসুলের হাদিস বিশ্বাস করতে হবে।হাদিস অনুযায়ী এখনো কোন বড় আলামত প্রকাশ পায়নি।

তাহলে আপনি কোন কথা বিশ্বাস করবেন?রাসুলের কথা নাকি মায়ানদের ভবিষ্যৎবাণী?

আলহামদুলিল্লাহ পৃথিবীতে এখনো যথেষ্ট মুসলমান আছেন এবং প্রতিনিয়ত মুসলমান হচ্ছেন তাহলে রাসুলের হাদিস অনুযায়ী কেয়ামত কাল হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

হযরত ঈসা আঃ এখনো পৃথিবীতে আসেননি তাই রাসুলের কথা অনুযায়ী কাল কেয়ামত হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

নিচে কিছু ছোট আলামত উল্লেখ করলামঃ

আলামত গুলো ছোট বড় দুরমেরই রয়েছে।ছোট আলামত গুলোর মধ্যে…

 

১. মানুষ ব্যাপকহারে ধর্মবিমুখ হবে,

২. বিভিন্ন রকমের পার্থিব আনন্দ এবং রং তামাশায় মেতে থাকবে,

৩. নাচ-গানে মানুষ মগ্ন থাকবে,

৪. মসজিদে বসে দুনিয়াদারীর আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হবে,

৫. সমাজে ও রাষ্ট্রে অযোগ্য লোক এবং মহিলা নেতৃত্ব শুরু হবে,

৬. মানুষের মধ্যে ভক্তি, শ্রদ্ধা, স্নেহ ভালবাসা কমে যাবে,

৭. ঘন ঘন ভূমিকম্প হতে থাকবে,

৮. সব দেশের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিবে,

৯. অত্যাধিক শিলা-বৃষ্টি হবে,

১০. বৃষ্টির সাথে বড় বড় পাথর বর্ষিত হবে,

১১. মানুষের রূপ পরিবর্তিত হয়ে পুরুষ স্ত্রীলোকের ন্যায় এবং স্ত্রীলোক পুরুষের রূপ ধারন করবে।

এরকম আরো অনেক আলামত রয়েছে।

যেহেতু ছোট আলামত কিছু প্রকাশ পেয়েছে তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে বড় আলামতের জন্য।

কিছু কথা বলে শেষ করতে চাই।আজ মুসলমানদের ঈমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে,চারদিকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে,ইমানহারা করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে তাই ভাই সাবধান থাকুন! ঈমানের মুল্য সবচেয়ে বেশী যদি ঈমান নিয়ে মরতে না পারেন তাহলে সারা জিবনের কোন আমলি কাজে আসবেনা।আর বিজ্ঞান আমাদের জন্য দলিল নয় কারণ বিজ্ঞানের মতবাদের কোন নিশ্চয়তা নেই আজ এটা বলবে কাল ওটা বলবে।বিজ্ঞান যদি বলে এটা ভুল তাহলে আপনি বলবেন বিজ্ঞান ভুলে আছে।তারা গবেষণার ঐ পর্যায়ে এখনো যেতে পারেনি।

পরিশেষে কোরানের একটি আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই।

وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ ﴿الحج: ٥٥﴾

কাফেররা সর্বদাই সন্দেহ পোষন করবে যে পর্যন্ত না তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কেয়ামত এসে পড়ে অথবা এসে পড়ে তাদের কাছে এমন দিবসের শাস্তি যা থেকে রক্ষার উপায় নেই। (২২: ৫৫)

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

8 thoughts on “২১ শে ডিসেম্বর কি পৃথিবী ধ্বংস হবে?

    • December 20, 2012 at 4:05 pm
      Permalink

      আল্লাহ এটা ভাল জানেন।
      আপনার পোষ্ট টা সুন্দর হয়েছে।

      • December 20, 2012 at 6:01 pm
        Permalink

        ভাই এত আয়াত আর হাদিস দ্বারা কি বুঝলেন?

    • December 20, 2012 at 6:12 pm
      Permalink

      আপনি ভালো করেই জানেন আমি এটা লিখতামনা।শুধু আপনার কারনেই কি – বোর্ডে ঝড় উঠেছিলো।আল্লাহ আপনাকে জাযা দান করুক।আমিন

  • December 21, 2012 at 3:26 pm
    Permalink

    আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে পোস্ট পড়ার জন্য।

Leave a Reply