পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০১)

brr copy

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বন্ধুরা এবং সালাম জানাই আমার গুরুদের ।কেমন আছেন আপনারা সবাই ?আশা করি আল্লাহ্ অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং আমি দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন আর ভালো রাখুন আপনার পিতা-মাতা এবং আপনার আশে-পাশের সকলকে ।

আমি এখন আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করবো তা হলো পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ। লিখেছিলেন ওয়ারিয়র।

আমরা ইতিহাসে ঢুকলেও ইতিহাস রায় দেয় যে, তিঁনি সত্য নবী ছিলেন। আর ইতিহাসে এই ব্যক্তির ইন্তেকালের পর থেকে আজ পর্যন্ত এমন বৈশিষ্ট সম্পন্ন মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একথা তো সর্বজন স্বীকৃত(১৪ শত বছর ধরে সারা বিশ্বে স্বীকৃত) যে- তাঁর মত বৈশিষ্ট সম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আসেনি,সম্ভবও নয়।

মানলাম, আলকুরআন সংরক্ষিত হয়েছে বা অবিকৃত রয়েছে কিন্তু এটাই যে সেই সৃষ্টি কর্তার বানী তা বুঝব কি করে ? সৃষ্টিকর্তা তো নিজে এসে তা পাঠকরে শুনিয়ে যাননি। এটা তো মুহাম্মদের নিজের তৈরী বাণীও হতে পারে ! কারণ আমরা এ বানীগুলো তাঁর মুখ থেকেই শুনেছি।

হ্যা, এ সম্পর্কে তাঁর জীবদ্দশায় সে প্রশ্ন ওঠেনি তা নয়। প্রথমে মানুষেরা তাই বলেছিল। তাকে যাদুকর ,পাগল বলেছিল। কেউ কেউ ভাল কবি আখ্যায়িত করেছিল(তবে বহু যাদুকর,কবি,সাহিত্যিক,গণক স্ব স্ব ক্ষেত্রে উচ্চতর তালিম নিতে এসে বোকা বনে যায় এবং ইসলাম গ্রহন করে এ কারনে যে ,রসুল যা বলেন তার সাথে উক্ত বিষয়ের কোন মিল হয়না,এ এক স্বতন্ত্র বাণী যা পূর্বে কেউ কখনও শুনেনি)। এ বাণীগুলো সৃষ্টিকর্তার কিনা তা প্রমান করার একমাত্র রাস্তা হচ্ছে , এটি মানুষের তৈরী নয় তা প্রমান করা, যেহেতু মানুষ ছাড়া আমরা অন্য কোন জীবকে বুদ্ধিমান হিসেবে পাচ্ছি না, তাই মানূষকেই এ সংক্রান্ত বিষয়ে চেষ্টা চালাতে হবে। মুহাম্মদের(সাঃ)জীবদ্দশায় আল-কুরআনের সত্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছিল বহুবার। তাই এই আল কুরআনের ভেতর স্রষ্টা মানবজাতির উদ্দেশ্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় তা হলো ঃ

“আমার বান্দার প্রতি যা (আল-কুরআন) নাযিল করেছি তাতে যদি তোমাদের সন্দেহ হয় ,তবে তেমন একটি সুরা নিয়ে এস এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীদেরকে আহবান কর” (আল-কুরআন,২ঃ২৩)
“(হে নবী)তুমি বল , যদি সব মানুষ ও জ্বীন এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় যে,তারা এই কুরআনের অনুরুপ বানিয়ে আনবে, তাতেও তারা এর মত কিছু আনতে পারবে না, যদিও এব্যাপারে তারা একে অপরকে সাহায্য করে।” (আল-কুরআন,১৭ঃ৮৮)

এ আয়াত নাযিল হবার পর সব থেকে ছোট সুরা ‘সুরা কাওসার’ এর ২টি আয়াত “ইন্না আ-তায়না ক্কাল কাওসার / ফাসাল্লি -লি রাব্বিকা ওয়ানহার” এটি কাবার দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়(ক্কাবা ছিল এমন একটি স্থান যেখানে কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত,সর্ব শ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থান হিসেবে আরব এবং তার বাইরের এলাকার মানুষদের তীর্থস্থান ছিল ক্কাবা)। আর এর মত আয়াত তৎকালীন প্রখ্যাত কবি,সাহিত্যিক,দার্শনিক,চিন্তাবিদদেরকে তৈরী করতে বলা হয়। এই ২ আয়াত যেভাবে এবং যে ব্যকরণ ব্যবহার করে, ভাষার মৌলিকত্ব,সমীকরণ, ব্যচনভঙ্গী, ভাষার গঠন শৈলী ঠিক রেখে,তৈরী করা হয়েছে

