পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০৩)

brr copyআসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

যারা দ্বিতীয় পোষ্টটি পড়েন নি এখান থেকে পড়ে নিন  পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০২)

বিসমিল্লাহ হির রহমান হির রহিম,আয়াতটিতে ১৯ টি হরফ আছে। সমগ্র কুরআনে আয়াতটি আছে ১১৪ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আয়াতটির গুণিতক সংখ্যার যোগফল ১৫২,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আয়তটিতে শব্দ আছে ৪ টি,যার গুনিতক সংখ্যার যোগফলও ১৫২। সম্পুর্ণ সুরা ১১৪ টি ,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আয়াতটিতে শব্দ চারটি সমগ্র কুরআনে যতবার এসেছে এর অপরিহার্য গুনবাচক শব্দও ততবার এসেছে। যেমন ইসম শব্দটি এসছে ১৯ বার এর অপরিহার্য গুণবাচক শব্দ ‘ওয়াহেদ’ও এসেছে ১৯ বার। আল্লাহ শব্দটি এসেছে ২৬৯৮ বার এর অপরিহার্য গুণবাচক শব্দ ‘যুল ফাদল’(দয়ার আধার)এসছে ২৬৯৮ বার। রহমান শব্দটি এসেছে ৫৭ বার, অপরিহার্য গুণবাচক শব্দ ‘মাজীদ’(পবীত্র)এসছে ৫৭ বার। রহীম শব্দটি ১১৪ বার , অপরিহার্য গুণবাচক শব্দ ‘জামেউ’(একত্রকারী)এসেছে ১১৪ বার। এসবগুলো ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর গুণ বাচক ও মৌলিক নাম এসেছে ১১৪টি,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

আল কুরআনে মোট মুকাত্তাত হরফ(মুকাত্তাত সেই অক্ষর গুলোকে বরা হয় যার কোন অর্থ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি,রসূল(সাঃ)ও বলেননি,যেমন, আলিফ,লাম,মিম। এসব শব্দের অর্থ শুধু আল্লাহই জানেন) সংখ্যা ৫৭টি যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। মুকাত্তাত হিসেবে ক্কাফ হরফটি ১১৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে (১৯ ী ৬)। সোয়াদ অক্ষরটি মুকাত্তাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ১৫২ বার (১৯ ী ৮)। ১৯ তম সুরার ৭৮৯টি (১৯ ী ১৪২)। ৭নং সুরায় মুকাতাত আলিফ, লাম, মিম, সোয়াদ মোট ৫৩২০ টি (১৯ ী ২৮০)। দ্বিতীয় সুরায় আলিফ, লাম, মিম ১৮৯৯ (১৯ ী ৫২১)। তৃতীয় সূরায় আলিফ, লাম, মিম ৫৬৬২ বার (১৯ ী ২৯৮)। উনত্রিশ তম সূরায় আলিফ, লাম, মিম ১৬৭২ (১৯ ী ৮৮)। ত্রিশতম সূরায় আলিফ, লাম, মিম ১২৫৪ (১৯ ী ৬৬)।একত্রিশ তম সূরায় আলিফ, লাম, মিম ৮১৭ (১৯ ী ৪৩)।বত্রিশ তম সূরায় আলিফ, লাম, মিম ৫৭০ (১৯ ী ৩০)। কুরআনে আলিফ, লাম, মিম ব্যবহৃত হয়েছে ১৯৮৭৪ বার (১৯ ী ১০৭৬)। পুরো কুরআনে আলিফ, লাম, রা ব্যবহৃত হয়েছে ২৪৮৯ বার (১৯ ী ১৩১)। কুরআনে আলিফ, লাম, মীম, রা ১৪৮২ বার (১৯ ী ২৮০)্সূরা ‘মারইয়ামে’৫টি মুত্তাত ব্যবহারকরা হয়েছে ৭৯৮ বার,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। সূরা‘আরাফে,মুকাত্তাত ব্যবহার করা হয়েছে ৫৩২০ বার,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। ‘ইয়াসিনে’মুকাত্তাত ব্যবহার করা হয়েছে ২৮৫ বার,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। সুরা মুমিন থেকে সূরা কাহাফ পর্যন্ত, এই ৭টি সূরায় মুকাত্তাত হা,মিম ব্যবহার করা হয়েছে ২১৪৭ বার,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য । সূরা ইউসূফে এসেছে ২৩৭৫ বার,সূরা ইবরাহিমে ১১৯৭ বার,সূরা হিজর এ ৯১২,সূরা ক্কাফ এ ৫৭ বার এবং সূরা আল কালাম এ ১৩৩ বার। প্রত্যেকটি ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

সূরা আলাকের আয়াত সংখ্যা ১৯। সর্ব প্রথম এই সূরার প্রথম ৫ টি আয়াত নাযীল হয় যার শব্দ সংখ্যা ১৯। ৫টি আয়াতের অক্ষর সংখ্যা ৭৬ টি,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। সূরা আলাকের মোট অক্ষর সংখ্যা ২৮৫,যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।কুরআনে এই সূরাটির অবস্থান ৯৬, শেষের দিক থেকে গুণতে থাকলে সূরাটির অবস্থান ১৯।(১৯)গণিতের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ১ এবং বৃহৎ সংখ্যা ৯। যিনি কুরআন নিয়ে এসেছেন তিঁনি হলেন রসূল,রসূল শব্দটি এসেছে ৫১৩ বার,যা

১৯ দ্বারা বিভাজ্য। রসূল যার বাণী প্রচার করেছেন তিনি হলেন ‘রব’এ শব্দটি এসেছে ১৫২ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। কুরআনের কেন্দ্রীয় দাওয়া হলো‘ইবাদত’এটি এসছে ১৯ বার,দওয়ার অপরিহার্য ভাষা হলো ‘আব্দ’এটি এসেছে ১৫২ বার। যে অবদ এর কাজ করবে সে ‘আবীদ’এটি এসেছে ১৫২ বার। আল কুরআনে ‘সংখ্যা’ শব্দটি এসেছে ২৮৫ বার,এর প্রতিটি সংখ্যা একত্রে যোগ করলে যোগফল দাড়ায় ১৭৪৫৯১ এর সবকয়টিকে ১৯ দ্বারা ভাগ করা যায়। এভাবে আরও অসংখ্য সমীকরণ রয়েছে আল করুআনে ,অন্যান্য বিষয় বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গাণিতিক নিয়ম ঠিক রেখে এমন একটি কিতাব রচনা করাও কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

এছাড়া আরও অসংখ্য সমীকরণ রয়েছে, যে সমস্ত সমীকরণ ঠিক রেখে এমন গ্রন্থ তৈরী করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়াও বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন আয়াত রয়েছে যেমন ঃ

বিজ্ঞান ভিত্তিক অনেকগুলো আয়াত থেকে কিছু বর্ণিত হলোঃ

“আকাশ-মন্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমানও তোমার প্রতিপালকের অগোচরে নয় এবং এর চেয়ে ক্ষুদ্রতর অথবা বৃহত্তর কোন কিছুই নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।”(আল-কুরআন, ১০ঃ৬১) “অবিশ্বাসীরা কি দেখেনা যে, আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী পরস্পর সংযুক্ত ছিল তারপর আমি উহাকে পৃথক করেছি এবং পানি হতে প্রত্যেক জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি, তারা কি বিশ্বাস করবে না ? ”(আল-কুরআন, ২১ঃ৩০)
(মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারটি কয়েক বছর আগে অবগত হয়েছে।)

“এবং সূর্য পরিভ্রমন করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে,এটি মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।”(আল-কুরআন, ৩৬ঃ৩৮) “সূর্য কখনও ধরতে পারেনা চন্দ্র কে এবং রাত্রি অতিক্রম করেনা দিনকে এবং প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট কক্ষের মধ্য দিয়ে চলছে।” (সূরা ইয়াসিন,৪০) “এবং আকাশ মন্ডলী আমিই উহা সৃষ্টি করেছি ক্ষমতার বলে এবং নিশ্চয়ই আমিই উহাকে সম্প্রসারণ করছি। ”(আল-কুরআন)
(আজ থেকে ২/৩ শত বছর আগেও ইউরোপে ‘চন্দ্র সূর্য কক্ষপথে পরিভ্রমন করে’ বললে হত্যা করা হতো বা সামাজিকভাবে বয়কট করা হতো। মহাবিশ্ব যে সম্প্রসারিত হচ্ছে তা মানুষ জেনেছে কিছুদিন আগে)

আল কুরআনে সূরা ‘হাদিদ,এ আল্লাহ বলেন “আমি লোহা নাযীল(প্রেরণ,অবতরণ করানো) করেছি,যাতে রয়েছে প্রচুর শক্তি ও মানুষের জন্য প্রভূত কল্যান”(আল-কুরআন)

(পদার্থ বিজ্ঞানীরা বলেন লোহা উৎপাদনের জন্য যে ১৫ লক্ষ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা দরকার হয় তার কোন উপকরণ আমাদের পৃথিবীতে নেই। এটা একমাত্র সূর্য্যরে তাপমাত্রা দ্বারাই সম্ভব। বিজ্ঞানীরা বলেন সূর্যের মধ্যে প্রচন্ড বিস্ফোরণের ফলে লোহা নামক ধাতু ছিটকে মহাশুন্যে পড়ে এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে তা পৃথিবীতে নাযীল হয় বা অবতরণ ঘটে।)

“হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায় ! যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তবে উহাতে প্রবেশ কর, তোমরা উহাতে প্রবেশ করতে পারবে না মহা ক্ষমতা ব্যতিরেখে” (আল-কুরআন, ৫৫ঃ৩৩)“তোমাদের জন্য আল্লাহ বশীভূত করে দিয়েছেন নিজের তরফ থেকে আকাশমন্ডলের সব কিছুকে সমগ্রভাবে।”(আল-কুরআন, ৪৫ঃ১৩)“আরও বশীভূত করেছেন তোমাদের মঙ্গলের জন্য চন্দ্র ও সূর্যকে।”(আল-কুরআন ,১৪ঃ৩৩)

…………………………..

আরো বাকী আছে এখন থেকে ২ ঘন্টা পড়ে বাকী অংশ পোষ্ট করা হবে।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply