লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-৪)

আসসালামু আলাইকুম,

সবাই ভালো আছেন আশা করি।আবার আসলাম নতুন পোস্ট নিয়ে।যারা এই ধারাবাহিক পোস্টের আগের পর্ব পড়তে পারেননি, তারা নিচের লিঙ্ক থেকে পড়ে নিন।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মর্মকথা (পর্ব- ১)

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-২)

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব- ৩)

৩/ কালিমার ব্যাকরনগত আলোচনা :

অনেক সময় অনেক বাক্যের অর্থ বুঝা নির্ভর করে তার ব্যকারনগত আলোচনার উপর . এ জন্য ওলামায়ে কেরাম “لا إله إلا الله ” এই বাক্যের ব্যাকরনগত আলোচনার প্রতি তাঁদের দৃষ্টি নিবন্ধ করেছেন এবং তারা বলেছেন যে ,এই বাক্যে “لا” শব্দটি নাফিয়া লিল জেনস এবং “إله” (ইলাহ)এর ইসম,মাবনি আলাল ফাতহ। আর “حق”এর খবরটি এখানে উহ্য , অর্থাৎ কোন হক বা সত্য ইলাহ নেই “إلا الله”ইসতেসনা খবরে মারফু “حق” হতে অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত হক বা সত্য ইলাহ বলতে কেউ নেই । “إله”

অর্থ “মাবুদ আর তিনি হচ্ছেন ঐ সত্তা যে সত্তার প্রতি কল্যাণের আশায় এবং অকল্যাণ থেকে বাঁচার জন্য হৃদয়ের আসক্তি সৃষ্টি হয় এবং মন তার উপাসনা করে । এখানে কেউ যদি মনে করে যে , উক্ত খবরটি হচ্ছে “মাউজুদুন “বা “মা’বুদুন”অথবা এ ধরনের কোন শব্দ তা হলে এটা হবে অত্যন্ত ভুল । কারন আল্লাহ ব্যতীত অনেক মা’বুদ রয়েছেন যেমন মূর্তি মাজার ইত্যাদি । তবে আল্লাহ হচ্ছেন সত্য মাবুদ,আর তিনি ব্যতীত অন্য যত মাবুদ রয়েছে বা অন্যদের যে ইবাদত করা হয় তা হচ্ছে অসত্য ও ভ্রান্ত । আর এটাই হচ্ছে “لا إله إلا الله” এর না সূচক এবং হাঁ সূচক এই দুই স্তম্ভের মূল দাবী ।

 

৪/”لا إله إلا الله ” এই কালিমার দুটি স্তম্ভ বা রুকুন । একটি হলো না বাচক আর অপরটি হলো হাঁ বাচক ।

না বাচক কথাটির অর্থ হচ্ছে ,আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত কিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করা আর হাঁ বাচক কথাটির অর্থ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহই সত্য মাবুদ । আর মুশরিকগণ আল্লাহ ব্যতীত যে সব মাবুদের উপাসনা করে সব গুলো মিথ্যা এবং বানোয়াট মাবুদ । আল্লাহ তা’য়ালা বলেন ﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ আল হ্জ্ব ৬২) এসব এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে এরা যাদেরকে ডাকে তারা সবাই মিথ্যা৷ আর আল্লাহই পরাক্রমশালী ও মহান৷

 

ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন, “আল্লাহ তা’য়ালা ইলাহ বা মাবুদ” এ কথার চেয়ে “আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই” এই বাক্যটি আল্লাহর উলুহিয়্যাত প্রতিষ্ঠার জন্য অধিকতর মজবুত দলিল কেননা ; “আল্লাহ ইলাহ ” একথা দ্ধারা অন্যসব যত ভ্রান্ত ইলাহ রয়েছে তাদের উলুহিয়্যাতকে অস্বীকার করা হয় না । আর “আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন অত্যা ইলাহ নেই” এ কথাটি উলুহিয়্যাতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং অন্য সকল বাতিল ইলাহ্ক্র অস্বীকার করে । কিছু লোক চরম ভুল বশত: বলে থাকে যে, “ইলাহ”অর্থ সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি ক্ষমতাবান ।

 

আশশেখ সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ তাঁর কিতাব তাওহীদের এর ব্যাখায় বলেছেন, কেউ যদি মনে করে “ইলাহ এবং উলুয়্যাতের ” অর্থ হলো, নব সৃষ্টিতে পূর্ণ মাত্রায় ক্ষমতাশালী অথবা এ ধরনের অন্য কোন অর্থ , তখন উত্তরে এ ব্যক্তিকে কি বলা হবে ?

মূলত এই প্রশ্নের উত্তরের দুটি পর্যায় রয়েছে , প্রথমতঃ এটা একটা উদ্ভট,অজ্ঞতা প্রসূত কথা । এ ধরনের কথা বিদ’আতী ব্যক্তিরাই বলে থাকে,কোন বিজ্ঞ আলেম বা আরবী ভাষাবিদগন “ইলাহ” শব্দের এ ধরনের অর্থ করেছেন বলে কেউ বলতে পারবে না বরং তাঁর এ শব্দের ঐ অর্থই করেছেন যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি । অতএব,এখানেই এ ধরনের ব্যাখা ভুল বলে প্রমাণিত হলো ।

 

দ্বিতীয়ঃ ক্ষনিকের জন্য এ অর্থকে মেনে নিলেও এমনিতেই “সত্য ইলাহ “যিনি হবেন তাঁর জন্য সৃষ্টি করার গুনাবলি একান্তই অপরিহার্য্য , অতএব “ইলাহ”হওয়ার জন্য সৃষ্টি করার সার্বিক যোগ্যতা থাকা তো আঙ্গা-আঙ্গি ভাবেই তার সাথে জরিত, এর যে কোন কিছু সৃষ্টি করতে অক্ষম সে তো “ইলাহ”হতে পারেনা, যদিও তাকে ইলাহ রূপে কেউ অভিহিত করে থাকেনা কেন । এ জন্য “আল্লাহ নব সৃষ্টিতে ক্ষমতাশালী” এ টুকু বিশ্বাসের মাধ্যমে কোন ব্যক্তির ইসলামের গন্ডিতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয় এবং এতটুকু কথা জান্নাত লাভের জন্য যথেষ্ট নয় ।

আর যদি এতটুকু বিশ্বাসই যথেষ্ট হত তাহলে আরবের কাফিররাও মুসলমান বলে বিবেচিত হতো । তাই এ যুগের কোন লোক যদি “ইলাহ”শব্দের এ অর্থই করে থাকেন তা হলে তাকে ভ্রান্ত বলতে হবে এবং কুরআন হাদীসের জ্ঞানগর্ভ দলিল দ্বারা এবং প্রতিবাদ করা একান্ত প্রয়োজন ।

চলবে………

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply