পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০৪)

brr copyআসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

যারা গত পোষ্টটি পড়েন নি এখান থেকে পড়ে নিন  পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০৩)

(১০০ বছর আগে কেউ আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখলে তাকে পাগল বলা হতো কারন মানুষ এমন সম্ভাবনার কোন যুক্তি খুঁজে পেত না । উইলভার রাইট ও অরভিল রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের এ জাতীয় চিন্তায় মানুষ তাদেরকে পাগল বলতো,অথচ এ সম্ভাবনা যে একটি বা এক জাতীয় শক্তির উপর নির্ভরশীল তা আল্লাহই মানুষকে জানিয়ে দিচ্ছেন। মানুষকে একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন এবং তাকে যোগ্যতা দিয়েছেন যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে সফল হতে পারে।অনেক আয়াতে তিঁনি বক্তব্য পেশ করে বার বার বলেছেন,তোমরা কি দেখনা ? বোঝ না ? তোমরা কি চিন্তা, গবেষণা করনা ? মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, ইত্যাদি)

ফেরাউন(মিসরের ফারাও সম্রাট,যে ছিল আল্লাহ দ্রোহী) সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন ঃ

“আজ আমি কেবল তোমার দেহকে সংরক্ষণ করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পার” (আল-কুরআন, ১০ঃ৯০-৯২)

( ঘটনাটি ৩ হাজার বছরেরও অধিক সময় আগের। লোহিত সাগরের(জবফ ংবধ) নীচে আল্লাহ ফেরআউনের লাশ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করেছিলেন,পরে মানুষ লাশটি অক্ষত অবস্থায় পাবার পর মমি করে সংরক্ষণ করে । বর্তমানে ফেরাউনের লাশ মিসরের যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে)

সুরা ফাজ্র এ “ইরাম” নামক একটি শহরের উল্লেখ করা হয়েছে যা ইতিহাসে ছিলনা । “তুমি কি দেখনি,তোমার প্রতিপালক কি করেছিলেন আদ বংশের ইরাম গোত্রের প্রতি ? যারা ছিল সুউচ্চ প্রাসাদে,যার সমতুল্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি।”(আল-কুরআন,৮৯ঃ৬-৮)। ১৯৭৮ সালে ঘধঃরড়হধষ এবড়মৎধঢ়যরপ সার্ভে রিপোর্ট দেয়ঃ ১৯৭৩ সালে সিরিয়াতে “ইবলা” শহরটি খনন করার পর আবিস্কৃত হয় যে, এটি ৪৩০০ বছরের পুরাতন শহর। এর মধ্যে একটি নথি খুজে পাওয়া যায় যাতে ইবলা শহরের লোকজন যাদের সাথে

ব্যবসা করত তাদের নাম লেখা ছিল। এখানে “ইরাম” শহরের নাম লেখা আছে। অথচ মানুষের কাছে এই ইরাম শহরের কোন ইতিহাসই ছিলনা।

“আমি তোমাদের নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজী দ্বারা সুশোভিত করে রেখেছি।”(আল-কুরআন,৩৭ঃ৬) “আমিতো তোমাদের উর্ধ্বে সৃষ্টি করেছি সপ্ত স্তর এবং আমি সৃষ্টির বিষয়ে অসতর্ক নই।”(আল-কুরআন, ২৩ঃ১৭)
(আল্লাহ সাত স্তরবিশিষ্ট আসমান সৃষ্টি করেছেন। বিজ্ঞানীরা যে বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে এবং এত কাল ধরে গবেষণা করে আসছে তা নক্ষত্রপূর্ণ। হতে পারে- তা প্রথম আসমান যা আমাদের নিকটতম। আমাদের মহাবিশ্ব তারকায় পরিপূর্ণ। বিজ্ঞানীদের চিন্তা আপাতত এর ভেতরেই আছে।)

“আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি” (সুরা নাবাঃ ৮) “পবিত্র ও মহান তিঁনি,যিনি উদ্ভীদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না, তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।”(আল-কুরআন,৩৬ঃ ৩৬) (বিজ্ঞানের কাছে এটি একটি নতুন আষ্কিার)