সেভাবে এই দুই আয়াতের পরবর্তী আয়াত তৈরী করতে বলা হয়েছিল। বহু চেষ্টার শেষে তারা এ কাজে ব্যর্থ হয় এবং শেষে আরবের সেরা কবি “লবিদ” আয়াত দুটোর সাথে ছন্দ মিলিয়ে লিখেন।
সুরা কাওসার

ইন্না আ-তায়না ক্কাল কাওসার ।
ফাসাল্লি লি রাব্বিকা ওয়ানহার ।
ইন্না-শা-নিয়াকা-হুয়াল আবতার ।

লবিদ কতৃক সংযোজিত

ইন্না আ-তায়না ক্কাল কাওসার ।
ফাসাল্লি লি রাব্বিকা ওয়ানহার ।
লাইসা হাজামিন ক্কালামিল বাশার ।
শেষ লাইনটির অর্থ হচ্ছে- “এটি কোন মানুষের তৈরী নয়।”

আল্লাহর সেই চ্যালেঞ্জ এখনও গোটা মানবজাতির উদ্দেশ্যে গ্রহন করার কথা বলা হয়েছে (কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে)।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেনঃ
“ আমিই আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছি আর আমিই একে সংরক্ষণ করব ” (আল-কুরআন,১৫ঃ ৯)“আল কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়ীত্ব আমারই সুতরাং যখন আমি পাঠ করি তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর,অতঃপর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই”(আল-কুরআন,৭৫ঃ১৭-১৯)

কিন্তু বিগত ১৪শত বৎসরে মানবজাতির মধ্য থেকে কেউ এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফলতার মুখ দেখেনি বরং তারা বলতে বাধ্য হয়েছে, এটি কোন মানুষের তৈরী নয়। আল-কুরআনে এমন ব্যাকরণ ব্যবহৃত হয়েছে ,এতে এমন বর্ণনাধারা রয়েছে ,এমন ছন্দ রয়েছে, ভাষার এমন আভিজাত্য রয়েছে,এমন কাব্যরস রয়েছে, ভাষায় এমন নান্দনিকতা ব্যবহৃত হয়েছে, এমন মাধূর্য মিশ্রিত রয়েছে, এমন চিরন্তনী বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে, উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ এমন ব্যচনভঙ্গী ব্যবহৃত হয়েছে, যে আল-কুরআন অবতীর্ন হবার পর আরবের ভাষা বিশ্বে একটি আলাদা মর্যাদা লাভ করে এবং আরবী ভাষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এতে উচ্চারণের সামান্য পার্থক্য হলে অর্থ বদলে যায়। একটি শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ(৭০টি পর্যন্ত) রয়েছে কোন শব্দ কোন বর্ণনায় ব্যবহৃত হলে ভাষার গঠনরীতি উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ হবে এবং সঠিক ছন্দে উপস্থাপিত হবে তার পরিপূর্ণ নিয়মকানুন এই আল-কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের পক্ষে এতসব বিষয় ঠিক রেখে কিতাব রচনা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এতটা বিষয় ঠিক রেখে আপনি লিখবেনটা কি ? এতে অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের যে বর্ণনা রয়েছে, জ্ঞান- বিজ্ঞান সংক্রান্ত যে আলোচনা রয়েছে ,বৃহৎ বর্ণনার যে

……………………………….

কি পোষ্টটি কেমন ?

আরো বাকী আছে এখন থেকে ২ ঘন্টা পড়ে বাকী অংশ পোষ্ট করা হবে।

নবাগত রাহী

"ইসলামিকএমবিট (ডট) কম" একটি উন্মুক্ত ইসলামিক ব্লগিং প্লাটর্ফম। এখানে সকলেই নিজ নিজ ইসলামিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে এখানে বিতর্কিত বিষয় গুলো allow করা হয় না। আমি এই ব্লগ সাইটটির সকল টেকনিক্যাল বিষয় গুলো দেখাশুনা করি। আপনাদের যে কোন প্রকার সাহায্য, জিজ্ঞাসা, মতামত থাকলে আমাকে মেইল করতে পারেন contact@islamicambit.com

3 thoughts on “পবিত্র আল-কুরআনের চ্যালেঞ্জ! – (০১)

    • December 20, 2012 at 1:28 pm
      Permalink

      ফারুক ভাই শুধু ধন্যবাদ দিলে হবে না।কোথাও কোন ভুল আছে কিনা দেখুন।

  • December 20, 2012 at 1:28 pm
    Permalink

    ফারুক ভাই শুধু ধন্যবাদ দিলে হবে না।কোথাও কোন ভুল আছে কিনা দেখুন।

Leave a Reply