পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০২)

brr copyআসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

যারা প্রথম পোষ্টটি পড়েন নি এখান থেকে পড়ে নিন  পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০১)

সারাংশ ব্যবহৃত হয়েছে, মানব জাতির কল্যানের জন্য দিক নির্দেশনামূলক যে বক্তব্য রয়েছে, গোটা মহাবিশ্ব সম্পর্কে এবং যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে তা কিভাবে লেখা সম্ভব ? এ রকম একটি কিতাব তৈরী করতে বললে সে হয় হুবহু এর(আল-কুরআনের) কপিই তৈরী করবে আল-কুরআন দেখে দেখে, নয়তো নিজস্ব ভাবে তৈরী করলে বড়জোর একটি কাব্য মহাকাব্য বা উপন্যাস তৈরী করবে। এ রকম আরেকটা তৈরী হওয়া সম্ভব নয় মানুষের দ্বারা। এছাড়া এর মধ্যে রয়েছে সমীকরণ। বহু সংখ্যা তাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে। এর ভেতরে রয়েছে গাণিতিক নিয়ম-কানুন।

বিভিন্ন সমীকরণ

প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ রশিদ খলিফা ১৯৭৩ সাল থেকে আল-কুরআন নিয়ে একটি গবেষণা চালান। তিঁনি কম্পিউটারে ১১৪ টি সুরা ও এর মধ্যে বিশেষ বিশেষ অক্ষর যে নিয়মে বিন্যস্ত হয়েছে সেভাবে বিন্যস্ত করেন। এখানে যে গাণীতিক সমীকরণ ব্যবহৃত হয়েছে, সেভাবে অর্থাৎ শুধু গণীতের ফর্মূলা অনুযায়ী যদি এমন একটি কিতাব রচনা করার কথা কেউ চিন্তা করে তবে তাকে ৬৩০০০-০০০-০০০-০০০-০০০-০০০-০০০-০০০(৬৩ অক্টিলিয়ন) বার প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হতে হবে যা একেবারেই অসম্ভব।

কুরআনে অনেক স্থানে একের সাথে অন্যের তুলনা উপস্থাপিত হয়েছে। এ তুলনা দেওয়ার ব্যপারে একটি অবিশাস্য সংখ্যাতাত্বিক মিল পরিলক্ষিত হয়। তা হলো দুটি নাম অথবা বস্তুকে সমান সংখ্যাতে উল্লেখ করা। যেমন ঃ

সূরা আল ইমরানের ৫৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন ঃ “আল্লাহ তায়ালার কাছে ঈসার তুলনা হচ্ছে আদমের মত।” আসলে মানব জন্মের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের জন্ম হয়নি। এদের কারো পিতা ছিল না। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো ,কুরআনে ঈসা(আঃ) শব্দটি এসেছে ২৫ বার এবং আদম(আঃ) শব্দটিও এসেছে ২৫ বার।
যেহেতু আল্লাহ বলেছেন এ দুজন একই রকম তাই তাঁদের বর্ণনার সংখ্যার মধ্যেও মিল রেখেছেন।

সূরা আল্ আহযাবে আল্লাহ বলেন,“যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের মত”। “যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করে ”কথাটি এসেছে ৫ বার। যেহেতু তাদের উদাহরন হলো কুকুরের মত তাই কুকুর শব্দটিও এসেছে ৫ বার। সাত আসমান শব্দটি এসেছে ৭ বার। আসমানসমূহ সৃষ্টির কথাও ৭ বার এসেছে। ৭ দিন শব্দটিও ৭ বার এসেছে। দুনিয়া এবং আখিরাত শব্দ দুটি সমান সংথ্যায় এসেছে অর্থাৎ ১১৫

বার করে। গরম ও ঠান্ডা শব্দ দুটিও এসেছে ৫ বার করে। ঈমান ও কুফর শব্দ দুটি এসেছে সমান সংখ্যায়,২৫ বার । ফেরেশ্তা শব্দটি এসেছে ৮৮ বার এবং শয়তানও শব্দটি এসেছে ৮৮ বার। পবিত্র শব্দটি এসছে ৭ বার এবং অপবিত্র শব্দটিও এসছে ৭ বার। হায়াত শব্দটি এসেছে ১৬ বার এবং মৃত্যু শব্দটি এসেছে ১৬ বার।

ইয়াওমুন মানে দিন। কুরআনে এ শব্দটি এসেছে ৩৬৫ বার। আইয়াম(দিন সমূহ)শব্দটি এসেছে ৩০ বার(চন্দ্র বছরের হিসাব মতে বছরের প্রতি মাসে গড়ে ৩০ দিন। চন্দ্র শব্দটিও এসেছে ৩০ বার।)‘শাহরুণ’ মানে মাস। এ শব্দটি কুরআনে এসেছে ১২ বার। ‘সানাতুন’ (বছর) শব্দটি এসছে ১৯ বার। (বিজ্ঞানীরা বলেন প্রতি ১৯ বছরে সূর্য এবং পৃথিবী একই বৃত্তে অবস্থান করে।)।

আল্লাহ ওয়াদা করেছেন,শাস্তির তুলনায় পুরষ্কারের পরিমান তিঁনি দ্বিগুণ করে দিবেন। এজন্যে আমরা পাপী শব্দটি ৩ বার দেখতে পাই এবং পূণ্যবান শব্দটি ৬ বার। আযাব বা শাস্তি শব্দ দুটি এসেছে ১১৭ বার এবং সোয়াব শব্দটি এসেছে ২৩৪ বার। গরীব শব্দটি এসেছে ১৩ বার প্রাচুর্য শব্দটি এসছে ২৬ বার। আমরা জানি আল্লাহ তায়ালার দুনিয়ার নাম হলো ‘রহমান ’ এখানে সবার প্রতি তিঁনি দয়ালু আর আখিরাতে তিঁনি শুধু মুমিন বান্দাদের প্রতি দয়ালু,সেখানে যেহেতু সব নেক কাজের বিনিময় দ্বিগুন তাই তাঁর আখিরাতের নাম ‘রহীম’শব্দটি দুনিয়ার রহমান শব্দের দ্বিগুণ অর্থাৎ ১১৪ বার এসেছে। ইনসান(মানুষ)শব্দটি এসেছে ৬৫ বার। এবার মানুষ বানাবোর উপকরণগুলোর বর্ণনার যোগফল মিলিয়ে দেখিঃ মাটি শব্দটি এসছে ১৭ বার,জীবন কণা শব্দটি এসেছে ১২ বার,রক্তপিন্ড শব্দটি এসছে ৬ বার,মাংসপিন্ড শব্দটি এসছে ৩ বার,হাড় শব্দটি এসছে ১৫ বার,মাংস শব্দটি এসছে ১২ বার। এ উপাদানগুলোর যোগফল ৬৫।

আল্লাহ আল কুরআনের সূরা ‘আল কামার’এর প্রথম যে আয়াতে চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার সাথে কেয়ামতের আগমন অত্যাসন্ন বলেছেন,তার আরবী বর্ণমালার আক্ষরিক মান হিসেব করলে যোগফল হয় ১৩৯০। এই ১৩৯০ হিজরী অর্থাৎ ১৯৬৯ খৃষ্টাব্দেই মানুষ প্রথম চাঁদে অবতরন করে।

আল কুরআনের সর্বত্রই বিস্ময়কর গাণিতিক সংখ্যার জাল বোনা রয়েছে। যেমন ১৯ সংখ্যাটির কথা বলা যায়। আল-কুরআনে সুরা মুদাছ্ছিরের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে “ইহার উপর উনিশ” এই উনিশ নিয়ে এযাবৎকাল বহু গবেষণা করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে আল কুরআন থেকে অনেক সমীকরণ বের করা হয়েছে। সংক্ষেপে দেখা যেতে পারেঃ
(১৯ সংখ্যাটির মাধ্যমে গ্রন্থটি এমন গানিতিক ফর্মূলায় সাজানো হয়েছে যাতে মানুষের পক্ষে কোন একটি শব্দও পরিবর্তন ,পরিবর্ধন,সংযোজন করা সম্ভব না হয়।)

………………………………

আরো বাকী আছে এখন থেকে ২ ঘন্টা পড়ে বাকী অংশ পোষ্ট করা হবে।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

Leave a Reply