“অতঃপর আল্লাহতায়ালা যাকে হিদায়াত দান করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান তার বক্ষকে অত্যধিক সংর্কীণ করে দেন, যেন সে সবেগে আকাশে আরোহন করেছে” (আন-নাস ঃ ১২৫)
(এখানে আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করেছেন,তিঁনি বলছেন সবেগে আকাশে আরোহন করলে বক্ষ বা বুক যেমন সংকির্ণ হয়ে যায় ; ইসলামহীন মানুষের অবস্থাও তেমন। এটা প্রমানিত সত্য যে উর্দ্বাকাশে অক্সিজেন নেই আর অক্সিজেন ছাড়া সেখানে গমন করলে বক্ষ আক্ষরিক অর্থেই সংকীর্ণ হবে।)

“তিনি পর্বতকে সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর খুঁটি রুপে” “তিঁনি পর্বতকে দৃঢ়ভাবে প্রথিত করেছেন” “আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক টলে না যায়।”(আল-কুরআন,২১ঃ৩১)
(বিজ্ঞানিরা বলছেন যদি পৃতিবীতে পাহাড়-পর্বত না থাকতো তাহলে পৃথিবী যে মাপে পরিভ্রমন করছে অর্থাৎ তার নিজ অক্ষের উপর(২৩.৫০ কোণে) ও কক্ষপথের উপর (৬৬.৫০ কোণে) ঘুরছে তাতে বিঘœ ঘটতো এবং পৃথিবী টলে যেত,এতে সাগরের পানিসমূহ সমস্ত স্থলভাগকে প্লাবিত করতো কারন- পর্বতগুলো দ্বারা পৃথিবীর ওজনের সমতা রক্ষিত হয় এবং ভূ-ত্বক সু-স্থিতি লাভ করে। শুধু তাই নয় যে মাপে গ্রহ নক্ষত্রসহ কক্ষপথে সকল বস্তু চলছে তার সামান্য এদিক সেদিক হলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হত ও সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেত।)

“আল্লাহ বায়ু প্রেরণ করেন তা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চারিত করেন অতঃপর ইহা নির্জীব ভূখন্ডের দিকে সম্প্রসারিত করেন” “তিঁনিই আল্লাহ যিনি বায়ু প্রবাহিত করেন। ফলে উহা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে অতঃপর একে আল্লাহর যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন। পরে একে খন্ড বিখন্ড করেন এবং তুমি দেখতে পাও এ থেকে নির্গত হয় বারীধারা”
(সূরা রূম ঃ৪৮)

“তুমি কি দেখনা আল্লাহ মেঘমালা সঞ্চারিত করেন। অতঃপর এসবকে একত্রিত করেন ও পুঞ্জীভূত করেন তখন তা দেখতে পাও (মেঘ আকারে) অতঃপর উহা থেকে নির্গত করেন বারীধারা। আকাশস্থিত শীলাস্তুপ থেকে বর্ষণ করেন শীলা। (সূরা নূর ঃ৪৩) “তুমি কি দেখনা আল্লাহ আকাশ থেকে বারী বর্ষণ করেন অতঃপর ভূগর্ভে একে স্রোতাকারে প্রবাহিত করেন (সূরা-জুমার ঃ২১)

(মানুষ ভূ-গর্ভে পানির স্রোত প্রবাহিত হওয়া সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে খুব বেশী দিন হয়নি কিন্তু আল-কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ১৪ শত বছর আগে জানিয়েছেন। আর বৃষ্টি কোন প্রক্রিয়ায় হয় তাও এত আগে মানুষ জানত না।)

“আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান বিজলী যাতে আছে যুগপৎ ভয় ও ভরসা” (সুরা রাদ ঃ১২)
(বিদ্যুৎ একই সাথে ভয় ও ভরসা।)

………………………….

আরো বাকী আছে এখন থেকে ২ ঘন্টা পড়ে বাকী অংশ পোষ্ট করা হবে।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply